মোমোর দোকানের ব্যবসা: স্টিমার, খরচ ও মেনু
বাংলাদেশে ছোট মোমো কাউন্টার চালুর ব্যবহারিক গাইড। এতে যন্ত্রপাতির খরচ, স্টিমারের ধারণক্ষমতা, ব্যাচ প্রস্তুতি, মূল্য নির্ধারণ, মার্জিন ও লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সীমিত পুঁজিতে শুরু করার জন্য একটি momo business বা মোমোর ব্যবসা বেশ বাস্তবসম্মত খাবারের উদ্যোগ। একটি স্টিমার, দুই ধরনের ফিলিং এবং নিজের পরিচালনায় ছোট একটি কাউন্টার দিয়েই শুরু করা যায়। পণ্যটি মানুষের পরিচিত, ব্যাচ ধরে প্রস্তুতি নেওয়া যায় এবং একই ডো ও সস ব্যবহার করে মেনুতে কয়েকটি ভিন্নতা আনা সম্ভব। তবে সাফল্য নির্ভর করবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, চাহিদার সঙ্গে স্টিমারের ধারণক্ষমতা মেলানো এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যাপ্ত ক্রেতা পাওয়া যায় এমন জায়গা বেছে নেওয়ার ওপর।
এই গাইডে দেওয়া টাকার পরিমাণগুলো পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক হিসাব, সরবরাহকারীর কোটেশন নয়। শহর, মৌসুম ও মান অনুযায়ী যন্ত্রপাতি, মুরগি, সবজি, LPG, ভাড়া ও প্যাকেজিংয়ের দাম বদলায়। বিনিয়োগের আগে স্থানীয় বাজারে বর্তমান দাম যাচাই করুন।
কম পুঁজিতে শুরু করার জন্য momo business কি ভালো?
মালিক নিজে পরিচালনা করবেন এমন ছোট সেটআপের জন্য মোমো উপযোগী, কারণ এতে বড় রান্নাঘর বা বিশাল মেনু লাগে না। পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবসা চালানোর অনুমতি থাকলে কার্ট, কিয়স্ক বা সরু takeaway কাউন্টারও কার্যকর হতে পারে। ব্যস্ত সময়ের আগে ডো, ফিলিং ও সস তৈরি করে রেখে পরে শুধু স্টিম করা ও পরিবেশনে মনোযোগ দেওয়া যায়।
এই প্রাথমিক মডেলটি আমাদের বাংলাদেশে স্ট্রিট ফুড কার্ট ব্যবসা গাইডে আলোচিত অন্যান্য ধারণার মতো। সাজসজ্জার চেয়ে জায়গা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার, অফিস, শপিং লেন বা সন্ধ্যায় মানুষের চলাচল আছে এমন আবাসিক এলাকার পাশে জায়গা দেখুন। ভাড়ার চুক্তি করার আগে কিছু সময় নিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতার সংখ্যা গুনুন।
কম বিনিয়োগ মানেই সহজে লাভ হবে, এমন ধরে নেবেন না। অবিক্রীত ফিলিং, মোমোর আকারে অসামঞ্জস্য, দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি এবং ব্যস্ত সময়ে অর্ডার সামলাতে না পারা ছোট স্টিমার দ্রুত লাভের মার্জিন শেষ করে দিতে পারে।
যন্ত্রপাতি কেনার আগে ব্যবসার ধরন ঠিক করুন
নতুন উদ্যোক্তার জন্য তিনটি ধরন বাস্তবসম্মত:
- বাড়িতে উৎপাদন ও pickup কাউন্টার: আগে থেকেই উপযুক্ত ফ্রিজ এবং পরিচ্ছন্ন প্রস্তুতির জায়গা থাকলে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন সবচেয়ে কম হবে। বিক্রয়কেন্দ্র ও খাবার প্রস্তুতির ব্যবস্থা স্থানীয় নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করুন।
- কার্ট বা অস্থায়ী স্টল: জায়গা বদলানো যায় এবং তুলনামূলক কম খরচ হয়। তবে আবহাওয়া, পানির ব্যবস্থা, সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় ভেন্ডিং নিয়ম নিয়ে সমস্যা হতে পারে।
- স্থায়ী takeaway দোকান: ভাড়া ও অগ্রিম বেশি লাগে। তবে নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করা, স্পষ্ট ঠিকানা দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা সহজ হয়।
বাড়ির বিদ্যমান ফ্রিজ ব্যবহার করা গেলে একেবারে সাধারণ কার্ট বা কাউন্টার চালু করতে আনুমানিক ৳৩০,০০০ থেকে ৳৮০,০০০ লাগতে পারে। অগ্রিম ভাড়া, সাইনবোর্ড, প্লাম্বিং, সংরক্ষণ ও ফ্রিজের খরচসহ ছোট একটি স্থায়ী দোকানে প্রায় ৳৮০,০০০ থেকে ৳২,৫০,০০০ প্রয়োজন হতে পারে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি কিনলে খরচ কমতে পারে, আবার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দোকান নিলে অনেক বেশি হতে পারে।
আসলে কী কী কিনতে হবে
- মোমো স্টিমার: ব্যাস, ধাতুর পুরুত্ব ও স্তরের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে ছোট বাণিজ্যিক স্ট্যাকের দাম আনুমানিক ৳৩,০০০ থেকে ৳১০,০০০।
- বার্নার ও LPG সেটআপ: ব্র্যান্ড ও সিলিন্ডারের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে বার্নার, সিলিন্ডার, রেগুলেটর, হোস ও প্রাথমিক গ্যাসসহ আনুমানিক ৳৭,০০০ থেকে ৳১৫,০০০।
- কাজের টেবিল বা কার্ট: প্রায় ৳৮,০০০ থেকে ৳৪০,০০০। স্টেইনলেস স্টিল পরিষ্কার করা সহজ, তবে সাধারণভাবে তৈরি কার্টের দাম কম হতে পারে।
- প্রস্তুতির সরঞ্জাম: বাটি, ছুরি, কাটিং বোর্ড, ওজন মাপার স্কেল, ট্রে, টং, সংরক্ষণের বাক্স ও পরিষ্কারের উপকরণের জন্য ৳৩,০০০ থেকে ৳১০,০০০ রাখুন।
- ঠান্ডা সংরক্ষণ: পরীক্ষামূলক পর্যায়ে বাড়ির ফ্রিজই যথেষ্ট হতে পারে। ছোট ফ্রিজার বা chest freezer কিনতে আনুমানিক ৳২৫,০০০ থেকে ৳৫৫,০০০ যোগ হতে পারে।
- প্রাথমিক কাঁচামাল ও প্যাকেজিং: ময়দা, ফিলিংয়ের উপকরণ, সস, food-safe container, প্লেট, কাঁটা চামচ, টিস্যু ও ব্যাগের জন্য প্রায় ৳৫,০০০ থেকে ৳১৫,০০০ রাখুন।
- সাইনবোর্ড ও আলো: আকার ও উপকরণের ওপর নির্ভর করে সহজে চোখে পড়ে এমন সাধারণ সাইনবোর্ডের দাম ৳২,০০০ থেকে ৳১০,০০০ হতে পারে।
ব্যবহৃত স্টিমার ও ফ্রিজার ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। বাঁকা স্তরের সস্তা স্টিমার দিয়ে বাষ্প বেরিয়ে যায়। আবার অদক্ষ ফ্রিজার বিদ্যুতের খরচ বাড়ায় এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্টিমার স্ট্যাকের আকার কীভাবে ঠিক করবেন
দৈনিক গড় বিক্রির জন্য নয়, সবচেয়ে ব্যস্ত ঘণ্টার চাহিদা মাথায় রেখে কিনুন। প্রথমে হিসাব করুন ব্যস্ত এক ঘণ্টায় কত প্লেট বিক্রি হতে পারে এবং প্রতি প্লেটে কতটি মোমো থাকবে। যেমন, ছয় পিসের ১৫ প্লেটের জন্য ৯০টি মোমো প্রয়োজন।
ছোট একটি স্তরে সাধারণ আকারের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি মোমো রাখা যেতে পারে। চওড়া স্তরে প্রায় ৩০ থেকে ৫০টি রাখা সম্ভব। প্রকৃত ধারণক্ষমতা মোমোর আকার এবং বাষ্প চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গার ওপর নির্ভর করে। প্রতি চক্রে ৫০ পিস ধরে এমন দুই স্তরের স্টিমার তাত্ত্বিকভাবে ঘণ্টায় কয়েকটি ব্যাচ তৈরি করতে পারবে। তবে ট্রে ভরা, স্টিম করা, পরিবেশন এবং পানি আবার গরম করতে সময় লাগে।
বিক্রেতাকে স্টিমারের ভেতরের ট্রের ব্যাস দেখাতে বলুন। সম্ভব হলে কেনার আগে ট্রেতে নমুনা আকারের মোমো সাজিয়ে দেখুন। তিন স্তরের স্ট্যাক সুবিধাজনক, কারণ কম ব্যস্ত সময়ে এক বা দুই স্তর এবং চাপের সময়ে পুরো স্ট্যাক ব্যবহার করা যায়। বিক্রি যথেষ্ট হওয়ার আগে দ্বিতীয় সেট ট্রে কিনবেন না।
ডো, ফিলিং ও ব্যাচ প্রস্তুতি
প্রথম দিন থেকেই ওজন মাপার স্কেল ব্যবহার করুন। প্রশিক্ষণের শুরুতে ডোর বল ও ফিলিংয়ের পরিমাণ ওজন করতে কিছুটা বেশি সময় লাগবে। তবে অতিরিক্ত বড় মোমোর কারণে অজান্তে লাভ কমে যাওয়া ঠেকানো যাবে। প্রতি ব্যাচে কত ময়দা, পানি ও ফিলিং ব্যবহার হয়েছে তা লিখুন, তারপর উৎপাদিত পিস গুনুন।
চিকেন ফিলিং ছোট ছোট ঠান্ডা ব্যাচে প্রস্তুত করুন। কাঁচা মুরগি সবজি, রান্না করা খাবার, সস ও পরিবেশনের সরঞ্জাম থেকে আলাদা রাখুন। এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার আগে কাটিং বোর্ড ও ছুরি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। চিকেন মোমো ভেতর পর্যন্ত সম্পূর্ণ রান্না হতে হবে। শুধু wrapper-এর রং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে calibrated food thermometer ব্যবহার করা নিরাপদ। প্রচলিত খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনায় মুরগির ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় ৭৪°C পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা বলা হয়।
ডো দ্রুত শুকিয়ে যায়। অব্যবহৃত ডো ও তৈরি করা মোমো ঢেকে রাখুন। নতুন তৈরি মোমো একটির ওপর আরেকটি রাখবেন না। wrapper ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফিলিং বেরিয়ে যায় এবং বিক্রিযোগ্য পণ্য না হয়েও স্টিমারের জায়গা দখল করে।
একটি শক্ত ব্লক না বানিয়ে মোমো ফ্রিজ করার পদ্ধতি
- রান্না না করা মোমো পরিষ্কার ট্রেতে আলাদা করে রাখুন, যেন একটির সঙ্গে আরেকটি না লাগে।
- শক্ত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেসহ ফ্রিজ করুন।
- ফিলিংয়ের ধরন, পরিমাণ ও প্রস্তুতির তারিখ লিখে food-safe bag বা বাক্সে স্থানান্তর করুন।
- সব সময় হিমায়িত অবস্থায় রাখুন এবং পুরোনো ব্যাচ আগে ব্যবহার করুন।
- পরীক্ষা করা রান্নার সময় অনুসরণ করে হিমায়িত অবস্থা থেকেই স্টিম করুন। বারবার গলিয়ে আবার ফ্রিজ করবেন না।
হঠাৎ চাহিদা বাড়লে হিমায়িত মজুত কাজে দেয়। তবে অতিরিক্ত উৎপাদন লুকিয়ে রাখার জায়গা হিসেবে এটি ব্যবহার করবেন না। লিখিতভাবে ব্যাচের হিসাব রাখুন এবং সংরক্ষণ বা ব্যবহারের ইতিহাস অনিশ্চিত হলে তা ফেলে দিন।
ভেজ ও চিকেন মোমোর খরচ এবং মেনুর দাম
ভেজিটেবল মোমোর খরচ সাধারণত কম। তবে বাঁধাকপি, গাজর, মাশরুম, পনির ও মসলার দাম ওঠানামা করে। ছয় পিস ভেজ মোমোর একটি প্লেটে খাবার ও প্যাকেজিংয়ের সরাসরি খরচ আনুমানিক ৳২৫ থেকে ৳৪৫ হতে পারে। মুরগির দাম, পরিমাণ, সস ও প্যাকেজিং অনুযায়ী চিকেন মোমোর একটি প্লেটের খরচ প্রায় ৳৪৫ থেকে ৳৭৫ হতে পারে।
অনেক সাধারণ বিক্রয়কেন্দ্রে ভেজ মোমোর সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ৳৭০ থেকে ৳১২০ এবং চিকেন মোমোর দাম ৳১০০ থেকে ৳১৭০ হতে পারে। স্থানীয় ক্রেতা এর চেয়ে বেশি বা কম দাম গ্রহণ করতে পারেন। জেলা শহরের কলেজের পাশে ব্যবসা করলে ঢাকার কোনো রেস্টুরেন্টের দাম হুবহু অনুসরণ করবেন না।
স্টিমড ভেজ ও স্টিমড চিকেন দিয়ে শুরু করুন। একটি ঝাল ও একটি কম ঝালের সসই যথেষ্ট। তেলের মান, তেল ঝরানো, ventilation এবং অতিরিক্ত রান্নার ধাপ সামলাতে পারার পর fried momo যোগ করা যেতে পারে। সীমিত পুঁজির আরও কিছু ব্যবসার ধরন জানতে বাংলাদেশের জন্য এই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আইডিয়াগুলো দেখুন।
দৈনিক বিক্রি ও মার্জিনের হিসাব নিজে করুন
ধরা যাক, আপনি গড়ে ৳৯০ দামে ৩৫ প্লেট ভেজ মোমো এবং ৳১৩০ দামে ৩০ প্লেট চিকেন মোমো বিক্রি করলেন। দৈনিক বিক্রি হবে:
- ভেজ বিক্রি: ৩৫ × ৳৯০ = ৳৩,১৫০
- চিকেন বিক্রি: ৩০ × ৳১৩০ = ৳৩,৯০০
- মোট বিক্রি: ৳৭,০৫০
প্রতি প্লেট ভেজ মোমোর সরাসরি খরচ ৳৩২ এবং চিকেন মোমোর খরচ ৳৫৮ হলে:
- ভেজের সরাসরি খরচ: ৩৫ × ৳৩২ = ৳১,১২০
- চিকেনের সরাসরি খরচ: ৩০ × ৳৫৮ = ৳১,৭৪০
- মোট সরাসরি খরচ: ৳২,৮৬০
- পরিচালন খরচের আগের অবদান: ৳৪,১৯০
এই ৳৪,১৯০ পুরোটা হাতে নেওয়ার মতো লাভ নয়। দৈনিক ভাড়ার অংশ, LPG, বিদ্যুৎ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন, payment charge, নষ্ট মজুত, অবিক্রীত খাবার, লাইসেন্স খরচ এবং কর্মচারীর মজুরি বাদ দিতে হবে। নিজের শ্রমেরও যুক্তিসংগত মূল্য ধরুন। এসব খরচ দৈনিক মোট ৳১,৫০০ থেকে ৳২,৫০০ হলে tax ও ভবিষ্যতে যন্ত্রপাতি বদলের খরচের আগে পরিচালন উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ৳১,৬৯০ থেকে ৳২,৬৯০।
এটি শুধু উদাহরণ, বিক্রির নিশ্চয়তা নয়। নিজের প্লেটের দাম, প্রতি ইউনিট খরচ এবং বাস্তবসম্মত ক্রেতার উপস্থিতি দিয়ে নতুন করে হিসাব করুন। দৈনিক ২০ থেকে ৩০ প্লেট বিক্রির দুর্বল দিনের হিসাবও করুন। যে ব্যবসা শুধু দৈনিক ৬৫ প্লেট বিক্রিতে টেকে, সেটি বৃষ্টি, ছুটি বা পরীক্ষার বিরতিতে সমস্যায় পড়তে পারে।
নতুন উদ্যোক্তারা যেসব জায়গায় টাকা হারান
- পরিমাণের নির্দিষ্ট মান না থাকা: শত শত মোমোয় এক চামচ করে অতিরিক্ত মুরগি দিলে মাস শেষে বড় অঙ্কের খরচ হয়।
- অতিরিক্ত স্বাদ বা ফিলিং রাখা: পর্যাপ্ত ক্রেতা তৈরির আগে পাঁচ ধরনের ফিলিং রাখলে ধীরে বিক্রি হওয়া মজুত জমে যায়।
- ব্যস্ত সময়ের দুর্বল পরিকল্পনা: একটি ছোট স্টিমার দিয়ে অর্ডার শেষ করা না গেলে ক্রেতা চলে যায়।
- বিনামূল্যে দেওয়া খাবারের হিসাব না রাখা: নমুনা, বন্ধুদের ছাড় এবং মালিকের নিজের খাওয়াতেও উপকরণ খরচ হয়।
- সসের খরচ ঠিকভাবে না ধরা: মরিচ, রসুন, টমেটো, তেল ও takeaway cup প্রতিটি অর্ডারের খরচে উল্লেখযোগ্য অংশ যোগ করতে পারে।
- বিক্রির টাকা সংসারের টাকার সঙ্গে মেশানো: হিসাব ছাড়া টাকা তুলে নিলে ব্যবসা লাভ করছে কি না বোঝা যায় না।
- খুব তাড়াতাড়ি পূর্ণাঙ্গ রেস্টুরেন্ট নেওয়া: চাহিদা প্রমাণের আগেই বসার ব্যবস্থা, সাজসজ্জা ও বড় মেনু যোগ করলে ভাড়া ও কর্মচারীর খরচ বাড়ে।
ছোট কাউন্টার কীভাবে বড় করা যায়
প্রথম মেনুর পণ্য নিয়মিত বিক্রি হওয়ার পরই ব্যবসা বড় করুন। ক্রেতারা চাইলে এবং জায়গায় নিরাপদভাবে ভাজার ব্যবস্থা থাকলে fried momo যোগ করুন। পরবর্তী সময়ে soup momo, chilli momo, noodles, সাধারণ পানীয় বা meal combo যোগ করা যেতে পারে। প্রতিটি নতুন পণ্যের জন্য cost sheet, প্রস্তুতির পদ্ধতি ও বিক্রির লক্ষ্য থাকা দরকার।
আরও মেনু যোগ করার বদলে পরবর্তী বিনিয়োগটি বড় স্টিমার, ফ্রিজার বা উন্নত কাউন্টারে করা বেশি লাভজনক হতে পারে। স্থায়ী জায়গায় নিয়মিত ক্রেতা আসা শুরু হলে বাংলাদেশে ছোট রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার গাইডে বড় পরিসরের পরিকল্পনার বিষয়গুলো জানতে পারবেন।
লাইসেন্স ও স্থানীয় অনুমতি
স্থায়ী দোকান বা takeaway কাউন্টারের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে trade licence নিন। স্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেওয়ার পর আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য food business registration বা licence প্রয়োজন কি না যাচাই করুন। বিভাগ ও কাগজপত্রের নিয়ম বদলাতে পারে। তাই পুরোনো checklist-এর ওপর নির্ভর না করে BFSA এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় অফিস থেকে বর্তমান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করুন।
চলমান কার্টের নিয়ম তুলনামূলক অস্পষ্ট। স্ট্রিট ভেন্ডিং প্রায়ই সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম, নির্দিষ্ট জায়গার বিধিনিষেধ ও স্থানীয় অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। কার্ট থাকলেই ফুটপাত বা রাস্তার পাশে জায়গা দখলের অনুমতি পাওয়া যায় না। জায়গার জন্য কাউকে টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলুন।
স্থায়ী জায়গার ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালার সম্মতি, নিরাপদ স্থানে LPG রাখা এবং প্রাথমিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রয়োজন হতে পারে। TIN, VAT বা অন্য নিবন্ধন ব্যবসার কাঠামো, turnover ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা যোগ্য স্থানীয় পরামর্শকের সঙ্গে tax-এর বিষয় নিশ্চিত করুন।
প্রথম দিন থেকেই সহজভাবে হিসাব রাখুন
শুরুতে একটি খাতাই যথেষ্ট হতে পারে। দিনের শুরুর stock, তৈরি করা ব্যাচ, বিক্রি হওয়া প্লেট, অপচয়, নগদ টাকা, mobile payment ও দৈনিক খরচ লিখুন। হাতে অর্ডার গোনা কঠিন হয়ে গেলে Rosuii দিয়ে ফোনে billing, দৈনিক বিক্রির মোট হিসাব এবং অল্প কিছু পণ্যের stock record রাখা যায়। কাউন্টারে নিয়মিত বিক্রি শুরু হওয়ার আগে জটিল software যোগ করার প্রয়োজন নেই।
দুটি পণ্য দিয়ে শুরু করুন, প্রতিটি ব্যাচ মাপুন এবং পরের দিনের উপকরণ কেনার টাকা আলাদা রাখুন। সহজ digital billing ও বিক্রির হিসাব শুরু করার জন্য প্রস্তুত হলে Rosuii-তে নিবন্ধন করুন এবং আপনার অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী উপযুক্ত plan দিয়ে শুরু করুন।
হালনাগাদ:
সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে momo business শুরু করতে কত পুঁজি প্রয়োজন?
নতুন উদ্যোক্তার কত ধরনের মোমো রাখা উচিত?
রান্না না করা মোমো কি পরে বিক্রির জন্য ফ্রিজ করা যায়?
বাংলাদেশে ছোট মোমোর দোকানের জন্য কোন লাইসেন্স প্রয়োজন?
ছোট একটি স্টিমারে কতটি মোমো রাখা উচিত?
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

