জুস ও শরবতের দোকানের ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে
সীমিত পুঁজিতে জুস ও শরবতের ব্যবসা শুরু করার বাস্তব গাইড। এতে যন্ত্রপাতি, ফল সংগ্রহ, খাদ্যনিরাপত্তা, লাভের হিসাব ও লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সীমিত পুঁজির একজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তার জন্য juice bar business ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। মেনু তুলনামূলক সহজ, ক্রেতা সঙ্গে সঙ্গে মূল্য পরিশোধ করেন এবং ছোট একটি কাউন্টার একজনই চালাতে পারেন। তবে গরমকালের ভিড় দুর্বল খরচের হিসাব আড়াল করতে পারে। ফলের দাম দ্রুত বদলায়, পানি ও বরফ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হয়, আর অবিক্রীত ফল নষ্ট হয়ে লোকসান বাড়ায়। তাই ছোট মেনু দিয়ে শুরু করুন, জায়গাটি পরীক্ষা করুন, প্রতিটি বিক্রি হওয়া কাপের হিসাব রাখুন এবং গরমকালের লাভ দিয়ে কম বিক্রির মাসগুলো সামলান।
ছোট উদ্যোক্তার জন্য Juice Bar Business কি উপযোগী?
অফিস, কোচিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, পার্ক, বাজার এবং নিয়মিত লোকসমাগম হয় এমন পরিবহনকেন্দ্রের কাছে জুস বা শরবতের কাউন্টার ভালো চলতে পারে। রাস্তা থেকে সহজে দেখা যায় এমন জায়গা সুবিধাজনক। তবে ছায়া, পানি নিষ্কাশন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শুরুর দিকে নিজে কাউন্টার চালালে কর্মীর বেতন বাঁচে। কোন পানীয় বেশি বিক্রি হয়, প্রতি কাপে কত ফল লাগে এবং দিনের কোন সময়ে চাহিদা বাড়ে, সেটিও সরাসরি শেখা যায়। বিনিময়ে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। সকালে ফল কিনতে হবে, ধুয়ে কাটতে হবে, ক্রেতাকে পরিবেশন করতে হবে, যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে হবে এবং রাতে নগদ হিসাব মিলিয়ে দোকান বন্ধ করতে হবে।
আপনি যদি এখনো ব্যবসার ধরন তুলনা করেন, তাহলে বাংলাদেশে স্ট্রিট ফুড কার্ট ব্যবসা এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে গাইডগুলো পড়ুন। রান্না করা খাবারের কার্টের তুলনায় জুস কার্ট সাধারণত সহজ। তারপরও খাদ্যনিরাপত্তা ও জায়গা ব্যবহারের অনুমতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
গরমকালের লাভ দিয়ে কম বিক্রির মাস চালাতে হবে
সাধারণত গরমকাল ও রমজানে চাহিদা বাড়ে। তবে সময়, বৃষ্টি এবং স্থানীয় ক্রেতাদের অভ্যাস অনুযায়ী বিক্রির ধরন বদলাতে পারে। ভালো গরমের দিনে একটি কাউন্টারে আনুমানিক ৭০ থেকে ১২০ কাপ বিক্রি হতে পারে। বৃষ্টি, ঠান্ডা আবহাওয়া বা কম লোকসমাগমের দিনে সেটি ২৫ থেকে ৫৫ কাপে নেমে আসতে পারে। এগুলো পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক সীমা, বিক্রির নিশ্চয়তা নয়।
ভালো বিক্রির দিনের পুরো নগদ অর্থ খরচযোগ্য আয় মনে করবেন না। কম বিক্রির মাস, যন্ত্রপাতি মেরামত এবং ফলের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি সামলাতে পরিচালন উদ্বৃত্তের আনুমানিক ২০% থেকে ৩০% আলাদা রাখুন। বার্ষিক ভাড়া, লাইসেন্স নবায়ন, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং মালিক হিসেবে আপনার ন্যূনতম আয়ের হিসাব করুন। শীতে বিক্রি কমে গেলেও গরমকালের লাভজনক সময়কে এসব খরচের একটি অংশ বহন করতে হবে।
ব্যবসার মূল ধরন না বদলে শীতের জন্য কিছু পণ্য যোগ করা যেতে পারে। নিরাপদে প্রস্তুত করতে এবং যথেষ্ট পরিমাণে বিক্রি করতে পারলে লাচ্ছি, দুধভিত্তিক পানীয়, চা বা সীমিত কিছু নাশতা রাখতে পারেন। বেশি পণ্য যোগ করলে নতুন যন্ত্রপাতি, মজুত ও পণ্য নষ্ট হওয়ার খরচ তৈরি হয়। লম্বা মেনুর চেয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের একটি গোছানো কাউন্টার অনেক সময় বেশি লাভজনক হয়।
শুরুতে আসলে কী কী কিনতে হবে
শহর, ব্র্যান্ড, ধারণক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং যন্ত্রপাতি নতুন না পুরোনো, এসবের ওপর বাজারদর নির্ভর করে। পুঁজি বিনিয়োগের আগে বর্তমান কোটেশন যাচাই করুন। শুরুর সম্ভাব্য খরচের সাধারণ সীমা নিচে দেওয়া হলো:
| পণ্য | আনুমানিক খরচ | কেনার পরামর্শ |
|---|---|---|
| কার্ট বা সাধারণ কাউন্টার | ৳২৫,০০০ থেকে ৳৮০,০০০ | ধোয়া যায় এমন পৃষ্ঠ, সংরক্ষণের জায়গা, ছায়া এবং চলমান কার্ট হলে শক্ত চাকার ব্যবস্থা অগ্রাধিকার দিন। |
| কমার্শিয়াল ব্লেন্ডার | ৳৮,০০০ থেকে ৳২৫,০০০ | মোটরের শক্তি, জার পাওয়া যায় কি না এবং স্থানীয় মেরামতসেবা বিবেচনা করে কিনুন। |
| সেন্ট্রিফিউগাল জুসার | ৳১২,০০০ থেকে ৳৪০,০০০ | আপেল, গাজর ও একই ধরনের পণ্যের জন্য উপযোগী, তবে এতে ফলের পাল্প অপচয় হয়। |
| সাইট্রাস প্রেস | ৳২,৫০০ থেকে ৳১২,০০০ | ছোট লেবু বা মাল্টার মেনুর জন্য ম্যানুয়াল মডেলই যথেষ্ট হতে পারে। |
| রেফ্রিজারেটর | ৳২৫,০০০ থেকে ৳৫৫,০০০ | বিদ্যুৎ খরচ, দরজার সিলের অবস্থা এবং সার্ভিসের সুবিধা যাচাই করুন। |
| পানির ফিল্টার | ৳৫,০০০ থেকে ৳২০,০০০ | উৎসের পানিতে আসলে কী সমস্যা আছে, সে অনুযায়ী ফিল্টার বেছে নিন। |
| আইস বক্স বা তাপ-নিরোধক সংরক্ষণব্যবস্থা | ৳২,৫০০ থেকে ৳৮,০০০ | ঢাকনা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ খাদ্য রাখার উপযোগী পাত্র ব্যবহার করুন। |
| সিঙ্ক, স্টিলের টেবিল ও তাক | ৳৮,০০০ থেকে ৳৩০,০০০ | স্থায়ী দোকানে ধোয়া ও প্রস্তুতির জন্য ব্যবহারযোগ্য জায়গা প্রয়োজন। |
| ছুরি, বোর্ড, জগ ও ওজন মাপার যন্ত্র | ৳৩,০০০ থেকে ৳১০,০০০ | প্রস্তুতি ও পরিবেশনের জন্য আলাদা এবং সহজে ধোয়া যায় এমন সরঞ্জাম রাখুন। |
| শুরুর প্যাকেজিং মজুত | ৳৩,০০০ থেকে ৳১০,০০০ | কার্টনভর্তি অর্ডার দেওয়ার আগে কাপ ও ঢাকনায় ছিদ্র বা লিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। |
সুতরাং কার্যকরী মূলধন বাদ দিয়ে ছোট পরিসরের একটি কার্টে আনুমানিক ৳৫৫,০০০ থেকে ৳১,৫০,০০০ প্রয়োজন হতে পারে। অগ্রিম জামানত, সাজসজ্জা, রেফ্রিজারেটর ও পানির সংযোগসহ ছোট একটি স্থায়ী কাউন্টারে আনুমানিক ৳১,২০,০০০ থেকে ৳৩,৫০,০০০ লাগতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার ব্যয়বহুল এলাকায় এই সীমা দ্রুত বাড়তে পারে।
ব্লেন্ডার নাকি জুসার?
ব্লেন্ডার পানীয়তে বেশি পাল্প রাখে এবং আম, কলা, পেঁপে, লাচ্ছি ও ব্লেন্ড করা শরবতের জন্য উপযোগী। সেন্ট্রিফিউগাল জুসার ফলের আঁশের বড় অংশ আলাদা করে এবং গাজর, আপেল বা স্বচ্ছ মিশ্র জুস তৈরিতে কাজে লাগে। বেশির ভাগ নতুন উদ্যোক্তার প্রথমে নির্ভরযোগ্য একটি ব্লেন্ডার কেনা উচিত। ক্রেতারা বারবার এমন পণ্য চাইলে তবেই জুসার যোগ করুন, যার জন্য যন্ত্রটি সত্যিই প্রয়োজন। একটি দামি মেশিনের বদলে সাশ্রয়ী দামের দুটি ব্লেন্ডার জার বেশি কার্যকর হতে পারে। একটি জার ধোয়া বা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় অতিরিক্ত জার দিয়ে কাউন্টার চালু রাখা যাবে।
মৌসুমি ফল ও প্যাকেজিং খরচ নিয়ন্ত্রণ করুন
শুধু কেজিপ্রতি দাম দেখে ফল কিনবেন না। ব্যবহারযোগ্য ফল থেকে কত কাপ পাওয়া যায়, সেই হিসাবে খরচ নির্ধারণ করুন। এক ব্যাচ ফল ওজন করুন, খোসা, বিচি ও নষ্ট অংশ বাদ দিন, তারপর বাকি ফল থেকে কতটি নির্ধারিত মাপের কাপ তৈরি হয় তা গুনুন। বড় আঁটি ও বেশি নষ্ট অংশ থাকা সস্তা আমের কাপপ্রতি খরচ ভালো মানের আমের চেয়েও বেশি হতে পারে।
দোকান খোলার আগে কাছাকাছি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখুন। দিনের বিভিন্ন সময়ের দাম তুলনা করুন, সরবরাহকারীদের কাছে মিশ্র মানের ফল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন এবং দ্রুত নষ্ট হয় এমন ফল প্রতিদিন অল্প পরিমাণে কিনুন। তরমুজ, আনারস, পেঁপে, লেবু, কাঁচা আম এবং মৌসুমি পাকা আমের প্রতিটিরই লাভজনক সময় থাকতে পারে। মূল ফলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বদলালে সারা বছর একই মূল্য রাখার প্রতিশ্রুতি দেবেন না।
আকার, উপকরণ ও কেনার পরিমাণ অনুযায়ী প্রতিটি takeaway অর্ডারে কাপ, ঢাকনা, স্ট্র, টিস্যু ও ব্যাগের মোট খরচ আনুমানিক ৳৭ থেকে ৳১৫ হতে পারে। ঢাকনা থেকে পানীয় বের হলে টাকা ফেরত দেওয়া ও খারাপ রিভিউয়ের ঝুঁকিও তৈরি হয়। প্যাকেজিংকে মাঝেমধ্যে করা বাজারের খরচ হিসেবে নয়, প্রতিটি বিক্রির খরচ হিসেবে হিসাব করুন। দোকানে বসে পান করা ক্রেতাদের জন্য ধোয়া যায় এমন গ্লাস প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার কমাতে পারে। তবে কেবল যথাযথভাবে ধোয়া এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেই এটি ব্যবহার করুন।
বরফ ও পানির নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়
ফল দেখতে তাজা হলেই জুস নিরাপদ হয়ে যায় না। শরবতে পানি ব্যবহার হয়, বরফ পানীয়ের সংস্পর্শে আসে এবং ব্লেন্ডারের জার এক ব্যাচ থেকে অন্য ব্যাচে দূষণ ছড়াতে পারে। যাচাই করা উৎসের পানযোগ্য পানি অথবা উপযুক্ত ফিল্টার ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। সময়মতো ফিল্টার বদলান এবং পানির ট্যাংক পরিষ্কার রাখুন।
- পরিচয় যাচাই করা যায় এমন সরবরাহকারীর কাছ থেকে খাদ্য ব্যবহারের উপযোগী বরফ কিনুন। অজানা পরিবহনব্যবস্থায় আনা বা শিল্পকারখানার বরফ ব্যবহার করবেন না।
- বরফ ঢেকে রাখুন এবং হাত বা পরিবেশনের গ্লাসের বদলে পরিষ্কার স্কুপ ব্যবহার করুন।
- কাটার আগে পুরো ফল ধুয়ে নিন। দৃশ্যমান পচা বা ছত্রাকযুক্ত অংশ ব্লেন্ড না করে ফেলে দিন।
- সারাদিন নিয়মিতভাবে ব্লেন্ডারের জার, ছুরি, বোর্ড ও কাউন্টার পরিষ্কার করুন।
- দুধ, কাটা ফল ও আগে থেকে তৈরি মিশ্রণ রেফ্রিজারেটরে রাখুন। বেশি পরিমাণ তৈরি করে গরম পরিবেশে ফেলে না রেখে ছোট ব্যাচে প্রস্তুত করুন।
- হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখুন এবং সম্ভব হলে নগদ টাকা ধরার কাজকে পান করার জন্য প্রস্তুত উপকরণ থেকে আলাদা রাখুন।
নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় কিছু বাড়তি খরচ হতে পারে। কিন্তু অসুস্থতার একটি অভিযোগও ছোট কাউন্টারের সুনাম স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
দৈনিক বিক্রি ও লাভের যে হিসাব আপনি নিজে করতে পারবেন
প্রথমে প্রতি কাপের contribution হিসাব করুন। বিক্রয়মূল্য থেকে ফল, চিনি, দুধ বা ফ্লেভার, বরফ, পানি, প্যাকেজিং এবং প্রত্যাশিত অপচয়ের খরচ বাদ দিন। এরপর দৈনিক ভাড়ার অংশ, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও কর্মীর বেতনের মতো স্থায়ী খরচ বাদ দিন।
ধরা যাক, সতর্ক হিসাব অনুযায়ী এক দিনে ৪৫ কাপ বিক্রি হলো। গড় বিক্রয়মূল্য ৳১০০ থেকে ৳১১০ হলে মোট বিক্রি হবে ৳৪,৫০০ থেকে ৳৪,৯৫০। প্রতি কাপের পরিবর্তনশীল খরচ ৳৫২ থেকে ৳৫৮ হলে মোট পরিবর্তনশীল খরচ হবে ৳২,৩৪০ থেকে ৳২,৬১০। ফলে contribution থাকবে আনুমানিক ৳১,৮৯০ থেকে ৳২,৬১০। দৈনিক স্থায়ী খরচ প্রায় ৳৯০০ থেকে ৳১,৩০০ বাদ দেওয়ার পর পরিচালন উদ্বৃত্ত থাকবে আনুমানিক ৳৫৯০ থেকে ৳১,৭১০। মালিকের পারিশ্রমিক, কর ও যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের জন্য অর্থ রাখার আগের হিসাব এটি।
গরমের ব্যস্ত দিনে ৯০ কাপ বিক্রি হলে, গড় বিক্রয়মূল্য ৳১১০ থেকে ৳১২৫ ধরে মোট বিক্রি হবে ৳৯,৯০০ থেকে ৳১১,২৫০। প্রতি কাপের পরিবর্তনশীল খরচ ৳৫৫ থেকে ৳৬২ হলে মোট খরচ দাঁড়াবে ৳৪,৯৫০ থেকে ৳৫,৫৮০। contribution হবে আনুমানিক ৳৪,৩২০ থেকে ৳৬,৩০০। দৈনিক স্থায়ী খরচ আনুমানিক ৳১,১০০ থেকে ৳১,৭০০ বাদ দেওয়ার পর পরিচালন উদ্বৃত্ত প্রায় ৳২,৬২০ থেকে ৳৫,২০০ হতে পারে।
এই উদাহরণগুলো আয়ের নিশ্চয়তা নয়। প্রতিটি অনুমানের জায়গায় আপনার সরবরাহকারীর দাম, কাপের আকার, বিক্রির সংখ্যা ও ভাড়া বসান। ব্যবসাটি সত্যিই লাভজনক কি না যাচাই করার সময় নিজের শ্রমের পারিশ্রমিকও খরচে ধরুন। পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও জানতে বাংলাদেশে ছোট রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার গাইড দেখুন।
নতুন উদ্যোক্তারা সাধারণত কোথায় টাকা হারান
- মেনুতে অতিরিক্ত পণ্য: কম বিক্রি হওয়া ফল বিক্রির আগেই নষ্ট হয়ে যায়।
- নির্ধারিত কাপ বা স্কুপ না রাখা: কর্মী বা মালিক প্রতিবার ভিন্ন পরিমাণে ঢাললে খরচের হিসাব নির্ভরযোগ্য থাকে না।
- অপচয় উপেক্ষা করা: খোসা, বিচি, নষ্ট ফল, অবশিষ্ট মিশ্রণ এবং বিনা মূল্যে বদলে দেওয়া পানীয়েরও খরচ আছে।
- শুধু দাম দেখে কেনা: ফলের কম ব্যবহারযোগ্য অংশ, দুর্বল ব্লেন্ডার ও লিক করা কাপ আপাত সাশ্রয় মুছে দিতে পারে।
- নগদ অর্থকে লাভ মনে করা: সরবরাহকারীর বিল, ভাড়া, বিদ্যুৎ, মেরামত ও মালিকের শ্রমের খরচ এখনো বাদ দিতে হবে।
- নিয়ন্ত্রণহীন ছাড় বা বাকিতে বিক্রি: কম লাভের ব্যবসা ঘন ঘন বিনা মূল্যে পানীয় দেওয়া বা অনাদায়ী বাকি সামলাতে পারে না।
- একটি মৌসুমের ওপর নির্ভর করা: এপ্রিল বা মে মাসে ভালো বিক্রি হলেই বৃষ্টি ও শীতের মাস চালানোর মতো অর্থ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
লাইসেন্স ও স্থানীয় অনুমতি
স্থায়ী জুসের দোকান বা কাউন্টারের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা অন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। স্থায়ী জায়গা নেওয়ার পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য খাদ্য ব্যবসা নিবন্ধন বা লাইসেন্সের শর্ত যাচাই করুন এবং আপনার ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য ক্যাটাগরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। ভাড়ার কাগজপত্র ও পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখুন, কারণ লাইসেন্স প্রদানকারী অফিস সহায়ক নথি চাইতে পারে।
চলমান কার্টের নিয়ম তুলনামূলকভাবে কম স্পষ্ট। বাস্তবে স্থানীয় সিটি করপোরেশনের নিয়ম, রাস্তা ব্যবহারের বিধিনিষেধ এবং অনানুষ্ঠানিক জায়গা ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়। অনানুষ্ঠানিক অর্থ প্রদান বা কোনো দোকানদারের মৌখিক অনুমতি আইনগত অনুমতির সমান নয়। কোথায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রি করা যায় এবং কোনো ট্রেড লাইসেন্স ক্যাটাগরি বা লিখিত অনুমোদন পাওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা জোনাল অফিসে জিজ্ঞাসা করুন। স্থানভেদে নিয়ম ও প্রয়োগ আলাদা হতে পারে।
তৈরি করে সরাসরি বিক্রি করা তাজা পানীয় এবং বোতলজাত, লেবেলযুক্ত পানীয় উৎপাদন এক বিষয় নয়। ভবিষ্যতে খুচরা বাজারে ব্যাপকভাবে বিক্রির জন্য বোতলজাত পণ্য তৈরি করলে বাড়তি খাদ্যনিরাপত্তা, লেবেলিং এবং সম্ভবত মান নিয়ন্ত্রণের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। অন্য বিক্রেতার কাগজপত্রের ওপর নির্ভর না করে BFSA, স্থানীয় লাইসেন্স অফিস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আপনার VAT circle থেকে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করুন।
শুরুর দিকে হিসাব সহজ রাখুন
প্রতিটি বিক্রি, কেনাকাটা ও অপচয়ের তথ্য নিয়মিত লেখা হলে একটি খাতা বা spreadsheet দিয়েই কাজ চলতে পারে। পণ্যভেদে বিক্রি হওয়া কাপ, পাওয়া নগদ অর্থ, কেনা ফল, ব্যবহৃত প্যাকেজিং এবং দিনের শেষের মজুত লিখে রাখুন। হাতে লেখা মোট হিসাব কঠিন হয়ে গেলে Rosuii দিয়ে ফোনে বিল করা, দৈনিক বিক্রির মোট পরিমাণ দেখা এবং অল্প কিছু stock item-এর হিসাব রাখা যায়। একজনের কার্টে software তখনই ব্যবহার করা উচিত, যখন সেটি সময় বাঁচায় বা নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। শুধু আধুনিক দেখানোর জন্য নয়।
চার থেকে ছয়টি পানীয় দিয়ে শুরু করুন, কয়েক সপ্তাহ জায়গাটি পরীক্ষা করুন, পানি ও বরফের মান ঠিক রাখুন এবং উপকরণের খরচ বদলালে মূল্য সংশোধন করুন। ব্যবসা বড় হওয়ার সঙ্গে ফোনে বিলিং ও দৈনিক বিক্রির হিসাব রাখতে প্রস্তুত? Rosuii-তে নিবন্ধন করুন।
হালনাগাদ:
সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে ছোট একটি জুস বার শুরু করতে কত পুঁজি প্রয়োজন?
নতুন উদ্যোক্তার প্রথমে কোন যন্ত্র কেনা উচিত, ব্লেন্ডার নাকি জুসার?
বাংলাদেশে ছোট জুসের দোকানের কী কী লাইসেন্স প্রয়োজন?
শীত বা বৃষ্টির সময় জুস বার কীভাবে বিক্রি সামলাতে পারে?
প্রতি কাপের ফলের খরচ কীভাবে হিসাব করতে হবে?
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

