খাবার হোটেল ব্যবসা: ছোট মেনু, দৈনিক হিসাব ও শুরুর পরিকল্পনা
ভাতের হোটেলের ছোট মেনু, portion, বাজারের খরচ ও দৈনিক হিসাব সাজান। নমুনা বাজেট, জায়গা বাছাই ও চালুর পরিকল্পনা দেখুন।

খাবার হোটেলে পরিচিত ভাত-ডাল-তরকারি নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত মানে পরিবেশন করাই মূল কাজ। অল্প মেনু, মাপা portion এবং প্রতিদিনের বাজার ও বিক্রির হিসাব দিয়ে শুরু করুন। বিক্রি আর হাতে পাওয়া টাকা আলাদা করে লিখুন। নিচের উদাহরণ পরিকল্পনার পদ্ধতি বোঝায়; আসল বাজেট হবে আপনার ভাড়া, মজুরি, চাহিদা ও supplier quote অনুযায়ী।
বাজেটের সংখ্যাগুলো কীভাবে ব্যবহার করবেন
নিচের বাজেটের পরিসর পরিকল্পনা বোঝানোর উদাহরণ; সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর supplier quote, জাতীয় বাজারদরের জরিপ বা লাভের নিশ্চয়তা নয়। জায়গা, ভাড়া, সরঞ্জামের অবস্থা ও মেনু বদলালে হিসাব বদলাবে। টাকা দেওয়ার আগে প্রতিটি ঘরে তারিখসহ লিখিত quote বসান। Reserve-এর মেয়াদ পরিকল্পনার অনুমান, আইনি ন্যূনতম নয়। Software-এ বিল করা দিয়ে কর বা লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয় না।
সাজসজ্জার আগে কাজের ধরন বাছুন
| ধরন | চাহিদা যাচাই | কাজের প্রধান প্রশ্ন |
|---|---|---|
| ভাতের হোটেল | কাছের অফিস, শ্রমজীবী ও বাসিন্দা | একই portion ও সময়ে খাবার দিতে পারবেন? |
| চা-নাশতা | খোলার সময়ে বাস্তব ক্রেতার চলাচল | ব্যস্ত সময়ে fresh batch রাখা যাবে? |
| Delivery kitchen | Delivery এলাকা ও channel-এর শর্ত | প্যাকিং ও পাঠানোর খরচে হিসাব মেলে? |
| পারিবারিক রেস্টুরেন্ট | সন্ধ্যা/ছুটির দিনের চাহিদা ও যাতায়াত | বিভিন্ন খাবারের table order সামলাতে পারবেন? |
ছোট খাবার হোটেল কি আপনার জন্য উপযুক্ত ব্যবসা?
একটি খাবার হোটেলের ক্রেতা সাধারণত ক্যাফে বা দামি রেস্টুরেন্টের ক্রেতাদের থেকে আলাদা। আপনার নিয়মিত অতিথিদের মধ্যে অফিসকর্মী, দোকানের কর্মচারী, চালক, শিক্ষার্থী, বাজারের ব্যবসায়ী এবং আশপাশের বাসিন্দারা থাকতে পারেন। তাঁরা সাধারণত চারটি বিষয় চান: টাটকা খাবার, পরিচিত স্বাদ, দ্রুত সেবা এবং আগে থেকে আন্দাজ করা যায় এমন বিল।
এই ব্যবসায় প্রতিদিন নগদ বিক্রি হতে পারে, তবে মালিককে সরাসরি কাজে যুক্ত থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মালিক সকালে বাজার করেন, খাবার পরিবেশনের সময় পরিমাণ দেখেন, সরবরাহকারীদের সামলান এবং রাতে ক্যাশ কাউন্টার বন্ধ করেন। আপনি নিজে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে না পারলে বিশ্বস্ত ম্যানেজার ও আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ দরকার হবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশের অন্যান্য রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আইডিয়ার সঙ্গে এই মডেলটি তুলনা করুন। যেখানে দুপুরের খাবারের চাহিদা বেশি এবং মানুষ নিয়মিত বাইরে খায়, সেখানে ভাতের হোটেল বেশি উপযোগী।
খাবার হোটেল ব্যবসার জন্য জায়গা নির্বাচন
গলির ভেতরে লুকানো বড় দোকানের চেয়ে সঠিক জায়গায় ছোট কিন্তু সহজে চোখে পড়ে এমন দোকান সাধারণত ভালো। অফিস, পাইকারি ও খুচরা বাজার, কারখানা, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, পরিবহন কাউন্টার, কলেজ অথবা কর্মজীবী ভাড়াটিয়াদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে জায়গা খুঁজুন।
খাবারের ব্যস্ত সময়ে জায়গাটি যাচাই করুন
শুধু সন্ধ্যায় গিয়ে দোকান দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কয়েকটি কর্মদিবসে দুপুর ১২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে জায়গাটি দেখুন। কত মানুষ যাতায়াত করে তা গুনুন, আশপাশের প্রতিযোগী হোটেলগুলো দেখুন এবং ক্রেতারা কী কিনছেন তা খেয়াল করুন। রাস্তা ব্যস্ত হলেই জায়গাটি উপযোগী হবে না। মানুষ নিরাপদে থামতে, গাড়ি রাখতে বা রাস্তা পার হতে না পারলে সেই ভিড় বিক্রিতে কাজে নাও লাগতে পারে।
- সহজে চোখে পড়া: ক্রেতারা যেন সাইনবোর্ড ও খাবারের প্রদর্শনী সহজে দেখতে পারেন।
- পানি ও ড্রেনেজ: নির্ভরযোগ্য পানির ব্যবস্থা, ধোয়া যায় এমন প্রস্তুতির জায়গা এবং ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা জরুরি।
- বায়ু চলাচল: রান্নার তাপ ও ধোঁয়া নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না এবং এতে প্রতিবেশীদের সমস্যা হবে কি না যাচাই করুন।
- সরবরাহ পৌঁছানোর সুবিধা: চাল, সবজি, মাছ, মাংস ও গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর জন্য সরবরাহকারীদের ব্যবহারযোগ্য জায়গা থাকতে হবে।
- ভাড়ার চাপ: সম্ভাব্য বিক্রির লাভের বড় অংশ যদি ভাড়ায় চলে যায়, তাহলে দামি মোড়ের দোকান নেওয়া লাভজনক হবে না।
ভবনটিতে রেস্টুরেন্টের রান্না করার অনুমতি আছে কি না বাড়িওয়ালার কাছে জেনে নিন। অগ্রিম বা ফেরত পাওয়া যাবে না এমন সালামি দেওয়ার আগে বিদ্যুতের লোড, গ্যাসের ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্য কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না যাচাই করুন।
ছোট একটি দৈনিক মেনু তৈরি করুন
নতুন হোটেলে ৩০টি পদ রাখার প্রয়োজন নেই। পদ বেশি হলে উপকরণ, প্রস্তুতির কাজ এবং অবিক্রীত মজুতও বেড়ে যায়। নির্ভরযোগ্য একটি মিল কাঠামো দিয়ে শুরু করুন এবং দামি আমিষের পদগুলো ঘুরিয়ে পরিবেশন করুন।
- সাদা ভাত, ডাল ও একটি মৌসুমি সবজি
- একটি ভর্তা বা সাধারণ পার্শ্বপদ
- স্থানীয় দাম ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী ছোট মাছের একটি পদ
- নির্দিষ্ট দিনে বা নিয়ন্ত্রিত ব্যাচে মুরগির তরকারি
- স্থানীয় চাহিদা বেশি হলে গরু বা খাসির মাংস
- সাশ্রয়ী আমিষ হিসেবে ডিমের তরকারি
- সুবিধা থাকলে বোতলজাত পানি, কোমল পানীয় বা চা
ভাত, ডাল, তরকারি এবং প্রতিটি মাছ বা মাংসের টুকরার পরিবেশন পরিমাণ লিখে রাখুন। প্রতিবার একই মাপের হাতা, বাটি বা পরিবেশন চামচ ব্যবহার করুন। নির্ধারিত পরিমাণ বজায় রাখলে খাবারের খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এক প্লেটে কম, অন্য প্লেটে বেশি দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও কমে।
উপকরণের খরচ, রান্নার জ্বালানি, অপচয় এবং শ্রমের ব্যয় হিসাব করে প্রতিটি পদের দাম নির্ধারণ করুন। পাশের হোটেলের ভাড়া, পরিবেশনের পরিমাণ বা সরবরাহকারীর দাম আপনার থেকে আলাদা হতে পারে। তাই না বুঝে তাদের দাম নকল করবেন না। বাজেট চূড়ান্ত করার আগে বাংলাদেশের জন্য তৈরি রেস্টুরেন্ট খোলার খরচের গাইড দেখে নিন।
১০ থেকে ২০ আসনের হোটেলের বাস্তবসম্মত প্রাথমিক খরচ
ঢাকা, চট্টগ্রাম, জেলা শহর ও উপজেলা বাজারে খরচের পার্থক্য অনেক। নিচের অঙ্কগুলো পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক হিসাব, নির্দিষ্ট দর নয়।
- দোকানের অগ্রিম ও জামানত: ৳৩০,০০০ থেকে ৳১,২০,০০০, অস্বাভাবিক বেশি সালামি ছাড়া
- প্রথম মাসের ভাড়া: ৳১২,০০০ থেকে ৳৩৫,০০০
- রং, সাইনবোর্ড ও প্রাথমিক সাজসজ্জা: ৳৩০,০০০ থেকে ৳১,০০,০০০
- চুলা, নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা ও রান্নার সরঞ্জাম: ৳২০,০০০ থেকে ৳৬০,০০০
- হাঁড়ি-পাতিল, ছুরি ও প্রস্তুতির সরঞ্জাম: ৳২৫,০০০ থেকে ৳৬০,০০০
- টেবিল, বেঞ্চ ও চেয়ার: ৳২৫,০০০ থেকে ৳৬০,০০০
- সিঙ্ক, পানি সংরক্ষণ, ড্রেনেজ ও বায়ু চলাচলের কাজ: ৳১৫,০০০ থেকে ৳৫০,০০০
- প্লেট, গ্লাস, পরিবেশনের বাটি ও প্যাকেজিং: ৳১০,০০০ থেকে ৳২৫,০০০
- কাগজপত্র ও স্থানীয় অনুমোদন: কর্তৃপক্ষ ও ভবনের ধরন অনুযায়ী ৳৫,০০০ থেকে ৳২০,০০০
- শুরুর উপকরণ ও চলতি মূলধন: ৳৫৫,০০০ থেকে ৳১,৩৫,০০০
শুরুতে মোটামুটি ৳২.২ লাখ থেকে ৳৬.৫ লাখ একটি যুক্তিসংগত হিসাব। দামি জায়গা, বড় এক্সহস্টের কাজ, সংস্কার বা বেশি অগ্রিম লাগলে মোট খরচ আরও বাড়তে পারে। অন্তত এক মাসের বেতন, ভাড়া, ইউটিলিটি বিল ও বাজারের টাকা আলাদা রাখুন। খোলার আগেই সব টাকা খরচ করে ফেললে প্রথম মাসে বিক্রি কম হলে সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
দুই বা তিনজন কর্মী নিয়োগ
ছোট একটি হোটেল একজন বাবুর্চি, একজন রান্নাঘরের সহকারী এবং একজন কাউন্টার বা পরিবেশন কর্মী দিয়ে শুরু করা যায়। মালিক বাজার, নগদ টাকা ও ক্রেতাসেবা সামলাতে পারেন। খুব ছোট ব্যবস্থায় ব্যস্ত সময়ের বাইরে সহকারী বাসন ধোয়া ও পরিবেশনের কাজ করতে পারেন, তবে কাজের চাপ ও পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
- বাবুর্চি: খাবারের স্বাদ, রান্নার ক্রম, ব্যাচের পরিমাণ এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ন্ত্রণ করেন।
- সহকারী: উপকরণ পরিষ্কার ও কাটাকাটি করেন, বাসন ধুয়ে রাখেন এবং খাবার প্লেটে সাজাতে সহায়তা করেন।
- কাউন্টার বা পরিবেশন কর্মী: অর্ডার লেখেন, টেবিলে খাবার দেন, টাকা গ্রহণ করেন এবং বাকি হিসাব রাখেন।
বেতন, খাবার, দায়িত্বের সময়, সাপ্তাহিক ছুটি ও অগ্রিম বেতনের নিয়ম লিখিতভাবে ঠিক করুন। শুধু মুখের কথার চেয়ে এক পাতার স্বাক্ষর করা নথিও ভালো। মালিকের যাচাই ছাড়া একজনের হাতে বাজার করা, পণ্য গ্রহণ এবং নগদ টাকা পরিচালনার পুরো দায়িত্ব দেবেন না।
কার্যকর একটি দৈনিক রুটিন
- ভোর বা সকাল: কিছু কেনার আগে অবশিষ্ট মজুত দেখুন এবং লিখিত বাজারের তালিকা তৈরি করুন।
- পণ্য গ্রহণ: মাছ, মাংস, চাল ও সবজি ওজন করুন বা গুনে নিন। সরবরাহকারীর নাম, পরিমাণ ও পরিশোধ করা টাকা লিখে রাখুন।
- প্রস্তুতি: মূল পদগুলো আগে রান্না করুন এবং দামি খাবার ছোট ছোট ব্যাচে তৈরি করুন।
- দুপুরের আগে: মেনুর দাম, শুরুর ক্যাশ, প্যাকেজিংয়ের মজুত এবং টেবিলের পরিচ্ছন্নতা যাচাই করুন।
- দুপুরের ব্যস্ত সময়: অর্ডার নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি বিক্রি লিখুন। টেকঅ্যাওয়ে ও বাকির বিক্রিও বাদ দেবেন না।
- বিকেল: অবশিষ্ট খাবারের পরিমাণ গুনুন এবং ছোট আরেকটি ব্যাচ রান্না করা যুক্তিসংগত হবে কি না ঠিক করুন।
- দিন শেষে: লেখা বিক্রির সঙ্গে নগদ ও ডিজিটাল পেমেন্ট মিলিয়ে দেখুন, অপচয় লিখুন এবং শেষ মজুতের তালিকা করুন।
দিনের শুরুতেই বেশি রান্না করলে অপচয় হয়। খুব কম রান্না করলে বিক্রি হারাতে হয়। দুই বা তিন সপ্তাহ রেকর্ড রাখার পর সপ্তাহের দিন, আবহাওয়া, হাটবার এবং বেতনের সময় অনুযায়ী চাহিদার ধরন বুঝতে পারবেন।
লাভ বোঝার জন্য প্রতিদিন হিসাব রাখুন
ক্যাশ বাক্সে থাকা সব টাকা লাভ নয়। এর একটি অংশ দিয়ে পরের দিনের বাজার, বেতন, ভাড়া, জ্বালানি, ইউটিলিটি বিল এবং সরবরাহকারীর পাওনা দিতে হবে। খাতা, স্প্রেডশিট বা POS যেটিই ব্যবহার করুন, প্রতিদিন একই খাতে হিসাব লিখুন।
ধরা যাক, দৈনিক বিক্রি ৳২০,০০০। ব্যবহৃত উপকরণের খরচ ৳৯,০০০, দৈনিক হিসাবে কর্মীদের বেতন ৳২,০০০, ভাড়ার দৈনিক অংশ ৳৮০০, জ্বালানি ও ইউটিলিটি ৳৮০০, অপচয় ৳৬০০ এবং অন্যান্য খরচ ৳৫০০। সে ক্ষেত্রে আনুমানিক পরিচালন উদ্বৃত্ত হবে ৳৬,৩০০। এটিই চূড়ান্ত নিট লাভ নয়। মালিকের বেতন, সরঞ্জাম বদলানো, কর এবং অন্য মাসিক খরচও এখান থেকে বাদ দিতে হতে পারে।
খাবারের খরচ ভালোভাবে বের করতে শুরুর মজুতের সঙ্গে কেনাকাটা যোগ করে শেষের মজুত বাদ দিন। রাতে চাল, তেল বা মসলা থেকে গেলে সকালের পুরো কেনাকাটাকে ব্যবহৃত খরচ হিসেবে ধরবেন না। নিয়মিত দিন-শেষের হিসাব পদ্ধতি জানতে আমাদের রেস্টুরেন্টের দৈনিক হিসাব গাইড পড়ুন।
প্রতি রাতে যেসব সংখ্যা লিখবেন
- মোট ডাইন-ইন ও টেকঅ্যাওয়ে বিক্রি
- নগদ, bKash, Nagad ও অন্যান্য পেমেন্টের মোট পরিমাণ
- আজ পরিশোধ করা কেনাকাটা এবং তৈরি হওয়া সরবরাহকারীর পাওনা
- বাকি দেওয়া টাকা, ক্রেতার নাম, ফোন নম্বর ও আদায়ের তারিখ
- বিনামূল্যের খাবার, কর্মীদের খাবার, মালিকের তোলা টাকা ও ডিসকাউন্ট
- ফেলে দেওয়া, নষ্ট হওয়া বা ফেরত আসা খাবার
- দিনশেষের নগদ টাকা ও উল্লেখযোগ্য অবশিষ্ট মজুত
ছোট খাবার হোটেলে কেন লোকসান হয়
হিসাবের বাইরে থাকা বাকি একটি বড় সমস্যা। নিয়মিত ক্রেতারা পরে টাকা দেওয়ার কথা বলতে পারেন, কিন্তু ছোট ছোট বাকি মিলেই বড় ঘাটতি তৈরি হয়। বাকির সীমা নির্ধারণ করুন, ক্রেতার ফোন নম্বর লিখুন এবং পুরোনো বিল পরিশোধ না হলে নতুন করে বাকি দেওয়া বন্ধ করুন।
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করা নীরবে লোকসান বাড়ায়। মাছের একটি অতিরিক্ত টুকরা, বড় বাটিতে তরকারি বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া টেকঅ্যাওয়ে ভাত দিলে বিক্রয়মূল্য না বাড়লেও খাবারের খরচ বেড়ে যায়।
চাহিদার চেয়ে বেশি রান্না অবিক্রীত তরকারিকে অপচয়ে পরিণত করে। কত অংশ রান্না, বিক্রি ও ফেলে দেওয়া হয়েছে তা লিখুন। চাহিদা নিজে থেকে বাড়বে এমন আশা না করে পরের ব্যাচের পরিমাণ কমান।
ব্যবসা ও পরিবারের টাকা একসঙ্গে রাখা হলে প্রকৃত ফল বোঝা যায় না। মালিক যত টাকা তুলছেন, প্রতিবার তা লিখুন। হোটেলের জন্য আলাদা ক্যাশ বাক্স বা অ্যাকাউন্ট রাখুন।
পরিমাণ পরীক্ষা না করে পণ্য কেনা হলেও অপচয় বা চুরি ধরা পড়ে না। গুরুত্বপূর্ণ পণ্য গ্রহণের সময় ওজন করুন এবং সরবরাহকারীদের দাম নিয়মিত তুলনা করুন। কাটাছাঁটে বেশি নষ্ট হলে বা নিম্নমানের কারণে অভিযোগ এলে সস্তা উপকরণও লাভজনক থাকে না।
দোকানের কাজ জটিল না করে ডিজিটাল টুল ব্যবহার করুন
প্রতিটি অর্ডার রেকর্ড করলে দৈনিক মোট বিক্রির হিসাব পরিষ্কার হয় এবং অপরিশোধিত বিল নিয়ে বিরোধ কমতে পারে। কাউন্টারে মনে রাখার বদলে সিস্টেম দাম হিসাব করে। Free প্ল্যানে অনলাইন অর্ডারিং স্টোরফ্রন্ট নেই, তবে নতুন পাড়ার ভাতের হোটেলে শুরুতেই এটি সাধারণত প্রয়োজন হয় না।
সহজ একটি উদ্বোধন পরিকল্পনা
- দুপুরের খাবারের সময়ে সম্ভাব্য তিনটি জায়গা যাচাই করুন।
- প্রাথমিক বাজেট তৈরি করুন এবং চলতি মূলধনের টাকা খরচ না করে আলাদা রাখুন।
- বাড়িওয়ালার অনুমতি, ট্রেড লাইসেন্সের শর্ত এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করুন।
- নির্ধারিত পরিমাণ ও লিখিত দামসহ ছোট একটি মেনু পরীক্ষা করুন।
- ছোট একটি দল নিয়োগ করে প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারণ করুন।
- বড়ভাবে প্রচার করার আগে কয়েক দিন সীমিত পরিসরে সফট ওপেনিং চালান।
- প্রতি রাতে হিসাব বন্ধ করুন এবং প্রকৃত বিক্রির তথ্য অনুযায়ী রান্নার পরিমাণ ঠিক করুন।
সবচেয়ে সফল ছোট হোটেল সব সময় সবচেয়ে জমকালো হয় না। তারা নিয়মিত মানের খাবার পরিবেশন করে, বুঝে-শুনে বাজার করে এবং আজকের বাজার শুরুর আগে গতকালের প্রকৃত হিসাব জানে।
নিজের ঠিকানার জন্য প্রয়োজনীয়তা যাচাই করুন
ভাড়া চূড়ান্ত বা দোকান চালুর আগে ঠিকানা, ব্যবসার ধরন, প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা যোগ্য পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। City corporation-এর official service ও NBR-এর নথি থেকে প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করুন। এই startup guide যোগ্যতা, বর্তমান fee বা পূর্ণ আইনি checklist নির্ধারণ করে না। তারিখসহ লিখিত নির্দেশনা ও রসিদ opening file-এ রাখুন।
সফটওয়্যারে প্রথমে যে কাজটি দেখবেন
দৈনিক মেনু বসিয়ে একটি cash order করুন। ছাপা বিলের সঙ্গে item-sales report মিলিয়ে দেখুন। প্যাকিং ও delivery-এর কাজ প্রস্তুত হলে online order যোগ করুন। রসুইয়ের মূল POS Free-তে সীমাসহ আছে; online order ও stock control Starter থেকে।
সম্পাদকীয় ও product-source যাচাই: 2026-09-27
পরের ধাপ
- রেস্টুরেন্টের ধরন বাছাই
- শুরুর বাজেট
- প্রযোজ্য লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ যাচাই
- মেনু সাজানো
- কাউন্টারের বিলিং
- অনলাইন অর্ডারের পরিকল্পনা
উৎস ও সীমাবদ্ধতা
ফ্রি POS অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের অর্ডার দিয়ে পরীক্ষা করুন. KDS, অনলাইন অর্ডার ও ইনভেন্টরি Starter থেকে; প্ল্যানের সীমা প্রযোজ্য।
সর্বশেষ হালনাগাদ:
সাধারণ প্রশ্ন
এই বাজেট কি নিশ্চিত খরচ?
এখানেই কি সব আইনি নিয়ম নির্ধারিত?
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

