মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল বিফ শিক কাবাব রেসিপি

৮০টি কাবাবের কমার্শিয়াল বিফ শিক কাবাব রেসিপি, যেখানে মাংস ও চর্বির অনুপাত ৮০:২০ রাখা হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য বাইন্ডিং, কাঁচা অবস্থায় ফ্রিজিং ও সার্ভিস কন্ট্রোল দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার
পেঁয়াজ, লেবু ও গ্রিন চাটনির পাশে সাজানো বাদামি উঁচু দাগ ও হালকা পোড়া ছাপযুক্ত গ্রিল করা বাংলাদেশি বিফ শিক কাবাব।
প্রস্তুতি
১ ঘণ্টা
রান্না
৪৫ মিনিট
মোট
১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    মাংস ও যন্ত্রপাতি ঠান্ডা করুন

    কাজ শুরুর আগে গরুর মাংস, চর্বি, মিক্সারের বাটি ও প্যাডেল ০ থেকে ৪°C তাপমাত্রায় রাখুন। চর্বি তেলতেলে না হয়ে শক্ত অনুভূত হবে এবং কিমার মধ্যে জমে থাকা তরল থাকা যাবে না।

  2. 2

    মাংসের বাইন্ডিং তৈরি করুন

    গরুর মাংস, চর্বি ও লবণ একসঙ্গে দিয়ে প্যাডেলে কম গতিতে ৪ থেকে ৬ মিনিট মেশান। মিশ্রণ আঠালো হয়ে দৃশ্যমান প্রোটিনের আঁশ তৈরি করলে এবং বাটির পাশে আটকে থাকলে থামুন। পুরো সময় তাপমাত্রা ৮°C-এর নিচে রাখুন।

  3. 3

    সুগন্ধি উপকরণ ও মসলা দিন

    আদা, রসুন, পানি চিপে ফেলা পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা ও শুকনা মসলা দিন। ২ থেকে ৩ মিনিট সমানভাবে মেশান এবং একবার বাটির পাশ চেঁছে দিন, যাতে কোথাও ঘন মসলার পকেট না থাকে।

  4. 4

    মিশ্রণ ঠিক করে টেস্ট করুন

    ভাজা বেসনের বেশির ভাগ অংশ ও সরিষার তেল দিয়ে ১ মিনিট মেশান। ০ থেকে ৪°C তাপমাত্রায় ৪৫ মিনিট চিল করুন। এরপর ছোট একটি টেস্ট পিস রান্না করে মাঝখান ৭১°C করুন। মিশ্রণ শিকে ধরার জন্য বেশি নরম থাকলেই শুধু আলাদা রাখা বেসন দিন।

  5. 5

    আশিটি পোরশন ওজন করুন

    মিশ্রণটি ৮০ গ্রাম করে ৮০টি পোরশনে ওজন করুন এবং লাইনার দেওয়া ঠান্ডা ট্রেতে সাজান। পোরশনের তাপমাত্রা ৫°C-এর নিচে রাখুন এবং শেপিং স্টেশনে একবারে একটি ট্রে নিন।

  6. 6

    চ্যাপ্টা শিকে শেপ দিন

    একটি পোরশন চ্যাপ্টা শিকের চারপাশে চেপে ১৮ থেকে ২০ সেমি লম্বা এবং প্রায় ১.৫ থেকে ২ সেমি পুরু সমান সিলিন্ডার তৈরি করুন। দুই মাথা সিল করুন, ভেতরের বাতাস বের করুন এবং হালকা ভেজা গ্লাভস দিয়ে ফাটল মসৃণ করুন। তৈরি শিক শক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ অনুভূত হবে।

  7. 7

    আগাম উৎপাদনের কাবাব ফ্রিজ করুন

    সার্ভিসের জন্য স্টক রাখতে কাঁচা কাবাবসহ শিক একটি স্তরে সাজিয়ে -১৮°C তাপমাত্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সম্পূর্ণ শক্ত হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ করুন। ভালোভাবে ঢেকে বা ব্যাগে সিল করে উৎপাদনের তারিখ লিখুন এবং প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত -১৮°C তাপমাত্রায় রাখুন।

  8. 8

    উচ্চ তাপে গ্রিল করুন

    গ্রিল ২৩০ থেকে ২৬০°C তাপমাত্রায় গরম করে তাজা শিক ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন এবং প্রতি ২ মিনিট পর ঘোরান। ফ্রোজেন শিক ১২ থেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন। আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণ করে বাইরের অংশ বাদামি এবং মাঝখান অন্তত ৭১°C হওয়া পর্যন্ত গ্রিল করুন।

  9. 9

    রেস্ট দিয়ে নিরাপদে সার্ভ করুন

    রান্না করা কাবাব শিক থেকে খোলার আগে ২ মিনিট রেস্ট দিন। সঙ্গে সঙ্গে সার্ভ করুন অথবা ভালো মান ধরে রাখতে ৬০°C-এর বেশি তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট হোল্ড করুন। ঠান্ডা রান্না করা কাবাব সার্ভিসের আগে মাঝখান ৭৪°C পর্যন্ত রিহিট করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই কমার্শিয়াল শিক কাবাব রেসিপিতে ৮০টি বিফ কাবাব হবে, প্রতি প্লেটে দুটি করে দিলে প্রায় ৪০ প্লেট পরিবেশন করা যাবে। ফর্মুলায় গরুর মাংস ও চর্বি মিলিয়ে ৫ কেজি ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কাঁচা কাবাবের পোরশন ৮০ গ্রাম। কয়লার গ্রিল, গ্যাস চারগ্রিল বা কমার্শিয়াল ওভেন ব্যবহারকারী বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট, ফুড কার্ট ও ক্যাটারিং কিচেনের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।

কমার্শিয়ালভাবে শিক কাবাব কার্যকর কেন

শিক কাবাব কমার্শিয়াল সার্ভিসে কার্যকর, কারণ এটি আগে থেকে পোরশন করে কাঁচা অবস্থায় ফ্রিজ করা যায় এবং অর্ডার এলে দ্রুত রান্না করা যায়। সার্ভিসের আগেই বেশির ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়, আর চূড়ান্ত রান্নায় মাত্র কয়েক মিনিট লাগে। উৎপাদনের ফর্মুলা না বদলিয়েই একই কাবাব প্লেটেড মেইন, রোলের ফিলিং, নান কম্বো বা মিক্সড গ্রিলের অংশ হিসেবে বিক্রি করা যায়।

প্রতিটি কাবাবের ওজন ও আকার এক রাখা জরুরি, কারণ একটি শিক অন্যটির চেয়ে পাতলা হলে ক্রেতা সহজেই বুঝতে পারেন। সমান কাবাব একই সময়ে রান্না হয়, ফলে পোড়া মাথা, কাঁচা মাঝখান ও ফেরত আসা প্লেট কমে। কাঁচা কাবাব ঠিকভাবে ফ্রিজ করে স্টক রাখলে ব্যস্ত সন্ধ্যায় ফুড কার্ট বা রেস্টুরেন্টকে বেশি পরিমাণ রান্না করা মাংস হট হোল্ডিংয়ে রাখতে হয় না।

গরুর মাংস ও চর্বি নির্বাচন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মান নিয়ন্ত্রণ হলো প্রায় ২০ শতাংশ চর্বিযুক্ত গরুর কিমা ব্যবহার করা। এই ব্যাচে ৪ কেজি চর্বিহীন গরুর মাংসের সঙ্গে ১ কেজি গরুর চর্বি মেশানো হয়, ফলে মাংস ও চর্বির অনুপাত থাকে ৮০:২০। অতিরিক্ত চর্বিহীন কিমা শুকিয়ে যায়, অসমভাবে সঙ্কুচিত হয় এবং শিক থেকে ফেটে আলাদা হতে পারে। বেশি চর্বি দ্রুত গলে আগুনের শিখা বাড়ায় এবং রান্নার পর কাবাব তেলতেলে ও আকারে ছোট হয়ে যায়।

হাড়ছাড়া গরুর মাংসে পরিষ্কার গন্ধ, শক্ত গঠন ও কম শক্ত সংযোজক টিস্যু থাকতে হবে। চাক, শোল্ডার ও মিশ্র লিন ট্রিমিং ব্যবহার করা যায়, তবে কিমা করার আগে বড় শক্ত পর্দা ও রগ ফেলে দিতে হবে। মাংস ও চর্বি প্রায় ৫ থেকে ৬ মিমি মিডিয়াম প্লেট দিয়ে কিমা করুন। অতিরিক্ত মিহি কিমা পেস্টের মতো হয়ে যেতে পারে, আবার মোটা হাতে কাটা মাংস দিয়ে বেশি পরিমাণ উৎপাদনে একই মানের বাইন্ডিং রাখা কঠিন।

প্রস্তুতির সময় মাংস ও চর্বি ০ থেকে ৪°C তাপমাত্রায় রাখুন। গরম চর্বি কিমার মধ্যে সমানভাবে ছড়ানোর বদলে লেপ্টে যায়, আর গরম মিশ্রণ শিকের ওপর নরম হয়ে পড়ে। পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ খুব মিহি করে কাটতে হবে, যাতে বড় টুকরা কাবাব ভাঙার জায়গা তৈরি না করে। পেঁয়াজ চিপে পানি বের করা জরুরি, কারণ অতিরিক্ত পানি বাইন্ডিং দুর্বল করে।

নির্ভরযোগ্য বাইন্ডিং তৈরি

লবণের মাধ্যমে মাংসের প্রোটিন বের করা এবং ঠান্ডা অবস্থায় মেশানোই প্রধান বাইন্ডিং তৈরি করে, ভাজা বেসন শুধু সহায়তা করে। মিশ্রণ মাখানোর সময় লবণ আঠালো মাংসের প্রোটিন ওপরে নিয়ে আসে। কয়েক মিনিট পর কিমা গ্লাভস পরা হাতে আটকে থাকবে এবং আলগা কিমার মতো ঝরে না পড়ে সংযুক্ত আঁশের মতো টানবে।

ভেজা মসলা দেওয়ার আগে ঠান্ডা গরুর মাংস, চর্বি ও লবণ মেশান। প্যাডেলসহ প্ল্যানেটারি মিক্সারে প্রতিটি ব্যাচে একই ফল পাওয়া সহজ, তবে ছোট ব্যাচ ঠান্ডা স্টেইনলেস স্টিলের বাটিতে হাতেও মেশানো যায়। মিশ্রণের তাপমাত্রা ৮°C ছাড়ালে মেশানো বন্ধ করে আবার চিলারে রাখুন। বেশি গরম কিমা শক্তভাব হারায় এবং শেপ দেওয়া কঠিন হয়।

ভাজা বেসন পেঁয়াজ ও বাটা মসলা থেকে অল্প আর্দ্রতা শোষণ করে, তবে বেশি দিলে কাবাবের ভেতর নরম ও আটার মতো হয়ে যায়। একটি টেস্ট কাবাব রান্না না করা পর্যন্ত মাপা বেসনের কিছু অংশ আলাদা রাখুন। এই ফর্মুলায় ডিম প্রয়োজন নেই, কারণ ডিম অতিরিক্ত পানি ও ব্যাচভেদে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কাঁচা পেঁপে বাটাও ব্যবহার করা হয়নি, কারণ বেশি নরম হয়ে গেলে কিমা থকথকে হতে পারে এবং শিকে ধরে থাকার ক্ষমতা কমে যায়।

দ্রুত ও সমানভাবে শেপ দেওয়া

দ্রুত শেপ দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো শিকে লাগানোর আগে প্রতিটি পোরশন ওজন করে রাখা। ঠান্ডা ট্রেতে ৮০ গ্রাম করে মাংসের পোরশন সাজান। এরপর একজন কুক একটানা শেপ দেবেন এবং অন্যজন পোরশন সরবরাহ ও তৈরি শিক সরানোর কাজ করবেন। একটি বড় বাটি থেকে বারবার কিমা নেওয়ার চেয়ে এই পদ্ধতি দ্রুত ও নির্ভুল।

চ্যাপ্টা স্টেইনলেস স্টিলের শিক ব্যবহার করুন, কারণ গোল শিকের তুলনায় এর চওড়া অংশ কিমা ভালোভাবে ধরে। প্রতিটি পোরশন সমানভাবে ছড়িয়ে ১৮ থেকে ২০ সেমি লম্বা এবং ১.৫ থেকে ২ সেমি পুরু সিলিন্ডার তৈরি করুন। ভেতরের বাতাস বের করুন, দেখা যায় এমন ফাটল মসৃণ করুন এবং দুই মাথা ধাতুর সঙ্গে শক্ত করে চেপে দিন। দক্ষ কুকের প্রতি শিকে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ সেকেন্ড লক্ষ্য রাখা উচিত, তবে মিশ্রণ গরম হতে দেওয়া যাবে না।

গ্লাভস হালকা ভেজানোর জন্য পাশে অল্প ঠান্ডা পানির বাটি রাখুন, কিন্তু মাংস ভিজিয়ে ফেলবেন না। বেশি পানি কাবাবের উপরিভাগ পিচ্ছিল করে। শেপ দেওয়ার সময় কাবাব পিছলে গেলে বেশি আটা বা বেসন না দিয়ে মিশ্রণ ০ থেকে ৪°C তাপমাত্রায় ফিরিয়ে নিন এবং বাইন্ডিং পরীক্ষা করুন।

সার্ভিসের জন্য কাঁচা শিক কাবাব ফ্রিজ করা

কাঁচা শিক কাবাব মোড়ানো বা স্তূপ করার আগে একটি স্তরে রেখে -১৮°C তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ শক্ত করে ফ্রিজ করতে হবে। লাইনার দেওয়া ট্রেতে শিকগুলো এমনভাবে রাখুন, যেন মাংসের অংশ একটির সঙ্গে অন্যটি না লাগে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সম্পূর্ণ শক্ত হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ করুন, এরপর শুকিয়ে যাওয়া ও ফ্রিজারের গন্ধ আটকাতে শিকগুলো ভালোভাবে ঢেকে বা ব্যাগে সিল করুন।

ফ্রিজারে জায়গা ও পর্যাপ্ত শিক থাকলে কাবাব ধাতব শিকেই রাখুন। এতে নাড়াচাড়ায় কাবাব নষ্ট হয় না এবং কিচেন সরাসরি ফ্রিজার থেকে গ্রিলে নিতে পারে। প্রতিটি ব্যাচে উৎপাদনের তারিখ, পরিমাণ ও ব্যাচ রেফারেন্স লিখুন। ভালো খাওয়ার মান ধরে রাখতে কাঁচা ফ্রোজেন কাবাব ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন।

ফ্রোজেন কাবাব ঘরের তাপমাত্রায় রেখে নরম না করে রান্না করুন। বিকল্পভাবে ০ থেকে ৪°C তাপমাত্রার রেফ্রিজারেশনে ডিফ্রস্ট করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। ডিফ্রস্ট করা কাঁচা কাবাব আবার ফ্রিজ করবেন না, কারণ পানি কমে যাওয়া ও বারবার তাপমাত্রা পরিবর্তনে টেক্সচার নষ্ট হয় এবং অপারেশনাল ঝুঁকি বাড়ে।

সঠিকভাবে ব্যাচ স্কেল করা

এই রেসিপি ওজন অনুযায়ী স্কেল করতে হবে এবং চর্বিহীন মাংস ও চর্বির ৮০:২০ অনুপাত অপরিবর্তিত রাখতে হবে। অর্ধেক ব্যাচের জন্য প্রতিটি উপকরণ দুই দিয়ে ভাগ করে ৮০ গ্রাম ওজনের ৪০টি পোরশন করুন। দ্বিগুণ ব্যাচের জন্য প্রতিটি উপকরণ দুই দিয়ে গুণ করুন, তবে মিক্সার বড় লোড গরম বা লেপ্টে না দিয়ে সামলাতে না পারলে মাংস ও চর্বি আলাদা ৫ কেজির লটে মেশান।

গরুর মাংস ও চর্বির সম্মিলিত ওজনের ১.৮ শতাংশ লবণ রাখতে হবে। পেঁয়াজ, আদা ও রসুনও একই অনুপাতে বাড়ানো যায়, তবে এগুলোর পানির পরিমাণ বদলায় বলে টেস্ট কাবাব রান্নার পর চূড়ান্ত বেসন দিতে হবে। পরিমাণ দ্বিগুণ হলে মিক্সারের সময় দ্বিগুণ করবেন না। কিমা আঠালো ও একত্র হওয়া পর্যন্ত মেশান এবং প্রতিটি ধাপের মাঝে তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।

রান্না, হোল্ডিং ও রিহিটিং

তাজা শিক কাবাব ২৩০ থেকে ২৬০°C তাপমাত্রার গ্রিলে সবচেয়ে ভালো রান্না হয় এবং মাঝখানের তাপমাত্রা অন্তত ৭১°C হতে হবে। প্রতি ২ মিনিট পর শিক ঘোরান, যাতে এক পাশ না পুড়িয়ে চারদিকে সমান রং হয়। তাজা কাবাবে সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিনিট লাগে, আর সম্পূর্ণ ফ্রোজেন শিকে পুরুত্ব ও গ্রিলের তাপমাত্রা ফিরে আসার ক্ষমতা অনুযায়ী ১২ থেকে ১৫ মিনিট লাগে।

কয়লার আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণ করুন, কারণ ঝরা চর্বি মাঝখান রান্না হওয়ার আগেই বাইরের অংশ কালো করে দিতে পারে। গ্রিলে পানি না ছিটিয়ে শিক সাময়িকভাবে কম গরম অংশে সরিয়ে নিন। তৈরি কাবাব বাদামি হবে, উঁচু অংশে হালকা পোড়া দাগ থাকবে এবং ভেতর রসালো রেখেও আকার ধরে রাখার মতো শক্ত হবে।

সঙ্গে সঙ্গে সার্ভিসের জন্য শিক থেকে খোলার আগে কাবাব ২ মিনিট রেস্ট দিন। হোল্ডিং এড়ানো না গেলে গ্রহণযোগ্য মানের জন্য ৬০°C-এর বেশি তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট রাখুন। বেশি সময় গরমে রাখলে বাইরের অংশ শুকায় এবং আরও চর্বি বের হয়। ঠান্ডা রান্না করা কাবাব ২০০ থেকে ২২০°C তাপমাত্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট রিহিট করে মাঝখান ৭৪°C করুন, তবে সদ্য গ্রিল করা বা কাঁচা ফ্রোজেন অবস্থা থেকে অর্ডার অনুযায়ী রান্না করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

পোরশন ও ইল্ড কন্ট্রোল

প্রতিটি কাঁচা কাবাব ৮০ গ্রাম ওজন করে এবং প্রতি প্লেটে দুটি দিলে ইল্ড অনুমানযোগ্য থাকে। এই ব্যাচে ৮০টি কাবাব বা প্রায় ৪০টি স্ট্যান্ডার্ড প্লেট হবে। গরুর মাংসের আর্দ্রতা, চর্বি গলে যাওয়া ও গ্রিলের সময় অনুযায়ী রান্নার পর ওজন বদলায়। তাই প্রথম কয়েকটি উৎপাদন ব্যাচে মোট কাঁচা মিশ্রণের ওজন, তৈরি কাবাবের সংখ্যা, নষ্ট পিস ও রান্নার পর ইল্ড লিখে রাখুন।

প্রতিটি স্টেশনে একই স্কুপ, ডিজিটাল স্কেল ও একই দৈর্ঘ্যের শিক ব্যবহার করুন। প্লেটের স্পেসিফিকেশন ঠিক করার সময় পোরশন কন্ট্রোল দেখুন এবং পরিকল্পিত ইল্ডের সঙ্গে প্রকৃত উৎপাদন তুলনা করতে রেসিপি কস্টিং ব্যবহার করুন। Rosuii-তে production-এর মাধ্যমে ব্যাচ রেকর্ড করা এবং wastage record-এ নষ্ট বা পড়ে যাওয়া কাবাব লেখা যায়, তবে প্রতিটি বিক্রির সঙ্গে রেসিপি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়।

যেসব ভুলে খরচ বাড়ে

সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হলো অতিরিক্ত চর্বিহীন কিমা, ভেজা পেঁয়াজ, গরম অবস্থায় মেশানো, বড় পোরশন এবং নিয়ন্ত্রণহীন গ্রিলের তাপ। চর্বিহীন কিমায় শুকনা কাবাব হয়, যা ক্রেতা ফেরত দিতে পারেন। আবার বেশি চর্বিতে আগুনের শিখা ও অতিরিক্ত সঙ্কোচন হয়। ভেজা সবজি মিশ্রণ আলগা করে, ফলে কুক বেশি বেসন দেন এবং মাংসের স্বাদ কমে যায়।

  • টেস্ট কাবাব বাদ দেওয়া: পুরো ব্যাচ শেপ দেওয়ার আগে ছোট একটি কাবাব রান্না করলে দুর্বল বাইন্ডিং, বেশি লবণ ও খারাপ টেক্সচার ধরা পড়ে।
  • হাতে আন্দাজ করে পোরশন করা: ৮০টি কাবাবে প্রতিটিতে মাত্র ১০ গ্রাম পার্থক্য হলেও কয়েকটি অতিরিক্ত পোরশনের সমান মিশ্রণ খরচ হয়।
  • ফ্রিজ হওয়ার আগে স্তূপ করা: নরম কাবাব একে অন্যের সঙ্গে লেগে যায়, বাঁকা হয় এবং আবার শেপ দিতে শ্রম ও উপকরণ নষ্ট হয়।
  • সরাসরি শিখায় রান্না করা: সরাসরি আগুন মসলা পুড়িয়ে ও চর্বি নষ্ট করে, কিন্তু মাঝখান সমানভাবে রান্না করে না।
  • বেশি সময় হোল্ডিং করা: আগে গ্রিল করে রাখা দ্রুত মনে হলেও শুকনা কাবাব পুনরায় বিক্রি কমায় এবং প্লেট ফেরত আসার ঝুঁকি বাড়ায়।

উপকরণের খরচ স্থিতিশীল রাখা

শিক কাবাবের খরচ স্থিতিশীল রাখতে নিয়ন্ত্রিতভাবে গরুর মাংস কেনা, নির্দিষ্ট চর্বির অনুপাত এবং নির্ভুল পোরশন ওজন জরুরি। গরুর মাংস ও চর্বিই উপকরণের বেশির ভাগ খরচ তৈরি করে, তাই মসলায় সামান্য পরিবর্তনের চেয়ে সাপ্লায়ারের স্পেসিফিকেশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রগ বা মোটা ওপরের চর্বিসহ মাংস কিনলে শুধু ডেলিভারি ওজন নয়, ট্রিমিংয়ের পর ব্যবহারযোগ্য ওজন তুলনা করুন।

অনুমোদিত সাপ্লায়ারের তালিকা রাখুন এবং প্রতিটি ডেলিভারির ইল্ড লিখুন। হিসাবের বাইরে কিমা ব্যবহার, ফ্রিজার স্টক ও উৎপাদনের তারিখ ধরতে ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট পর্যবেক্ষণ করুন। গরুর মাংসের বাজারদর বদলালে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্লেট ছোট করবেন না। নির্ধারিত পোরশন, সাইড ডিশ ও বিক্রির ফরম্যাট একসঙ্গে পর্যালোচনা করুন, যাতে মান একই থাকে।

খরচ কোথায় বাড়ে

এই পদের খরচের প্রধান অংশ গরুর মাংস ও গরুর চর্বি। ট্রিমিং, রগ এবং সাপ্লায়ারের মানের ধারাবাহিকতা ব্যবহারযোগ্য ইল্ড বদলায়। প্রতিটি পোরশন ৮০ গ্রাম ছাড়ালে, অতিরিক্ত চর্বি গলে গেলে অথবা দুর্বল কাঁচা কাবাব ফ্রিজিং ও সার্ভিসের সময় নষ্ট হলে খরচও বাড়ে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

বাইন্ডিং দুর্বল না করে এই শিক কাবাব রেসিপি কীভাবে স্কেল করব?

প্রতিটি উপকরণ ওজন অনুযায়ী স্কেল করুন এবং চর্বিহীন গরুর মাংস ও চর্বির অনুপাত ৮০:২০ রাখুন। মাংস ও চর্বির সম্মিলিত ওজনের ১.৮ শতাংশ লবণ ব্যবহার করুন। বেশি উৎপাদনে মিক্সার অতিরিক্ত লোডেও মিশ্রণ ৮°C-এর নিচে রাখতে না পারলে আলাদা ৫ কেজির মাংস ও চর্বির ব্যাচ মেশান।

রান্না করা শিক কাবাব সার্ভিসের জন্য কতক্ষণ হোল্ড করা যায়?

রান্না করা কাবাব ৬০°C-এর বেশি তাপমাত্রায় রাখুন এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে বিক্রির লক্ষ্য রাখুন, কারণ বেশি সময় রাখলে বাইরের অংশ শুকায় ও আরও চর্বি বের হয়। রান্নার পর ঠান্ডা করলে কিচেনের খাদ্যনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী দ্রুত ঠান্ডা করুন এবং পরিবেশনের আগে ৭৪°C পর্যন্ত রিহিট করুন।

ভাজা বেসনের বদলে ব্রেডক্রাম্ব ব্যবহার করা যাবে কি?

ব্রেডক্রাম্ব আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে, তবে এতে আলাদা ও বেশি নরম টেক্সচার হয় এবং ব্যবহৃত পাউরুটি অনুযায়ী অঘোষিত অ্যালার্জেন থাকতে পারে। একই মানের বাংলাদেশি স্টাইলের কাবাবের জন্য অল্প ভাজা বেসন ব্যবহার করুন এবং বাইন্ডিংয়ের জন্য প্রধানত লবণের মাধ্যমে প্রোটিন বের করা, ঠান্ডা মাংস ও সঠিকভাবে মেশানোর ওপর নির্ভর করুন।

কাঁচা ফ্রোজেন শিক কাবাবের সংরক্ষণকাল কত?

অপারেশনাল ও খাওয়ার ভালো মানের জন্য কাঁচা শিক ভালোভাবে ঢেকে -১৮°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন। প্রতিটি ব্যাচে লেবেল দিন, আংশিক ডিফ্রস্ট হওয়া ঠেকান এবং রেফ্রিজারেশনে ডিফ্রস্ট করা কাবাব আবার ফ্রিজ করবেন না।

এই কমার্শিয়াল ব্যাচে কত ইল্ড পাওয়া উচিত?

এই ব্যাচে ৮০ গ্রাম ওজনের ৮০টি কাঁচা কাবাব হওয়ার কথা, যা প্রতি প্লেটে দুটি করে দিলে প্রায় ৪০ প্লেট হবে। গরুর মাংসের আর্দ্রতা, চর্বি গলে যাওয়া ও গ্রিলের সময় অনুযায়ী রান্নার পর চূড়ান্ত ওজন বদলায়, তাই উৎপাদনের সময় স্কেল দিয়ে ইল্ড যাচাই করুন।
শেয়ার

কমার্শিয়াল বাংলাদেশি বিফ রোল রেসিপি

৪০টি সমান মানের বিফ রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নরম ও শুকনা বিফ ফিলিং, মচমচে সবজি, নিয়ন্ত্রিত সস এবং সার্ভিসের ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে।

পরিমাণ:
৪০টি বিফ রোল
মোট:
১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি

৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাংস নরম করা, ধীরে তাওয়ায় রান্না, সার্ভিস হোল্ডিং এবং প্রতিটি প্লেটের সমান পরিমাণ নিশ্চিত করার পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ২০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিকেন বটি কাবাব

৫ কেজি মুরগির একটি কমার্শিয়াল চিকেন বটি কাবাব ব্যাচ, যেখানে কিউবের সাইজ, কাঁচা পেঁপের ব্যবহার, উচ্চ তাপে গ্রিল ও সার্ভিসের সময় নিরাপদ হোল্ডিং নিয়ন্ত্রিত থাকে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০টি পরিমাণ
মোট:
৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন