মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

২০ হাজার টাকায় খাবারের ব্যবসা: আসলে কী করা সম্ভব

৳২০,০০০ বাজেটে বাংলাদেশে বাস্তবে কোন খাবার ব্যবসা শুরু করা যায়, নমুনা খরচ, টার্নওভার হিসাব, চলতি মূলধনের প্রয়োজন ও শুরুর ঝুঁকি জেনে নিন।

লিখেছেন ৮ মিনিট পড়া
শেয়ার
২০ হাজার টাকায় খাবারের ব্যবসা: আসলে কী করা সম্ভব

বাংলাদেশে একটি 20000 taka business শুরু করা সম্ভব, যদি দোকান ভাড়া না লাগে, সরঞ্জাম কম লাগে এবং পণ্য দ্রুত বিক্রি হয় এমন খাবারের ধরন বেছে নেন। এই টাকায় প্রচলিত ধরনের রেস্টুরেন্ট করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে পুরোনো কার্ট, ছোট চা ও নাশতার ব্যবস্থা, বাসায় রান্না করা দুপুরের খাবার ডেলিভারি অথবা মৌসুমি পিঠা বিক্রি শুরু করা যেতে পারে।

সবচেয়ে জরুরি হলো চলতি মূলধন রক্ষা করা। পুরো ৳২০,০০০ কার্ট, সাইনবোর্ড ও সরঞ্জামে খরচ করে ফেললে উপকরণ, প্যাকেজিং, যাতায়াত কিংবা প্রথম সপ্তাহে বিক্রি কম হওয়ার ধাক্কা সামলানোর টাকা থাকবে না। ছোট খাবার ব্যবসা দ্বিতীয় সপ্তাহেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার এটি অন্যতম সাধারণ কারণ।

নিচের সব হিসাব বাজারভিত্তিক উদাহরণ, নির্ধারিত দাম নয়। জেলা, মৌসুম, সরঞ্জামের অবস্থা ও সরবরাহকারী অনুযায়ী খরচ বদলাবে। টাকা বিনিয়োগের আগে স্থানীয় বাজারের বর্তমান দাম যাচাই করুন।

কোন ধরনের 20000 taka business এই বাজেটে করা সম্ভব?

১. ভাড়া করা দোকান ছাড়া চা ও সাধারণ নাশতা

চলমান স্ট্যান্ড, কারও দোকানের সামনের ভাগ ভাগাভাগি করে ব্যবহার অথবা অনুমোদিত কম খরচের জায়গা পাওয়া গেলে ছোট চায়ের ব্যবসা এই বাজেটে করা সম্ভব। মেনু ছোট রাখুন: দুধ চা, লাল চা, বিস্কুট, কলা, সেদ্ধ ডিম অথবা আগে থেকে তৈরি একটি নাশতা।

মাসিক ভাড়া, অগ্রিম, আসবাব ও একাধিক রান্নার ব্যবস্থা থাকা পূর্ণাঙ্গ টং দোকানের খরচ সম্ভবত এই বাজেট ছাড়িয়ে যাবে। বাস্তব প্রস্তুতির বিষয়গুলো জানতে বাংলাদেশে টং দোকান ব্যবসার গাইড পড়ুন।

২. পুরোনো ফুচকা বা চটপটির কার্ট

কার্টের কাঠামো ভালো থাকলে এবং বড় ধরনের মেরামত প্রয়োজন না হলে পুরোনো কার্ট দিয়ে শুরু করা সম্ভব। ফুচকার মেনু ছোট রাখা সুবিধাজনক, কারণ বেশির ভাগ উপকরণ একই কাজে ব্যবহার হয়। চটপটি যোগ করলে প্রস্তুতি ও জ্বালানির প্রয়োজন বাড়ে। তাই নতুন আইটেম যোগ করার আগে একটি নির্ভরযোগ্য পণ্য দিয়ে শুরু করুন।

কার্টের রঙের চেয়ে জায়গা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খারাপ জায়গায় রাখা কম দামের কার্টের চেয়ে অফিস, কোচিং সেন্টার, পার্ক বা সন্ধ্যার বাজারের কাছে সাধারণ একটি টেবিল থেকেও বেশি বিক্রি হতে পারে। জনসমাগমের জায়গায় বিক্রির নিয়ম একেক এলাকায় একেক রকম। সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটি, জমির মালিক, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করুন। মেনু ও পরিচালনার বিস্তারিত জানতে ফুচকা ও চটপটি ব্যবসার গাইড দেখুন।

৩. বাসায় রান্না করা টিফিন বা দুপুরের খাবার ডেলিভারি

বাসায় ব্যবহারযোগ্য রান্নাঘর, চুলা, হাঁড়ি-পাতিল ও ফ্রিজের সুবিধা থাকলে এই ব্যবসা বাজেটের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো মানাতে পারে। কাছাকাছি অফিস, দোকান, শিক্ষার্থী বা ব্যাচেলরদের কাছে নির্দিষ্ট মেনুর দুপুরের খাবার বিক্রি করুন। আগে থেকে অর্ডার নিলে চাহিদা অনুযায়ী রান্না করা যায়, ফলে অপচয় কমে।

ক্রেতারা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকলে ডেলিভারি খরচ লাভের বড় অংশ শেষ করে দিতে পারে। একটি ছোট এলাকার মধ্যে শুরু করুন, পিকআপ পয়েন্ট রাখুন অথবা দলগত ডেলিভারির জন্য ন্যূনতম অর্ডার নির্ধারণ করুন। বাংলাদেশে বাসা থেকে অনলাইনে খাবার বিক্রির গাইডে অর্ডার ও ডেলিভারির বাস্তব পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৪. শীতকালীন মৌসুমি পিঠা

বাড়ির গেট, সন্ধ্যার বাজার বা অস্থায়ী স্টল থেকে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা কিংবা পাটিসাপটা বিক্রি করা যেতে পারে। বাসার বিদ্যমান হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করলে প্রাথমিক খরচ কম থাকে। তবে এটি মৌসুমি ব্যবসা। শীতের পর চাহিদা দ্রুত কমতে পারে, আর বৃষ্টি বা অনুপযুক্ত জায়গার কারণে একটি সন্ধ্যার পুরো বিক্রি নষ্ট হতে পারে।

এক বা দুই ধরনের পিঠা বেছে নিন এবং প্রতিটির পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখুন। ধার করা বা কম দামের সরঞ্জাম দিয়ে জায়গাটি পরীক্ষা না করে বড় কাস্টম স্টল কিনবেন না।

৳২০,০০০ বাজেটে বাস্তবে কোন ব্যবসাগুলো করা সম্ভব নয়?

  • ভাড়া করা রেস্টুরেন্ট: অগ্রিম ভাড়া, মাসিক ভাড়া, সংস্কার, আসবাব, ইউটিলিটি ও লাইসেন্সের খরচেই ব্যবসা শুরুর আগেই বাজেট শেষ হয়ে যেতে পারে।
  • একাধিক ফ্রায়ারনির্ভর ফাস্ট ফুডের দোকান: কয়েকটি ফ্রায়ার, এক্সহস্ট, কাউন্টার, তেলের মজুত এবং বিদ্যুৎ বা গ্যাসের প্রয়োজন একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি।
  • ফ্রিজারনির্ভর ব্যবসা: ফ্রিজার কেনা, বিদ্যুৎ ও ব্যাকআপ ব্যবস্থার খরচের পাশাপাশি খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
  • ক্যাফে ধরনের ব্যবস্থা: এসপ্রেসো সরঞ্জাম, সাজসজ্জা, বসার জায়গা ও ভাড়া এই প্রাথমিক বাজেটের বাইরে।
  • বড় মেনুর ডেলিভারি কিচেন: দশ বা পনেরোটি পদ চালাতে ছোট প্রি-অর্ডার মেনুর তুলনায় অনেক বেশি উপকরণ, প্যাকেজিং ও চলতি মূলধন লাগে।

পরে ধীরে ধীরে এসব ব্যবসার দিকে এগোনো যায়। বড় আকারে শুরু করলেই ব্যবসা বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয় না। এতে শুধু শুরুর ভুলগুলোর খরচ বেড়ে যায়।

নমুনা বাজেট ১: পুরোনো ফুচকার কার্ট

এই উদাহরণে ধরে নেওয়া হয়েছে, কিছু প্রস্তুতির কাজ বাসায় হবে এবং স্থানীয় বাজারের দামের নিচের সীমার কাছাকাছি দরদাম করা সম্ভব হবে।

খরচের খাতনমুনা পরিসর
পুরোনো কার্ট বা সাধারণ চলমান কাউন্টার৳৬,০০০ থেকে ৳৭,৫০০
হাঁড়ি, বাটি, পরিবেশনের সরঞ্জাম ও ঢাকনাযুক্ত পাত্র৳১,০০০ থেকে ৳১,৫০০
ছোট বার্নার, গ্যাসের বরাদ্দ বা খাবার গরম রাখার ব্যবস্থা৳২,০০০ থেকে ৳২,৮০০
প্রথম দফার উপকরণ৳১,৮০০ থেকে ৳২,৩০০
প্যাকেজিং, পানি ও পরিষ্কারের সামগ্রী৳৬০০ থেকে ৳৯০০
লাইসেন্স, অনুমতি বা স্থানীয় প্রশাসনিক খরচ৳৫০০ থেকে ৳১,২০০
জরুরি নগদ তহবিল৳৩,০০০ থেকে ৳৪,০০০
নমুনা মোট খরচ৳১৪,৯০০ থেকে ৳২০,২০০

প্রতিটি খরচ যদি পরিসরের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়, তাহলে পরিকল্পনাটি এই বাজেটে হবে না। জরুরি নগদ তহবিল বাদ দিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন না। কম দামের কার্ট খুঁজুন, কিছু সরঞ্জাম ধার নিন, পণ্য আরও সহজ করুন অথবা অপেক্ষা করে বাড়তি টাকা সঞ্চয় করুন।

ট্রেড লাইসেন্সের ফি এবং নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্রি করার অনুমতি এক বিষয় নয়। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় বাজারভেদে নিয়ম আলাদা। প্রযোজ্য খাদ্যনিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক বাধ্যবাধকতা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরাসরি যাচাই করুন।

নমুনা বাজেট ২: বাসা থেকে টিফিন ডেলিভারি

এই উদাহরণে ধরে নেওয়া হয়েছে, বাসায় আগে থেকেই কার্যকর রান্নাঘর আছে। নতুন করে ফ্রিজ, চুলা ও সম্পূর্ণ হাঁড়ি-পাতিল কিনতে হলে পরিকল্পনার খরচ ৳২০,০০০ ছাড়িয়ে যাবে।

খরচের খাতনমুনা পরিসর
অতিরিক্ত হাঁড়ি, সংরক্ষণের বাক্স ও মাপার সরঞ্জাম৳১,০০০ থেকে ৳২,০০০
প্রাথমিক চাল, ডাল, তেল, মসলা, সবজি ও প্রোটিন৳৩,০০০ থেকে ৳৪,০০০
গ্যাস ও ইউটিলিটি বরাদ্দ৳১,০০০ থেকে ৳১,৫০০
খাবারের বাক্স, ব্যাগ ও লেবেল৳১,৫০০ থেকে ৳২,৫০০
লাইসেন্স ও নিয়ম মেনে চলার জন্য বরাদ্দ৳১,০০০ থেকে ৳২,০০০
প্রাথমিক ডেলিভারি ও স্থানীয় প্রচার৳১,০০০ থেকে ৳২,০০০
জরুরি নগদ তহবিল৳৪,০০০ থেকে ৳৫,০০০
নমুনা মোট খরচ৳১২,৫০০ থেকে ৳১৯,০০০

নিয়মিত ক্রেতাদের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য টিফিন ক্যারিয়ার ব্যবহার করলে প্যাকেজিং খরচ কমতে পারে। তবে এর জন্য জামানত ও ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা দরকার। একবার ব্যবহারযোগ্য বাক্স পরিচালনা করা সহজ, কিন্তু প্রতিটি খাবারের দামে এর নিয়মিত খরচ যোগ করতে হবে।

বাস্তবসম্মত দৈনিক টার্নওভার ও মাসিক হিসাব

টার্নওভার মানে বিক্রির মোট আয়, লাভ নয়। এখান থেকে উপকরণ পুনরায় কেনা, জ্বালানি, প্যাকেজিং, যাতায়াত, খাবার নষ্ট হওয়া, বিভিন্ন ফি ও নিজের শ্রমের খরচ মেটাতে হবে।

ফুচকার কার্টের উদাহরণ

  1. ধরা যাক, দিনে ৩৫ প্লেট বিক্রি করছেন।
  2. প্রতি প্লেটের গড় বিক্রয়মূল্য ৳৭০ থেকে ৳৮০।
  3. কম দামে দৈনিক টার্নওভার ৩৫ × ৳৭০ = ৳২,৪৫০।
  4. বেশি দামে দৈনিক টার্নওভার ৩৫ × ৳৮০ = ৳২,৮০০।
  5. মাসে ২৬ দিন বিক্রি করলে মাসিক টার্নওভার হবে ৳২,৪৫০ × ২৬ = ৳৬৩,৭০০ থেকে ৳২,৮০০ × ২৬ = ৳৭২,৮০০।

এবার দৈনিক খরচ হিসাব করুন। প্রতি প্লেটের উপকরণের খরচ ৳২৮ থেকে ৳৩২ হলে হিসাব দাঁড়ায় ৩৫ × ৳২৮ = ৳৯৮০ থেকে ৩৫ × ৳৩২ = ৳১,১২০। প্যাকেজিং ও পানির জন্য আনুমানিক ৳২০০ থেকে ৳৩০০, জ্বালানির জন্য ৳১২০ থেকে ৳১৮০ এবং যাতায়াত বা জায়গার খরচ হিসেবে ৳২৫০ থেকে ৳৪৫০ যোগ করুন। অপচয় ও ছোটখাটো খরচের জন্য আরও ৳১০০ থেকে ৳২০০ রাখুন।

নমুনা দৈনিক মোট খরচ হবে আনুমানিক ৳১,৬৫০ থেকে ৳২,২৫০। ৳২,৪৫০ থেকে ৳২,৮০০ টার্নওভার থেকে এই খরচ বাদ দিলে প্রায় ৳২০০ থেকে ৳১,১৫০ অবশিষ্ট থাকবে। এখান থেকেও নিজের শ্রম, কার্ট মেরামত, কর বা লাইসেন্স নবায়নের খরচ দেওয়া হয়নি। বৃষ্টি, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা দুর্বল জায়গার কারণে প্রকৃত ফল আরও কম হতে পারে।

বাসার টিফিনের উদাহরণ

  1. ধরা যাক, দুপুরের খাবারের নিশ্চিত অর্ডার ২০টি।
  2. প্রতি বাক্সের গড় দাম ৳১৩০ থেকে ৳১৫০।
  3. দৈনিক টার্নওভার ২০ × ৳১৩০ = ৳২,৬০০ থেকে ২০ × ৳১৫০ = ৳৩,০০০।
  4. মাসে ২৪ দিন সেবা দিলে মাসিক টার্নওভার হবে ৳২,৬০০ × ২৪ = ৳৬২,৪০০ থেকে ৳৩,০০০ × ২৪ = ৳৭২,০০০।

ধরা যাক, প্রতি বাক্স খাবারের খরচ ৳৬০ থেকে ৳৭০। তাহলে ২০ × ৳৬০ = ৳১,২০০ থেকে ২০ × ৳৭০ = ৳১,৪০০। প্রতি বাক্সে প্যাকেজিং খরচ ৳১০ থেকে ৳১৫ হলে আরও ৳২০০ থেকে ৳৩০০ যোগ হবে। এর সঙ্গে আনুমানিক ৳৩০০ থেকে ৳৬০০ ডেলিভারি, ৳১৫০ থেকে ৳২৫০ গ্যাস ও ইউটিলিটি এবং ৳১০০ থেকে ৳২০০ অপচয় বা অন্যান্য খরচ যোগ করুন।

এই হিসাবে নমুনা দৈনিক খরচ প্রায় ৳১,৯৫০ থেকে ৳২,৭৫০। ৳২,৬০০ থেকে ৳৩,০০০ টার্নওভারের বিপরীতে সম্ভাব্য অবশিষ্ট টাকা হবে ৳০ থেকে ৳১,০৫০। এখানেও মালিকের পারিশ্রমিক, সরঞ্জাম বদলানো ও প্রশাসনিক খরচ ধরা হয়নি। এই পরিসরকে প্রত্যাশিত আয় না ধরে নিজের বাজারদর বসিয়ে হিসাব করুন।

সাজসজ্জার চেয়ে চলতি মূলধন কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

বিক্রির টাকা লাভ বলার আগে প্রথম দফার উপকরণ আবার কিনতে হবে। সোমবারের উপকরণের খরচ ৳১,২০০ হলে সোমবারের বিক্রি থেকে অন্তত ৳১,২০০ মঙ্গলবারের রান্নার জন্য রেখে দিতে হবে। প্যাকেজিং, গ্যাস ও যাতায়াতের টাকাও আবার প্রয়োজন হবে।

ব্যবসার টাকা সংসারের টাকা থেকে আলাদা রাখুন। একটি সাধারণ দৈনিক হিসাবে শুরুর নগদ টাকা, বিক্রি, উপকরণ কেনা, অন্যান্য খরচ, বাকিতে বিক্রি, দিনের শেষের নগদ এবং নষ্ট হতে পারে এমন মজুত লিখে রাখুন। স্মৃতির ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত খরচ দিয়ে খাবারের কার্টের ফলাফল হিসাব করুন। এই খাবারের কার্টের দৈনিক লাভ হিসাব পদ্ধতিটি কাজে লাগতে পারে।

একদিন ভালো বিক্রি হলেই উদ্বৃত্ত টাকা খরচ করবেন না। ৳৩,০০০ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে এক বা দুই সপ্তাহের জরুরি পরিচালন ব্যয়ের সমান তহবিল তৈরি করুন। এভাবেই ছোট দৈনিক ফলাফল থেকে ব্যবসা ধীরে বাড়তে পারে। বিক্রির সব টাকা তুলে ফেললে বা অপচয় করলে শুধু মাসিক টার্নওভার সম্পদ তৈরি করবে না।

কী কী সমস্যা হতে পারে?

  • খারাপ জায়গা: মানুষের চলাচল বেশি হলেও তারা আপনার পণ্য বা নির্ধারিত দামে কিনতে আগ্রহী নাও হতে পারে।
  • খাবার নষ্ট হওয়া: অতিরিক্ত আলু, তৈরি পুর, রান্না করা ভাত, মাংস বা দুধ চা নষ্ট হলে দিনের লাভ মুছে যেতে পারে।
  • বিক্রি কমার মাস: বৃষ্টি, রমজানের সময়সূচি, পরীক্ষা, ছুটি বা স্থানীয় অস্থিরতার কারণে বিক্রি কমতে পারে।
  • অসুস্থতার সময় বিকল্প লোক না থাকা: এক ব্যক্তির ব্যবসায় মালিক বাজার, রান্না বা বিক্রি করতে না পারলে আয় বন্ধ হয়ে যায়।
  • নিয়ন্ত্রণহীন বাকিতে বিক্রি: অফিস বা এলাকার বকেয়া অর্ডারে উপকরণ খরচ হয়, কিন্তু হাতে নগদ টাকা ফেরে না।
  • দাম পরিবর্তন: তেল, ডিম, সবজি, গ্যাস ও প্যাকেজিংয়ের দাম বাড়লেও ক্রেতারা বাড়তি দাম দিতে না চাইতে পারেন।

স্থায়ীভাবে বাড়তি বিনিয়োগের আগে সাত থেকে চৌদ্দ দিন বিক্রি করে পরীক্ষা করুন। কোন সময়, জায়গা ও আইটেমে বিক্রি হচ্ছে তা লিখে রাখুন। দুর্বল আইটেম বাদ দিন। সম্ভব হলে আগাম অর্ডার নিন এবং আপনি না থাকলে মৌলিক কাজগুলো সামলাতে পারবেন এমন একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে প্রক্রিয়াটি শিখিয়ে রাখুন।

পরিচালনার ব্যবস্থা সহজ রাখুন

শুরুতে একটি খাতা বা স্প্রেডশিটই যথেষ্ট, যদি প্রতিদিন তথ্য হালনাগাদ করেন। খুব ছোট ব্যবসায়ী ফোনে Rosuii-এর ফ্রি POS ব্যবহার করেও অর্ডার লিখে রাখতে এবং সাধারণ বিক্রির মোট হিসাব দেখতে পারেন। পরে inventory ও purchasing টুলের প্রয়োজন হলে পেইড প্ল্যান বিবেচনা করা যায়। সফটওয়্যার হিসাব ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এটি ক্রেতার চাহিদা তৈরি করে না, খারাপ জায়গার সমস্যা ঠিক করে না এবং লাভের নিশ্চয়তাও দেয় না।

ক্রেতারা টাকা দিয়ে কিনবেন এমন সবচেয়ে ছোট সংস্করণ দিয়ে শুরু করুন, চলতি মূলধন ধরে রাখুন এবং নিয়মিত পুনরায় অর্ডার আসার পরই ব্যবসা বড় করুন। সহজভাবে ডিজিটাল অর্ডার ও বিক্রি হিসাব করতে Rosuii-তে রেজিস্টার করুন

হালনাগাদ:

শেয়ার

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে ৳২০,০০০ দিয়ে কি রেস্টুরেন্ট শুরু করা যায়?
৳২০,০০০ দিয়ে প্রচলিত ধরনের ভাড়া করা রেস্টুরেন্ট শুরু করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ অগ্রিম ভাড়া, সরঞ্জাম, আসবাব, লাইসেন্স ও প্রাথমিক মজুতের খরচ এই বাজেট ছাড়িয়ে যাবে। তবে আগে থেকে কিছু সরঞ্জাম থাকলে বাসার টিফিন সেবা, সাধারণ চায়ের স্ট্যান্ড, মৌসুমি পিঠার ব্যবস্থা বা পুরোনো খাবারের কার্ট এই বাজেটে করা যেতে পারে।
৳২০,০০০ থেকে কত টাকা চলতি মূলধন হিসেবে রাখা উচিত?
দৈনিক উপকরণ ও ডেলিভারি খরচ অনুযায়ী অন্তত ৳৩,০০০ থেকে ৳৫,০০০ রক্ষা করার চেষ্টা করুন। সঠিক তহবিল দিয়ে কয়েক দিনের উপকরণ, প্যাকেজিং, গ্যাস ও যাতায়াত খরচ চালানো সম্ভব হওয়া উচিত। পুরো টাকা সরঞ্জাম বা সাজসজ্জায় খরচ করবেন না।
একটি ছোট খাবারের কার্ট থেকে দিনে কত আয় হতে পারে?
নির্দিষ্ট বা নিশ্চিত কোনো অঙ্ক নেই। দৈনিক টার্নওভার ক্রেতার সংখ্যা ও গড় বিলের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে, ৳৭০ থেকে ৳৮০ দামে ৩৫ প্লেট বিক্রি করলে মোট বিক্রি হবে ৳২,৪৫০ থেকে ৳২,৮০০। তবে এখান থেকে উপকরণ, জ্বালানি, প্যাকেজিং, যাতায়াত, খাবার নষ্ট হওয়া এবং মালিকের শ্রমের খরচ বাদ দিতে হবে।
বাসার খাবার বা স্ট্রিট ফুড ব্যবসার জন্য কি ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন?
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, বাজার ও বিক্রির জায়গা অনুযায়ী নিয়ম বদলায়। ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে, আবার সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় বিক্রির অনুমতি আলাদা বিষয় হতে পারে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বর্তমান নিয়ম যাচাই করুন এবং প্রযোজ্য খাদ্যনিরাপত্তার বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করুন।
নতুন উদ্যোক্তার জন্য কোনটি কম ঝুঁকির: খাবারের কার্ট নাকি বাসার টিফিন ডেলিভারি?
উপযুক্ত রান্নাঘর এবং কাছাকাছি নিশ্চিত ক্রেতা আগে থেকেই থাকলে বাসার টিফিন ব্যবসায় কম সরঞ্জাম লাগতে পারে। কার্ট থেকে পথচারী ক্রেতা পাওয়া সম্ভব হলেও জায়গা, আবহাওয়া ও অনুমতির ঝুঁকি বেশি। মূলধনের বড় অংশ বিনিয়োগের আগে প্রি-অর্ডার বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় চাহিদা পরীক্ষা করুন।

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন
বাংলাদেশের সেরা রেস্টুরেন্ট পিওএস সফটওয়্যার: ক্রেতা গাইড (২০২৬)

বাংলাদেশের সেরা রেস্টুরেন্ট পিওএস সফটওয়্যার: ক্রেতা গাইড (২০২৬)

বাংলাদেশের সেরা রেস্টুরেন্ট পিওএস সফটওয়্যার বিকাশ ও নগদ নেয়, ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ সঠিকভাবে হিসাব করে, বাংলায় চলে এবং পরিষ্কার রসিদ ছাপে। এখানে পুরো চেকলিস্ট, রসুই কোথায় মানায় এবং অফলাইন ব্যবহার নিয়ে একটি সৎ সতর্কতা।

লিখেছেন ২৩ জুন, ২০২৬৭ মিনিট পড়া
বাংলাদেশের সেরা রেস্টুরেন্ট সফটওয়্যার: ৭টি অপশনের তুলনা (২০২৬)

বাংলাদেশের সেরা রেস্টুরেন্ট সফটওয়্যার: ৭টি অপশনের তুলনা (২০২৬)

বাংলাদেশের সেরা রেস্টুরেন্ট সফটওয়্যার সেটিই যা আপনার চালানোর ধরনের সাথে মেলে, সত্যিকারের বিকাশ ও নগদ, পূর্ণ বাংলা এবং বিডিটি দামসহ। যেসব মানদণ্ড আসলে গুরুত্বপূর্ণ তার ভিত্তিতে ৭টি অপশনের তুলনা ও বেছে নেওয়ার সহজ উপায়।

লিখেছেন ২৩ জুন, ২০২৬৭ মিনিট পড়া
বাংলা রেস্টুরেন্ট সফটওয়্যার: দ্বিভাষিক টুল আপনার স্টাফ ও গ্রাহকের জন্য কেন জরুরি

বাংলা রেস্টুরেন্ট সফটওয়্যার: দ্বিভাষিক টুল আপনার স্টাফ ও গ্রাহকের জন্য কেন জরুরি

আপনার ক্যাশিয়ার ইংরেজি মেনুতে দ্বিধায় পড়লে বা গ্রাহক আপনার অর্ডারিং পেজ পড়তে না পারলে সময় ও বিক্রি হারান। বাংলা রেস্টুরেন্ট সফটওয়্যার স্টাফ, মেনু, রসিদ ও গ্রাহকের জন্য কেন জরুরি আর রসুই কীভাবে সর্বত্র পুরোপুরি বাংলা ও ইংরেজি চলে, তা এখানে।

লিখেছেন ২৩ জুন, ২০২৬৭ মিনিট পড়া