স্কুল-কলেজের পাশে খাবারের দোকানের ব্যবসা
শিক্ষার্থীবান্ধব দাম, শুরুর খরচ, ব্যস্ত সময়ের বিক্রি, ছুটির সময় নগদ প্রবাহ, খাতা নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্স নিয়ে বাংলাদেশের ক্যাম্পাস এলাকার খাবারের দোকানের বাস্তব গাইড।

সীমিত পুঁজিতে একটি campus food business শুরু করা যায়। তবে গেটের সামনে ভিড় থাকলেই ভালো লাভ হবে, এমন নয়। শিক্ষার্থীরা দাম নিয়ে সচেতন, বিক্রি সাধারণত অল্প সময়ের দুটি ব্যস্ত পর্বে হয়, আর দীর্ঘ ছুটিতে আয় প্রায় শূন্যে নেমে আসতে পারে। সফল মডেলটি সাধারণত ছোট হয়: অল্প কয়েকটি আইটেম, দ্রুত সার্ভিস, কম অপচয় এবং কাউন্টারে সরাসরি কাজ করেন এমন একজন মালিক।
বাংলাদেশের কোনো স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কার্ট, স্টল বা ছোট দোকান দিতে চান, তাদের জন্য এই গাইড। এখানে উল্লেখ করা টাকার অঙ্কগুলো আনুমানিক কার্যকর সীমা, নির্দিষ্ট বাজারদর নয়। ভাড়া, LPG, রান্নার তেল, ডিম, আলু, মুরগি, প্যাকেজিং ও পানীয়ের দাম নিয়মিত বদলায়। তাই বিনিয়োগের আগে স্থানীয় বাজার থেকে দর সংগ্রহ করুন।
Campus Food Business-এর ক্রেতাদের বুঝুন
শিক্ষার্থীদের কেনাকাটার ধরন অফিসকর্মী বা পরিবারের মতো নয়। অনেকেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ হাতখরচ নিয়ে আসে, যেখান থেকে যাতায়াত, খাবার ও ছোট ব্যক্তিগত খরচ মেটাতে হয়। কোনো খাবার সুস্বাদু হলেও তার দাম শিক্ষার্থীর তাৎক্ষণিক ব্যয়ের সীমার বেশি হলে সেটি বিক্রি নাও হতে পারে।
অনেক স্কুলের পাশে সহজে গ্রহণযোগ্য দাম প্রায় ৳১০ থেকে ৳৫০। কলেজ এলাকায় ক্রেতারা প্রায় ৳২০ থেকে ৳৮০ পর্যন্ত খরচ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে, নাশতা বা হালকা খাবারের জন্য প্রায় ৳৪০ থেকে ৳১৫০ খরচ করতে পারে। এগুলো পরীক্ষামূলক সাধারণ সীমা, নিশ্চিত সর্বোচ্চ দাম নয়। প্রকৃত সীমা নির্ভর করবে এলাকা, প্রতিষ্ঠানের ধরন, প্রতিদ্বন্দ্বী দোকান এবং শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পায় কি না, তার ওপর।
কিছু ভাড়া নেওয়ার আগে কয়েকটি নিয়মিত ক্লাসের দিন এলাকায় সময় কাটান। বিরতির সময় কতজন আসে তা গুনুন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের দাম লিখে রাখুন এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কী কেনে তা জিজ্ঞেস করুন। শুধু গেটের ভিড় দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। যে গেট মূলত বাস বা অভিভাবকেরা ব্যবহার করেন, সেটির তুলনায় হোস্টেল বা কোচিং সেন্টারের পাশের অপেক্ষাকৃত শান্ত গলিতেও বেশি ক্রেতা পাওয়া যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের কাছে আসলে কী বিক্রি হয়
কম দামি, পেট ভরে এবং সহজে বহন করা যায় এমন খাবার সাধারণত জটিল পদকে ছাড়িয়ে যায়। নতুন উদ্যোক্তার রেস্টুরেন্টের মতো বড় মেনু না করে পাঁচ থেকে আটটি নির্ভরযোগ্য পণ্য বেছে নেওয়া উচিত।
- কম দামি নাশতা: শিঙাড়া, সমুচা, পুরি, আলুর চপ, ডালপুরি ও সাধারণ স্যান্ডউইচ।
- পেট ভরা খাবার: ডিম পরোটা, খিচুড়ি, নুডলস, রোল, বার্গার অথবা স্থানীয় চাহিদা থাকলে ভাতভিত্তিক লাঞ্চ বক্স।
- ঠান্ডা পণ্য: বোতলজাত পানি, ব্র্যান্ডেড কোমল পানীয়, জুস ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি ঠান্ডা পানীয়।
- ছোট অ্যাড-অন: পরিষ্কারভাবে লেখা অতিরিক্ত দামে ডিম, বাড়তি সস বা একটু বড় পরিমাণ।
কম দামের একটি প্রাথমিক আইটেম, নিয়মিত বিক্রি হয় এমন দুটি মূল আইটেম এবং তুলনামূলক বেশি দামের একটি বিকল্প রাখুন। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী পুরো রোল কিনতে না পারলেও যেন ছোট একটি নাশতা কিনতে পারে। দ্বিতীয় ব্যস্ত সময়ের আগে পানীয় ঠান্ডা রাখুন। গরম আবহাওয়ায় বোতলজাত পানি ও ঠান্ডা পানীয় সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া পণ্যের মধ্যে থাকতে পারে।
স্থায়ী দোকান নেওয়ার আগে এই মডেলটির সঙ্গে বাংলাদেশে স্ট্রিট ফুড কার্ট ব্যবসা তুলনা করুন। কার্টে খরচ কম এবং চাহিদা পরীক্ষা করা যায়। অন্যদিকে দোকানে স্টোরেজ, পানি, বিদ্যুৎ এবং বর্ষাকালে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করার সুবিধা থাকে।
শুরু করতে আসলে কী কী কিনতে হবে
মালিক নিজে পরিচালনা করেন এমন সাধারণ সেটআপে ব্যয়বহুল সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই। প্রথমে নিরাপদ রান্না, খাবার সুরক্ষা, পানি, দ্রুত সার্ভিস ও চলতি মূলধনের পেছনে খরচ করুন।
- কার্ট বা সাধারণ কাউন্টার: আকার, স্টিলের কাজ, চাকা ও ছাউনির ওপর নির্ভর করে প্রায় ৳১৫,০০০ থেকে ৳৫০,০০০।
- চুলা, LPG সিলিন্ডার, রেগুলেটর ও নিরাপদ হোস পাইপ: প্রায় ৳৮,০০০ থেকে ৳২০,০০০। উপযুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করুন এবং সিলিন্ডার সরাসরি তাপের উৎস থেকে দূরে রাখুন।
- হাঁড়ি-পাতিল, ছুরি, কাটিং বোর্ড, পাত্র ও পরিবেশনের সরঞ্জাম: প্রায় ৳৬,০০০ থেকে ৳১৮,০০০।
- কুল বক্স বা ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর: প্রায় ৳৩,০০০ থেকে ৳৪০,০০০। রেফ্রিজারেটরের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎও প্রয়োজন।
- পানি, হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা: আনুমানিক ৳৩,০০০ থেকে ৳১০,০০০।
- সাইনবোর্ড, মেনু বোর্ড ও আলো: প্রায় ৳২,০০০ থেকে ৳৮,০০০।
- প্রাথমিক উপকরণ ও প্যাকেজিং: প্রায় ৳৫,০০০ থেকে ৳২০,০০০।
- জরুরি চলতি নগদ: সম্ভব হলে প্রায় ৳২০,০০০ থেকে ৳৬০,০০০ রাখুন।
তাই একটি বাস্তবসম্মত কার্টের বাজেট প্রায় ৳৬০,০০০ থেকে ৳১,৮০,০০০ হতে পারে। অগ্রিম ভাড়া, জামানত, বৈদ্যুতিক কাজ, আসবাব ও সাইনবোর্ডসহ স্থায়ী স্টল বা ছোট দোকানের খরচ প্রায় ৳১,২০,০০০ থেকে ৳৪,০০,০০০ পর্যন্ত যেতে পারে। জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আরও বেশি খরচ হতে পারে। কোনো পানীয় পরিবেশক ব্র্যান্ডেড রেফ্রিজারেটর দেবে কি না জেনে নিন, তবে সেই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করার আগে তাদের পণ্য কেনার শর্তগুলো পড়ুন।
কয়েকটি বসার জায়গা ও বড় মেনুর কথা ভাবলে বাংলাদেশে ছোট রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরুর এই গাইডে খরচের পার্থক্যগুলো দেখুন।
দৈনিক বিক্রি ও মার্জিনের হিসাব নিজে করুন
শুধু বিক্রির অঙ্ক দেখে লাভ হিসাব করবেন না। ক্রেতার সংখ্যা, গড় বিল এবং উপকরণের খরচ দিয়ে শুরু করুন।
ধরা যাক, একটি স্বাভাবিক ক্লাসের দিনে আপনি ৭০ থেকে ৯০ জন ক্রেতাকে খাবার দিচ্ছেন এবং গড় বিল ৳৪৫ থেকে ৳৬৫। সে ক্ষেত্রে দৈনিক বিক্রি প্রায় ৳৩,১৫০ থেকে ৳৫,৮৫০ হবে। মাঝামাঝি উদাহরণ হিসেবে ৮০ জন ক্রেতাকে ৳৫৫ গড় বিল দিয়ে গুণ করলে ৳৪,৪০০ বিক্রি পাওয়া যায়।
উপকরণ, কেনা পানীয়, তেল, প্যাকেজিং ও সরাসরি অপচয়ে যদি ৫০% থেকে ৬০% খরচ হয়, তাহলে ৳৪,৪০০ বিক্রির সরাসরি খরচ হবে ৳২,২০০ থেকে ৳২,৬৪০। ভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার আগে থাকবে ৳১,৭৬০ থেকে ৳২,২০০।
দৈনিক পরিচালন ব্যয় গড়ে ৳৬০০ থেকে ৳১,০০০ হলে অবশিষ্ট পরিচালন উদ্বৃত্ত হবে প্রায় ৳৭৬০ থেকে ৳১,৬০০। এটি নিট লাভ নয়। এখান থেকে নিজের শ্রম, সরঞ্জাম বদলানো, লাইসেন্স, করের দায়, নষ্ট হওয়া মজুত, ঋণের কিস্তি এবং ছুটির সময়ের কম বিক্রির হিসাবও ধরতে হবে।
নিজের সংখ্যা দিয়ে হিসাবটি আবার করুন:
- দৈনিক ক্রেতার সংখ্যাকে গড় বিল দিয়ে গুণ করলে বিক্রি পাওয়া যাবে।
- উপকরণ, কেনা পানীয় ও প্যাকেজিংয়ের খরচ বাদ দিন।
- দৈনিক হিসাবে ভাড়া, LPG, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ বাদ দিন।
- মেরামত, ধীরগতির মাস ও নিজের মজুরির জন্য টাকা আলাদা রাখুন।
প্রতিটি আইটেমের হিসাব আলাদাভাবে করুন। ৳৩০ দামের একটি নাশতার সরাসরি খরচ ৳২০ হলে সেটি অনেক বিক্রি হতে পারে, কিন্তু অন্যান্য ব্যয়ের আগে প্রতি বিক্রিতে অবদান মাত্র ৳১০। কম বিক্রি হলেও ভালো অবদান রাখা পণ্য বেশি কাজে আসতে পারে।
দুটি ব্যস্ত সময় ও দীর্ঘ মন্দা মাসের প্রস্তুতি নিন
বেশির ভাগ ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্রির দুটি তীব্র সময় থাকে। একটি প্রধান টিফিন বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি, যা প্রায়ই সকাল শেষ হওয়ার সময় থেকে দুপুরের শুরুর মধ্যে পড়ে। অন্যটি ছুটি বা কোচিংয়ের ভিড়, যা দুপুরের মাঝামাঝি থেকে সন্ধ্যার শুরু পর্যন্ত হতে পারে। শিফট ও ক্লাসের সময়সূচি অনুযায়ী সঠিক সময় বদলায়। নিশ্চিত হতে সাধারণ কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানটি পর্যবেক্ষণ করুন।
প্রতিটি ব্যস্ত সময়ের আগে মাপ অনুযায়ী ব্যাচ প্রস্তুত করুন। ২০ মিনিটের বিরতিতে ধীর সার্ভিস হলে ক্রেতা স্থায়ীভাবে হারাতে পারেন। ভাঙতি টাকা প্রস্তুত রাখুন, দাম সামনে লিখে দিন এবং কাউন্টার এমনভাবে সাজান যেন একজন টাকা নিতে নিতে সাধারণ আইটেম প্রস্তুত করতে পারেন।
শান্ত সময়ের চেয়েও ছুটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রমজানের সময়সূচি, ঈদের বন্ধ, পাবলিক পরীক্ষা, সেমিস্টার বিরতি, ভর্তি কার্যক্রমের ফাঁক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্রেতা অনেক কমে যেতে পারে। ভাড়া দেওয়া একটি দোকানকে কয়েক সপ্তাহ প্রায় কোনো আয় ছাড়াই চলতে হতে পারে।
চুক্তি করার আগে শিক্ষাপঞ্জি সংগ্রহ করুন এবং একটি ব্যস্ত মাসের বদলে পুরো বারো মাসের সম্ভাব্য বিক্রি হিসাব করুন। সম্ভব হলে এক থেকে তিন মাসের স্থায়ী খরচ রিজার্ভ হিসেবে রাখুন। হোস্টেল, বাসাবাড়ি, অফিস বা বাজারের কাছের জায়গায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কিছু চাহিদা থাকতে পারে। নির্ধারিত ছুটির আগে পচনশীল পণ্য বেশি কিনবেন না।
নিয়মিত ক্রেতাদের জন্য কঠোর খাতার নিয়ম রাখুন
নিয়মিত শিক্ষার্থীরা খাতায় বাকিতে কেনার অনুরোধ করতে পারে। অল্প বাকিতে ক্রেতার আনুগত্য বাড়তে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন বাকিতে চলতি মূলধন নীরবে কমে যায়।
- শুধু পরিচিত নিয়মিত ক্রেতা, কর্মী বা আশপাশের বাসিন্দাকে বাকিতে দিন।
- নাম, ফোন নম্বর, তারিখ, পণ্য ও টাকার পরিমাণ সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখুন।
- আপনি যতটুকু হারানোর ঝুঁকি নিতে পারবেন, তার ভিত্তিতে জনপ্রতি ৳২০০ থেকে ৳৫০০-এর মতো সীমা ঠিক করুন।
- প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট পরিশোধের দিন রাখুন।
- সীমা বা নির্ধারিত তারিখ পার হলে নতুন করে বাকিতে দেওয়া বন্ধ করুন।
- সরবরাহকারীর পাওনা, ক্রেতার খাতা ও ব্যক্তিগতভাবে তোলা টাকা কখনো একটি মোট অঙ্কের মধ্যে মেশাবেন না।
ব্যক্তিগত তর্কের চেয়ে ভদ্র ও স্পষ্ট নিয়ম কার্যকর করা সহজ। কাউন্টারের কাছে পরিশোধের নীতি লিখে রাখুন এবং সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করুন।
নতুন উদ্যোক্তারা সাধারণত কোথায় টাকা হারান
- খুব তাড়াতাড়ি দামি জায়গা নেওয়া: দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আগে মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের সক্ষমতা পরীক্ষা করুন।
- অতিরিক্ত আইটেম রাখা: ধীরে বিক্রি হওয়া উপকরণ নষ্ট হয় এবং ব্যস্ত সময়ে প্রস্তুতি কঠিন হয়ে পড়ে।
- পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করা: প্রতিবার পরিবেশনে এক চামচ বেশি দিলে কম দামের খাবারের মার্জিন শেষ হয়ে যেতে পারে।
- অনুমানভিত্তিক চাহিদার জন্য কেনাকাটা: বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি, পরীক্ষা ও দীর্ঘ বন্ধের আগে প্রমাণিত বিক্রির ভিত্তিতে পণ্য কিনুন।
- টাকার হিসাব মিশিয়ে ফেলা: ক্যাশবক্স থেকে সরাসরি সংসারের টাকা নিলে ব্যবসাটি আসলে লাভ করছে কি না বোঝা যায় না।
- শুধু দাম দিয়ে প্রতিযোগিতা: অনিরাপদ তেল, ছোট পরিমাণ ও খারাপ পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত ক্রেতা কমিয়ে দিতে পারে।
- খুব তাড়াতাড়ি কর্মী নিয়োগ: মালিক নিজে চালানো কাউন্টার কম বিক্রিতেও টিকে থাকতে পারে, কিন্তু প্রথম মাস থেকেই বেতন বহন করা ব্যবসায় চাপ বেশি পড়ে।
আপনার পুঁজি বা এলাকার সঙ্গে মানানসই বিকল্প মডেল খুঁজতে সরঞ্জাম কেনার আগে কয়েকটি বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আইডিয়া তুলনা করুন।
লাইসেন্স ও স্থানীয় অনুমতি
স্থায়ী স্টল বা দোকানের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। এলাকা ও ব্যবসার ধরন অনুযায়ী কাগজপত্র ও ফি আলাদা হতে পারে। NID-এর কপি, ছবি, ভাড়ার চুক্তিপত্র, হোল্ডিংয়ের তথ্য এবং সম্পত্তির মালিকের কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে।
স্থায়ী জায়গা থেকে খাবারের ব্যবসা শুরু করলে প্রযোজ্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য ব্যবসা নিবন্ধন বা লাইসেন্স বিভাগ যাচাই করুন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। কাজের ধরন ও পরিসর অনুযায়ী নিয়ম বদলাতে পারে। তাই শুধু দালালের কথায় নির্ভর না করে BFSA ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি নিশ্চিত হোন। ব্যবসা ছোট হলেও খাবারের স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ পানি, ঢেকে রাখা মজুত এবং পরিচ্ছন্নভাবে খাবার ব্যবস্থাপনা জরুরি।
চলমান কার্টের বিষয়টি তুলনামূলক অস্পষ্ট। সাধারণত স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম, সরকারি জায়গা ব্যবহারের বিধিনিষেধ এবং নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রিত হয়। অনানুষ্ঠানিক অনুমতি ফুটপাত দখলের আইনি অধিকার নয়। জায়গার জন্য কাউকে টাকা দেওয়ার আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সম্পত্তির মালিকের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজন হলে কার্ট সরানো যায় এমন রাখুন।
পরিচালনা সহজ রাখুন
প্রতিদিনের শুরুর মজুত, কেনাকাটা, বিক্রি, অপচয়, খাতা ও দিনের শেষের নগদ লিখে রাখুন। নিয়মিত হালনাগাদ করলে একটি সাধারণ খাতাও কাজে আসবে। দুই সপ্তাহ পর দুর্বল আইটেম বাদ দিন এবং যে পণ্য দুটি ব্যস্ত সময়েই বিক্রি হয়, সেগুলো বেশি প্রস্তুত করুন।
হাতে লেখা মোট হিসাব কঠিন হয়ে গেলে Rosuii ফোন বা ট্যাবলেটে বিল তৈরি এবং দৈনিক বিক্রির মোট অঙ্ক দেখাতে পারে। দৈনিক প্রায় ৩০টি অর্ডার নেওয়া খুব ছোট ব্যবসার জন্য এর Free প্ল্যান উপযুক্ত। অল্প কয়েকটি স্টক আইটেম পর্যবেক্ষণ করতে হলে Starter প্ল্যান থেকে inventory tracking পাওয়া যায়। শুধু দেখানোর জন্য একটি কার্টে সফটওয়্যার নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সময় বাঁচলে বা নিয়ন্ত্রণ বাড়লে তবেই ব্যবহার করুন।
সাজসজ্জা নয়, চাহিদা যাচাই দিয়ে শুরু করুন। ছোট মেনু পরীক্ষা করুন, ছুটির মাসের জন্য নগদ সুরক্ষিত রাখুন এবং নিজের হিসাব নিয়মিত ভালো অবদান দেখানোর পরই ব্যবসা বড় করুন। ফোনে বিল ও দৈনিক মোট বিক্রির হিসাব রাখতে প্রস্তুত হলে Rosuii-তে নিবন্ধন করে বিনামূল্যে শুরু করুন।
হালনাগাদ:
সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে campus food business শুরু করতে কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন?
স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কোন খাবার বিক্রি করা ভালো?
ছোট খাবারের দোকানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও BFSA খাদ্য লাইসেন্স কি প্রয়োজন?
স্থায়ী জায়গার লাইসেন্স ছাড়া চলমান ফুড কার্ট চালানো যায় কি?
শিক্ষার্থীদের খাতা বা বাকির বিক্রি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব?
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

