মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল চিকেন মোমো রেসিপি

প্রায় ২০০টি চিকেন মোমোর কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নির্দিষ্ট ওজনের খোল ও রসালো পুর, দ্রুত ভাঁজ, ব্যাচ স্টিমিং, ফ্রিজিং এবং চাটনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম রয়েছে।

শেয়ার
লাল টমেটো-মরিচের চাটনির পাশে পরিবেশন করা প্লিট করা খোলের স্টিমড চিকেন মোমোর প্লেট।
প্রস্তুতি
২ ঘণ্টা
রান্না
১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
মোট
৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Asian

প্রণালী

  1. 1

    মোমোর চাটনি রান্না করুন

    ভারী তলার হাঁড়িতে টমেটো, ভেজানো মরিচ, ৬০ গ্রাম রসুন, ভিনেগার, চিনি ও ৭ গ্রাম লবণ একসঙ্গে নিন। ৯০°C থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা জ্বালে রান্না করুন, যতক্ষণ টমেটো সম্পূর্ণ নরম হয় এবং বাড়তি পানি কমে আসে। ধনেপাতা দিয়ে মসৃণ করে ব্লেন্ড করুন, তারপর চাটনি চামচের গায়ে লেগে থাকার মতো ঘন হওয়া পর্যন্ত আরও ৫ মিনিট রান্না করুন।

  2. 2

    মোমোর খোলের ডো তৈরি করুন

    ময়দার সঙ্গে ২০ গ্রাম লবণ মেশান, তারপর মিক্সারের কম গতিতে চালিয়ে ঠান্ডা পানির বেশির ভাগ দিন। প্রয়োজন হলেই বাকি পানি দিন, এরপর তেল যোগ করুন। ডো মসৃণ, মাঝারি শক্ত এবং প্রায় ২২°C থেকে ২৪°C হওয়া পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ মিনিট মাখুন। ডো বাঁকালে ফাটবে না, তবে আঠালোও হবে না।

  3. 3

    ডো ঢেকে বিশ্রাম দিন

    ডো শক্ত করে ঢেকে ঘরের তাপমাত্রায় ৩০ মিনিট বিশ্রাম দিন। তাপমাত্রা ২৭°C-এর নিচে রাখুন এবং ফ্যানের সরাসরি বাতাস থেকে দূরে রাখুন। বিশ্রামের পর ডো আরও নমনীয় হবে এবং চাপ দিলে দ্রুত আগের আকারে ফিরে আসবে না।

  4. 4

    ঠান্ডা পুর তৈরি করুন

    ঠান্ডা চিকেনের সঙ্গে ১৮ গ্রাম লবণ, আদা, ১০০ গ্রাম রসুন, সয়া সস, তিলের তেল ও গোলমরিচ ২ থেকে ৩ মিনিট মেশান, যতক্ষণ মিশ্রণ সামান্য আঠালো হয়। বাঁধাকপি, পেঁয়াজ ও পেঁয়াজপাতা যোগ করে সবজি না থেঁতলে আরও ১ থেকে ২ মিনিট মেশান। পুর ৫°C বা তার নিচে রাখুন। বাটির তলায় পানি জমে গেলে সেই মিশ্রণ ব্যবহার করবেন না।

  5. 5

    ডো পোরশন করে খোল বেলুন

    ডো ১৮ গ্রাম করে ভাগ করে ঢেকে রাখুন। প্রতিটি অংশ প্রায় ৯ সেমি ব্যাসে বেলুন। মাঝখান প্রায় ১.২ মিমি এবং কিনারা প্রায় ০.৮ মিমি পুরু রাখুন। এমন ছোট ব্যাচে কাজ করুন, যা ১০ মিনিটের মধ্যে পুর দিয়ে বন্ধ করা যায়। এতে কিনারা নরম ও নমনীয় থাকবে।

  6. 6

    পুর দিয়ে মোমোর মুখ বন্ধ করুন

    প্রতিটি খোলের মাঝখানে ২৪ গ্রাম ঠান্ডা পুর দিন এবং সিল করার কিনারা পরিষ্কার রাখুন। ভেতরের বাতাস বের করে শক্তভাবে প্লিট বা ভাঁজ করুন, তবে পুর যেন সিলের মধ্যে না ঢোকে। তৈরি কাঁচা মোমোর ওজন প্রায় ৪২ গ্রাম হবে এবং সেটি লিক বা মুখ না খুলে সোজা থাকতে পারবে।

  7. 7

    স্টিমার গরম করে ট্রে ঢোকান

    ট্রে ঢোকানোর আগে স্টিমারে পূর্ণ ১০০°C বাষ্প তৈরি করুন। ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে অল্প তেল মেখে মোমোগুলো প্রায় ২ সেমি দূরে রাখুন এবং কোনো পিস যেন আরেকটির সঙ্গে না লাগে। ঢাকনা বন্ধ করার ১ থেকে ২ মিনিটের মধ্যে আবার জোরে বাষ্প আসতে হবে।

  8. 8

    নিরাপদ তাপমাত্রা পর্যন্ত স্টিম করুন

    পূর্ণ বাষ্প ফিরে আসার পর তাজা মোমো ১১ থেকে ১৩ মিনিট স্টিম করুন। সবচেয়ে ঠান্ডা ট্রে থেকে একটি পিস পরীক্ষা করুন এবং কেন্দ্র কমপক্ষে ৭৪°C না হওয়া পর্যন্ত রান্না চালিয়ে যান। খোল সামান্য স্বচ্ছ ও ওপর থেকে শুকনা দেখাবে এবং চিকেনের রস পরিষ্কার থাকবে।

  9. 9

    তাৎক্ষণিক সার্ভিসের জন্য পোরশন করুন

    ট্রে খুলে ১ মিনিট রাখুন, যাতে ওপরের বাষ্প বের হয়ে যায়। তারপর পাঁচটি মোমোর সঙ্গে ৩৫ গ্রাম চাটনি প্লেটে দিন। সবচেয়ে নরম খোলের জন্য ১৫ মিনিটের মধ্যে সার্ভ করুন। হোল্ড করা এড়ানো না গেলে ঢেকে ৬০°C-এর ওপরে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট রাখুন।

  10. 10

    কাঁচা উৎপাদন ফ্রিজ করুন

    রান্না না করা মোমো অল্প ময়দা ছড়ানো ট্রেতে এক স্তরে সাজিয়ে সঙ্গে সঙ্গে -১৮°C বা তার নিচের ফ্রিজারে রাখুন। শক্ত হওয়া পর্যন্ত ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ফ্রিজ করুন, তারপর প্যাক ও লেবেল করে আবার ফ্রিজারে রাখুন। ফ্রোজেন অবস্থা থেকে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ মিনিট স্টিম করুন এবং কেন্দ্র ৭৪°C হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই চিকেন মোমো রেসিপিতে প্রায় ২০০টি মাঝারি মোমো হবে, যা পাঁচটি করে প্রায় ৪০ প্লেটের জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও ফুড কার্টের জন্য রেসিপিটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে ওজন করা পোরশন, ঠান্ডা রাখা চিকেনের পুর এবং প্রতিবার একই ফল দেয় এমন স্টিমার ব্যাচ ব্যবহার করা যায়। ব্যাচে নিয়ন্ত্রিত সার্ভিস পোরশনের জন্য পর্যাপ্ত টমেটো-মরিচের চাটনিও থাকবে।

ব্যবসায়িকভাবে চিকেন মোমো কার্যকর কেন

চেনা উপকরণ, আগাম উৎপাদনের সুবিধা এবং অর্ডারের পর দ্রুত রান্না করা যায় বলে চিকেন মোমো ভালো বিক্রি হয়। সার্ভিসের আগে খোল ও পুর তৈরি করা যায়, কম ব্যস্ত সময়ে মোমো ভাঁজ করা যায় এবং পরিকল্পিত ব্যাচে স্টিম করা যায়। কাঁচা মোমো ফ্রিজ করেও রাখা যায়, তাই ফুড কার্টকে একই দিনে পুরো উৎপাদন রান্না করতে হয় না।

এর প্রধান অপারেশনাল সুবিধা হলো পোরশন চোখে গোনা যায়। ক্রেতা পিস গুনতে পারেন এবং রান্নাঘরও আন্দাজে পরিবেশন না করে প্রতিটি প্লেট একই রাখতে পারে। পাঁচটি মোমোর সঙ্গে ৩৫ গ্রাম চাটনি একটি কার্যকর স্ন্যাকস পোরশন। উৎপাদনের মূল ফর্মুলা না বদলিয়েই বেশি পিস দিয়ে মিল পোরশন চালু করা যায়।

উপকরণ নির্বাচন ও মান নিয়ন্ত্রণ

দামি মসলা ব্যবহারের চেয়ে চিকেনের তাপমাত্রা, ময়দার ধারাবাহিকতা এবং সবজির পানি নিয়ন্ত্রণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ছাড়া রান বা রানের মাংস বেশি আছে এমন মিশ্রণ ব্যবহার করুন। খুব লিন বুকের মাংস দিয়ে পুর করলে সেটি শুকনা ও শক্ত হয়। মিক্সিং স্টেশনে কিমার তাপমাত্রা ০°C থেকে ৫°C থাকতে হবে। টক গন্ধ, গরম অনুভূতি বা অতিরিক্ত পানি বের হলে কিমা ব্যবহার করবেন না।

একই মানের ময়দা ব্যবহার জরুরি, কারণ ময়দার পানি শোষণ বদলালে খোলের টেক্সচারও বদলায়। মাঝারি প্রোটিনের ময়দা ভাঁজ ধরে রাখার মতো শক্তি দেয়, কিন্তু ব্রেড ফ্লাওয়ারের মতো অতিরিক্ত ইলাস্টিক ও চিবানোর মতো হয় না। শুরুতে নির্ধারিত পানির প্রায় ১০ শতাংশ আটকে রাখুন। কয়েক মিনিট মেশানোর পরও ডো ফেটে গেলে প্রয়োজনমতো সেই পানি দিন।

বাঁধাকপি ও পেঁয়াজ পুরকে নরম ও রসালো করে, কিন্তু ভেজা সবজি মোমোর খোল নষ্ট করতে পারে। বাঁধাকপি মিহি কেটে পরিষ্কার কাপড় বা ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে শক্ত করে চেপে মুক্ত পানি বের করুন, তারপর পুরের জন্য ওজন করুন। পেঁয়াজ কেটে রাখলে সময়ের সঙ্গে বেশি পানি ছাড়ে, তাই মেশানোর অল্প আগে কাটুন।

চাটনির জন্য পাকা লাল টমেটো, পরিষ্কার শুকনা মরিচ এবং চিকেনের ভারী স্বাদের বিপরীতে টকভাব দেওয়ার মতো ভিনেগার দরকার। টমেটোর পাকা অবস্থার কারণে রং ও রান্নার পর পাওয়া পরিমাণ দুটিই বদলায়। ফ্যাকাশে ও পানিযুক্ত টমেটোর ঘাটতি বেশি চিনি দিয়ে পূরণ করবেন না। এতে ঝাঁঝালো মোমো চাটনির বদলে মিষ্টি সস তৈরি হবে।

মোমোর খোল নিয়ন্ত্রণ

ভালো মোমোর খোল কিনারায় পাতলা, মাঝখানে সামান্য মোটা এবং ভেতরের বাষ্পের চাপ ধরে রাখার মতো শক্ত হতে হবে। ডো মসৃণ ও মাঝারি শক্ত হওয়া পর্যন্ত মেশান, তারপর ঢেকে বিশ্রাম দিন যেন ময়দা সম্পূর্ণ পানি শোষণ করে। বিশ্রাম না দেওয়া ডো বেলার সময় আবার সঙ্কুচিত হয় এবং ভাঁজের লাইনে কাজ ধীর করে।

চোখের আন্দাজে ছেঁড়ার বদলে প্রতিটি ডো ১৮ গ্রাম ওজন করুন। বেলে বা শিটারে প্রায় ৯ সেমি ব্যাস করুন। মাঝখানের পুরুত্ব প্রায় ১.২ মিমি এবং কিনারা প্রায় ০.৮ মিমি রাখুন। অল্প ময়দা ছিটিয়ে নিন, কিন্তু পুর দেওয়ার আগে দৃশ্যমান বাড়তি ময়দা ঝেড়ে ফেলুন। বেশি শুকনা ময়দা থাকলে ভাঁজ ঠিকভাবে আটকায় না।

একবারে ২০ থেকে ৩০টি খোল নিয়ে কাজ করুন। ডোর বল ও বেলা খোল ফুড-সেফ প্লাস্টিক বা খুব সামান্য ভেজা কাপড়ের নিচে রাখুন। শুকনা কিনারা ভাঁজের সময় ফেটে যায়, আবার বেশি ভেজা কাপড়ে খোল আঠালো হয়ে একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে যায়।

রসালো পুর ও দ্রুত ভাঁজ

ঠান্ডা চিকেন, সবজির নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা এবং প্রোটিন সামান্য আঠালো হওয়া পর্যন্ত মেশানোই রসালো মোমোর পুরের মূল কৌশল। প্রথমে চিকেনের সঙ্গে লবণ ও সিজনিং মেশান, তারপর সবজি দিন। তৈরি পুর গ্লাভস পরা হাত বা প্যাডেলে আটকে থাকবে, কিন্তু বাটির তলায় পানি জমবে না।

উৎপাদনের পুরো সময় পুর ৫°C বা তার নিচে রাখুন। বড় ব্যাচ অগভীর কয়েকটি কনটেইনারে ভাগ করুন এবং ভাঁজের টেবিলের পাশে পুরো ব্যাচ না রেখে অব্যবহৃত কনটেইনার ফ্রিজে ফেরত দিন। আগের গরম হয়ে যাওয়া পুর নতুন ঠান্ডা ব্যাচের সঙ্গে কখনো মেশাবেন না।

প্রতিটি খোলে ২৪ গ্রাম পুর দিন। ছোট ডিসার বা স্কুপ কাজের গতি বাড়াতে পারে, তবে ডিজিটাল স্কেলে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। স্কুপের মধ্যে পুর বেশি চেপে গেলে প্রতিবারের ওজন বদলে যায়। ফুড কার্টে অর্ধচন্দ্র ভাঁজ সাধারণত দ্রুত করা যায়। গোল প্লিট করা মোমোর জন্য বেশি প্রশিক্ষণ দরকার, তাই রেসিপি কস্টিংয়ে এর শ্রম খরচ বেশি ধরে হিসাব করতে হবে।

স্টেশন এমনভাবে সাজান যেন একজন ডো পোরশন করেন, একজন বেলেন এবং একজন বা দুজন পুর দিয়ে মুখ বন্ধ করেন। উৎপাদন শুরুর আগে প্রত্যেক কর্মীর টানা ১০টি মোমো তুলনা করুন। প্লিটের ধরন সামান্য আলাদা হতে পারে, কিন্তু মোট পিসের ওজন ও সিলের মান একই থাকতে হবে।

সার্ভিস ব্যাচে স্টিমিং

মোমো সম্পূর্ণ বাষ্পে ভরা স্টিমারে ঢোকাতে হবে এবং সার্ভিসের আগে কেন্দ্রের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C হতে হবে। ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে হালকা তেল মাখান এবং প্রতিটি মোমোর মধ্যে প্রায় ২ সেমি ফাঁকা রাখুন। বেশি গাদাগাদি করলে বাষ্প চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং পাশাপাশি থাকা খোল একসঙ্গে লেগে যায়।

জোরে বাষ্প ফিরে আসার পর থেকে সময় গণনা শুরু করুন। একাধিক স্তরের পূর্ণ স্টিমারে একটি ট্রের তুলনায় তাপ ফিরে আসতে বেশি সময় লাগতে পারে। পরিষ্কার প্রোব থার্মোমিটার দিয়ে সবচেয়ে ঠান্ডা স্তরের মোমো পরীক্ষা করুন। বারবার ঢাকনা তুলবেন না, কারণ প্রতিবার তাপ বের হয়ে রান্নার সময় বাড়ে।

সব ট্রে একসঙ্গে ভর্তি না করে সম্ভাব্য বিক্রি অনুযায়ী স্টিম করুন। কতটি মোমো ঢুকেছে, কখন ঢুকেছে এবং কখন বের হয়েছে তা লিখে রাখুন। ব্যস্ত সময়ে এতে উৎপাদনের হিসাব ঠিক থাকে এবং কোনো ট্রে ভুলে যাওয়া বা দুবার স্টিম হওয়ার ঝুঁকি কমে।

হোল্ডিং, পুনরায় গরম করা ও ফ্রিজিং

স্টিম করা মোমোর খোল প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে সবচেয়ে ভালো থাকে, তাই দীর্ঘ সময় হোল্ড করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ঢেকে ৬০°C-এর ওপরে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট রাখুন। ভেতরে এমন বায়ু চলাচল থাকতে হবে যেন ঘনীভূত পানি খোলের ওপর না পড়ে। দীর্ঘ সময় গরম রাখলে খোল মোটা, অনুজ্জ্বল ও চামড়ার মতো শক্ত হয়।

অব্যবহৃত রান্না করা মোমো দ্রুত ঠান্ডা করে দুই ঘণ্টার মধ্যে ৫°C বা তার নিচে আনুন, ফ্রিজে রাখুন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। স্টিমারে একবারই পুনরায় গরম করুন এবং কেন্দ্র আবার ৭৪°C হওয়া নিশ্চিত করুন। পুনরায় গরম করা মোমো নতুন ট্রের সঙ্গে মেশাবেন না, কারণ তখন কর্মীরা কোন পিস কত পুরোনো তা শনাক্ত করতে পারবেন না।

ফ্রোজেন উৎপাদনের জন্য কাঁচা মোমো অল্প ময়দা ছড়ানো ট্রেতে এক স্তরে রেখে সঙ্গে সঙ্গে -১৮°C বা তার নিচে ফ্রিজ করুন। শক্ত হয়ে গেলে কম বাতাস রেখে তারিখ লেখা ফুড-গ্রেড ব্যাগ বা কনটেইনারে প্যাক করুন। গলানো ছাড়াই সরাসরি স্টিম করুন এবং খোল ও পুরের নির্ভরযোগ্য মানের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন।

ব্যাচ বড় করা ও উৎপাদনের হিসাব

এই ব্যাচ উপকরণের ওজন অনুযায়ী বড় বা ছোট করতে হবে, কিন্তু স্টিমিংয়ের সময় বা চাটনির পানি কমার হার সরাসরি গুণ করা যাবে না। অর্ধেক ব্যাচেও একই মিক্সিং পদ্ধতি চলবে। দ্বিগুণ ব্যাচ এমন কয়েকটি মিক্সার লোডে ভাগ করুন, যা মেশিন চিকেন গরম না করে সামলাতে পারে। প্রতিটি লোডের পর পুরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।

ব্যাচের আকার বদলালেও প্রতি মোমোয় ১৮ গ্রাম ডো ও ২৪ গ্রাম পুরের লক্ষ্য বদলাবে না। ডো ছাঁটা, বাটিতে লেগে থাকা অংশ এবং মান পরীক্ষার স্বাভাবিক ক্ষতি বাদ দিয়ে বিক্রিযোগ্য উৎপাদন প্রায় ২০০টি হবে। নষ্ট খোল, লিক হওয়া মোমো এবং অবিক্রীত রান্না করা স্টক উৎপাদনের হিসাবে লুকিয়ে না রেখে খাবারের অপচয় কমানোর রেকর্ডে লিখুন।

একই মানের পোরশন কন্ট্রোলের জন্য ফ্রোজেন মোমো ২৫ বা ৫০টির মতো সম্পূর্ণ প্লেটের গুণিতকে প্যাক করুন। চাটনি মাপা ৩৫ গ্রামের কাপ বা লাডল দিয়ে দিন। ওপেনিং স্টক, উৎপাদন, স্টাফ মিল, অপচয় ও ক্লোজিং স্টক আলাদাভাবে গুনুন।

যেসব ভুলে খরচ বাড়ে

অতিরিক্ত পুর, গরম ফিলিং, দুর্বল সিল এবং চাহিদার আগেই স্টিম করে রাখা মোমো উৎপাদনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। বেশি পুর উদার পোরশন মনে হলেও মোট পিস কমিয়ে দেয় এবং লিক বাড়ায়। গরম পুর খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে এবং স্টিমারে যাওয়ার আগেই খোল নরম করে ফেলে।

  • টেবিলে অতিরিক্ত শুকনা ময়দা: প্লিট জোড়া লাগে না এবং স্টিম করার সময় খুলে যায়।
  • পানিযুক্ত সবজি: খোলের ভেতর পানি জমে নিচের অংশ দুর্বল ও আঠালো করে।
  • অসমান পিসের ওজন: ছোট মোমো বেশি সেদ্ধ হয়, আর বড় মোমোর কেন্দ্র নিরাপদ তাপমাত্রায় নাও পৌঁছাতে পারে।
  • ঠান্ডা স্টিমারে লোড করা: বাষ্পে খোলের উপরিভাগ সেট হওয়ার আগেই সেটি ঘনীভূত পানি শুষে নেয়।
  • রান্নার পর দীর্ঘ হোল্ডিং: পণ্য গরম থাকলেও বিক্রিযোগ্য মান কমে যায়।
  • চাটনি না মেপে দেওয়া: মোমোর পিসের হিসাবে ধরা না পড়লেও টমেটো, মরিচ ও শ্রমের ব্যবহার বেড়ে যায়।

চিকেন এই রেসিপির প্রধান উপকরণ খরচ, তাই সরবরাহ করা ওজন, ট্রিমিংয়ের ক্ষতি এবং প্রতি পিসের পুরের ওজন নজরে রাখুন। তিলের তেল, ভালো মানের মরিচ এবং মৌসুমভেদে টমেটোর মানও ব্যাচের খরচ বদলায়। চিকেনের মান কমানোর চেয়ে পিস ও চাটনির পোরশন নির্দিষ্ট রাখা মার্জিন সুরক্ষায় বেশি কার্যকর।

খরচ কোথায় বাড়ে

চিকেন এই ব্যাচের প্রধান উপকরণ খরচ। চিকেনের সরবরাহমূল্য, ব্যবহারযোগ্য মাংসের পরিমাণ এবং রান ও বুকের মাংসের অনুপাত ব্যাচের খরচ সবচেয়ে বেশি বদলায়। তিলের তেল, শুকনা মরিচ এবং মৌসুমি টমেটোর মানও খরচে প্রভাব ফেলে। বাজারদর একই থাকলেও অতিরিক্ত পুর এবং না মেপে চাটনি দিলে ফুড কস্ট বেড়ে যায়।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

রেস্টুরেন্টে এই চিকেন মোমো রেসিপির দ্বিগুণ ব্যাচ কীভাবে তৈরি করবেন?

প্রতিটি উপকরণের ওজন দ্বিগুণ করুন, তবে ডো ও পুর এমন কয়েকটি মিক্সার লোডে ভাগ করুন যা যন্ত্র গরম না করে সামলাতে পারে। প্রতি পিসে ১৮ গ্রাম ডো ও ২৪ গ্রাম পুরের লক্ষ্য একই রাখুন। রান্নার সময় দ্বিগুণ না করে স্টিমারের প্রতিটি ট্রে অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পরীক্ষা করুন।

স্টিম করা চিকেন মোমো সার্ভিসের জন্য কতক্ষণ রাখা যায়?

সেরা মানের জন্য ১৫ মিনিটের মধ্যে সার্ভ করুন। ঢেকে ৬০°C-এর ওপরে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট রাখা যায়, তবে এর বেশি রাখলে খোল শক্ত হয় এবং ঘনীভূত পানিতে ক্ষতি বাড়ে।

চিকেনের রানের বদলে বুকের মাংস ব্যবহার করা যাবে কি?

হ্যাঁ, তবে শুধু বুকের মাংসের পুর বেশি লিন এবং দ্রুত শক্ত হয়ে যায়। কিমা ঠান্ডা রাখুন, সবজি দেওয়ার পর অতিরিক্ত মেশাবেন না এবং কমার্শিয়াল ফর্মুলা বদলানোর আগে ছোট একটি পরীক্ষামূলক ব্যাচ চালান।

কাঁচা ফ্রোজেন মোমো কতদিন রাখা যায়?

কাঁচা মোমো দ্রুত -১৮°C বা তার নিচে ফ্রিজ করুন এবং খোল ও পুরের নির্ভরযোগ্য মানের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন। প্যাকেট সিল ও তারিখসহ রাখুন এবং গলে যাওয়া স্টক পুনরায় ফ্রিজ করবেন না।

ব্যাচে ২০০টির কম মোমো হওয়ার কারণ কী?

সাধারণ কারণ হলো বেশি ওজনের পুর, বড় ডো পোরশন, ঢেকে না রাখায় ডো শুকিয়ে যাওয়া অথবা নষ্ট পিস রেকর্ড না করা। টানা ১০টি খোল ও পুরের পোরশন ওজন করুন, তারপর প্রত্যাশিত উৎপাদনের সঙ্গে মোট তৈরি পিস, অপচয় ও ক্লোজিং স্টক মিলিয়ে দেখুন।
শেয়ার

বিফ চিলি অনিয়ন

৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ চিলি অনিয়ন রেসিপি, যেখানে বিফ স্লাইস ও ভেলভেটিং, দ্রুত ওক ফিনিশিং, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ সার্ভিস হোল্ডিং দেখানো হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

৪০ পরশনের জন্য রেস্টুরেন্ট চিকেন স্যুপ রেসিপি

প্রায় ১০ লিটার বাণিজ্যিক চিকেন স্যুপের রেসিপি, যেখানে ডেইলি চিকেন স্টক, নিয়ন্ত্রিত কর্নফ্লাওয়ার থিকনিং, ডিমের রিবন এবং নিরাপদ হট হোল্ডিং ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিলি চিকেন রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল চিলি চিকেন রেসিপি, যেখানে ডাবল ফ্রাই করা চিকেন, বাল্ক সস বেস এবং নিয়ন্ত্রিত ড্রাই বা গ্রেভি ফিনিশিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট মেইন কোর্স
মোট:
১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন