মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

রেস্টুরেন্ট পিৎজা ডো

৬২% হাইড্রেশন, কোল্ড ফারমেন্টেশন, পার-বেকিং ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণসহ সমান মাপের ৫৫টি ৩০০ g ডো বল তৈরির কমার্শিয়াল পিৎজা ডো রেসিপি।

শেয়ার
ট্রেতে পরশন করা কোল্ড-ফারমেন্টেড পিৎজা ডো বলের পাশে সদ্য বেক করা মিডিয়াম-ক্রাস্ট রেস্টুরেন্ট পিৎজা।
প্রস্তুতি
৪৫ মিনিট
রান্না
৬ মিনিট
মোট
২৪ ঘণ্টা ৫১ মিনিট
পরিমাণ
১০ ইঞ্চি পিৎজা বেসের জন্য ৫৫টি ডো বল
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Continental

প্রণালী

  1. 1

    প্রোডাকশন এরিয়া প্রস্তুত করুন

    মাপা পানি ২°C থেকে ৫°C পর্যন্ত ঠান্ডা করুন এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ২°C থেকে ৪°C আছে কি না নিশ্চিত করুন। পরিষ্কার ও শুকনা ডো ট্রে প্রস্তুত রাখুন এবং মিক্সিং শুরুর আগে স্কেল গ্রাম মোডে সেট করুন।

  2. 2

    শুকনা উপকরণ মেশান

    মিক্সারের বাটিতে হাই-প্রোটিন ময়দা, ইনস্ট্যান্ট ড্রাই ইস্ট ও চিনি দিন। লো স্পিডে ১ মিনিট মেশান, যাতে ইস্ট ও চিনি সমানভাবে ছড়িয়ে যায় এবং কোথাও ঘন হয়ে জমে না থাকে।

  3. 3

    ডোতে পানি মেশানো শুরু করুন

    ঠান্ডা পানি থেকে প্রায় ৩০০ ml আলাদা রাখুন এবং বাকি পানি লো স্পিডে মিক্স করার সময় যোগ করুন। ৩ মিনিট মেশান, যতক্ষণ না শুকনা ময়দা থাকে এবং ডো অমসৃণ ও ঝুরঝুরে একটি দলায় পরিণত হয়।

  4. 4

    লবণ ও তেল যোগ করুন

    আলাদা রাখা পানিতে লবণ গুলে ধীরে ধীরে যোগ করুন এবং ২ মিনিট মেশান। সয়াবিন তেল দিয়ে মিডিয়াম স্পিডে আরও ৬ থেকে ৮ মিনিট মেশান, যতক্ষণ না ডো মসৃণ ও ইলাস্টিক হয় এবং তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ২৬°C পৌঁছায়।

  5. 5

    মেশানো ডো বিশ্রাম দিন

    ডো হালকা তেল মাখানো ফুড-সেফ পাত্রে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঢেকে দিন। ২৪°C থেকে ২৬°C তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট বিশ্রাম দিন। ডো সামান্য শিথিল হবে, তবে আয়তনে দ্বিগুণ হওয়া যাবে না।

  6. 6

    সমান ওজনের ডো বল ভাগ করুন

    মিক্সিং শেষ হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে ডো কেটে ৩০০ g করে ওজন করুন। চূড়ান্তভাবে রাউন্ড করার আগে ওজন ঠিক করে প্রতিটি টুকরা টাইট ও মসৃণ বল বানান এবং নিচের সিম ভালোভাবে বন্ধ করুন।

  7. 7

    ব্যাচ কোল্ড ফারমেন্ট করুন

    ফুলে ওঠার জন্য যথেষ্ট ফাঁকা রেখে বলগুলো ঢাকনাযুক্ত ট্রেতে সাজান এবং ২°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা রাখুন। ঠিকভাবে ফারমেন্ট হওয়া বল ফুলবে, ভেতরে বাতাসযুক্ত মনে হবে এবং ছোট গ্যাসের বুদবুদ দেখা যাবে, তবে বসে যাবে না বা পাশের বলের সঙ্গে ছড়িয়ে মিশবে না।

  8. 8

    ডোর তাপমাত্রা বাড়িয়ে বেস খুলুন

    পরবর্তী সার্ভিসে যতটি প্রয়োজন শুধু ততটি বল বের করে ঢেকে ২৪°C থেকে ২৮°C তাপমাত্রায় ৬০ থেকে ৯০ মিনিট রাখুন। ডো শিথিল হলে এবং না ছিঁড়ে বা জোরে আগের আকারে ফিরে না গিয়ে প্রসারিত হলে প্রতিটি বল ১০ ইঞ্চি বেসে স্ট্রেচ করুন।

  9. 9

    দ্রুত সার্ভিসের জন্য পার-বেক করুন

    রিম অক্ষত রেখে প্রতিটি বেসের মাঝের অংশ ডক করুন, এরপর ২৫০°C থেকে ২৮০°C তাপমাত্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট বেক করুন। উপরিভাগ শুকিয়ে সেট হলেও ফ্যাকাশে থাকা অবস্থায় বের করুন। নিচে শুধু হালকা দাগ থাকবে, শক্ত ব্রাউনিং হবে না।

  10. 10

    ঠান্ডা করে সংরক্ষণ ও ফিনিশ করুন

    পার-বেকড বেস ওয়্যার র্যাকের ওপর এক স্তরে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ঠান্ডা করুন। কোনো গরম ভাব বা বাষ্প না থাকলেই প্যাক করুন। ২°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা রেফ্রিজারেট করুন অথবা মাইনাস ১৮°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন ফ্রিজ করুন। টপিং দিয়ে ২৫০°C থেকে ২৮০°C তাপমাত্রায় ৩ থেকে ৫ মিনিট ফিনিশ করুন, যতক্ষণ না রিম ব্রাউন ও নিচের অংশ ক্রিস্প হয়।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই কমার্শিয়াল পিৎজা ডো রেসিপিতে ১০ ইঞ্চি মিডিয়াম-ক্রাস্ট পিৎজার জন্য সমান মাপের ৫৫টি ৩০০ g ডো বল তৈরি হবে। ফর্মুলায় ৬২% হাইড্রেশন এবং ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার কোল্ড ফারমেন্টেশন রাখা হয়েছে। এতে ডো হাতে স্ট্রেচ বা প্রেস করা সহজ হয়, স্বাদ ভালো আসে, ব্রাউনিং নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডোর শক্তি ঠিক থাকে। বিক্রয়যোগ্য ডোর নির্ধারিত ওজন ১৬.৫ kg, সঙ্গে মিক্সার, বেঞ্চ ও স্কেলে লেগে থাকা ডোর জন্য সামান্য মার্জিন রাখা হয়েছে।

কমার্শিয়াল সার্ভিসে এই ডো উপযোগী কেন

নিয়ন্ত্রিত ডো সিস্টেম থাকলে ফুড কার্ট বা রেস্টুরেন্ট সারাদিন একই মাপের পিৎজা বিক্রি করতে পারে। ব্যস্ততা কম থাকার সময় ডো মিক্স করে ফ্রিজে ফারমেন্ট করা যায় এবং সার্ভিসের আগে প্রয়োজনমতো নির্ধারিত সংখ্যক ডো বল বের করা যায়। এতে তাড়াহুড়া করে ডো মেশানো, অসম প্রুফিং এবং একজন অভিজ্ঞ পিৎজা মেকারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমে।

৩০০ g পরশন ১০ ইঞ্চি মিডিয়াম ক্রাস্টের জন্য উপযোগী। পাতলা ক্রাস্টের জন্য ডো বলের ওজন কমানো যায়, তবে সেটি আলাদা ইল্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং মেনুর স্পেসিফিকেশন বদলানোর আগে পরীক্ষা করা দরকার। দ্রুত কাউন্টার সার্ভিসের জন্য বেস পার-বেক করে ঠান্ডা রাখা যায়, এরপর অর্ডার কিচেনে পৌঁছালে টপিং দিয়ে ফিনিশ করা যায়।

উপকরণের মান ও বাছাই

সবচেয়ে দামি ময়দা কেনার চেয়ে প্রতিবার একই মানের ময়দা ব্যবহার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১১.৫% থেকে ১২.৫% প্রোটিনযুক্ত এবং ৬২% হাইড্রেশনের ডো ধরে রাখার মতো গ্লুটেন শক্তিসম্পন্ন ময়দা ব্যবহার করুন। দুর্বল ময়দা শুরুতে নরম লাগলেও স্ট্রেচ করার সময় ছিঁড়ে যেতে পারে, সস শুষে নিতে পারে এবং বেস ঘন বা ভঙ্গুর হতে পারে।

ময়দা ও পানি একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করুন

শুধু ডো দেখতে কেমন তার ভিত্তিতে নয়, ব্যবহৃত ময়দার প্রকৃতি অনুযায়ী হাইড্রেশন ঠিক করতে হবে। এই ফর্মুলায় প্রতি ১০ kg মূল ময়দার জন্য ৬.২ লিটার পানি আছে। আর্দ্র আবহাওয়ায় কোনো ব্যাচের ময়দা সামান্য কম পানি নিতে পারে, আবার শুষ্ক স্টোরে রাখা ময়দায় কিছুটা বেশি পানি লাগতে পারে। প্রতি ১০ kg ময়দায় একবারে ১০০ g করে পানি সমন্বয় করুন এবং ফলাফল লিখে রাখুন। প্রতিটি মিক্সে ইচ্ছামতো পানি বদলাবেন না।

মিক্স শেষে ডোর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঠান্ডা ও নিরাপদ পানযোগ্য পানি ব্যবহার করুন। বাংলাদেশের গরম কিচেনে রুম টেম্পারেচারের পানি ব্যবহার করলে মেশিনে মিক্স করার সময় ডোর তাপমাত্রা ২৭°C ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে ব্যাচ ফ্রিজে যাওয়ার আগেই ফারমেন্টেশন দ্রুত শুরু হয়। সাধারণত ২°C থেকে ৫°C পানি ভালো নিয়ন্ত্রণ দেয়, তবে সঠিক তাপমাত্রা মিক্সার, ময়দার তাপমাত্রা ও কিচেনের পরিবেশের ওপর নির্ভর করবে।

ইস্টের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখুন

ব্যাচের সময় ঠিক রাখতে টাটকা ও সঠিকভাবে সংরক্ষিত ইস্ট ব্যবহার করা জরুরি। ইনস্ট্যান্ট ড্রাই ইস্ট সিল করা অবস্থায় বাষ্প ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন এবং প্যাকেট খোলার পর সরবরাহকারীর রেফ্রিজারেটেড স্টোরেজ নির্দেশনা মানুন। ডো অন্তত ২৪ ঘণ্টা ফারমেন্ট হবে বলে ইস্টের পরিমাণ ইচ্ছাকৃতভাবে মাঝারি রাখা হয়েছে।

ডেক বা কনভেয়ার ওভেন প্রচলিত পিৎজা ওভেনের মতো বেশি তাপমাত্রায় না উঠলে চিনি ক্রাস্ট ব্রাউন হতে সাহায্য করে। নিউট্রাল স্বাদের সয়াবিন তেল ডো হ্যান্ডলিং সহজ করে, আটকে যাওয়া কমায় এবং ক্রাস্ট নরম রাখে। কোনোটির পরিমাণ ইচ্ছামতো বাড়াবেন না, কারণ বেশি চিনি ফিনিশিংয়ের সময় পুড়ে যায় এবং বেশি তেল ডোর গঠন দুর্বল করে।

টেকনিক কীভাবে ডো নিয়ন্ত্রণ করে

মিক্স শেষে ডোর তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ২৬°C হওয়া উচিত। শুধু হাতে ছুঁয়ে বোঝার চেয়ে থার্মোমিটারের এই মাপ বেশি নির্ভরযোগ্য। বেশি ঠান্ডা ডো ধীরে ফারমেন্ট হয়, আর অতিরিক্ত গরম ডো দ্রুত ফুলে আঠালো হয়ে যেতে পারে এবং সার্ভিসের আগেই ইস্টের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

উপকরণ দেওয়ার ক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। তেল পুরোপুরি মেশানোর আগে ডোর প্রাথমিক গ্লুটেন গঠন তৈরি করুন, কারণ শুরুতেই চর্বির আস্তরণ পড়লে ময়দার পানি শোষণ ধীর হতে পারে। ডো মসৃণ ও ইলাস্টিক হলে এবং সঙ্গে সঙ্গে না ছিঁড়ে পাতলা পর্দার মতো টানা গেলে মিক্সিং শেষ। ডোর তাপমাত্রা সীমার কাছে পৌঁছে গেলে শুধু চকচকে ও নিখুঁত দেখানোর জন্য মিক্সিং চালিয়ে যাবেন না।

মিক্সের পর অল্প সময় ঢেকে বিশ্রাম দিলে ভাগ করার আগে গ্লুটেন শিথিল হয়। গ্যাস ধরে রাখার মতো শক্ত করে ডো বল বন্ধ করতে হবে, তবে বেঞ্চের ওপর বারবার মথা যাবে না। কোল্ড ফারমেন্টেশনের সময় ঢাকনাযুক্ত ট্রে ডোর গায়ে শুকনো চামড়া পড়া বন্ধ করে এবং প্রতিটি বলকে পাশের বলের সঙ্গে লেগে না গিয়ে ফুলতে জায়গা দেয়।

নিরাপদভাবে ব্যাচের পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো

প্রতিটি উপকরণ ওজন করে মাপুন এবং বেকারস পারসেন্টেজ অপরিবর্তিত রাখুন। মূল ফর্মুলা হলো ১০০% ময়দা, ৬২% পানি, ২.২% লবণ, ২% তেল, ১.৫% চিনি এবং ০.২৫% ইনস্ট্যান্ট ড্রাই ইস্ট। অর্ধেক ব্যাচে প্রতিটি মূল উপকরণ ঠিক অর্ধেক এবং দ্বিগুণ ব্যাচে ঠিক দ্বিগুণ হবে।

বড় ব্যাচের আচরণ কিছুটা আলাদা হতে পারে, কারণ বেশি ডো মিক্সারে দ্রুত গরম হয় এবং ফ্রিজে ধীরে ঠান্ডা হয়। মিক্সারের নির্ধারিত ডো ধারণক্ষমতা কখনো অতিক্রম করবেন না। ফর্মুলা দ্বিগুণ করলে ডোর শেষ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বা পরশন করতে দেরি হলে একটি অতিরিক্ত বড় ব্যাচের বদলে দুইটি আলাদা মিক্স করুন।

ফারমেন্টেশনের সময় ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্ট বাড়াবেন না। ফ্রিজ ২°C থেকে ৪°C রাখুন এবং একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যাচে নতুন সময়সূচি পরীক্ষা করুন। ডোর তাপমাত্রা, ফ্রিজের তাপমাত্রা ও প্রকৃত প্রুফিং সময় যাচাই করার পরই ইস্টের পরিমাণ বদলান।

পরশন ও ইল্ড নিয়ন্ত্রণ

প্রতিটি ডো বল স্কেল থেকে ঠিক ৩০০ g ওজনে নামাতে হবে, আন্দাজে এক মুঠো করে নয়। হ্যান্ডলিং লসের আগে মূল ফর্মুলায় ১৬.৭৯৫ kg ডো তৈরি হয়। লক্ষ্য হলো ৫৫টি বল বা ১৬.৫ kg বিক্রয়যোগ্য ডো, ফলে স্কেলের পার্থক্য, মিক্সারে লেগে থাকা অংশ এবং প্রোডাকশন চেকের জন্য ২৯৫ g মার্জিন থাকে।

নিজস্ব গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ করুন, যেমন ২৯৮ g থেকে ৩০২ g, এবং রাউন্ড করার আগে প্রতিটি টুকরার ওজন ঠিক করুন। আগে রাউন্ড করা বলের সঙ্গে পরে ডোর টুকরা জোড়া দিলে দুর্বল সিম তৈরি হয়। কাটা ডো ঢেকে রাখুন, কারণ খোলা থাকলে শুকনো চামড়া পড়ে এবং বেক করার পর শক্ত কণা বা ফাটা অংশ দেখা যায়।

ডো বলের ওজন অবশ্যই পিৎজার ব্যাস, রিমের ধরন ও টপিংয়ের পরিমাণের সঙ্গে মিলিয়ে রাখতে হবে। কর্মীরা কিছু অর্ডারে ৩২০ g এবং কিছুতে ২৮০ g ব্যবহার করলে ব্যাচ দেখতে সম্পূর্ণ মনে হলেও বিক্রয়যোগ্য ইউনিট কমে যাবে। লিখিত পরশন কন্ট্রোল স্ট্যান্ডার্ড ইল্ড ও ক্রেতার জন্য একই মান বজায় রাখে।

পার-বেকিং ও সার্ভিসের জন্য সংরক্ষণ

কাঁচা ডো থেকে প্রতিটি পিৎজা বানানোর চেয়ে দ্রুত সার্ভিস বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে পার-বেকিং কার্যকর। নির্ধারিত ব্যাসে বেস খুলে রিম বাদ দিয়ে মাঝের অংশ ডক করুন এবং শুধু উপরিভাগ সেট হওয়া পর্যন্ত বেক করুন। সঠিকভাবে পার-বেক করা বেস ফ্যাকাশে ও নমনীয় থাকবে এবং নিচে কেবল হালকা দাগ দেখা যাবে।

ওয়্যার র্যাকের ওপর এক স্তরে বেস ঠান্ডা করুন। গরম অবস্থায় স্তূপ করলে বাষ্প আটকে নিচের অংশ ভিজে যায় এবং বেসগুলো একে অন্যের সঙ্গে লেগে যেতে পারে। পুরোপুরি ঠান্ডা হলে ফুড-সেফ ব্যাগ বা ঢাকনাযুক্ত পাত্রে প্যাক করুন, প্রোডাকশনের সময় লিখে লেবেল দিন এবং ২°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা রাখুন।

দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা পার-বেকড বেস মাইনাস ১৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজ করুন এবং ভালো মানের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন। বেসের মাঝে ফুড-সেফ শিট রাখুন, যাতে কর্মীরা শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেস বের করতে পারে। রেফ্রিজারেটেড বা গলানো বেস পুরোপুরি প্রিহিট করা ওভেনে ফিনিশ করুন। পুরো শিফট রুম টেম্পারেচারে ফেলে রাখবেন না।

ফিনিশ করা পিৎজা সম্ভব হলে সরাসরি ক্রেতার কাছে পাঠাতে হবে। স্লাইস আবার গরম করার প্রয়োজন হলে ২২০°C থেকে ২৪০°C ওভেনে প্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট গরম করুন, যতক্ষণ না বেস ক্রিস্প হয় এবং টপিং থেকে গরম বাষ্প ওঠে। মাইক্রোওয়েভে গরম করলে ক্রাস্ট নরম হয়, তাই এটিকে নিয়মিত সার্ভিস পদ্ধতি করা উচিত নয়।

যেসব ভুলে খরচ বাড়ে

ডোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হলো অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা, ভুল পরশন এবং খারাপ সংরক্ষণ। গরম ডো ডিনারের ব্যস্ততার আগেই ওভারপ্রুফ হতে পারে, আর ঠান্ডা ও আন্ডারপ্রুফ ডো স্ট্রেচ করতে বাধা দেয় এবং বারবার আগের আকারে ফিরে আসে। দুই অবস্থাতেই সার্ভিস ধীর হয় এবং বাতিল বেস বাড়ে।

  • শেপিংয়ের সময় বেশি ময়দা দেওয়া: অতিরিক্ত বেঞ্চ ফ্লাওয়ার ক্রাস্ট বদলে দেয়, ওভেনের তলায় পুড়ে যায় এবং ডো বেশি ভেজা বা ওভারপ্রুফ হওয়ার আসল সমস্যা ঢেকে রাখে।
  • আয়তনের মাপে উপকরণ নেওয়া: কমার্শিয়াল ব্যাচে ময়দা, লবণ বা ইস্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য কাপ ও চামচ যথেষ্ট নির্ভুল নয়।
  • গরম পার-বেকড বেস স্তূপ করা: আটকে থাকা আর্দ্রতায় বেস নরম ও ভেজা হয় এবং ব্যবহারযোগ্য সংরক্ষণকাল কমে।
  • কোল্ড রুম অতিরিক্ত ভরা: গরম ডোর ট্রে ঘন করে রাখলে ক্যাবিনেটের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং অসম ফারমেন্টেশন হয়।
  • পুরোনো ও নতুন ডো বল মেশানো: ভিন্ন বয়সের ফারমেন্টেড ডো একই সার্ভিসে আলাদাভাবে স্ট্রেচ, ব্রাউন ও ফুলে ওঠে।

ডোর খরচ স্থিতিশীল রাখা

জরুরি উপকরণ কমিয়ে নয়, নিয়ন্ত্রিত ইল্ডের মাধ্যমে ডোর খরচ স্থিতিশীল রাখতে হয়। ব্যাচে পরিমাণের দিক থেকে ময়দাই প্রধান, আর ময়দার গ্রেড, সরবরাহকারীর ধারাবাহিকতা ও কেনার পরিমাণ খরচে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ইস্ট, তেল, সুজি ও ডাস্টিংয়ের ময়দা তুলনামূলক ছোট উপকরণ, তবে অপ্রয়োজনীয় ডাস্টিং এবং ওভারপ্রুফ ডো ফেলে দিলে এড়ানো সম্ভব এমন ক্ষতি হয়।

কত ময়দা ইস্যু হয়েছে, কত ডো বল তৈরি হয়েছে, কত পার-বেকড বেস সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং কত ডো বাতিল হয়েছে তা লিখে রাখুন। তাত্ত্বিক ৫৫টি বেসের ইল্ডের সঙ্গে প্রকৃত আউটপুট তুলনা করতে রেসিপি কস্টিং ব্যবহার করুন এবং ময়দা ও ইস্ট প্রাপ্তির তারিখ অনুযায়ী ঘোরাতে ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট অনুসরণ করুন। Rosuii-তে কাঁচামাল স্টক হিসেবে রেকর্ড করে প্রোডাকশনের মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক ডো বল বা বেসে রূপান্তর করা যায় এবং ওয়েস্টেজ আলাদাভাবে এন্ট্রি করা যায়।

খরচ কোথায় বাড়ে

ব্যাচের বেশির ভাগ অংশ ময়দা হওয়ায় উপকরণের খরচে এটিই প্রধান। প্রোটিন গ্রেড, সরবরাহকারী ও কেনার পরিমাণ অনুযায়ী ময়দার খরচ বদলায়। তেল, ইস্ট ও সুজির অবদান কম, তবে ওভারপ্রুফিং, ডো বলের ভুল ওজন এবং অতিরিক্ত ডাস্টিং প্রতি বিক্রয়যোগ্য বেসের কার্যকর খরচ বাড়ায়।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই পিৎজা ডো রেসিপি কি একই মিক্সারে দ্বিগুণ করা যাবে?

যাবে, তবে মোট ডোর ওজন মিক্সারের নির্ধারিত ধারণক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে এবং মিক্স শেষে ডোর তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ২৬°C রাখতে হবে। বড় ব্যাচ অতিরিক্ত গরম হলে বা ভাগ করতে বেশি সময় লাগলে একই বেকারস পারসেন্টেজে দুইটি আলাদা মিক্স করুন।

কাঁচা ডো বল কতক্ষণ রেফ্রিজারেটরে রাখা যাবে?

ঢাকনাযুক্ত ডো বল ২°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা রাখুন। লেবেল অনুযায়ী সবচেয়ে পুরোনো ব্যাচ আগে ব্যবহার করুন। বসে যাওয়া, শুকনো চামড়া পড়া, তরল বের হওয়া বা অস্বাভাবিক গন্ধ তৈরি হওয়া বল বাতিল করুন।

হাই-প্রোটিন ময়দার বদলে সাধারণ ময়দা ব্যবহার করা যাবে?

পরীক্ষা করা যায়, তবে দুর্বল ময়দায় কম হাইড্রেশন লাগতে পারে এবং ভারী টপিংয়ের নিচে ডো ছিঁড়ে যেতে পারে। প্রতি ১০ kg ময়দায় প্রথমে পানি ২০০ থেকে ৩০০ g কমিয়ে একটি ছোট নিয়ন্ত্রিত ব্যাচ পরীক্ষা করুন, তারপর কমার্শিয়াল স্পেসিফিকেশন বদলান।

এই ব্যাচে কতটি পিৎজা তৈরি হওয়া উচিত?

লক্ষ্য হলো ৩০০ g ওজনের ৫৫টি ডো বল দিয়ে সমান মাপের ৫৫টি ১০ ইঞ্চি মিডিয়াম-ক্রাস্ট পিৎজা তৈরি করা। মূল ডোর তাত্ত্বিক ওজন ১৬.৭৯৫ kg এবং মিক্সারে লেগে থাকা ডো, ওজনের পার্থক্য ও প্রোডাকশন চেকের জন্য ২৯৫ g মার্জিন রাখা হয়েছে।

সার্ভিসের সময় পার-বেকড বেস কি রুম টেম্পারেচারে রাখা যাবে?

মূল স্টক ২°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় রেফ্রিজারেট করুন এবং অল্প সময়ের সার্ভিসে যতটি প্রয়োজন শুধু ততটি বের করুন। পুরো ব্যাচ এক শিফট খোলা অবস্থায় রাখবেন না, কারণ বেস শুকিয়ে যায়, বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে এবং ফিনিশিংয়ের মান কমে।
শেয়ার

কমার্শিয়াল চিকেন চাউমিন রেসিপি

দ্রুত কাউন্টার সার্ভিসের জন্য তৈরি ৪০ প্লেটের চিকেন চাউমিন রেসিপি, যেখানে পার-বয়েল করা নুডলস, মাপা বাল্ক সস ও প্রতি ওয়কের নির্দিষ্ট ব্যাচ সীমা ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিকেন ফ্রাইড রাইস রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল চিকেন ফ্রাইড রাইস রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিত ওয়ক ব্যাচ, নিরাপদে আগে থেকে রান্না করা চিকেন, এক দিনের ঠান্ডা ভাত ও নির্দিষ্ট পরিমাণের সার্ভিং ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিকেন মোমো রেসিপি

প্রায় ২০০টি চিকেন মোমোর কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নির্দিষ্ট ওজনের খোল ও রসালো পুর, দ্রুত ভাঁজ, ব্যাচ স্টিমিং, ফ্রিজিং এবং চাটনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম রয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন