রেস্টুরেন্ট রেসিপি
কমার্শিয়াল বাংলাদেশি চিকেন রোস্ট
আগে ভেজে নেওয়া মুরগি, নিয়ন্ত্রিত মিষ্টি-নোনতা গ্রেভি, ক্যাটারিং ইয়েল্ড নির্দেশনা ও সার্ভিস হোল্ডিংসহ ৪০ পোরশনের বিয়েবাড়ি স্টাইল চিকেন রোস্ট।

- প্রস্তুতি
- ৪৫ মিনিট
- রান্না
- ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
- মোট
- ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- পরিমাণ
- প্রায় ৪০ প্লেট
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
মুরগির পোরশন একই মাপে কাটুন
প্রতিটি মুরগি নির্ধারিত ওজনের মধ্যে আছে কি না যাচাই করুন, তারপর দুইটি বুকের কোয়ার্টার ও দুইটি রান কোয়ার্টারে ভাগ করুন। হাড় পর্যন্ত না কেটে সবচেয়ে মোটা মাংসে অগভীর চিরা দিন। পোরশন করার সময় মুরগি ৫°C বা তার নিচে রাখুন এবং ভাঙা বা বেশি থেঁতলানো পিস ক্যাটারিংয়ের গণনা থেকে বাদ দিন।
- 2
মেরিনেড তৈরি করে মাখান
১০০ গ্রাম লবণ, হলুদের গুঁড়া, অর্ধেক টক দই, আদা বাটা ও রসুন বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে সব মুরগিতে সমানভাবে মাখান। ৫°C বা তার নিচে রেফ্রিজারেশনে ৩০ মিনিট মেরিনেট করুন। মেরিনেড পাতলা আস্তরণে মুরগির গায়ে লেগে থাকবে এবং পাত্রের নিচে দইয়ের পানি জমবে না।
- 3
মুরগি ছোট ব্যাচে ভাজুন
গভীর কড়াইয়ে সয়াবিন তেলের সঙ্গে ২৫০ গ্রাম ঘি দিয়ে ১৭০ থেকে ১৭৫°C পর্যন্ত গরম করুন। প্রতি ব্যাচে ৪ থেকে ৬টি কোয়ার্টার পিস ৪ থেকে ৫ মিনিট ভাজুন এবং একবার উল্টে দিন। বাইরের অংশ হালকা সোনালি হবে, তবে ভেতর পুরো রান্না হবে না। র্যাকে তুলে তেল ঝরান এবং পরের ব্যাচ দেওয়ার আগে তেলকে আবার নির্ধারিত তাপমাত্রায় আসতে দিন।
- 4
মসলার বেস তৈরি করুন
ভাজার পরিষ্কার তেল-ঘি থেকে প্রায় ৫০০ ml ভারী রান্নার পাত্রে নিন এবং বাকি ঘি যোগ করুন। ১৫০ থেকে ১৬০°C তাপমাত্রায় তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ৪৫ থেকে ৬০ সেকেন্ড ভাজুন, যাতে সুগন্ধ বের হয় কিন্তু মসলা গাঢ় না হয়। পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মাঝারি আঁচে ১২ থেকে ১৫ মিনিট কষান। কাঁচা গন্ধ চলে গেলে এবং কিনারায় তেল দেখা দিলে পরের ধাপে যান।
- 5
ক্রিমি গ্রেভি রান্না করুন
তাপমাত্রা ৯০°C-এর নিচে নামিয়ে বাকি টক দই ও কাজুবাদাম বাটা মেশান। একটানা নাড়তে নাড়তে ৫ থেকে ৭ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ মিশ্রণ মসৃণ ও চকচকে হয়। ধীরে ধীরে গরম দুধ দিন, এরপর বাকি লবণ ও চিনি মেশান। জোরে না ফুটিয়ে মৃদু আঁচে ৬ থেকে ৮ মিনিট রান্না করুন।
- 6
ভাজা মুরগি গ্রেভিতে দমে রান্না করুন
ভাজা কোয়ার্টার পিসগুলো গ্রেভিতে সাজান এবং বুক ও রান পিস সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। ঢেকে ৮৫ থেকে ৯০°C তাপমাত্রার মৃদু সিমারে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট রান্না করুন। সাবধানে প্রতিটি পিস একবার উল্টে দিন। সবচেয়ে মোটা পিসের ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C হতে হবে এবং গ্রেভি চামচে আস্তরণ তৈরি করলেও ঢালার উপযোগী থাকবে।
- 7
সুগন্ধ ও গার্নিশ দিয়ে শেষ করুন
কিশমিশ ও কাঁচামরিচ দিয়ে প্রায় ৮৫°C তাপমাত্রায় ৪ থেকে ৫ মিনিট মৃদু আঁচে রান্না করুন, যাতে কিশমিশ সামান্য নরম হয়। বার্নার বন্ধ করে কেওড়া জল ও গরম মসলার গুঁড়া মেশান, তবে মুরগি জোরে নাড়বেন না। ঢেকে ১০ মিনিট বিশ্রাম দিন। তৈরি রোস্টের উপরিভাগ চকচকে হবে এবং দুধ কেটে কোনো দানা দেখা যাবে না।
- 8
ব্যাচ গুনে পোরশন করুন
সার্ভিস বা ক্যাটারিং ট্রেতে নেওয়ার আগে রান্না করা সব ৪০টি কোয়ার্টার পিস গুনুন। ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় হোল্ড করুন এবং প্রতি পোরশনে একটি কোয়ার্টার পিসের সঙ্গে ক্যালিব্রেট করা লাডলে ১৩০ থেকে ১৫০ ml গ্রেভি দিন। নির্দিষ্ট নিয়মে বুক ও রান পিস পালা করে দিন, যাতে প্রতিটি অর্ডারে একই ধরনের মিশ্রণ থাকে।
রান্নাঘরের জন্য নোট
এই বাংলাদেশি চিকেন রোস্ট রেসিপিতে ১০টি মুরগি চার ভাগ করে ধারাবাহিকভাবে ৪০টি পূর্ণ ক্যাটারিং পোরশন তৈরি করা যায়। এটি বিয়েবাড়ির প্রচলিত পদ্ধতি, যেখানে মুরগি আগে হালকা ভেজে পরে ঘন ও অল্প মিষ্টি গ্রেভিতে রান্না শেষ করা হয়। প্রথমে ভাজার কারণে বাইরের অংশ শক্ত হয়, সুন্দর রং আসে এবং ব্যাচ রান্না, পরিবহন ও সার্ভিসের সময় প্রতিটি পিস অক্ষত থাকে।
কমার্শিয়াল কাজে এই পদ্ধতি কার্যকর কেন
বাংলাদেশি চিকেন রোস্ট রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিংয়ের জন্য কার্যকর, কারণ চোখে দেখা একটি কোয়ার্টার পিসই একটি নির্দিষ্ট ও গণনাযোগ্য পোরশন। হাড়সহ মিশ্র কাটের পদে যে অনিশ্চয়তা থাকে, এখানে রান্নার আগেই সম্ভাব্য ইয়েল্ড নিশ্চিত করা যায়। গ্রেভি বড় ব্যাচে তৈরি করা যায় এবং শেষ মুহূর্তে ভাজার প্রয়োজন ছাড়াই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তৈরি পোরশন হট হোল্ডিংয়ে রাখা যায়।
পোলাও, বিরিয়ানি, সালাদ, বোরহানি বা কাবাবসহ নির্ধারিত ক্যাটারিং মেনুতেও পদটি সহজে মানিয়ে যায়। পরিচিত মিষ্টি-নোনতা স্বাদ বেশির ভাগ ক্রেতার পছন্দ হয়, আর কয়েকটি ছোট টুকরার তুলনায় একটি পূর্ণ কোয়ার্টার পিস প্লেটে বেশি মূল্যবান দেখায়। তবে অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ কঠোর হতে হবে: একই ওজনের মুরগি কিনতে হবে, সমান চার ভাগ করতে হবে এবং প্রতি প্লেটে একটি পিস নির্ধারণ করতে হবে।
উপকরণ বাছাই
কমার্শিয়াল চিকেন রোস্টে দামি সাজসজ্জার চেয়ে মুরগির সঠিক ওজন ও তাজা অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চামড়া ছাড়া ড্রেসড ব্রয়লার কিনুন, প্রতিটি চার ভাগ করার আগে আদর্শভাবে ৯০০ থেকে ১,০০০ গ্রাম ওজনের হওয়া উচিত। মুরগির আকারে বড় পার্থক্য থাকলে বুক ও রান পিস অসমান হয়, রান্না একসঙ্গে শেষ হয় না এবং ক্রেতার অভিযোগ বাড়ে। আগে ফ্রোজেন করে গলানো নরম মাংস, অতিরিক্ত পানি ছাড়া বা ভাঙা জয়েন্টের মুরগি এড়িয়ে চলুন।
পাতলা দইয়ের বদলে ঘন ও তাজা টক দই ব্যবহার করুন, কারণ অতিরিক্ত পানি থাকলে মেরিনেড গড়িয়ে পড়ে এবং রং ধরতে দেরি হয়। পেঁয়াজ বাটা পরিষ্কার গন্ধের হতে হবে এবং উৎপাদনের দিনই তৈরি করা ভালো; পুরোনো বাটায় তিতা বা টক স্বাদ আসতে পারে। আদা ও রসুন বাটার ঝাঁজ ভারসাম্যপূর্ণ রাখুন, কারণ বেশি রসুন বিয়েবাড়ি স্টাইলের মৃদু গ্রেভির স্বাদ ঢেকে দেয়।
কাজুবাদাম বাটা গ্রেভিতে ঘনত্ব ও মসৃণ ফিনিশ দেয়, তাই কোনো দানাদার অংশ না রেখে একেবারে মিহি করে বাটতে হবে। পানি মেশানো দুধের তুলনায় ফুল-ফ্যাট তরল দুধে সস পাতলা হওয়ার ঝুঁকি কম। কেওড়া জল ও গরম মসলা তাজা হলেও পরিমিত দিতে হবে। ঢাকনা খোলার সময় পরিষ্কার সুবাস তৈরি করাই এদের কাজ, মুরগি বা দুধের স্বাদ ঢেকে দেওয়া নয়।
রান্নার কৌশল যেভাবে কাজ করে
বিয়েবাড়ি স্টাইলের চিকেন রোস্টে মুরগি আগে ভেজে নেওয়াই প্রধান নিয়ন্ত্রণ ধাপ। তেল এতটা গরম হতে হবে যেন মেরিনেড সঙ্গে সঙ্গে মুরগির গায়ে সেট হয়, তবে এত গরম নয় যে দইয়ের অংশ পুড়ে যায়। শুধু হালকা সোনালি রং ও বাইরের কাঠামো তৈরির জন্য ভাজতে হবে; ভেতর ইচ্ছাকৃতভাবে কাঁচা রাখা হয়, যাতে গ্রেভিতে ধীরে রান্না শেষ হতে পারে।
ভাজার কড়াইয়ে একসঙ্গে বেশি পিস দেবেন না। বেশি পিস দিলে তেলের তাপমাত্রা কমে যায়, মুরগি থেকে পানি বের হয় এবং ভাজার বদলে সেদ্ধ হতে থাকে। এতে মুরগি ফ্যাকাশে হয়, মেরিনেড খুলে যায় এবং গ্রেভির ওপরে অতিরিক্ত তেল ভাসে। প্রতিটি নতুন ব্যাচ দেওয়ার আগে তেলকে নির্ধারিত তাপমাত্রায় ফিরতে দিন এবং ব্যাচের মাঝে পোড়া মেরিনেডের কণা তুলে ফেলুন।
গ্রেভি মাঝারি আঁচে তৈরি করতে হবে। পেঁয়াজ বাটার কাঁচা গন্ধ দূর হওয়া পর্যন্ত কষাতে হবে, তবে বেশি বাদামি করলে সস গাঢ় ও তিতা হবে। আঁচ কমিয়ে দই ও কাজুবাদাম বাটা দিয়ে মিশ্রণ চকচকে হওয়া পর্যন্ত একটানা নাড়তে হবে। এরপর ধীরে ধীরে দুধ মেশাতে হবে, যাতে দুধ কেটে না যায়।
শেষ স্বাদ হবে হালকা মিষ্টি, নোনতা ও সুগন্ধি, মিষ্টান্নের মতো নয়। লবণ ঠিক করার পর মিষ্টি যাচাই করুন, কারণ লবণ কম থাকলে একই পরিমাণ চিনি অতিরিক্ত মিষ্টি লাগে। গ্রেভি চামচের পেছনে আস্তরণ তৈরি করবে, তবে মুরগির চারপাশে সহজে ছড়িয়ে পড়ার মতো তরল থাকবে। হট হোল্ডিংয়ের সময় এটি আরও ঘন হবে।
ব্যাচ স্কেল করা
মুরগির পরিমাণ পোরশন সংখ্যা অনুযায়ী স্কেল করুন, তবে লবণ, চিনি ও শেষের সুগন্ধি উপকরণ সতর্কভাবে বাড়ান বা কমান। ২০ পোরশনের ব্যাচে মুরগি, দুধজাত উপকরণ, পেঁয়াজ বাটা ও কাজুবাদাম বাটা অর্ধেক করুন; লবণ, চিনি, কেওড়া জল ও গরম মসলা প্রথমে মূল পরিমাণের প্রায় ৪৫ শতাংশ দিয়ে পরে স্বাদ ঠিক করুন। ৮০ পোরশনের জন্য দ্বিগুণ করা যায়, তবে মুরগি আগের মতো ছোট ব্যাচে ভাজতে হবে এবং গ্রেভি দুইটি পাত্রে ভাগ করতে হবে।
পরিমাণ দ্বিগুণ হলে রান্নার সময় দ্বিগুণ করবেন না। চওড়া পাত্র, বেশি বার্নার ক্ষমতা ও আলাদা ব্যাচ ব্যবহার করুন, যাতে মুরগির চারপাশে গ্রেভির গভীরতা কাছাকাছি থাকে। অতিরিক্ত গভীর পাত্র ধীরে গরম হয়, নিচের পিস চাপে ভেঙে যায় এবং দুধজাত উপকরণ তলায় পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিটি প্রোডাকশন রানের পর গ্রেভির চূড়ান্ত পরিমাণ ও রান্না হওয়া পোরশন সংখ্যা লিখে রাখুন।
হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা
তৈরি চিকেন রোস্ট ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় রাখুন এবং ভালো টেক্সচারের জন্য চার ঘণ্টার মধ্যে সার্ভ করার পরিকল্পনা করুন। পাত্র ঢেকে রাখুন এবং পিসগুলো অল্প গভীর স্তরে সাজান, যাতে নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শুধু পাশের গ্রেভি আস্তে নাড়ুন; মুরগি বারবার উল্টালে জয়েন্ট থেকে মাংস আলাদা হয়ে যেতে পারে।
প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর সস পরীক্ষা করুন। বাষ্প হয়ে বেশি ঘন হলে অল্প গরম দুধ বা গরম পানি দিয়ে পাতলা করুন, তারপর গ্রেভির তাপমাত্রা আবার ৬০°C-এর ওপরে নিন। সার্ভিসের সময় ঠান্ডা তরল দেবেন না, কারণ এতে হোল্ডিং তাপমাত্রা কমে এবং দুধ কেটে যেতে পারে।
আগে রান্না করে রাখলে পূর্ণ স্টকপট ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে না রেখে অল্প গভীর ফুড-গ্রেড ট্রেতে রোস্ট ঠান্ডা করুন। দুই ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরের চার ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C-এ নামাতে হবে। ঢেকে মৃদু আঁচে একবারই পুনরায় গরম করুন এবং সবচেয়ে মোটা অংশের ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C করুন, যাতে মুরগি শুকিয়ে না যায়।
পোরশন ও ইয়েল্ড কন্ট্রোল
একটি মুরগির কোয়ার্টার পিস এবং নির্ধারিত এক লাডল গ্রেভিই একটি বিক্রয়যোগ্য পোরশন হওয়া উচিত। বড় ক্যাটারিং অর্ডার প্যাক করার সময় বুক ও রান পিস আলাদা চিহ্নিত করুন, যাতে প্রতিটি টেবিল বা বক্সে ন্যায্য মিশ্রণ যায়। সঠিক ওজনের ১০টি মুরগি থেকে ৪০ পোরশন হবে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পিস প্লেটিংয়ের সময় নয়, প্রোডাকশন শুরুর আগেই শনাক্ত করতে হবে।
প্রতি প্লেটে আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৫০ ml তৈরি গ্রেভি দেওয়ার উপযোগী একটি নির্দিষ্ট লাডল ব্যবহার করুন। লাডলের গায়ে লেখা ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর না করে পানি দিয়ে এর প্রকৃত ধারণক্ষমতা মাপুন। লিখিত পোরশন কন্ট্রোল পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং সার্ভিসজুড়ে অর্ডারের সঙ্গে অবশিষ্ট মুরগির পিস মিলিয়ে গুনুন। পিস কম পড়ে গেলে পরের সব পোরশনের পরিমাণ কমিয়ে ঘাটতি পূরণ করবেন না।
যেসব ভুলে খরচ বাড়ে
অসমান ওজনের মুরগি, পোড়া ভাজার তেল এবং নিয়ন্ত্রণহীন গ্রেভি পোরশন সবচেয়ে বেশি খরচ বাড়ায়। বড় মুরগিতে খাবারের খরচ ও রান্নার সময় বাড়ে, আর ছোট মুরগিতে প্লেট দুর্বল দেখায়। মিশ্র আকারের মুরগি থাকলে কর্মীরা একজনকে দুইটি ছোট পিস দিয়ে দিতে পারে, ফলে পরিকল্পিত ইয়েল্ড নষ্ট হয়।
- বেশি ভাজা: ভাজার সময় মুরগি পুরো রান্না করলে গ্রেভিতে রান্না ও পুনরায় গরম করার পর শুকিয়ে যায়।
- ঠান্ডা তেলে ভাজা: মুরগি বেশি তেল শোষণ করে, মেরিনেড খুলে যায় এবং গ্রেভির ওপরে তেল ভাসে।
- পোড়া পেঁয়াজ বাটা: গাঢ় হয়ে যাওয়া পেঁয়াজ বাটা অতিরিক্ত দুধ বা চিনি দিয়ে ঠিক করা যায় না এবং পুরো ব্যাচ নষ্ট করতে পারে।
- দুধজাত উপকরণ জোরে ফোটানো: বেশি তাপে গ্রেভি কেটে যায় এবং দানাদার দেখায়।
- না মেপে চিনি দেওয়া: অতিরিক্ত মিষ্টি ব্যাচ ঠিক করতে আরও গ্রেভি বেস লাগে, ফলে খরচ ও অবশিষ্ট খাবার দুটিই বাড়ে।
- বেশি কেওড়া জল: অতিরিক্ত সুগন্ধে রোস্টের স্বাদ কৃত্রিম লাগে এবং দেওয়ার পর তা সরানো যায় না।
খরচ স্থিতিশীল রাখা
মুরগির নির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন, পরিমাপ করা গ্রেভি ইয়েল্ড এবং ভাজার তেল সঠিকভাবে হিসাব করলেই খরচ স্থিতিশীল থাকে। খরচের প্রধান অংশ মুরগি, এরপর ঘি, কাজুবাদাম ও দুধজাত উপকরণ। সরবরাহকারীর ডেলিভারি শুধু ক্রেটে মুরগির সংখ্যা দিয়ে নয়, ড্রেসড ওজন ও ব্যবহারযোগ্য পোরশন সংখ্যা দিয়ে তুলনা করুন।
ভাজার ব্যবহারযোগ্য তেল ঠান্ডা হওয়ার পর ছেঁকে কতটা স্টকে ফেরত গেল তা লিখে রাখুন; কড়াইয়ে দেওয়া পুরো তেলকে খরচ হিসেবে ধরবেন না। রেসিপি কস্টিং দিয়ে রান্না করা ব্যাচ ট্র্যাক করুন এবং মুরগির ওজন বা দুধজাত উপকরণের বাজারদর বদলালে প্রকৃত ফুড কস্ট পারসেন্টেজ পর্যালোচনা করুন। Rosuii-তে ইস্যু করা কাঁচামাল থেকে কতটি তৈরি রোস্ট পোরশন হয়েছে, কতটা ওয়েস্টেজ হয়েছে এবং সরবরাহকারীর স্টক কীভাবে বদলেছে তা রেকর্ড করা যায়।
খরচ কোথায় বাড়ে
খরচের প্রধান অংশ মুরগি; এরপর ঘি, কাজুবাদাম বাটা ও দুধজাত উপকরণ গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেসড মুরগির ওজন, সরবরাহকারীর পণ্যের ধারাবাহিকতা, ভাজার তেলের অপচয় এবং নিয়ন্ত্রণহীন গ্রেভি পোরশনের কারণে খরচ সবচেয়ে বেশি ওঠানামা করে।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই রেসিপি ১০০টি ক্যাটারিং পোরশনের জন্য কীভাবে স্কেল করব?
চিকেন রোস্ট কতক্ষণ হট হোল্ডিংয়ে রাখা যায়?
কাজুবাদাম বাটার বদলে অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে কি?
রান্নার পর ফ্রিজে চিকেন রোস্টের শেলফ লাইফ কত?
৪০ পোরশনের ব্যাচ থেকে কম প্লেট হওয়ার কারণ কী?
সম্পর্কিত রেসিপি
কমার্শিয়াল বাসন্তী পোলাও রেসিপি
২ কেজি চালের এই ব্যাচে প্রায় ৫.২ কেজি সোনালি, হালকা মিষ্টি বাসন্তী পোলাও হবে, যা নিয়ন্ত্রিত ১৩০ গ্রাম হিসেবে প্রায় ৪০ প্লেট পরিবেশনের জন্য যথেষ্ট।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি, যেখানে দীর্ঘ সময় কষানো, তেল ছাড়ার স্পষ্ট লক্ষণ, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবেশন ও নিরাপদ রিহিটিং দেখানো হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি
পাক্কি পদ্ধতিতে প্রায় ৪০টি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশনের কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি, সঙ্গে চাল আংশিক সেদ্ধ করা, দম, হট হোল্ডিং ও ব্যাচ বড় করার নির্দেশনা।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

