রেস্টুরেন্ট রেসিপি
কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি, যেখানে দীর্ঘ সময় কষানো, তেল ছাড়ার স্পষ্ট লক্ষণ, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবেশন ও নিরাপদ রিহিটিং দেখানো হয়েছে।

- প্রস্তুতি
- ৪৫ মিনিট
- রান্না
- ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
- মোট
- ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- পরিমাণ
- প্রায় ৪০ প্লেট
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
মাংস ছাঁটাই ও সমান করা
মাংসের বাইরের মোটা চর্বি ও শক্ত শিরা ছেঁটে সমান ৪ থেকে ৫ সেমি টুকরা করুন। ছাঁটাইয়ের পর ব্যবহারযোগ্য ওজন ১০ kg হিসেবে লিখে রাখুন এবং রান্নার আগ পর্যন্ত মাংস ৫°C-এর নিচে ঠান্ডা রাখুন।
- 2
তেল ও গোটা মসলা ফোড়ন দেওয়া
৩৫ থেকে ৪০ লিটারের ভারী পাত্রে তেল প্রায় ১৬৫°C পর্যন্ত গরম করুন। তেজপাতা, দারুচিনি ও এলাচ দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ সেকেন্ড ভাজুন। মসলার ঘ্রাণ বের হবে, তবে কালো হতে দেওয়া যাবে না।
- 3
পেঁয়াজ বাদামি করা
পেঁয়াজ দিয়ে মাঝারি-উচ্চ আঁচে ২৫ থেকে ৩৫ মিনিট রান্না করুন এবং নিয়মিত নাড়ুন ও তলা ঘষে দিন। সব পেঁয়াজ সমান গাঢ় সোনালি, পরিমাণে কমে জ্যামের মতো হলে এবং কোনো ফ্যাকাশে পানির স্তর না থাকলে এটি প্রস্তুত।
- 4
আদা ও রসুন কষানো
আদা ও রসুন বাটা দিয়ে মাঝারি আঁচে ৬ থেকে ৮ মিনিট কষান। তলার কাছে একটানা নাড়ুন। কাঁচা গন্ধ চলে গিয়ে পেঁয়াজের মিশ্রণের পাশে তেল দেখা দিলে পরের ধাপে যান।
- 5
গুঁড়া মসলা কষানো
ধনে, মরিচ, জিরা, হলুদ ও লবণের সঙ্গে ৫০০ ml গরম পানি মিশিয়ে পাতলা পেস্ট তৈরি করুন। পাত্রে দিয়ে ১২০°C থেকে ১৪০°C তাপে ৬ থেকে ৮ মিনিট কষান। মসলা তলায় ধরতে শুরু করলে অল্প অল্প পানি ছিটিয়ে দিন।
- 6
দই ও মাংস মেশানো
আঁচ কমিয়ে ফেটানো দই ধীরে ধীরে দিন এবং মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ মিনিট নাড়ুন। মাংস দিয়ে আঁচ বাড়ান এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিচ থেকে তুলে ভালোভাবে মেশান, যতক্ষণ না প্রতিটি টুকরায় মসলা লাগে এবং মাংস থেকে পানি বের হয়।
- 7
ঢেকে মাংস নরম করা
ঢেকে ৯০°C থেকে ৯৬°C তাপমাত্রায় মৃদু আঁচে ৭৫ থেকে ১০০ মিনিট রান্না করুন এবং প্রতি ১৫ মিনিট পর নাড়ুন। পাত্র শুকাতে শুরু করলেই শুধু বাকি গরম পানি মেপে মেপে দিন। মাংস প্রায় নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না চালিয়ে যান।
- 8
দীর্ঘ ভুনা শেষ করা
ঢাকনা খুলে মাঝারি থেকে মাঝারি-কম আঁচে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রান্না করুন। প্রতি ৩ থেকে ৫ মিনিট পর নাড়ুন এবং শেষের দিকে আরও ঘন ঘন নাড়তে হবে। পরিষ্কার লালচে তেল বের হলে, মসলা মাংসে লেগে থাকলে এবং খুন্তি দিয়ে পাত্রে টানলে দৃশ্যমান দাগ থাকলে ভুনা প্রস্তুত।
- 9
শেষ মসলা দিয়ে ব্যাচ বিশ্রাম দেওয়া
কাঁচামরিচ, গরম মসলা ও ভাজা জিরা গুঁড়া মিশিয়ে জোরে না ফুটিয়ে আরও ৫ মিনিট রান্না করুন। পানি শুকানোর পর মাংসের নরমভাব ও লবণ পরীক্ষা করুন। চুলা বন্ধ করে ঢেকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিশ্রাম দিন।
- 10
ওজন, পোরশন ও হোল্ডিং
সার্ভিসের পাত্রে নেওয়ার আগে রান্না করা পুরো ব্যাচ ওজন করে মোট পোরশন হিসাব করুন। ঢেকে ৬০°C-এর ওপরে হট হোল্ডিং করুন অথবা অগভীর প্যানে দ্রুত ঠান্ডা করে ৫°C বা তার নিচে নিন। রিহিট করার সময় ভেতরের তাপমাত্রা ধীরে অন্তত ৭৪°C করুন।
রান্নাঘরের জন্য নোট
এই বিফ ভুনা রেসিপিতে ঘন ও স্বাদসমৃদ্ধ মাংস তৈরি হয়, যা আগে রান্না করে নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাগ করা এবং ব্যস্ত সার্ভিসে দ্রুত গরম করা যায়। ১০ kg হাড়ছাড়া গরুর মাংস দিয়ে ব্যাচটি প্রায় ৪০টি রেস্টুরেন্ট বা ফুড কার্টের প্লেটের জন্য করা হয়েছে। পাতলা গরুর ঝোলের তুলনায় ভুনায় আলাদা ঝোল খুব কম থাকে, তাই টেকঅ্যাওয়ে বক্সে বহন করা সহজ এবং ভাত দ্রুত ভিজে যায় না। এটি সাদা ভাত, খিচুড়ি, পোলাও, পরোটা ও সেট মেনুর সঙ্গেও পরিবেশন করা যায়।
কমার্শিয়াল সার্ভিসে বিফ ভুনা উপযোগী কেন
বিফ ভুনা কিছুক্ষণ রেখে দিলে স্বাদ আরও ভালো হয় এবং এর ঘন মসলা নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবেশন করা সহজ। রেস্টুরেন্ট খোলার আগেই অধিকাংশ রান্না শেষ করা যায়, ফলে সার্ভিসের সময় শুধু নিয়ন্ত্রিতভাবে গরম করতে হয়। ঘন মসলা প্রতি প্লেটে অতিরিক্ত তরল না দিয়েও শক্ত স্বাদ দেয়। তবে ব্যাচ অবশ্যই স্ট্যান্ডার্ড করতে হবে, কারণ মাংস ছাঁটাই, পেঁয়াজ কষানো বা শেষের আর্দ্রতায় সামান্য পরিবর্তন হলেও মোট প্লেটসংখ্যা ও ফুড কস্ট বদলে যায়।
গরুর মাংসের কাট নির্বাচন
হাড়ছাড়া শোল্ডার, চাক বা ঘাড়ের মাংস সবচেয়ে ব্যবহারযোগ্য, কারণ ধীরে রান্নায় সংযোজক টিস্যু নরম হয় কিন্তু মাংস দ্রুত ভেঙে যায় না। মাঝারি পরিমাণ ভেতরের চর্বি আছে এবং বাইরের শক্ত শিরা কম এমন মাংস কিনুন। একেবারে চর্বিহীন পেছনের রানের মাংস দীর্ঘ সময় কষালে শুকিয়ে যেতে পারে, আর অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ছাঁটাই মাংসে তেল বেশি হয় এবং খাওয়ার উপযোগী ফলন একেক ব্যাচে একেক রকম হয়।
ছাঁটাইয়ের পর মাংস সমান ৪ থেকে ৫ সেমি টুকরা করুন। ছোট টুকরা দ্রুত পানি হারায় এবং বারবার নাড়লে ভেঙে যেতে পারে। ৬ সেমির বড় টুকরা নরম হতে বেশি সময় নেয় এবং প্রতি প্লেটের হিসাব অনির্ভরযোগ্য করে। রেসিপি কস্টিং করার সময় সরবরাহকারীর বিলের ওজন থেকে ছাঁটাই করা ব্যবহারযোগ্য ওজন আলাদা রাখুন। বেশি চর্বি, হাড় বা শক্ত শিরা থাকলে দেখতে সস্তা মাংসও প্রতি বিক্রয়যোগ্য প্লেটে বেশি খরচের হতে পারে।
সঠিকভাবে মসলা তৈরি
মাংস দেওয়ার আগে পেঁয়াজ সোনালি, ঘন ও জ্যামের মতো হওয়া পর্যন্ত কষাতে হবে। ফ্যাকাশে পেঁয়াজ থাকলে শেষের মসলা পাতলা ও কিছুটা মিষ্টি হয়, আর পোড়া পেঁয়াজ পুরো ব্যাচ তিতা করে। চওড়া ও ভারী পাত্র ব্যবহার করুন, যাতে বাষ্প দ্রুত বের হতে পারে। সরু স্টকপটে পানি শুকাতে দেরি হয় এবং ভুনার বদলে মাংস সেদ্ধ হতে থাকে।
আদা ও রসুনের কাঁচা গন্ধ দূর হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে, তবে পাত্রের তলায় লাগতে দেওয়া যাবে না। গুঁড়া মসলা গরম পাত্রে দেওয়ার আগে অল্প পানিতে গুলে নিন। এই মসলার মিশ্রণ পুড়ে যাওয়া ছাড়াই মসলার ঘ্রাণ ও রং বের হতে সাহায্য করে। দই দেওয়ার আগে আঁচ কমান, ঘরের তাপমাত্রার দই ব্যবহার করুন এবং মসলার সঙ্গে পুরোপুরি মেশা পর্যন্ত একটানা নাড়ুন।
দীর্ঘ সময় ভুনা বা কষানো নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘ সময় ভুনা মানে শুধু মাংস বেশি সময় রান্না করা নয়, বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি শুকিয়ে মসলা ও মাংস কষানো। শুরুতে মাংস নিজের পানি ছাড়ে। সেই পানিতে মাংস প্রায় নরম হওয়া পর্যন্ত মৃদু আঁচে রান্না করতে হবে। এরপর ঢাকনা খুলে পানি শুকানোর সঙ্গে সঙ্গে মাংস ও মসলা নিচ থেকে তুলে উল্টে কষাতে হবে। মাংস শক্ত থাকলে এবং পাত্র এতটাই শুকিয়ে গেলে যে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, শুধু তখনই গরম পানি দিন।
শেষের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আঁচ মাঝারি থেকে মাঝারি-কম রাখুন এবং চ্যাপ্টা খুন্তি দিয়ে পাত্রের তলা ঘষে নাড়ুন। প্রথমে প্রতি ৩ থেকে ৫ মিনিট পরপর নাড়ুন, মসলা ঘন হলে আরও ঘন ঘন নাড়তে হবে। লক্ষ্য হলো প্রতিটি মাংসের টুকরায় গাঢ় ও চকচকে মসলা লাগানো, কিন্তু টুকরা অক্ষত রাখা। বেশি আঁচে তেল দ্রুত ছাড়তে পারে, তবে মাংস নরম হওয়ার আগেই পেঁয়াজ ও মসলা পুড়ে যেতে পারে।
তেল ছাড়ার লক্ষণ
মসলার কিনারা ও ছোট ছোট ফাঁক দিয়ে পরিষ্কার তেল বের হলে বিফ ভুনা প্রস্তুত। তেল পানিমিশ্রিত ঘোলা না হয়ে পরিষ্কার লালচে-বাদামি দেখাবে। খুন্তি দিয়ে পাত্রের মাঝখানে টান দিলে ঘন মসলা আবার মিলিত হওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড দাগটি দেখা যাবে। বাষ্প স্পষ্টভাবে কমে আসবে এবং ভেজা টগবগ শব্দ বদলে হালকা ভাজার শব্দ হবে।
শুধু তেল ছাড়লেই মাংস নরম হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে না। পাত্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে টুকরা পরীক্ষা করুন। চামচ দিয়ে শক্তভাবে চাপ দিলে মাংস নরম হবে, তবে আকার ধরে রাখবে। তেল ছাড়ার পরও মাংস শক্ত থাকলে মেপে গরম পানি দিন, ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করুন এবং পরে আবার পানি শুকিয়ে কষান।
নিরাপদভাবে ব্যাচ বড় বা ছোট করা
ছাঁটাই করা মাংসের ওজন অনুযায়ী উপকরণ বাড়াতে হবে, তবে শুধু গুণ না করে পাত্রের আকার ও পানি শুকানোর সময়ও বদলাতে হবে। অর্ধেক ব্যাচের জন্য ছোট পাত্র দরকার, যাতে নিয়ন্ত্রিত রান্নার জন্য যথেষ্ট গভীরতা থাকে। দ্বিগুণ ব্যাচ দুইটি চওড়া পাত্রে ভাগ করুন, যদি না রান্নাঘরে শক্তিশালী নেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থাসহ উপযুক্ত স্টিম-জ্যাকেটেড কেটলি থাকে।
পেঁয়াজ, দই, লবণ ও গুঁড়া মসলা একই অনুপাতে বাড়ানো বা কমানো যায়। পানি নির্দিষ্ট গুণে বাড়ানো যাবে না, কারণ মাংসের আর্দ্রতা, পাত্রের প্রস্থ ও বার্নারের তাপ একেক রান্নাঘরে আলাদা। কম পানি দিয়ে শুরু করুন এবং প্রয়োজন হলে মেপে গরম পানি যোগ করুন। প্রতি ব্যাচে ছাঁটাই করা কাঁচা মাংসের ওজন, রান্না শেষে ওজন, রান্নায় কমে যাওয়া ওজন এবং মোট পোরশন লিখে রাখুন। এতে স্বাদ ঠিক থাকে এবং বড় ব্যাচ পাতলা সেদ্ধ মাংসের তরকারিতে পরিণত হয় না।
সার্ভিসের জন্য হট হোল্ডিং ও রিহিটিং
রান্না করা বিফ ভুনা ৬০°C-এর ওপরে ধরে রাখুন এবং মাংস শুকানো ঠেকাতে মেপে আর্দ্রতা দিয়ে ধীরে রিহিট করুন। ঢাকনাযুক্ত বেইন-মেরি অথবা খুব কম আঁচে ভারী পাত্র ব্যবহার করুন। সার্ভিস লাইনে শুধু সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ রাখুন এবং বাকি ব্যাচ নিয়ন্ত্রিত গরম বা ঠান্ডা সংরক্ষণে রাখুন। তেল ও মসলা সমানভাবে ছড়িয়ে রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর আলতো করে নাড়ুন।
সংরক্ষণের সময় মসলা বেশি ঘন হয়ে গেলে প্রতি kg ভুনায় আনুমানিক ৫০ থেকে ১০০ ml গরম পানি দিন। ঢেকে ধীরে গরম করে ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C করুন, তারপর জোরে ফুটানোর বদলে নিচ থেকে আলতোভাবে উল্টে মেশান। জোরে ফুটালে মাংসের আর্দ্রতা বের হয়ে যায় এবং টুকরা ভেঙে যেতে পারে। একই সার্ভিস প্যান বারবার ঠান্ডা ও গরম করবেন না।
পরে পরিবেশনের জন্য ঠান্ডা করলে গভীর রান্নার পাত্রে না রেখে অগভীর ফুড-গ্রেড প্যানে ভুনা ছড়িয়ে দিন। ৬০°C থেকে ২১°C তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে এবং এরপর আরও ৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C তাপমাত্রায় নামান। ঢেকে লেবেল লাগিয়ে ০°C থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজে রাখা উৎপাদন ৩ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন এবং মাত্র একবার রিহিট করুন।
পোরশন ও ফলন নিয়ন্ত্রণ
প্রতি প্লেট রান্না-পরবর্তী ওজন অনুযায়ী দিতে হবে এবং সেই ওজনে মাংসের টুকরা ও লেগে থাকা মসলা দুটিই ধরতে হবে। ছাঁটাই ও পানি কমানোর মাত্রা অনুযায়ী এই ব্যাচ সাধারণত রান্না শেষে প্রায় ১০ থেকে ১১ kg হয়। ৪০ প্লেটের জন্য প্রতি পোরশন আনুমানিক ২৫০ থেকে ২৭৫ g ধরুন, তবে সার্ভিসের আগে রান্না শেষ হওয়া ব্যাচের প্রকৃত ফলন যাচাই করুন।
শুধু টুকরা গুনে পোরশন দেবেন না, কারণ টুকরার আকার ও রান্নার পর ওজন এক হয় না। প্রস্তুতির সময় ডিজিটাল স্কেল এবং ব্যস্ত সার্ভিসে নির্দিষ্ট লাডল বা পোরশন চামচ ব্যবহার করুন। নতুন বাবুর্চি সার্ভিস দিলে প্রথম কয়েকটি প্লেট স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। পরিষ্কার পোরশন কন্ট্রোল নিয়ম থাকলে শুরুতে বেশি দেওয়ার কারণে পরে খাবার কম পড়বে না।
Rosuii-তে কাঁচামালকে একটি প্রোডাকশন হিসেবে রেকর্ড করে সেটিকে প্রস্তুত বিফ ভুনায় রূপান্তর দেখানো যায়। ওয়েস্টেজ ও বিক্রয় রিপোর্ট দিয়ে প্রত্যাশিত ও প্রকৃত ফলন তুলনা করা যায়। তবে ছাঁটাই, রান্না শেষে ওজন ও সার্ভিস পোরশনের মূল রেকর্ড হিসেবে রান্নাঘরের কাগজের ব্যাচ শিট রাখুন।
যেসব ভুলে খরচ বাড়ে
ছাঁটাইয়ের হিসাব না রাখা, ছোট পাত্রে অতিরিক্ত মাংস দেওয়া, পানি নিয়ন্ত্রণ না করা এবং বড় পোরশন দেওয়াই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। ব্যবহারযোগ্য ফলন না মেপে বেশি চর্বি বা হাড়যুক্ত মাংস কিনলে প্রকৃত উপকরণ খরচ বোঝা যায় না। সরু পাত্রে অতিরিক্ত মাংস দিলে রান্নার সময় ও জ্বালানি বাড়ে এবং ঘন ভুনার বদলে পাতলা তরকারি হয়।
- পেঁয়াজ বা মসলার বেস পুড়ে গেলে পুরো ব্যাচ নষ্ট হয়, পরে পানি দিয়ে তা ঠিক করা যায় না।
- বারবার ঠান্ডা পানি দিলে মাংস নরম হতে দেরি হয় এবং তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
- অতিরিক্ত শুকালে রান্না-পরবর্তী ফলন কমে এবং রিহিট করা মাংস শুকিয়ে যায়।
- ঢাকনা ছাড়া হট হোল্ডিং করলে পানি কমে গিয়ে ওপরে ঘন ও বেশি নোনতা স্তর তৈরি হয়।
- নতুন উৎপাদনের সঙ্গে আগের সার্ভিসের অবশিষ্ট খাবার মেশালে সংরক্ষণকাল নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়।
ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখা
ব্যবহারযোগ্য মাংসের ফলন, রান্না শেষে ব্যাচের ওজন এবং প্রতি প্লেটে দেওয়া পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করলেই খরচ স্থিতিশীল থাকে। গরুর মাংসই এই রেসিপির প্রধান খরচ, তাই অল্প মসলায় সাশ্রয়ের চেয়ে সরবরাহকারীর মাংসের মান ও ফলনের ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহকারী ও কাট অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের ক্ষতি লিখে রাখুন এবং প্রতিটি উৎপাদনের পর স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে রান্না-পরবর্তী ফলন তুলনা করুন।
তেল ও দইও ব্যাচের খরচে প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে বাবুর্চি আন্দাজে দিলে। উৎপাদনের জন্য এসব উপকরণ মেপে ইস্যু করুন এবং এড়ানো যেত এমন অপচয় রেকর্ড করুন। পুরোনো তাত্ত্বিক রেসিপির বদলে বর্তমান সরবরাহমূল্য ও প্রকৃত পোরশন ফলন ব্যবহার করে খাবারটির ফুড কস্ট পার্সেন্টেজ পর্যবেক্ষণ করুন।
খরচ কোথায় বাড়ে
গরুর মাংসই প্রধান খরচ। কাট, চর্বির পরিমাণ, হাড় এবং ছাঁটাইয়ের ক্ষতি অনুযায়ী এর ব্যবহারযোগ্য ফলন বদলায়। তেল ও দই পরের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। অতিরিক্ত পানি শুকানো বা বড় পোরশন দিলে প্রতি প্লেটের খরচ বাড়ে।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই বিফ ভুনা রেসিপি কি ২০ kg মাংসের জন্য দ্বিগুণ করা যাবে?
বিফ ভুনা কতক্ষণ হট হোল্ডিংয়ে রাখা যায়?
হাড়ছাড়া শোল্ডারের বদলে হাড়সহ গরুর মাংস ব্যবহার করা যাবে?
ফ্রিজে বিফ ভুনা কত দিন রাখা যাবে?
ব্যাচ থেকে ৪০ প্লেটের কম হওয়ার কারণ কী?
সম্পর্কিত রেসিপি
কমার্শিয়াল বিফ কালা ভুনা
গাঢ় কষ, আলাদা করে ভাজা মসলা এবং নিয়ন্ত্রিত সার্ভিংসহ প্রায় ৪০ প্লেট চট্টগ্রামি বিফ কালা ভুনার কমার্শিয়াল ব্যাচ রেসিপি।
- পরিমাণ:
- প্রতি প্লেটে প্রায় ১৭৫ g হিসাবে প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- কঠিন
কমার্শিয়াল বিফ তেহারি রেসিপি
সরিষার তেল, সমান মাপের গরুর মাংস, সুগন্ধি ছোট দানার চাল এবং কার্যকর সার্ভিস কন্ট্রোলসহ ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ তেহারি রেসিপি।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি
পাক্কি পদ্ধতিতে প্রায় ৪০টি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশনের কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি, সঙ্গে চাল আংশিক সেদ্ধ করা, দম, হট হোল্ডিং ও ব্যাচ বড় করার নির্দেশনা।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

