মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল চিকেন বটি কাবাব

৫ কেজি মুরগির একটি কমার্শিয়াল চিকেন বটি কাবাব ব্যাচ, যেখানে কিউবের সাইজ, কাঁচা পেঁপের ব্যবহার, উচ্চ তাপে গ্রিল ও সার্ভিসের সময় নিরাপদ হোল্ডিং নিয়ন্ত্রিত থাকে।

শেয়ার
ধাতব শিকে পরিবেশন করা কয়লার আগুনে গ্রিল করা বাদামি কিনারার চিকেন বটি কাবাব, পাশে পেঁয়াজ, লেবু ও সবুজ চাটনি।
প্রস্তুতি
৪৫ মিনিট
রান্না
১ ঘণ্টা
মোট
৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০টি পরিমাণ
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    মুরগি ট্রিম করে কাটুন

    তরুণাস্থি, ঝুলে থাকা টিস্যু ও মোটা চর্বি কাটার সময় মুরগি ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় রাখুন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ g ওজনের সমান ৩০ থেকে ৩৫ mm কিউব কাটুন; টুকরাগুলো চৌকো হবে এবং সহজে পুড়ে যায় এমন পাতলা লেজ থাকবে না।

  2. 2

    বেসন ভেজে ঠান্ডা করুন

    মাঝারি থেকে কম আঁচে বেসন ৩ থেকে ৪ মিনিট একটানা নেড়ে শুকনা ভাজুন। কাঁচা গন্ধ চলে গিয়ে রং সামান্য গাঢ় হলে নামিয়ে নিন এবং মেশানোর আগে ২৫°C-এর নিচে ঠান্ডা করুন।

  3. 3

    প্রথম টেন্ডারাইজিং মিশ্রণ মাখান

    ঠান্ডা মুরগির সঙ্গে লবণ, কাঁচা পেঁপের পেস্ট ও লেবুর রস ২ থেকে ৩ মিনিট মেশান, যাতে প্রতিটি কিউবে হালকা ও সমান আবরণ হয়। ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ২০ মিনিট রাখুন; উপরিভাগ শক্ত থাকবে, নরম বা পেস্টের মতো হবে না।

  4. 4

    মূল মেরিনেড মেশান

    আদা, রসুন, পানি ঝরানো টক দই, গুঁড়া মসলা, কাসুরি মেথি, ঠান্ডা বেসন ও সরিষার তেল দিয়ে নিচ থেকে তুলে মেশান। ৩ থেকে ৪ মিনিট মেশানোর পর মেরিনেড পাতলা আবরণ হয়ে থাকবে; কোথাও শুকনা মসলা বা ট্রের নিচে পানির স্তর থাকবে না।

  5. 5

    ফ্রিজে মেরিনেট করুন

    মুরগি ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ৪ ঘণ্টা মেরিনেট করুন। শেষে প্রতিটি কিউবে মেরিনেড শক্তভাবে লেগে থাকবে; পেঁপেসহ এই মেরিনেড সারারাত রাখবেন না, কারণ উপরিভাগ থকথকে হয়ে যেতে পারে।

  6. 6

    গ্রিল পুরোপুরি গরম করুন

    কয়লা বা গ্যাসের গ্রিল ১৫ থেকে ২০ মিনিট গরম করে কুকিং জোনের তাপমাত্রা প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০°C করুন। শিক বসানোর আগে কয়লা লাল জ্বলবে, ওপরে হালকা ছাই থাকবে এবং উঁচু হলুদ শিখা থাকবে না।

  7. 7

    সমান ওজনের শিক তৈরি করুন

    কিউবের সবচেয়ে মোটা অংশ দিয়ে শিকে গাঁথুন এবং প্রতিটি টুকরার মাঝে ৩ থেকে ৫ mm ফাঁক রাখুন। সব শিকে কাছাকাছি ওজনের মাংস দিন; প্রস্তুত শিক ১০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করলে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে ফেরত রাখুন।

  8. 8

    উচ্চ তাপে গ্রিল করুন

    ২৫০ থেকে ৩০০°C তাপমাত্রায় শিকগুলো ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন এবং মেরিনেড জমে যাওয়ার পর প্রতি ১ থেকে ২ মিনিটে ঘোরান। শেষ দিকে হালকা সয়াবিন তেল ব্রাশ করুন; কাবাবের কিনারা বাদামি হবে, মসলা শুকনা আবরণ হয়ে লেগে থাকবে এবং পোড়া মসলার স্তর থাকবে না।

  9. 9

    তাপমাত্রা মেপে বিশ্রাম দিন

    প্রতিটি গ্রিল রান থেকে সবচেয়ে মোটা কিউবে প্রোব ঢুকিয়ে কেন্দ্রের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। পরিষ্কার উষ্ণ ট্রেতে শিক ২ মিনিট বিশ্রাম দিন; স্বচ্ছ রস এবং শক্ত কিন্তু রসালো কেন্দ্র সঠিক রান্নার লক্ষণ।

  10. 10

    মেপে পরিবেশন বা নিরাপদে হোল্ড করুন

    শিক থেকে মাংস নামিয়ে গরম অবস্থায় ওজন করুন এবং ৪০টি নির্ধারিত পরিমাণের জন্য প্রতিটিতে ৯৫ g কাবাব দিন। সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করুন অথবা ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা হোল্ড করুন; উপরিভাগ বাদামি থাকবে, ঘামের পানিতে ভেজা হবে না।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই বটি কাবাব রেসিপিতে ৫ kg হাড়ছাড়া মুরগি থেকে নিয়ন্ত্রিত মাপের প্রায় ৪০টি পরিমাণ পাওয়া যায়। এটি বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট, ফুড কার্ট ও টেকঅ্যাওয়ে কিচেনে কয়লার গ্রিল, গ্যাস চারগ্রিল বা কমার্শিয়াল শিক গ্রিলে তৈরির জন্য সাজানো। তৈরি কাবাব প্ল্যাটার হিসেবে বিক্রি করা যায়, আবার মেপে র‍্যাপ, পরোটা রোল ও কাবাব বক্সেও দেওয়া যায়।

কমার্শিয়াল সার্ভিসে চিকেন বটি কাবাব সুবিধাজনক কেন

চিকেন বটি কাবাব দ্রুত রান্না হয়, আগাম প্রস্তুত রাখা যায় এবং একই ব্যাচ থেকে একাধিক মেনু আইটেম বানানো যায়। সমান মাপের মুরগির কিউব সার্ভিসের আগে মেরিনেট করে রাখা যায় এবং অর্ডার অনুযায়ী ছোট ব্যাচে গ্রিল করা যায়। পুরোপুরি গরম গ্রিলে সাধারণত প্রতি শিক ৮ থেকে ১০ মিনিটে তৈরি হয়, যা ফুড কার্ট বা কুইক-সার্ভিস রেস্টুরেন্টের জন্য বাস্তবসম্মত।

মূল রেসিপি না বদলিয়েই একই প্রোডাকশন ব্যাচ দিয়ে কয়েকটি মেনু আইটেম চালানো যায়। কম ওজনের রান্না করা কাবাব র‍্যাপ ও রোলে দেওয়া যায়, আর বেশি ওজনের পরিমাণ নান, সালাদ, চাটনি ও গ্রিল করা সবজির সঙ্গে প্ল্যাটারে পরিবেশন করা যায়। বাবুর্চিকে টুকরার সংখ্যা দেখে অনুমান করতে না দিয়ে প্রতিটি মেনু আইটেমের জন্য আলাদা নির্ধারিত ওজন রাখুন।

দ্রুত গ্রিলের সময় মুরগির রান শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম এবং অল্প সময় হোল্ড করলেও রসালো থাকে। বাদামি পোড়া কিনারা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তীব্র তাপও রান ভালোভাবে সহ্য করে। ক্রেতার চাহিদায় বুকের মাংস ব্যবহার করা যায়, তবে টুকরা নির্ভুলভাবে কাটতে হবে এবং ভেতরের নিরাপদ তাপমাত্রায় পৌঁছামাত্র গ্রিল থেকে নামাতে হবে।

উপকরণ বাছাই ও মান নিয়ন্ত্রণ

বাড়তি মসলা দেওয়ার চেয়ে মুরগির মান এবং টেন্ডারাইজারের শক্তি নিয়ন্ত্রণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শক্ত ও টাটকা মাংস, পরিষ্কার গন্ধ এবং প্যাকেটে কম পানি আছে এমন চামড়া ও হাড়ছাড়া রান কিনুন। অতিরিক্ত পানি কেনা ওজন বাড়ায়, মেরিনেড পাতলা করে এবং কিউবগুলো চার হওয়ার বদলে ভাপে সেদ্ধ করে।

ব্যবহারযোগ্য মুরগি ওজন করার আগে মোটা চর্বি, ঝুলে থাকা টিস্যু, তরুণাস্থি ও রক্তের দাগ কেটে ফেলুন। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ mm চওড়া এবং প্রতিটি ২৫ থেকে ৩০ g ওজনের কিউব কাটুন। ২৫ mm-এর ছোট টুকরা বাদামি হওয়ার আগেই শুকিয়ে যায়, আর ৪০ mm-এর বড় টুকরার বাইরেটা বেশি কালো হয়ে গেলেও মাঝখান কাঁচা থাকতে পারে।

কাঁচা পেঁপের এনজাইম প্রোটিন ভেঙে দেয় বলে এর পেস্ট খুব শক্তিশালী টেন্ডারাইজার। ওজন মেপে ব্যবহার করুন এবং মাংসের সঙ্গে থাকার সময় নিয়ন্ত্রণ করুন। অতিরিক্ত পেঁপে বা পেঁপেসহ সারারাত মেরিনেশনে রাখলে উপরিভাগ নরম ও পেস্টের মতো হয়ে শিকে ছিঁড়ে যায়। আদা ও রসুন টাটকা বেটে নিন এবং অপ্রয়োজনীয় পানি দিয়ে পাতলা করবেন না।

ঘন ও পানি ঝরানো টক দই ব্যবহার করুন, যাতে মেরিনেড মাংসে লেগে থাকে। পাতলা দই গ্রিলের ওপর পানি ছাড়ে। শুকনা ভাজা বেসন উপরিভাগের আর্দ্রতা শোষণ করে এবং মেরিনেড আটকে রাখে, তবে বেশি বেসন দিলে কাবাবের ওপর ময়দার মতো আবরণ হয়। কাশ্মীরি মরিচ মাঝারি ঝালে ভালো রং দেয়; দুর্বল ব্রাউনিং ঢাকতে কৃত্রিম রঙের ওপর নির্ভর করবেন না।

নরম ও বাদামি কিউব তৈরির কৌশল

ভালো বটি কাবাবের জন্য নিয়ন্ত্রিত টেন্ডারাইজিংয়ের পর তীব্র ও শুকনা তাপে দ্রুত রান্না করতে হবে। কাটা ও মেরিনেশনের পুরো সময় মুরগি ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় রাখুন। মূল মেরিনেড দেওয়ার আগে দৃশ্যমান পানি ঝরিয়ে ফেলুন, কারণ ভেজা মুরগিতে দই ও মসলার স্থায়ী আবরণ ধরে না।

পেঁপে ও টক উপকরণ সব টুকরায় সমানভাবে মাখান, যাতে কোনো জায়গায় বেশি জমে না থাকে। মূল মেরিনেড প্রতিটি কিউবের চারপাশে পাতলা আবরণ তৈরি করবে, ট্রের নিচে জমে থাকবে না। গ্লাভস পরা হাত বা প্যাডেল দিয়ে নিচ থেকে তুলে মেশান, যতক্ষণ না পুরো ব্যাচের রং একরকম হয়। ঢাকনাযুক্ত অগভীর ফুড-গ্রেড ট্রেতে মেরিনেট করুন, যাতে ব্যাচের মাঝখানও ঠান্ডা থাকে।

প্রতিটি টুকরার সবচেয়ে মোটা অংশ দিয়ে শিকে গাঁথুন এবং কিউবগুলোর মাঝে প্রায় ৩ থেকে ৫ mm ফাঁক রাখুন। বেশি ঠাসা হলে ভাপ আটকে যায়, রান্না ধীর হয় এবং সংযোগস্থল ফ্যাকাশে থাকে। অতিরিক্ত ফাঁক রাখলে গ্রিলের জায়গা নষ্ট হয় এবং পাতলা কিনারা বেশি তাপে পুড়ে যায়।

প্রথম শিক বসানোর আগেই গ্রিল পুরোপুরি গরম করতে হবে। গ্রেট বা কুকিং জোনের তাপমাত্রা প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০°C রাখুন; কয়লা লাল জ্বলবে, তবে উঁচু হলুদ শিখা থাকবে না। প্রথম পাশের মেরিনেড জমে গেলে ঘন ঘন ঘোরান। এতে একাধিক পাশে বাদামি রং হবে এবং কোনো এক পাশ দীর্ঘ সময় তাপে থেকে পুড়বে না।

প্রতিবারের গ্রিল ব্যাচ থেকে সবচেয়ে মোটা একটি টুকরার তাপমাত্রা পরিষ্কার প্রোব থার্মোমিটার দিয়ে মাপুন। মুরগির কেন্দ্রের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C হতে হবে। শুধু রং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ নয়, কারণ মরিচ ও গ্রিলের ধোঁয়ায় আধা রান্না মাংসও তৈরি মনে হতে পারে।

মান ঠিক রেখে ব্যাচ বড় বা ছোট করা

ব্যবহারযোগ্য মুরগির ওজন অনুযায়ী মেরিনেডের প্রতিটি উপকরণ স্কেল করতে হবে, তবে বড় প্রোডাকশনকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ট্রে ও গ্রিল লোডে ভাগ করতে হবে। অর্ধেক ব্যাচের জন্য প্রতিটি মাপা উপকরণের অর্ধেক এবং দ্বিগুণ ব্যাচের জন্য দ্বিগুণ ব্যবহার করুন। আন্দাজে মসলা দেবেন না এবং ব্যাচ বড় বলে পেঁপের অনুপাত বাড়াবেন না।

বড় ব্যাচে বেশি মেরিনেড নয়, বেশি সময় ধরে সমানভাবে মেশানো প্রয়োজন। ১০ kg-এর বেশি প্রোডাকশন হলে মুরগি এমন ট্রেতে ভাগ করুন, যাতে প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৫ kg থাকে। এতে ব্যাচ সমানভাবে ঠান্ডা থাকে, মেশানো সহজ হয় এবং নিচের স্তর বের হওয়া পানিতে ডুবে থাকে না।

গ্রিলের ধারণক্ষমতাই প্রকৃত আউটপুট ঠিক করে। কাঁচা ব্যাচ দ্বিগুণ করলেই রান্নার সময় অর্ধেক হয় না, আর গ্রিলে বেশি শিক ঠাসলে প্রতিটি শিকের চারপাশের তাপ কমে যায়। একই মাপের গ্রিল রান ধরে প্রোডাকশন পরিকল্পনা করুন এবং প্রতি রানে কত kg কাঁচা মাংস উঠেছে ও কত kg রান্না করা কাবাব পাওয়া গেছে তা লিখে রাখুন। ফুড কার্টের কয়লার জায়গা ছোট হলে বিক্রির চেয়ে বেশি মাংস প্রস্তুত না করে ধাপে ধাপে মেরিনেশন ও শিকে গাঁথার কাজ করুন।

হোল্ডিং, ঠান্ডা করা ও পুনরায় গরম করা

রান্না করা চিকেন বটি সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করাই ভালো, তবে স্বল্প সময়ের হট হোল্ডিং নিয়ন্ত্রণ করলে পুরো ব্যাচের মান নষ্ট হয় না। তৈরি কাবাব ঢাকনাযুক্ত অগভীর প্যানে ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় মানের স্বার্থে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা রাখুন। প্যানে পানি দেবেন না, কারণ ভাপে পোড়া উপরিভাগ নরম হয়ে যায়।

ব্যস্ত সার্ভিসে ছোট ব্যাচে কাবাব পুরোপুরি গ্রিল করুন এবং হোল্ডিং ইউনিটে পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ মিনিটের সম্ভাব্য বিক্রির বেশি রাখবেন না। উপরিভাগ শুকনা দেখালে অতি অল্প তেল ব্রাশ করে সংক্ষিপ্ত ফিনিশিং গ্রিল দিন। আগে হোল্ড করা কাবাবের নিচে নতুন ব্যাচ কখনো মেশাবেন না।

রান্না করা কাবাব রেখে দিতে হলে ২ ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরের ৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C-তে নামান। গরম শিক গভীর পাত্রে না রেখে অগভীর ট্রেতে ছড়িয়ে দিন। ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন এবং রেস্টুরেন্ট মান বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন।

মাত্র একবার পুনরায় গরম করুন এবং কেন্দ্রের তাপমাত্রা ৭৪°C পর্যন্ত তুলুন। স্টিম টেবিলের তুলনায় ২৫০°C গ্রিল বা সালামান্ডার উপরিভাগ ভালোভাবে ফিরিয়ে আনে। লোড অনুযায়ী ঠান্ডা কিউবের জন্য সাধারণত ২ থেকে ৪ মিনিট যথেষ্ট। অনিয়ন্ত্রিত সময় ঘরের তাপমাত্রায় থাকা কাবাব ফেলে দিন।

পরিমাণ ও ইল্ড নিয়ন্ত্রণ

চিকেন বটির পরিমাণ রান্না করা ওজন দিয়ে ঠিক করতে হবে, কারণ ট্রিমিং ও পানি কমার সঙ্গে টুকরার সংখ্যা বদলায়। মুরগির মান ও গ্রিল লস অনুযায়ী ট্রিমিং ও রান্নার পর এই ব্যাচ থেকে সাধারণত প্রায় ৩.৭ থেকে ৪ kg কাবাব পাওয়া উচিত। প্রতি পরিমাণে ৯৫ g রান্না করা কাবাব ধরলে স্বাভাবিক প্রোডাকশন পার্থক্যসহ প্রায় ৪০টি পরিমাণ হবে।

একটি র‍্যাপে ৭৫ থেকে ৮০ g, পরোটা রোলে ৮৫ থেকে ৯০ g এবং পূর্ণ প্ল্যাটারে ১১৫ থেকে ১২০ g দেওয়া যেতে পারে। প্রতিটিকে আলাদা মেনু স্পেসিফিকেশন হিসেবে লিখে রাখুন। কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে পরিমাণ দিতে না শেখা পর্যন্ত অ্যাসেম্বলির সময় ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করুন, এরপর সার্ভিস চলাকালে হঠাৎ ওজন পরীক্ষা করুন। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে চাটনি, পেঁয়াজ, রুটি ও গার্নিশের মাপও নির্ধারিত থাকতে হবে।

কয়েকটি ব্যাচের কেনা ওজন, ট্রিম করার পরের ওজন, মেরিনেট করা ওজন এবং রান্নার পরের চূড়ান্ত ওজন লিখে রাখুন। এতে দুর্বল ট্রিমিং, পানিভরা মুরগি, অতিরিক্ত গ্রিল বা বড় পরিমাণ দেওয়ার কারণে ক্ষতি হচ্ছে কি না বোঝা যায়। Rosuii productions-এ কাঁচামাল থেকে তৈরি কাবাব ব্যাচের রূপান্তর রেকর্ড করা যায়, আর wastage ও sales report দিয়ে প্রোডাকশনের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রি তুলনা করা যায়।

যেসব ভুলে খাবার ও টাকা নষ্ট হয়

অসমান কিউব, অনিয়ন্ত্রিত পেঁপে, কম তাপের গ্রিল এবং না মেপে পরিবেশন করাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। ছোট কিউব পুড়ে গিয়ে পানি হারায়, আর বড় কিউব অর্ডার তৈরির সময় বাড়ায় এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে। কাটার দায়িত্ব একজন প্রশিক্ষিত প্রেপ কর্মীকে দিন অথবা নমুনা কিউব দিয়ে মাপের মান দেখিয়ে রাখুন।

  • পানিযুক্ত মেরিনেড: পানি না ঝরানো মুরগি বা পাতলা দই থেকে তরল পড়ে, আগুনের শিখা বাড়ে এবং মেরিনেড ঠিকভাবে আটকে থাকে না।
  • অতিরিক্ত টেন্ডারাইজার: বেশি পেঁপে কাবাব নরম ও থকথকে করে, ফলে ঘোরানোর সময় ভেঙে যায় এবং পরিষ্কারভাবে বিক্রি করা যায় না।
  • ঠান্ডা বা অতিরিক্ত ভর্তি গ্রিল: মুরগি পানি ছেড়ে ভাপে সেদ্ধ হয়, চার না হয়েই রান্নার ওজন কমে যায়।
  • বারবার গরম করা: প্রতিবার গরম করলে আর্দ্রতা কমে এবং বিক্রির অযোগ্য অবশিষ্ট খাবার বাড়ে।
  • আন্দাজে পরিমাণ দেওয়া: প্রতিটি রোলে একটি করে বাড়তি কিউব দিলে একটি ব্যাচ থেকে প্রত্যাশিত কয়েকটি পরিমাণ কমে যেতে পারে।

মুরগিই এই পদের প্রধান খরচ, তাই সরবরাহকারীর ইল্ড ও ট্রিমিংয়ের মান নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ইনভয়েসের ওজনের বদলে ব্যবহারযোগ্য ওজন ধরে রেসিপি কস্টিং করুন, এরপর প্রতিটি র‍্যাপ, রোল ও প্ল্যাটারের food cost percentage আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।

সার্ভিসে নমনীয়তা ও খরচ স্থিতিশীল রাখা

একটি নিয়ন্ত্রিত কাবাব প্রোডাকশন ব্যাচ থেকে নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের একাধিক মেনু আইটেম চালালেই খরচ স্থিতিশীল থাকে। প্রতিটি ফরম্যাটে রান্না করা মুরগির ওজন স্থির রাখুন এবং মাংস চুপিসারে না বাড়িয়ে রুটি, সালাদ, সস বা সাইডের সমন্বয়ে মূল্য তৈরি করুন। অতিরিক্ত কাবাবের মতো মেনু অ্যাড-অনেও রান্না করা নির্ধারিত ওজন থাকতে হবে।

প্রতিদিন সকালে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পরিমাণ মেরিনেট না করে দিন ও সার্ভিস সময় অনুযায়ী চাহিদার পূর্বাভাস করুন। চাহিদা অনিশ্চিত হলে ট্রিম করা কাঁচা মুরগি ও পেঁপেবিহীন বেস মেরিনেড আলাদা রাখুন, তারপর নিয়ন্ত্রিত মেরিনেশন সময় ধরে সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণটুকু মেশান। এতে মাংসের গঠন নষ্ট হয় না, দিনের শেষে ফেলে দেওয়ার পরিমাণ কমে এবং কমার্শিয়াল কিচেনে চিকেন বটির দ্রুত সার্ভিস বজায় থাকে।

খরচ কোথায় বাড়ে

হাড়ছাড়া মুরগিই এই পদের প্রধান খরচ। সরবরাহকারীর ট্রিমিং, প্যাকেটের পানি, চর্বি ও তরুণাস্থির পরিমাণ অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য ইল্ড বদলায়। টক দই, সরিষার তেল ও মসলা দ্বিতীয় পর্যায়ের খরচ, আর অতিরিক্ত গ্রিল, বড় পরিমাণ এবং অবিক্রীত মেরিনেট করা মুরগি সবচেয়ে বড় এড়ানো সম্ভব ক্ষতি তৈরি করে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

৮০টি পরিমাণের সার্ভিসের জন্য এই বটি কাবাব রেসিপি কি দ্বিগুণ করা যাবে?

হ্যাঁ। মুরগি, লবণ ও পেঁপেসহ প্রতিটি উপকরণ ওজন অনুযায়ী দ্বিগুণ করুন, তবে প্রোডাকশন এমন আলাদা ট্রেতে মেশান যাতে প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৫ kg থাকে। আগের সমান মাপের গ্রিল লোডে রান্না করুন, কারণ বেশি শিক ঠাসলে তাপ কমে এবং আর্দ্রতা বেশি নষ্ট হয়।

কাঁচা মেরিনেট করা চিকেন বটি কতক্ষণ রাখা যাবে?

মেরিনেডে কাঁচা পেঁপে থাকলে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ঢেকে রাখুন এবং প্রায় ৪ ঘণ্টা পর রান্না করুন। একই গঠন বজায় রাখতে সম্পূর্ণ মেরিনেড সারারাত রাখবেন না। চাহিদা অনিশ্চিত হলে ট্রিম করা মুরগি ও পেঁপেবিহীন মেরিনেড আলাদা রাখুন এবং পরে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মেশান।

মুরগির রানের বদলে বুকের মাংস ব্যবহার করা যাবে?

মুরগির বুকের মাংস ব্যবহার করা যায়, তবে কিউব প্রায় ৩০ mm রাখুন এবং সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, কারণ বুকের মাংস দ্রুত শুকিয়ে যায়। কেন্দ্র ৭৪°C হওয়া পর্যন্তই রান্না করুন। গ্রিল কর্মীরা বেশি রান্না করলে রান্না করা ইল্ড কিছুটা কম হবে।

৫ kg মুরগি থেকে একটি রেস্টুরেন্ট কতটা রান্না করা কাবাব আশা করতে পারে?

ট্রিমিং ও গ্রিলের পর প্রায় ৩.৭ থেকে ৪ kg তৈরি কাবাব একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। সরবরাহকারীর মুরগিতে থাকা পানি, ট্রিমিং, কিউবের সাইজ ও চূড়ান্ত তাপমাত্রা ফল বদলায়। মেনুর ইল্ড স্থির করার আগে কয়েকটি ব্যাচের প্রকৃত কাঁচা ও রান্না করা ওজন লিখে রাখুন।

বেঁচে যাওয়া রান্না করা বটি কাবাব কীভাবে পুনরায় গরম করতে হবে?

অগভীর ট্রেতে দ্রুত ঠান্ডা করে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন এবং ভালো মানের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। প্রায় ২৫০°C গ্রিল বা সালামান্ডারে একবার ২ থেকে ৪ মিনিট গরম করুন এবং পরিবেশনের আগে কেন্দ্রের তাপমাত্রা ৭৪°C হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।
শেয়ার

কমার্শিয়াল বাংলাদেশি বিফ রোল রেসিপি

৪০টি সমান মানের বিফ রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নরম ও শুকনা বিফ ফিলিং, মচমচে সবজি, নিয়ন্ত্রিত সস এবং সার্ভিসের ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে।

পরিমাণ:
৪০টি বিফ রোল
মোট:
১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি

৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাংস নরম করা, ধীরে তাওয়ায় রান্না, সার্ভিস হোল্ডিং এবং প্রতিটি প্লেটের সমান পরিমাণ নিশ্চিত করার পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ২০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিকেন ঝাল ফ্রাই রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল চিকেন ঝাল ফ্রাই, যেখানে আগে থেকে সম্পূর্ণ রান্না করা চিকেন বেস অর্ডার এলে অল্প সময়ে বেশি আঁচে ঝাল ও শুকনা করে ফিনিশ করা হয়।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন