মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল চিকেন শাশলিক রেসিপি

৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল চিকেন শাশলিক রেসিপি, যেখানে সমান কিউব, শিকে গাঁথার সঠিক ক্রম, আগাম প্রস্তুতি, সার্ভিস হোল্ডিং এবং ফ্রাইড রাইসসহ প্লেটিং দেখানো হয়েছে।

শেয়ার
পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ও টমেটোসহ গ্রিল করা চিকেন শাশলিকের শিক, পাশে এক পরশন ফ্রাইড রাইস।
প্রস্তুতি
১ ঘণ্টা
রান্না
৪৫ মিনিট
মোট
১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Continental

প্রণালী

  1. 1

    মুরগি ট্রিম ও পরশন করুন

    মুরগি থেকে আলগা চর্বি, তরুণাস্থি ও পাতলা ছাঁট বাদ দিন, তারপর ডিজিটাল স্কেলে ৫ কেজি ব্যবহারযোগ্য মাংস নিশ্চিত করুন। ৩০ থেকে ৩২ mm কিউব করে কাটুন এবং পুরো প্রস্তুতির সময় ৫°C-এর নিচে রাখুন। কঠোর আগাম পরশন দরকার হলে ১২৫ গ্রাম করে ৪০টি ভাগ করুন।

  2. 2

    মেরিনেড তৈরি করুন

    লবণ, গোলমরিচের গুঁড়া, আদা বাটা, রসুন বাটা, লেবুর রস, সয়াসস, কেচাপ, চিলি সস, পাপরিকা, কর্নফ্লাওয়ার ও ২০০ ml সয়াবিন তেল একসঙ্গে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত মেশান। মিশ্রণটি চামচে লেগে থাকবে এবং কর্নফ্লাওয়ারের শুকনা দলা থাকবে না। কাঁচা মুরগিতে লাগানোর আগে আলাদাভাবে মেশানো সামান্য নমুনা চেখে দেখুন এবং শুধু ব্র্যান্ডভেদে লবণ বা ঝালের পার্থক্য থাকলে ঠিক করুন।

  3. 3

    ফ্রিজে রেখে মেরিনেট করুন

    মেরিনেডের মধ্যে মুরগি ভালোভাবে উল্টেপাল্টে মেশান, যেন প্রতিটি কিউবে সমান কোটিং থাকে। অগভীর ফুড-গ্রেড পাত্রে ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। মেরিনেশনের সময় পাত্রটি ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখবেন না।

  4. 4

    সবজি ও শিক প্রস্তুত করুন

    পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ও শক্ত টমেটোর শাঁস মুরগির ৩০ mm মাপের কাছাকাছি করে কাটুন। অ্যাসিডযুক্ত মেরিনেডে না দিয়ে সবজি শুকনা ও ফ্রিজে রাখুন। খোলা আগুনে কাঠের শিক ব্যবহার করলে পরিষ্কার পানিতে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।

  5. 5

    নিয়ন্ত্রিত পরশনে শিক গাঁথুন

    পেঁয়াজ, মুরগি, সবুজ ক্যাপসিকাম, মুরগি, টমেটো, মুরগি, পেঁয়াজ, মুরগি, লাল ক্যাপসিকাম, মুরগি ও পেঁয়াজ এই ক্রমে গাঁথুন। প্রতিটি টুকরার মধ্যে ২ থেকে ৩ mm ফাঁক রাখুন এবং প্রতি শিকে মুরগির পাঁচটি কিউব দিন। পরশন সমান হয়েছে কি না নিশ্চিত করতে প্রথম পাঁচটি শিক ওজন করুন, তারপর ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন।

  6. 6

    রান্নার সারফেস প্রিহিট করুন

    চারগ্রিল বা গ্রিডলের সারফেস ২২০ থেকে ২৪০°C তাপমাত্রায় অন্তত ১০ মিনিট গরম করুন। সারফেস পরিষ্কার করে অবশিষ্ট সয়াবিন তেলের কিছু অংশ দিয়ে হালকা তেল মাখান। সবজির প্রান্ত ছোঁয়ালে গ্রিলে সঙ্গে সঙ্গে সিজল শব্দ হবে, তবে ঘন ধোঁয়া উঠবে না।

  7. 7

    ছোট ব্যাচে গ্রিল করুন

    তাপ চলাচলের জন্য যথেষ্ট ফাঁক রেখে শিক সাজিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট রান্না করুন। প্রতি ২ থেকে ৩ মিনিট পরপর ঘুরিয়ে দিন, যেন মুরগির কয়েকটি পাশ বাদামি হয় এবং সবজিতে হালকা পোড়া দাগ পড়ে কিন্তু ভেঙে না যায়। কাঁচা মুরগির অবশিষ্ট মেরিনেড ব্রাশ করবেন না।

  8. 8

    ফিনিশিং করে তাপমাত্রা নিশ্চিত করুন

    রান্নার শেষ ২ মিনিটে গলানো বাটার হালকাভাবে ব্রাশ করুন। স্যানিটাইজ করা প্রোব দিয়ে সবচেয়ে বড় মুরগির কিউবের কেন্দ্র পরীক্ষা করুন এবং অন্তত ৭৪°C না হওয়া পর্যন্ত রান্না চালিয়ে যান। কোটিং চকচকে ও বাদামি হবে, কালো বা ভেজা থাকবে না।

  9. 9

    রেস্ট দিয়ে প্লেট করে সার্ভ করুন

    রান্না করা শিক ২ থেকে ৩ মিনিট রেস্ট দিন অথবা ৬৩°C-এর ওপরে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট হোল্ড করুন। প্রতি অর্ডারে একটি শিকের সঙ্গে ২০০ গ্রাম ফ্রাইড রাইস দিন। কোনো উপকরণ বাদ পড়া শিক ক্রেতার কাছে যাওয়ার আগেই বদলে দিন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরশনটি wastage হিসেবে লিখুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই কমার্শিয়াল চিকেন শাশলিক রেসিপিতে রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে বা ফুড কার্ট সার্ভিসের জন্য প্রায় ৪০টি নিয়ন্ত্রিত পরিমাণের প্লেট তৈরি হবে। প্রতি প্লেটে থাকবে প্রায় ১২৫ গ্রাম ট্রিম করা কাঁচা মুরগি ও পর্যায়ক্রমে সাজানো সবজি দিয়ে তৈরি একটি শিক এবং ২০০ গ্রাম রান্না করা ফ্রাইড রাইস। ব্যাচটি সাধারণ সার্ভিসের জন্য যথেষ্ট বড়, তবে মাঝারি আকারের চারগ্রিল বা ফ্ল্যাট গ্রিডলে সামলানো যায়।

কমার্শিয়াল সার্ভিসে চিকেন শাশলিক কেন উপযোগী

চিকেন শাশলিক কমার্শিয়াল সার্ভিসে কার্যকর, কারণ সার্ভিসের আগেই এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নিশ্চিত অর্ডার অনুযায়ী দ্রুত গ্রিল করা যায়। একটি শিকেই ক্রেতার পরিমাণ পরিষ্কার থাকে, আর রঙিন ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ ও টমেটো মুরগির পরিমাণ আড়াল না করে প্লেটের ভলিউম বাড়ায়। ফ্রাইড রাইসসহ পূর্ণ প্লেট হিসেবে বিক্রি করলে এটি ডাইন-ইন, টেকঅ্যাওয়ে ও ফুড কার্টের মেনুতেও মানায়।

বেশির ভাগ প্রস্তুতি কম ব্যস্ত সময়ে শেষ করা যায়। নিয়ন্ত্রিত ব্যাচে মুরগি ট্রিম, মেরিনেট ও শিকে গেঁথে রাখলে সার্ভিস কুককে শুধু গ্রিল করা, তাপমাত্রা পরীক্ষা এবং প্লেটিং করতে হয়। নম্বর দেওয়া ট্রে ব্যবহার করলে আগে প্রস্তুত করা ব্যাচ আগে ব্যবহারের FIFO পদ্ধতিও সহজ হয়। প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো গ্রিলের ধারণক্ষমতা, তাই ৪০টি শিক একসঙ্গে কুকিং স্টেশনের পাশে না রেখে কয়েকটি সার্ভিস ট্রেতে ভাগ করে রাখতে হবে।

উপকরণের মান ও বাছাই

এই পদে দামি সসের চেয়ে সমান আকারের হাড়ছাড়া মুরগির রান ও শক্ত সবজি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রান ব্যবহার করলে গ্রিলিং, স্বল্প সময় হট হোল্ডিং এবং টেকঅ্যাওয়ে ডেলিভারির পরও মাংস তুলনামূলক রসালো থাকে। কম আলগা চর্বিযুক্ত, চামড়াবিহীন ও হাড়ছাড়া রান কিনে ট্রিম করার পর ওজন লিখে রাখুন। সরবরাহকারীর মাংসে বেশি চর্বি, তরুণাস্থি বা ছোট টুকরা থাকলে ব্যবহারযোগ্য ইল্ড কমে এবং প্রকৃত পরশন কস্ট বাড়ে।

মুরগির প্রতিটি টুকরা প্রায় ৩০ থেকে ৩২ mm করে কাটুন। ২৫ mm-এর ছোট টুকরা সবজিতে রং আসার আগেই শুকিয়ে যায়, আবার ৩৫ mm-এর বড় টুকরার মাঝখান কাঁচা থেকে যেতে পারে। একই শিকে পাতলা বুকের মাংসের ছাঁট, বড় রান মাংসের টুকরা এবং ছোট ট্রিমিং দেবেন না। ব্যবহারযোগ্য ছোট টুকরাগুলো জোর করে শাশলিকে না দিয়ে অন্য নিয়ন্ত্রিত প্রোডাকশনের জন্য আলাদা করুন।

ক্যাপসিকাম শক্ত ও মোটা দেয়ালযুক্ত হওয়া উচিত। পেঁয়াজের স্তর এমন বড় হতে হবে যেন কাটার পরও জোড়া থাকে। শক্ত ও সামান্য কম পাকা টমেটো নিন, ভেজা বীজের অংশ ফেলে দিয়ে বাইরের শক্ত শাঁস ব্যবহার করুন। নরম টমেটো শিকে গাঁথার সময় ভেঙে যায়, গ্রিলে পড়ে এবং কেনা উপকরণের অপচয় বাড়ায়। সসের ব্র্যান্ড বদলানো যায়, তবে সয়াসস, কেচাপ ও চিলি সসের লবণ ও মিষ্টতা ব্র্যান্ডভেদে অনেক বদলায় বলে স্বাদ পরীক্ষা করতে হবে।

কিউবের মাপ ও শিক তৈরির নিয়ম

সমান মাপের কিউব এবং পরিকল্পিত সবজির ক্রমই নিশ্চিত করে যে প্রতিটি শিক একই সময়ে রান্না হবে। প্রতি শিকে মুরগির পাঁচটি টুকরা দিন এবং এমনভাবে আলাদা রাখুন যেন কাঁচা মুরগির দুটি টুকরা সরাসরি একে অন্যের সঙ্গে চেপে না থাকে। কার্যকর ক্রম হলো পেঁয়াজ, মুরগি, সবুজ ক্যাপসিকাম, মুরগি, টমেটো, মুরগি, পেঁয়াজ, মুরগি, লাল ক্যাপসিকাম, মুরগি ও পেঁয়াজ।

দুই প্রান্তের পেঁয়াজ নরম উপকরণগুলোকে জায়গায় ধরে রাখে। ক্যাপসিকাম মাঝের অংশকে সাপোর্ট দেয় এবং টমেটো শক্ত উপকরণের মাঝে সুরক্ষিত থাকে। টুকরাগুলো চেপে শক্ত ব্লক না বানিয়ে প্রতিটির মধ্যে ২ থেকে ৩ mm ফাঁক রাখুন। এই সামান্য ফাঁক দিয়ে গরম বাতাস ও গ্রিলের তাপ মুরগির পাশগুলোতে পৌঁছায়। বেশি আঁটসাঁট করলে বাইরের অংশ পুড়ে যাবে, কিন্তু লেগে থাকা অংশ ফ্যাকাশে থাকবে এবং ধীরে রান্না হবে।

মেরিনেড মাংসে লেগে থাকবে, তবে বেশি ঝরবে না। কর্নফ্লাওয়ার কোটিং আটকে রাখতে ও বাইরের অংশ বাদামি করতে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি দিলে আঠালো স্তর তৈরি হয়। টক, লবণ ও সস মাংসে ঢুকতে সময় লাগে, তবে বেশি অ্যাসিডযুক্ত মেরিনেডে রাতভর রাখলে বাইরের টেক্সচার নরম হয়ে যেতে পারে। ৩০ mm রান মাংসের কিউবের জন্য ফ্রিজে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা সাধারণত যথেষ্ট।

সঠিকভাবে ব্যাচ স্কেল করা

মুরগি, মেরিনেড ও সবজি ওজন অনুযায়ী স্কেল করুন, কিন্তু রান্নার ক্ষমতা নির্ধারণ করুন ভিড় না করে গ্রিলে যতটি শিক ধরে সেই সংখ্যা অনুযায়ী। অর্ধেক ব্যাচের জন্য কেনা মুরগি ২.৭ কেজি নিন এবং ট্রিম করার পর ২০টি শিকের জন্য ২.৫ কেজি ব্যবহারযোগ্য মাংস লক্ষ্য রাখুন। ৮০ প্লেটের জন্য সব উপকরণ দ্বিগুণ করুন, তবে নিচের স্তর ঠিকভাবে ঠান্ডা রাখার জন্য মুরগি দুটি আলাদা ফুড-গ্রেড পাত্রে মিশিয়ে সংরক্ষণ করুন।

যন্ত্রে যথেষ্ট হিট রিকভারি না থাকলে এক গ্রিল লোডে শিকের সংখ্যা দ্বিগুণ করবেন না। অতিরিক্ত লোডে গ্রিলের উপরিভাগের তাপমাত্রা কমে যায়, ফলে মুরগি পানি ছেড়ে গ্রিল হওয়ার বদলে সেদ্ধ হতে থাকে। যে গ্রিলে স্বাভাবিকভাবে আটটি শিক ধরে, উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও প্রতি লোডে আটটিই রাখুন। বিক্রির পরিমাণ বদলানোর আগে প্রকৃত ট্রিমড ইল্ড, তৈরি শিকের সংখ্যা ও রান্নার পরের ইল্ড লিখে রাখুন। একাধিক প্রেপ কুক ব্যাচ তৈরি করলে পরশন কন্ট্রোল-এর নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আগাম প্রস্তুতি ও খাদ্য নিরাপত্তা

আগে থেকে কাঁচা শিক তৈরি করা যায়, তবে সেগুলো ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় এবং রান্না করা খাবার থেকে আলাদা রাখতে হবে। সবজির ভালো মান ধরে রাখতে রান্নার সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা আগে শিক তৈরি করুন। অগভীর ট্রেতে এক স্তরে রাখুন অথবা স্তরের মাঝে ফুড-গ্রেড শিট দিন। প্রতিটি ট্রেতে প্রস্তুতির সময়, পরিমাণ এবং ব্যবহারের শেষ সময় লিখে লেবেল লাগান।

খোলা আগুনে রান্নার ক্ষেত্রে কাঠের শিক গাঁথার আগে অন্তত ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। বারবার রেস্টুরেন্ট প্রোডাকশনের জন্য ধাতব শিক বেশি টেকসই, তবে ধারালো মাথার কারণে সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সতর্কতা দরকার। কাঁচা মুরগির ব্যবহৃত মেরিনেড রান্না করা মুরগিতে কখনো ব্রাশ করবেন না। অতিরিক্ত গ্লেজ দরকার হলে কাঁচা মুরগি মেশানোর আগেই আলাদা করে রাখুন।

মুরগির সবচেয়ে মোটা কিউবের মাঝখান অন্তত ৭৪°C না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। গ্রিলের প্রান্ত ও মাঝের অংশে রান্নার গতি আলাদা হতে পারে, তাই বিভিন্ন জায়গার টুকরায় তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন। কেচাপ ও পাপরিকা দ্রুত গাঢ় রং ধরায় শুধু বাদামি বাইরের অংশ দেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।

সার্ভিসের জন্য হোল্ডিং ও রিহিটিং

অর্ডার অনুযায়ী গ্রিল করে ৬৩°C-এর ওপরে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট রাখলে চিকেন শাশলিকের মান সবচেয়ে ভালো থাকে। দীর্ঘ সময় হট হোল্ডিং করলে মুরগি শুকিয়ে যায়, ক্যাপসিকাম কুঁচকে যায় এবং টমেটো আলগা হয়ে পড়ে। চাহিদা অনুমান করা গেলে ৪০টি শিক একসঙ্গে না করে ছোট চলমান ব্যাচে রান্না করুন। কাঁচা শিকের ট্রে ফ্রিজে রাখুন এবং শুধু পরের গ্রিল লোডটি স্টেশনে আনুন।

নিরাপদে পুনর্ব্যবহারের জন্য অবিক্রীত রান্না করা শিক ৬০°C থেকে ২১°C-এ দুই ঘণ্টার মধ্যে এবং ২১°C থেকে ৫°C-এ পরের চার ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করুন। ঢেকে ফ্রিজে রেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। শুধু একবার রিহিট করুন এবং মুরগির কেন্দ্র আবার ৭৪°C-এ আনুন। গরম গ্রিলে প্রায় ৩ থেকে ৪ মিনিটে বাইরের রং ফিরে আসে, আর শিকের প্রাথমিক তাপমাত্রা ও ওভেনের লোড অনুযায়ী ১৮০°C ওভেনে সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিনিট লাগে।

ফ্রাইড রাইস সার্ভিস অনুযায়ী ছোট ব্যাচে তৈরি করে ৬৩°C-এর ওপরে রাখতে হবে। অর্ডারের মাঝে রান্না করা ভাত ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখবেন না। পুরোনো ভাতের সঙ্গে নতুন ব্যাচ না মিশিয়ে পুরো রাইস প্যান বদলান।

ফ্রাইড রাইসসহ পরশন ও প্লেটিং

প্রতি স্ট্যান্ডার্ড প্লেটে একটি সম্পূর্ণ শিক এবং ২০০ গ্রাম গরম ফ্রাইড রাইস দিতে হবে। প্রতিটি শিকে ১২৫ গ্রাম ট্রিম করা কাঁচা মুরগি এবং একই সংখ্যক সবজির টুকরা ব্যবহার করুন। সার্ভিসের আগে প্রথম পাঁচটি তৈরি শিক ওজন করুন। সবজির স্বাভাবিক পার্থক্য বিবেচনা করেও ওজনগুলো কাছাকাছি হওয়া উচিত। নতুন কর্মী শিক তৈরি শুরু করলে আবার পরীক্ষা করুন।

প্লেটের এক পাশে ফ্রাইড রাইস পরিপাটি করে দিন এবং সবজি ঢেকে না ফেলে শিকটি পাশে বা সামনের দিকে রাখুন। প্যাকেটে ধারালো শিক নিরাপদে রাখা না গেলে টেকঅ্যাওয়ের জন্য শিক থেকে খাবার খুলে দিন। ডাইন-ইন ও টেকঅ্যাওয়ে কর্মীরা যেন একই নিয়ম মানেন, তাই রান্নাঘরকে এটি মেনু ভ্যারিয়েশন হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।

কতটি শিক তৈরি, বিক্রি, ফেরত ও বাতিল হয়েছে তা লিখে রাখুন। প্রতিটি বিক্রিতে স্বয়ংক্রিয় রেসিপি ডিডাকশন হয়েছে ধরে না নিয়ে Rosuii-এর production ও wastage record ব্যবহার করে কাঁচামাল থেকে নিয়ন্ত্রিত সংখ্যক প্রস্তুত শিক তৈরির হিসাব রাখা যায়।

যেসব ভুলে খরচ বাড়ে

অতিরিক্ত বড় মুরগির কিউব, নিয়ন্ত্রণহীন ট্রিমিং, ভিড় করা গ্রিল এবং অসমান শিকের পরশন সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। বড় কিউবে রান্নার সময় বাড়ে এবং নিরাপদ কেন্দ্রীয় তাপমাত্রা পেতে গিয়ে কর্মীরা সস পুড়িয়ে ফেলতে পারেন। ছোট কিউব আর্দ্রতা ও রান্নার পরের ওজন হারায়, ফলে কাঁচা পরশন ঠিক থাকলেও পরিবেশন দুর্বল দেখায়।

  • শিক বেশি চেপে গাঁথা: আঁটসাঁট টুকরা অসমভাবে রান্না হয় এবং গ্রিলে বেশি সময় লাগে।
  • মুরগির সঙ্গে সবজি মেরিনেট করা: লবণ ও অ্যাসিড পেঁয়াজ, টমেটো ও ক্যাপসিকাম থেকে পানি বের করে টেক্সচার নরম করে এবং কোটিং পাতলা করে দেয়।
  • নরম টমেটো ব্যবহার: উল্টানোর সময় ফেটে গিয়ে গ্রিলে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি তৈরি করে।
  • গ্রিলে অতিরিক্ত লোড দেওয়া: তাপমাত্রা কমে, রান্না ধীর হয় এবং শ্রমের খরচ বাড়ে।
  • অনুমান করে পরশন দেওয়া: মাত্র আটটি শিকে একটি করে অতিরিক্ত মুরগির কিউব দিলে পরের অর্ডারগুলোর জন্য মাংস কম পড়ে যেতে পারে।
  • বেশি সময় হোল্ড করা: শুকনো শিক ফেরত আসতে পারে, ছাড়ে বিক্রি করতে হতে পারে বা ফেলে দিতে হয়।

খরচ স্থিতিশীল রাখার উপায়

সবচেয়ে সস্তা সস কেনার বদলে ব্যবহারযোগ্য মুরগির ইল্ড, শিকের ওজন ও সবজির অপচয় নিয়ন্ত্রণ করলে খরচ স্থিতিশীল থাকে। মুরগিই প্রধান কস্ট ড্রাইভার এবং সরবরাহকারীর ট্রিমিং, পানি কমে যাওয়া ও অব্যবহারযোগ্য চর্বি বা তরুণাস্থির অনুপাত অনুযায়ী এর কার্যকর খরচ বদলায়। শুধু সরবরাহ করা ওজন নয়, ট্রিম করার পর ব্যবহারযোগ্য কেজি ধরে সরবরাহকারীদের তুলনা করুন।

মৌসুমি সরবরাহ বদলালে ক্যাপসিকাম, বিশেষ করে লাল ক্যাপসিকাম, উল্লেখযোগ্য দ্বিতীয় খরচ হতে পারে। মুরগির পরশন অপরিবর্তিত রাখুন এবং ঘোষিত মেনু স্পেসিফিকেশনের মধ্যেই রঙের অনুপাত বদলান। ট্রিম, পড়ে যাওয়া সবজি, পোড়া ব্যাচ এবং অবিক্রীত রান্না করা শিক আলাদা wastage cause হিসেবে লিখুন। বর্তমান ক্রয় চালান ব্যবহার করে রেসিপি কস্টিং-এর মাধ্যমে ব্যাচ পর্যালোচনা করুন এবং পুরোনো স্ট্যান্ডার্ড রেটের বদলে ফুড কস্ট পারসেন্টেজ পর্যবেক্ষণ করুন।

খরচ কোথায় বাড়ে

হাড়ছাড়া মুরগির রান এই রেসিপির প্রধান খরচ। সরবরাহকারীর দাম, ট্রিমিং লস ও রান্নায় ওজন কমার কারণে এর কার্যকর খরচ বদলায়। ক্যাপসিকাম পরের পরিবর্তনশীল উপকরণ, যার রং ও মৌসুমি প্রাপ্যতা খরচে প্রভাব ফেলে। নিয়ন্ত্রণহীন শিকের ওজন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধযোগ্য পার্থক্য তৈরি করে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই চিকেন শাশলিক রেসিপি ২০ বা ৮০ প্লেটের জন্য কীভাবে স্কেল করব?

২০ প্লেটের জন্য প্রতিটি উপকরণ অর্ধেক করুন এবং ২.৫ কেজি ট্রিম করা মুরগি লক্ষ্য রাখুন। ৮০ প্লেটের জন্য উপকরণ দ্বিগুণ করুন, তবে মেরিনেশন, ফ্রিজে রাখা ও শিক গাঁথার কাজ দুটি আলাদা ৪০ প্লেটের ব্যাচে ভাগ করুন। রান্নার যন্ত্রে অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা না থাকলে প্রতি গ্রিল লোডে শিকের সংখ্যা একই রাখুন।

গাঁথা কাঁচা শিক কতক্ষণ রাখা যায়?

গাঁথা কাঁচা শিক ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং সবজির ভালো টেক্সচারের জন্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। সবজি ছাড়া মেরিনেট করা মুরগি নিয়ন্ত্রিত রেফ্রিজারেশনে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা রাখা যায়, তবে বেশি সময় রাখলে অ্যাসিডযুক্ত কোটিং বাইরের অংশ নরম করে দিতে পারে।

মুরগির রানের বদলে বুকের মাংস ব্যবহার করা যাবে কি?

হ্যাঁ, তবে বুকের মাংসও একই ৩০ থেকে ৩২ mm মাপে কাটতে হবে এবং দ্রুত শুকিয়ে যায় বলে সাবধানে রান্না করতে হবে। প্রথমে এক লোড পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিল করুন এবং কেন্দ্র ৭৪°C হওয়ামাত্র নামিয়ে নিন। বুক ও রানের মাংস একই শিকে দেবেন না, কারণ দুটির রান্নার আচরণ আলাদা।

রান্না করা চিকেন শাশলিক সার্ভিসের জন্য কতক্ষণ হোল্ড করা যায়?

গ্রহণযোগ্য মান ধরে রাখতে রান্না করা শিক ৬৩°C-এর ওপরে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট রাখুন। এর মধ্যে বিক্রি না হলে নিরাপদভাবে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখুন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। শুধু একবার রিহিট করে কেন্দ্রের তাপমাত্রা ৭৪°C-এ আনুন।

এই ব্যাচ থেকে কত ইল্ড পাওয়া উচিত?

প্রতি শিকে ১২৫ গ্রাম ট্রিম করা কাঁচা মুরগি ব্যবহার করলে এই ব্যাচে ৪০টি শিক হওয়া উচিত। স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমার পর রান্না করা মুরগি আনুমানিক ৩.৯ থেকে ৪.২ কেজি থাকবে। প্রকৃত ইল্ড সরবরাহকারীর ট্রিমিং, কিউবের সমতা, গ্রিলের তাপমাত্রা ও রান্নার সময়ের ওপর নির্ভর করে, তাই প্রথম প্রোডাকশন ওজন করে ফল লিখে রাখুন।
শেয়ার

কমার্শিয়াল বাংলাদেশি বিফ রোল রেসিপি

৪০টি সমান মানের বিফ রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নরম ও শুকনা বিফ ফিলিং, মচমচে সবজি, নিয়ন্ত্রিত সস এবং সার্ভিসের ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে।

পরিমাণ:
৪০টি বিফ রোল
মোট:
১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিকেন মাঞ্চুরিয়ান রেসিপি

মাপা সাইজের প্রায় ২০০টি চিকেন বল, সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত গ্রেভি বেস, নিয়ন্ত্রিত ফ্রাইং ও নিরাপদ হোল্ডিংসহ ৪০ প্লেটের চিকেন মাঞ্চুরিয়ান রেসিপি।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বাংলাদেশি চিকেন রোল রেসিপি

পরতওয়ালা পরোটা, মসলাদার চিকেন, ডিম, টাটকা সবজি ও নির্দিষ্ট পরশন দিয়ে ৪০টি বড় চিকেন রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি।

পরিমাণ:
৪০টি বড় চিকেন রোল
মোট:
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন