মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল বিফ তেহারি রেসিপি

সরিষার তেল, সমান মাপের গরুর মাংস, সুগন্ধি ছোট দানার চাল এবং কার্যকর সার্ভিস কন্ট্রোলসহ ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ তেহারি রেসিপি।

শেয়ার
সুগন্ধি ছোট দানার চাল, নরম গরুর মাংস, কাঁচামরিচ ও সরিষার তেলের চকচকে আবরণসহ কমার্শিয়াল প্যানে রাখা বাংলাদেশি বিফ তেহারি।
প্রস্তুতি
৪৫ মিনিট
রান্না
১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট
মোট
২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    চাল ধুয়ে পানি ঝরান

    চাল তিন থেকে চারবার ধুয়ে নিন, যতক্ষণ না ধোয়া পানি প্রায় পরিষ্কার হয়। এরপর ঠান্ডা নিরাপদ পানিতে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ভেজানোর হিসাবের বাইরে থাকা পানি যেন ডেগচিতে না যায়, সে জন্য ছিদ্রযুক্ত পাত্রে অন্তত ১৫ মিনিট পানি ঝরান।

  2. 2

    সরিষার তেলের কাঁচা ঝাঁজ কমান

    ডেগচিতে সরিষার তেল প্রায় ১৭৫ থেকে ১৮০°C পর্যন্ত গরম করুন। তেল চকচকে হওয়া এবং কাঁচা ঝাঁজ কমা শুরু হলেই আঁচ কমিয়ে প্রায় ১৬০°C করুন। গোটা গরম মসলা দিয়ে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড ভাজুন। পেঁয়াজ দিয়ে ঘন ঘন নেড়ে ১৫ থেকে ১৮ মিনিট ভাজুন, যাতে সব স্লাইস সমান গাঢ় সোনালি হয় কিন্তু কালচে বাদামি না হয়।

  3. 3

    মাংসের টুকরা বাদামি করুন

    আঁচ বাড়িয়ে মাংস দিন। ডেগচির তলায় জায়গা কম হলে দুই ব্যাচে রান্না করুন। প্রতি ব্যাচ প্রায় ১৬৫ থেকে ১৭৫°C তাপে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন। টুকরা উল্টে দিন, যাতে কাঁচা রং চলে যায় এবং বাইরের দিকে হালকা বাদামি হয়। সব মাংস আবার ডেগচিতে ফিরিয়ে দিন।

  4. 4

    মসলার কষা তৈরি করুন

    আদা ও রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ কমা পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ মিনিট কষান। ফেটানো দই, লবণ ও গুঁড়া মসলা দিয়ে নেড়ে মাঝারি ফুটন্ত অবস্থায় ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন। মসলা ঘন হয়ে মাংসের গায়ে লেগে গেলে এবং কিনারায় ছোট তেলের ফোঁটা দেখা দিলে কষা প্রস্তুত।

  5. 5

    মাংস নরম হওয়া পর্যন্ত কষিয়ে রান্না করুন

    প্রায় ২ লিটার গরম পানি দিয়ে ঢেকে ৯০ থেকে ৯৫°C তাপে হালকা ফুটন্ত অবস্থায় ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট রান্না করুন। প্রতি ১২ থেকে ১৫ মিনিট পর নেড়ে ডেগচির তলা চেঁছে দিন। মাংস ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নরম হলে রান্নার এই ধাপ বন্ধ করুন। শক্তভাবে চাপ দিলে টুকরা নরম হবে, কিন্তু ভেঙে যাবে না।

  6. 6

    রান্নার তরল নির্দিষ্ট মাপে আনুন

    ছিদ্রযুক্ত ঝাঁঝরি দিয়ে মাংস তুলে ঢেকে রাখুন। ঝোল দাগকাটা ফুড-সেফ পাত্রে ঢালুন এবং গরম পানি যোগ করে মোট ৫.৪ লিটার করুন। ঝোল ও মাংস আবার ডেগচিতে দিন। ৯৮ থেকে ১০০°C পর্যন্ত ফুটিয়ে স্বাদ পরীক্ষা করুন। লবণ সামান্য বেশি স্পষ্ট লাগবে, কিন্তু কড়া বা অসহনীয় হবে না।

  7. 7

    চাল ফুটানো শুরু করুন

    পানি ঝরানো চাল দিয়ে একবার আলতোভাবে নিচ থেকে ওপরে মেশান, যাতে দানা না ভেঙে সমানভাবে ছড়িয়ে যায়। ঢাকনা ছাড়া ৯৫ থেকে ১০০°C তাপে ৬ থেকে ৮ মিনিট ফুটান। তরল চালের সমান স্তরে নেমে এলে এবং বাষ্প বের হওয়ার ছোট ছিদ্র দেখা দিলে পরের ধাপে যান। এই অবস্থায় চালের মাঝখান কিছুটা শক্ত থাকবে।

  8. 8

    কম আঁচে দম দিন

    চালের ওপর কাঁচামরিচ ছড়িয়ে কেওড়া জল ছিটিয়ে দিন। শক্তভাবে ঢেকে ডেগচির নিচে হিট ডিফিউজার বসান এবং খুব কম আঁচে ১৫ থেকে ১৮ মিনিট রান্না করুন। ভেতরে বাষ্প সক্রিয় থাকবে, কিন্তু জোরে ফুটবে না। এই ধাপে চাল নাড়বেন না।

  9. 9

    বিশ্রাম দিয়ে চাল খুলুন

    বার্নার বন্ধ করে ডেগচি ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। সাবধানে ঢাকনা খুলে ওপর, মাঝখান ও পাশ থেকে চাল পরীক্ষা করুন। প্রতিটি দানা সিদ্ধ, আর্দ্র ও আলাদা থাকতে হবে। চওড়া রাইস প্যাডল দিয়ে নিচ থেকে ওপরে দুই বা তিনবার আলতোভাবে উল্টে মাংস ও মসলা সমানভাবে ছড়িয়ে দিন।

  10. 10

    নিরাপদ সার্ভিসের জন্য ভাগ করুন

    সার্ভিস শুরুর আগে তৈরি তেহারির তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C আছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রতি প্লেটে তিন বা চার টুকরা মাংসসহ প্রায় ৩৫০ g পরিবেশন করুন। বাকি তেহারি ঢেকে ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় রাখুন। পুরো ডেগচি সরাসরি আগুনের ওপর না রেখে অগভীর ঢাকনাযুক্ত প্যানে ভাগ করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

৪ kg চাল ও ৪ kg গরুর মাংসের এই কমার্শিয়াল বিফ তেহারি রেসিপি থেকে নিয়ন্ত্রিত মাপে প্রায় ৪০ প্লেট পাওয়া যায়। একটি ভারী স্টকপট বা ডেগচি ব্যবহার করে রেস্টুরেন্ট, ক্যান্টিন বা ফুড কার্টে রান্নার জন্য রেসিপিটি তৈরি করা হয়েছে। রান্না শেষে ছোট দানার চাল আলাদা কিন্তু আর্দ্র থাকবে, মাংস নরম হবে, সরিষার তেলের ঘ্রাণ স্পষ্ট থাকবে এবং সার্ভিসের সময় দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ওপরে যথেষ্ট তেল থাকবে।

কমার্শিয়াল সার্ভিসে বিফ তেহারি কার্যকর কেন

ব্যস্ত ফুড কার্টে কাচ্চি বিরিয়ানির তুলনায় বিফ তেহারি ভাগ করা, হোল্ড করা ও রিহিট করা সহজ। চাল পুরোপুরি রান্না হওয়ার আগেই ছোট মাংসের টুকরা কষিয়ে নরম করা হয়, তাই পুরো ডেগচিতে মাংসের নরমভাব তুলনামূলকভাবে সমান থাকে। চাল ও মসলা স্তর করে না দিয়ে সমানভাবে মেশানো থাকে। ফলে কাচ্চির স্তর ভাঙা বা মাংস ও আলু খুঁজে বের করা ছাড়াই কর্মীরা কাছাকাছি ওজনের প্লেট দিতে পারেন।

দম ও বিশ্রামের পর তেহারি সাবধানে মেশানো যায়। সার্ভিসের সময় কাচ্চির ঢাকনা বারবার খুললে স্তর, মাংসের রস ও আলুর গঠন নষ্ট হতে পারে। তেহারি ছোট ঢাকনাযুক্ত প্যানে ভাগ করে ৬০°C-এর ওপরে হোল্ড করা যায় এবং অল্প অল্প করে সার্ভিস প্যানে ভরা যায়। এতে পুরো ব্যাচ বারবার খোলা, তলা পুড়ে যাওয়া এবং একটি বড় ডেগচি থেকে অসম পরিবেশন কমে।

উপকরণের মান ও বাছাই

এই বিফ তেহারির মান সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে গরুর মাংস, সরিষার তেল ও চালের ওপর। হাড়ছাড়া চাক, শোল্ডার বা মাঝারি কোলাজেন ও কিছু ভেতরের চর্বিযুক্ত কাছাকাছি ধরনের মাংস নিন। একেবারে চর্বিহীন রান শুকিয়ে যেতে পারে, আবার অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ছাঁট দিলে ডেগচি বেশি তেলতেলে হয় এবং বিক্রিযোগ্য মাংসের ইয়েল্ড কমে। মাংস সমান ২৫ থেকে ৩০ g টুকরা করুন, যাতে প্রতি প্লেটে চেনা যায় এমন তিন বা চার টুকরা দেওয়া যায় এবং সব টুকরা প্রায় একই সময়ে নরম হয়।

তাজা ও ঝাঁজালো ঘ্রাণযুক্ত খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করুন। বাসি বা রঙের মতো গন্ধ থাকলে ব্যবহার করবেন না। তেল গরম করলে কাঁচা ঝাঁজ কমে, কিন্তু অতিরিক্ত ধোঁয়া তুললে তেহারিকে সাধারণ বিফ পোলাও থেকে আলাদা করা সরিষার ঘ্রাণ নষ্ট হয়। মেনুতে মৃদু স্বাদের তেহারি বলা না থাকলে গোপনে বেশির ভাগ সরিষার তেল সয়াবিন বা অন্য নিরপেক্ষ তেল দিয়ে বদলাবেন না।

এই ধরনের তেহারিতে লম্বা দানার বাসমতির চেয়ে পুরোনো চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চাল ভালো। সুগন্ধি ছোট দানা মাংসের ঝোল ও সরিষার তেল শুষে নিয়েও সুন্দরভাবে জমাট থাকে। ফুড কার্টে বারবার ঢাকনা খোলার পরও এটি সহজে ভঙ্গুর হয়ে যায় না। চালের ভাঙা দানার হার, বয়স ও আর্দ্রতা পানির শোষণ বদলে দেয়, তাই প্রতিটি নতুন লট পরীক্ষা করুন। ধুলা, পোকা, স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বা অতিরিক্ত পালিশে ভাঙা অংশযুক্ত চাল এড়িয়ে চলুন।

রান্নার পদ্ধতির মূল টেকনিক

চাল রান্নার তরল মাপার আগে ঘন ও স্বাদযুক্ত মাংসের ঝোল তৈরি করাই এই রেসিপির প্রধান কন্ট্রোল পয়েন্ট। পেঁয়াজ ভাজলে মিষ্টতা ও রং তৈরি হয়, কিন্তু অতিরিক্ত গাঢ় করলে পুরো ব্যাচ তিতা হতে পারে। আঁচ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং মসলা তলায় লেগে পোড়ার আগেই ডেগচির তলা চেঁছে নেড়ে দিন। আদা ও রসুনের কাঁচা গন্ধ কমার পর টক দই দিন এবং একটানা নাড়ুন, যাতে দই কেটে মোটা সাদা দানা না হয়।

কষানোর সময় মাংস ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নরম করতে হবে। শক্তভাবে আঙুলে চাপ দিলে টুকরা নরম হবে, কিন্তু ভেঙে যাবে না। চাল ফুটানো, ঢেকে দম দেওয়া ও বিশ্রামের সময় মাংস আরও রান্না হয়। চাল দেওয়ার আগেই মাংস পুরো নরম করলে ভাগ করার সময় টুকরা ছিঁড়ে যেতে পারে এবং প্রতি প্লেটে মাংসের ইয়েল্ড অসম দেখাবে।

অনুমান করে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ঢালার চেয়ে তৈরি ঝোল মাপা বেশি নির্ভরযোগ্য। পানি ঝরানো চাল দেওয়ার আগে এই ব্যাচে ছাঁকা ঝোল ও বাড়তি গরম পানি মিলিয়ে মোট প্রায় ৫.৪ লিটার রাখতে হবে। প্রতি kg ভেজানো ও পানি ঝরানো চালের জন্য এটি ১.৩৫ লিটার রান্নার তরল। বেশি চওড়া ডেগচিতে বাষ্পীভবন বেশি হলে পরীক্ষামূলক ব্যাচের পর সামান্য তরল বাড়াতে হতে পারে, আর নতুন চাল হলে কম লাগতে পারে।

দমের সময় নিচু ও সমান আঁচ ব্যবহার করতে হবে। সরাসরি বেশি আঁচে ওপরের চাল পানি শোষণের আগেই তলা পুড়ে যায়। পাতলা ডেগচির নিচে হিট ডিফিউজার বা ভারী তাওয়া রাখলে তাপ সমানভাবে ছড়ায়। বিশ্রামের সময়টিও রান্নার অংশ, কারণ আটকে থাকা বাষ্প ওপর ও নিচের চালের আর্দ্রতা সমান করে।

ব্যাচ সঠিকভাবে বড় বা ছোট করা

উপকরণের ওজন সরল অনুপাতে বদলালেও ডেগচির মাপ, আঁচ ও রান্নার সময় একই অনুপাতে বদলানো যাবে না। মাংসের প্রতিটি টুকরা ২৫ থেকে ৩০ g রাখুন এবং প্রতি kg ভেজানো চালের জন্য মাপা ঝোল ও পানির প্রাথমিক অনুপাত ১.৩৫ লিটার রাখুন। অর্ধেক ব্যাচে তুলনামূলক সরু ডেগচি ব্যবহার করুন, যাতে খাবারের গভীরতা কাছাকাছি থাকে। অতিরিক্ত বড় ডেগচিতে বাষ্পীভবন বেড়ে মাঝখান রান্না হওয়ার আগেই পাশের চাল শুকিয়ে যেতে পারে।

দুই গুণ ব্যাচের জন্য দুটি ডেগচি ব্যবহার করুন, যদি না একটি পাত্রে খাবার তার ব্যবহারযোগ্য ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশের মধ্যে থাকে। অতিরিক্ত ভর্তি ডেগচিতে মাংস ঠিকভাবে বাদামি হয় না, তরল মাপা কঠিন হয় এবং বাষ্প সমানভাবে চলাচল করতে পারে না। কষানোর সময় শুধু ব্যাচের ওজনের ওপর নয়, মাংসের কাট ও টুকরার মাপের ওপরও নির্ভর করে। তাই সময় নিজে থেকে বাড়ানোর বদলে কয়েকটি টুকরা পরীক্ষা করুন।

সার্ভিসের জন্য হোল্ডিং ও রিহিটিং

রান্না করা তেহারি ঢেকে ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় রাখুন এবং চালের ভালো টেক্সচারের জন্য চার ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ করার লক্ষ্য রাখুন। বিশ্রামের পর তেহারি প্রায় ১০০ mm-এর বেশি গভীর নয় এমন ঢাকনাযুক্ত গ্যাস্ট্রোনর্ম প্যানে তুলুন। পুরো প্রোডাকশন ব্যাচ বারবার না খুলে অল্প পরিমাণে সার্ভিস প্যান ভরুন। রান্নার ডেগচি সরাসরি আগুনের ওপর হোল্ড করবেন না, কারণ এতে তলা রান্না হতে থাকে এবং পোড়া ওয়েস্টেজ বাড়ে।

তেহারি সংরক্ষণ করতে হলে গভীর ডেগচি ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে না রেখে দ্রুত ঠান্ডা করুন। অগভীর প্যানে ভাগ করে দুই ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরের চার ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C-এ নামান। ঢেকে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন এবং সতর্ক কমার্শিয়াল মান হিসেবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন।

যতটুকু বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, শুধু ততটুকু রিহিট করুন। প্রতি kg তেহারির জন্য প্যানের পাশ দিয়ে ২০ থেকে ৩০ ml গরম পানি দিন, শক্তভাবে ঢাকুন এবং স্টিম, কম্বি ওভেন বা ভারী ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রিহিট করুন। মাঝখানের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C হতে হবে। গরম হওয়ার পর চওড়া রাইস প্যাডল দিয়ে একবার নিচ থেকে ওপরে উল্টে দিন। রিহিট করা অবশিষ্ট তেহারি নতুন ব্যাচের সঙ্গে মেশাবেন না।

পরিবেশন ও ইয়েল্ড কন্ট্রোল

প্রতি প্লেটে তিন বা চার টুকরা মাংসসহ ৩৫০ g তৈরি তেহারি দেওয়া একটি কার্যকর কমার্শিয়াল টার্গেট। স্বাভাবিক বাষ্পীভবনের পর এই ব্যাচ থেকে আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ kg তেহারি পাওয়া যাবে। এতে প্রায় ৪০টি পূর্ণ প্লেট এবং টেস্টিং, ডেগচিতে লেগে থাকা অংশ ও স্বাভাবিক হ্যান্ডলিংয়ের জন্য সামান্য বাড়তি থাকবে। মাংসের ছাঁট, চালের পানি শোষণ ও অতিরিক্ত রান্না ইয়েল্ড বদলে দিতে পারে, তাই প্রকৃত ফলন লিখে রাখুন।

প্রথম পাঁচটি প্লেট ডিজিটাল স্কেলে যাচাই করুন এবং সার্ভিস চলাকালে নিয়মিত ওজন পরীক্ষা করুন। নির্দিষ্ট রাইস স্কুপ দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে চাল ও মাংসের টুকরা আলাদাভাবে বসে বলে কর্মীদের মাংসের সংখ্যা গুনতে হবে। পরশন কন্ট্রোল স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি প্লেটের ওজন, মাংসের টুকরার সংখ্যা এবং ভিন্ন অপশন হিসেবে বিক্রি করা সালাদ, ডিম বা বোরহানির পরিমাণ নির্ধারণ করুন।

যেসব সাধারণ ভুলে খরচ বাড়ে

অসম মাপের মাংস, না মেপে তরল দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রণহীন পরিবেশন বিফ তেহারির সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। বড় মাংসের টুকরা শক্ত থেকে যায়, আর ছোট টুকরা চালের মধ্যে হারিয়ে যায়। বেশি পানি দিলে চাল ফুলে ভেঙে যায় এবং মান কম মনে হয়। কম পানি দিলে চাল শক্ত থাকে, যা ব্যস্ত সার্ভিসের মধ্যে সমানভাবে ঠিক করা যায় না।

  • ডেগচি অতিরিক্ত ভরা: মাংস বাদামি হওয়ার বদলে পানি ছাড়ে, রান্নার সময় বাড়ে এবং স্বাদ দুর্বল হয়।
  • সরিষার তেল পুড়িয়ে ফেলা: দীর্ঘ সময় বেশি ধোঁয়া তুললে পরিষ্কার সরিষার ঘ্রাণের বদলে তিতা স্বাদ তৈরি হয়।
  • চালের পানি না ঝরানো: ভেজানোর অতিরিক্ত পানি ডেগচিতে গিয়ে তরলের অনুপাত বদলে দেয়।
  • সরাসরি আঁচ থেকে পরিবেশন: তলা শুকিয়ে লেগে যায় এবং তা হিসাব করা বা লুকানো ওয়েস্টেজে পরিণত হয়।
  • জোরে মেশানো: ছোট দানার চাল ও নরম মাংস ভেঙে গিয়ে পুরো ব্যাচ অতিরিক্ত রান্না হয়েছে বলে মনে হয়।

ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখা

সবচেয়ে সস্তা উপকরণ কেনার বদলে মাংসের ব্যবহারযোগ্য ইয়েল্ড, চালের স্পেসিফিকেশন ও তৈরি প্লেটের ওজন নিয়ন্ত্রণ করলে তেহারির খরচ স্থিতিশীল থাকে। কেনা মাংসের ওজন, ছাঁটের ক্ষতি, ব্যবহারযোগ্য ওজন এবং মোট প্লেটের সংখ্যা লিখে রাখুন। শুধু সরবরাহকারীর বলা প্রতি kg দর নয়, ব্যবহারযোগ্য ইয়েল্ড ও মাংস নরম হওয়ার ফল দেখে সরবরাহকারী তুলনা করুন।

চালের জাত, ভাঙা দানার হার ও বয়সের অনুমোদিত স্পেসিফিকেশন ঠিক করুন। সরবরাহকারী বা মৌসুমের ফসল বদলালে পানি শোষণ পরীক্ষা করুন। লিখিত রেসিপি কস্টিং শিট ব্যবহার করুন এবং বিক্রির বিপরীতে প্রকৃত ফুড কস্ট পারসেন্টেজ পর্যালোচনা করুন। Rosuii-তে ইনভেন্টরির মাধ্যমে কাঁচামাল রেকর্ড করা, প্রোডাকশনের মাধ্যমে তা তৈরি তেহারিতে রূপান্তর করা এবং পরে পর্যালোচনার জন্য সার্ভিস বা পোড়া তলার ওয়েস্টেজ লগ করা যায়।

খরচ কোথায় বাড়ে

গরুর মাংস এই রেসিপির প্রধান খরচের উপকরণ, এরপর সুগন্ধি ছোট দানার চাল ও সরিষার তেল। মাংসের ছাঁটের ক্ষতি, কাটের ধরন ও সরবরাহকারীর ধারাবাহিকতা ব্যবহারযোগ্য খরচ সবচেয়ে বেশি বদলায়। চালের বয়স ও ভাঙা দানার হার ক্রয়মান এবং রান্নার ইয়েল্ড উভয়কেই প্রভাবিত করে। অজান্তে খরচ বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে প্লেটের ওজন ও মাংসের টুকরার সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখতে হবে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

একটি ডেগচিতে কি এই বিফ তেহারি রেসিপি দ্বিগুণ করা যাবে?

ডেগচি সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ভর্তি থাকলে এবং বার্নার সমানভাবে তাপ দিতে পারলেই একটি পাত্রে দ্বিগুণ ব্যাচ করা যাবে। বেশির ভাগ ফুড কার্ট ও ছোট রেস্টুরেন্টে একটি অতিরিক্ত ভর্তি ডেগচির বদলে আলাদা দুটি ৪০ প্লেটের ব্যাচ করলে মাংস বাদামি করা, তরল নিয়ন্ত্রণ এবং চালের টেক্সচার ভালো থাকে।

বিফ তেহারি কতক্ষণ সার্ভিসের জন্য হোল্ড করা যাবে?

ঢেকে ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় রাখুন এবং ভালো টেক্সচারের জন্য চার ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ করার লক্ষ্য রাখুন। পুরো ব্যাচ সরাসরি গরম না করে অগভীর ঢাকনাযুক্ত প্যান ব্যবহার করুন এবং অল্প অল্প করে সার্ভিস প্যান ভরুন।

চিনিগুঁড়া বা কালিজিরার বদলে বাসমতি চাল ব্যবহার করা যাবে?

বাসমতি দিয়ে খাওয়ার উপযোগী বিফ রাইস রান্না করা যাবে, তবে টেক্সচার ও পরিচিতি পোলাও বা বিরিয়ানির কাছাকাছি চলে যাবে। বদলানো জরুরি হলে আগে পরীক্ষামূলক ব্যাচ করুন, কারণ বাসমতির জন্য তরলের অনুপাত আলাদা এবং ফুড কার্টে হোল্ড করার সময় এটি দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে।

ফ্রিজে বিফ তেহারির শেলফ লাইফ কতক্ষণ?

অগভীর প্যানে তেহারি দ্রুত ঠান্ডা করে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন, মাঝখানে অন্তত ৭৪°C হওয়া পর্যন্ত শুধু একবার রিহিট করুন এবং অনিরাপদ তাপমাত্রায় পড়ে থাকা অংশ ফেলে দিন।

রান্নাঘরে তৈরি তেহারির কত ইয়েল্ড আশা করা উচিত?

মাংসের আর্দ্রতা, বাষ্পীভবন ও চালের পানি শোষণের ওপর নির্ভর করে রান্নার পর আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ kg তেহারি পাওয়া যাবে। নিয়ন্ত্রিত ৩৫০ g পরিবেশনে এই ব্যাচ থেকে সামান্য অপারেশনাল বাড়তিসহ প্রায় ৪০ প্লেট হবে।
শেয়ার

কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি, যেখানে দীর্ঘ সময় কষানো, তেল ছাড়ার স্পষ্ট লক্ষণ, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবেশন ও নিরাপদ রিহিটিং দেখানো হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বিফ কালা ভুনা

গাঢ় কষ, আলাদা করে ভাজা মসলা এবং নিয়ন্ত্রিত সার্ভিংসহ প্রায় ৪০ প্লেট চট্টগ্রামি বিফ কালা ভুনার কমার্শিয়াল ব্যাচ রেসিপি।

পরিমাণ:
প্রতি প্লেটে প্রায় ১৭৫ g হিসাবে প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
কঠিন

কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি

৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাংস নরম করা, ধীরে তাওয়ায় রান্না, সার্ভিস হোল্ডিং এবং প্রতিটি প্লেটের সমান পরিমাণ নিশ্চিত করার পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ২০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন