মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

চাইনিজ ফ্রাইড রাইস রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল চাইনিজ ফ্রাইড রাইস রেসিপি, যেখানে ঠিকভাবে ঠান্ডা করা ভাত, নিয়ন্ত্রিত ওক ব্যাচ এবং আগে থেকে রান্না করা উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত সার্ভিস দেওয়া যায়।

শেয়ার
ওক থেকে গরম পরিবেশন করা চিকেন, ডিম, গাজর, মটরশুঁটি ও পেঁয়াজপাতাসহ এক পোরশন চাইনিজ ফ্রাইড রাইস।
প্রস্তুতি
৩০ মিনিট
রান্না
৪৫ মিনিট
মোট
১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Chinese

প্রণালী

  1. 1

    ভাত রান্না করে ঠান্ডা করুন

    ধোয়া চাল ৫.২ লিটার পানিতে ৯৫ থেকে ১০০°C তাপমাত্রায় রান্না করুন। পানি ফুটতে শুরু করার পর প্রায় ১৪ থেকে ১৮ মিনিটে পানি শুষে গিয়ে চালের দানা শুধু নরম হবে। ঢেকে ১৫ মিনিট দমে রাখুন, তারপর সর্বোচ্চ ৫ সেমি গভীর করে অগভীর ট্রেতে ছড়িয়ে দিন। দ্রুত ৫°C বা তার নিচে ঠান্ডা করে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন।

  2. 2

    চিকেন ম্যারিনেট করুন

    চিকেনের সঙ্গে ৮০ ml সয়া সস, কর্নফ্লাওয়ার ও ২০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে ২০ মিনিট ফ্রিজে রাখুন। কোটিং পাতলা ও সমান হতে হবে এবং কোথাও শুকনা কর্নফ্লাওয়ার দেখা যাবে না। রান্নার আগ পর্যন্ত ম্যারিনেট করা চিকেন ৫°C বা তার নিচে রাখুন।

  3. 3

    সবজি ব্লাঞ্চ করে পানি ঝরান

    ফুটন্ত পানিতে গাজর ও ফ্রেঞ্চ বিন ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড ব্লাঞ্চ করুন এবং শেষ ৩০ সেকেন্ডে মটরশুঁটি দিন। সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে নামিয়ে অন্তত ১০ মিনিট পানি ঝরান। সবজির রং উজ্জ্বল, টেক্সচার শক্ত এবং বাইরের অংশ পানিমুক্ত থাকতে হবে।

  4. 4

    চিকেন নিরাপদ তাপমাত্রা পর্যন্ত রান্না করুন

    ওক প্রায় ২০০ থেকে ২২০°C পর্যন্ত গরম করুন। নিয়ন্ত্রিতভাবে মোট প্রায় ২৫০ ml তেল দিয়ে চিকেন তিন বা চারটি ছোট ব্যাচে রান্না করুন। প্রতিটি ব্যাচ ৩ থেকে ৪ মিনিট স্টার-ফ্রাই করুন, যতক্ষণ হালকা রং হয় এবং মাঝের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C-এ পৌঁছায়। পরিষ্কার অগভীর ট্রেতে তুলুন এবং সরাসরি সার্ভিসে ব্যবহার না করলে দ্রুত ঠান্ডা করুন।

  5. 5

    ডিম নরম করে স্ক্র্যাম্বল করুন

    ওকের তাপমাত্রা প্রায় ১৮০ থেকে ১৯০°C-এ নামিয়ে কয়েকটি ব্যাচে মোট প্রায় ১৫০ ml তেল ব্যবহার করুন। ফেটানো ডিম ৪৫ থেকে ৬০ সেকেন্ড রান্না করুন এবং ভাঁজ করতে করতে নরমভাবে জমাট বাঁধান, তবে আর্দ্রতা বজায় রাখুন। ছোট টুকরা করে বাদামি হওয়ার আগেই ওক থেকে তুলে নিন।

  6. 6

    ওক ব্যাচ প্রস্তুত করুন

    ঠান্ডা ভাত, রান্না করা চিকেন, সবজি ও ডিম প্রায় সমান আটটি production set-এ ভাগ করুন। বাকি তেল, সয়া সস, অ্যারোমেটিকস ও শুকনা সিজনিং মেপে দেওয়ার জন্য আলাদা রাখুন। প্রতিটি সম্পূর্ণ ওক লোডের ওজন প্রায় ১.৮ থেকে ২ kg-এর মধ্যে রাখুন।

  7. 7

    অ্যারোমেটিকস ও ভাত ভাজুন

    পরিষ্কার ওক ২১০ থেকে ২৩০°C পর্যন্ত গরম করুন, যতক্ষণ হালকা ধোঁয়াশা দেখা যায়। একটি ব্যাচের জন্য প্রায় ৫০ ml তেল দিন। মোট রসুন ও পেঁয়াজপাতার সাদা অংশের এক-অষ্টমাংশ ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড ভেজে এক ভাগ ভাত দিন। ৯০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট টস করুন এবং হালকা চাপ দিয়ে দলা আলাদা করুন, যতক্ষণ ভাত থেকে গরম বাষ্প ওঠে ও প্রতিটি দানা সহজে নড়াচড়া করে।

  8. 8

    অন্য উপকরণ ও সিজনিং দিন

    এক ভাগ করে চিকেন, সবজি ও ডিম দিয়ে ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড টস করুন। বাকি সয়া সসের এক-অষ্টমাংশ ওকের গরম দেয়াল ঘেঁষে ঢালুন এবং বাকি লবণ, সাদা গোলমরিচ ও ঐচ্ছিক টেস্টিং সল্টের মাপা অংশ দিন। আরও ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড টস করুন, যতক্ষণ রং সমান হয় এবং ওকের তলায় কোনো তরল না থাকে।

  9. 9

    শেষ উপকরণ দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পোরশন করুন

    তিলের তেল ও পেঁয়াজপাতার সবুজ অংশের এক-অষ্টমাংশ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড টস করুন। ঠান্ডা উপকরণ ব্যবহার করলে তৈরি ব্যাচের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রতি প্লেটে প্রায় ৩৬০ গ্রাম করে দিন অথবা সঙ্গে সঙ্গে ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রার হট হোল্ডিংয়ে পাঠান।

  10. 10

    অবশিষ্ট ভাত নিরাপদভাবে ঠান্ডা করুন

    অনুমোদিত অবশিষ্ট ফ্রাইড রাইস ওক বা গভীর প্যানে না রেখে সর্বোচ্চ ৫ সেমি গভীর করে ট্রেতে ছড়িয়ে দিন। ২ ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরের ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫°C-এ নামান। লেবেল লাগিয়ে ফ্রিজে রাখুন এবং শুধু একবার কমপক্ষে ৭৪°C পর্যন্ত পুনরায় গরম করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

কমার্শিয়াল সার্ভিসে এই পদ কার্যকর কেন

চাইনিজ ফ্রাইড রাইস কমার্শিয়াল সার্ভিসে কার্যকর, কারণ বেশির ভাগ উপকরণ রেস্টুরেন্ট খোলার আগেই প্রস্তুত করে কয়েক মিনিটে অর্ডার শেষ করা যায়। ঠিকভাবে ঠান্ডা করা ভাত, রান্না করা চিকেন, ব্লাঞ্চ করা সবজি ও ফেটানো ডিম আলাদা ঢাকনাযুক্ত পাত্রে প্রস্তুত রাখা যায়। সার্ভিসের সময় বাবুর্চি কাঁচা উপকরণ কাটা ও রান্নার বদলে আগে থেকে মাপা ওক কিট ব্যবহার করতে পারেন।

মূল উৎপাদনপদ্ধতি না বদলিয়েও এই পদে নিয়ন্ত্রিত ভ্যারিয়েশন রাখা যায়। এগ ফ্রাইড রাইসের জন্য চিকেন বাদ দেওয়া যায়, অথবা আলাদা স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী রান্না করা চিংড়ি বা বিফ ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি ভ্যারিয়েশন যেন একই সময়ে রান্না হয়, সে জন্য ভাতের ওজন ও ওকের লোড একই রাখুন।

যে উপকরণের মান ফলাফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে

দামি গার্নিশের চেয়ে চাল, সয়া সস ও রান্নার তেলের অবস্থা ফ্রাইড রাইসের মানে বেশি প্রভাব ফেলে। এমন পুরোনো লং-গ্রেইন চাল নিন, যা রান্নার পর ঝরঝরে থাকে। এই সংস্করণে বেশি সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চাল এড়িয়ে চলুন, কারণ এর ছোট দানা ও ঘ্রাণ আলাদা টেক্সচার তৈরি করে। বেশি স্টার্চযুক্ত ভাঙা চাল ওকের চাপে দলা বাঁধে।

বড় ব্যাচ কেনার আগে প্রতিটি নতুন ব্র্যান্ডের চাল পরীক্ষা করুন। চালের জাত, বয়স ও ধোয়ার পদ্ধতি অনুযায়ী পানি শোষণ বদলায়। উল্লেখ করা পানির পরিমাণ প্রাথমিক স্পেসিফিকেশন, তবে নতুন চালের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি শুকনা চালে ১০০ থেকে ২০০ ml পানি কমানো বা বাড়ানো লাগতে পারে।

শুধু রঙের জন্য ডার্ক সয়া সসের ওপর নির্ভর না করে পরিষ্কার সেভরি স্বাদের লাইট সয়া সস ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ডার্ক সস ভাত ভেজা, বেশি নোনতা ও প্রায় কালো করে দেয়। পুনরায় গরম করার সময় বোনলেস চিকেন থাই ব্রেস্টের তুলনায় বেশি রসালো থাকে, তবে রান্নার সময় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে ভালোভাবে ট্রিম করা ব্রেস্টও ব্যবহার করা যায়। তাজা ও নিরপেক্ষ স্বাদের সয়াবিন তেল ব্যবহার করুন এবং পোড়া গন্ধ বা মাছ ভাজার গন্ধ থাকা তেল বাদ দিন।

এক দিনের ঠান্ডা ভাত ভালোভাবে ভাজা যায় কেন

ফ্রিজে রাখলে ভাতের দানার বাইরের অংশ শুকিয়ে শক্ত হয়, তাই এক দিনের ঠান্ডা ভাত ওকে সহজে আলাদা থাকে। গরম তাজা ভাত থেকে বাষ্প বের হয়, অসমভাবে তেল শোষণ করে এবং সয়া সস দিলে নরম হয়ে যায়। এক দিনের ভাত বলতে ঘরের তাপমাত্রায় রাতভর রাখা ভাত বোঝায় না। ভাত দ্রুত ঠান্ডা করে ঢেকে ৫°C বা তার নিচে সংরক্ষণ করতে হবে।

চাল শুধু নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন, অতিরিক্ত সিদ্ধ করবেন না। দ্রুত তাপ বের করার জন্য সর্বোচ্চ ৫ সেমি গভীর করে অগভীর ট্রেতে ছড়িয়ে দিন। ২ ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরের ৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C তাপমাত্রায় নামান। ভাত পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর গ্লাভস পরা হাত বা পরিষ্কার রাইস প্যাডল দিয়ে বড় দলা আলাদা করুন, তবে দানা চটকাবেন না।

ওকের তাপ ও উপকরণ দেওয়ার ক্রম

উচ্চ তাপের ওক ও সীমিত ব্যাচ সাইজই তেলতেলে এবং ভাপে নরম হয়ে যাওয়া ফ্রাইড রাইস ঠেকানোর প্রধান নিয়ন্ত্রণ। হাই-আউটপুট বার্নারের ওপর ৪৫ থেকে ৫০ সেমি কার্বন-স্টিল ওকে প্রতি ব্যাচে মোট খাবারের ওজন প্রায় ১.৮ থেকে ২ kg-এর বেশি হওয়া উচিত নয়। বার্নার দুর্বল হলে ওক বড় হলেও আরও ছোট লোডে রান্না করতে হবে।

খালি ওক হালকা ধোঁয়াশা দেখা দেওয়া পর্যন্ত গরম করুন, তারপর তেল দিয়ে রান্নার অংশজুড়ে ঘুরিয়ে নিন। তেল সহজে প্রবাহিত হবে, তবে ঘন ধোঁয়া উঠবে না। অ্যারোমেটিকস অল্প সময় ভাজার পর ঠান্ডা ভাত দিন। ভেজা সিজনিং দেওয়ার আগে ভাতকে সরাসরি গরম ধাতুর সংস্পর্শে আসতে দিন। দলা আলাদা করতে হালকা চাপ দিন, তারপর একটানা না নেড়ে টস করুন।

ভাত গরম হওয়ার পর রান্না করা চিকেন ও পানি ঝরানো সবজি দিন। সয়া সস ভাতের এক জায়গায় না ঢেলে ওকের গরম ভেতরের দেয়াল ঘেঁষে ঢালুন, এতে সস দ্রুত ছড়িয়ে বাষ্প হয়ে যায়। শেষের দিকে ডিম, গোলমরিচ এবং চাইলে টেস্টিং সল্ট দিন। তিলের তেল ও পেঁয়াজপাতার সবুজ অংশ একদম শেষে দিতে হবে, কারণ দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে থাকলে এগুলোর ঘ্রাণ কমে যায়।

ওকের কার্যকারিতা ঠিক রেখে উৎপাদন বাড়ানো

প্রিপের মোট পরিমাণ বাড়ান, কিন্তু একটি ওকে দেওয়া খাবারের পরিমাণ বাড়াবেন না। এই রেসিপি আটটি নিয়ন্ত্রিত ওক লোডের জন্য তৈরি। ৮০ প্লেট উৎপাদনে প্রস্তুত উপকরণ দ্বিগুণ করুন এবং ওক দ্বিগুণ ভরে রান্না না করে প্রায় ১৬টি লোডে ভাগ করুন।

উৎপাদন কমালে ভাত, প্রোটিন, সবজি, তেল ও সিজনিংয়ের একই অনুপাত রাখুন। অর্ধেক ডিম আন্দাজ না করে ফেটানো ডিম ওজন করে নিন। চালের জাত, ওক, বার্নারের চাপ বা বাবুর্চি বদলালে একটি টেস্ট ব্যাচ চালিয়ে অনুমোদিত লোড ও রান্নার সময় লিখে রাখুন।

অতিরিক্ত বড় ব্যাচের চেয়ে দ্বিতীয় ওক স্টেশন বেশি নির্ভরযোগ্যভাবে উৎপাদন বাড়ায়। একজন বাবুর্চিকে বেশি ভলিউম সামলাতে হলে একের পর এক লোড ভেজে হট হোল্ডিংয়ে পাঠান, তবে টেক্সচার ঠিক রাখতে হোল্ডিংয়ের সময় সংক্ষিপ্ত রাখুন।

দ্রুত কাউন্টার সার্ভিসের প্রস্তুতি

দ্রুত কাউন্টার সার্ভিসের জন্য সব উপকরণ আগে থেকে ভাগ করে বাবুর্চি যে ক্রমে ব্যবহার করবেন, ঠিক সেই ক্রমে সাজাতে হবে। ঠান্ডা ভাত ঢাকনাযুক্ত ব্যাচ টাবে ভাগ করুন এবং রান্না করা চিকেন, পানি ঝরানো সবজি, ডিম, অ্যারোমেটিকস ও মাপা সিজনিং বার্নারের এক হাত দূরত্বের মধ্যে রাখুন। কাঁচা ও রান্না করা চিকেনের পাত্র শারীরিকভাবে আলাদা রাখুন এবং আলাদা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।

সংরক্ষণের আগে ব্লাঞ্চ করা সবজির পানি পুরোপুরি ঝরাতে হবে, কারণ বাইরের পানি ওকের তাপ কমিয়ে দেয়। প্রিপের সময় চিকেন ও ডিম রান্না করে নিরাপদভাবে ঠান্ডা করুন এবং ৫°C বা তার নিচে রাখুন। সার্ভিসের কয়েক ঘণ্টা আগে সব উপকরণ এক টাবে মেশাবেন না। লবণ পানি বের করে দেয় এবং এতে উপকরণ বদলানো বা অপচয় হিসাব করা কঠিন হয়।

সার্ভিসের জন্য হট হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা

ফ্রাইড রাইস সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করা সবচেয়ে ভালো, তবে অল্প সময়ের সার্ভিসে ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় হট হোল্ডিং করা যায়। অগভীর ও ঢাকনাযুক্ত হোটেল প্যান ব্যবহার করুন এবং পুরোনো প্যানে নতুন ভাত মেশানোর বদলে আলাদা প্যানে নতুন লোড দিন। ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে টেক্সচার সবচেয়ে ভালো থাকে। নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় থাকলেও মানের জন্য সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার সার্ভিস উইন্ডো নির্ধারণ করুন।

রান্না করা ভাত বিপজ্জনক তাপমাত্রার সীমায় ফেলে রাখবেন না, কারণ Bacillus cereus-এর স্পোর রান্নার পরও টিকে থাকতে পারে এবং ধীরে ঠান্ডা হলে বৃদ্ধি পায়। তৈরি ফ্রাইড রাইস পুনরায় ব্যবহার করতে হলে অগভীর ট্রেতে দ্রুত ঠান্ডা করে ৫°C বা তার নিচে রাখুন। শুধু একবার পুনরায় গরম করুন এবং ভেতরের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C করুন, সম্ভব হলে অল্প তেল দিয়ে গরম ওকে। নির্ভরযোগ্য সময় ও তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়া রাখা ভাত ফেলে দিন।

পোরশন ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণ

এই ব্যাচে একটি স্ট্যান্ডার্ড মেইন-কোর্স পোরশন প্রায় ৩৬০ গ্রাম তৈরি ফ্রাইড রাইস। সম্ভাব্য চূড়ান্ত ইয়েল্ড প্রায় ১৪.৪ kg, যা দিয়ে প্রায় ৪০ প্লেট হবে। চালের পানি শোষণ, চিকেন ট্রিমিং, সবজির পানি ঝরানো এবং ট্রে বা ওকে লেগে থাকা খাবার অনুযায়ী প্রকৃত ইয়েল্ড বদলাবে।

প্রতিটি সার্ভিসের প্রথম পাঁচটি প্লেট ওজন করুন এবং গড় ওজন স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। বাটি বা হাতার চেয়ে ডিজিটাল স্কেল বেশি নির্ভরযোগ্য, তবে ব্যস্ত সময়ে যাচাই করা পোরশন স্কুপ ব্যবহার করা যায়। লিখিত পোরশন কন্ট্রোল পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং প্রতিবার একই ওজন হবে ধরে না নিয়ে চূড়ান্ত ব্যাচ ইয়েল্ড লিখে রাখুন।

যেসব ভুলে খরচ বাড়ে

অতিরিক্ত বড় ওক লোড, ভেজা ভাত, না মেপে সস দেওয়া এবং ভুলভাবে ঠান্ডা করাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। ওক অতিরিক্ত ভরলে তাপ কমে যায় এবং উপকরণ ভাজা না হয়ে ভাপে নরম হয়, ফলে বাবুর্চিকে বেশি তেল দিতে ও বেশি সময় রান্না করতে হয়। ভেজা সবজিতেও একই সমস্যা হয়, আর বেশি সয়া সস পুরো ব্যাচ এত নোনতা করতে পারে যে সেটি বিক্রি করা যাবে না।

  • ভাত চটকানো: বেশি জোরে নাড়লে দানা ভেঙে বাইরের অংশ আঠালো হয়।
  • তাজা গরম ভাত ব্যবহার: বাষ্পের কারণে ভাত ভাজা হয় না এবং দলা বাঁধে।
  • চিকেন বেশি রান্না: ছোট টুকরা শেষবার ওকে গরম করার সময় শুকিয়ে যায়।
  • পুরোনো ও নতুন স্টক মেশানো: এতে হোল্ডিংয়ের সময় বোঝা যায় না এবং সঠিক স্টক রোটেশন নষ্ট হয়।
  • পোরশন আন্দাজ করা: ৪০ প্লেটে সামান্য বেশি করে দিলেও এক বা একাধিক বিক্রিযোগ্য পোরশন কমে যেতে পারে।

ফুড কস্ট স্থির রাখার পদ্ধতি

নির্দিষ্ট ব্যাচ ওজন, অনুমোদিত সাপ্লায়ার ও রেকর্ড করা উৎপাদন ইয়েল্ড ফুড কস্ট স্থির রাখতে সাহায্য করে। চাল বা সবজির তুলনায় চিকেন ও ডিমের দামের ওঠানামা সাধারণত বেশি প্রভাব ফেলে। তেলের অপচয়, অতিরিক্ত ট্রিমিং ও বেশি পোরশন দেওয়া নীরবে মার্জিন কমায়। শুধু ক্রয়দর নয়, সাপ্লায়ারের প্যাকের মানও তুলনা করুন, কারণ বেশি চিকেন ট্রিমিং বা পানিযুক্ত সবজি ব্যবহারযোগ্য ইয়েল্ড কমায়।

ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট-এর অংশ হিসেবে চালের গ্রেড, চিকেনের কাট ও সয়া সসের প্যাক সাইজের স্টক স্পেসিফিকেশন রাখুন। পুরোনো ধরে নেওয়া দরের বদলে বর্তমান ক্রয় রেকর্ড দিয়ে নিয়মিত রেসিপি কস্টিং করুন। Rosuii-তে কাঁচামালকে production-এর মাধ্যমে তৈরি prep batch হিসেবে রেকর্ড করা যায় এবং প্রতিটি বিক্রিকে স্বয়ংক্রিয় recipe deduction না ধরে wastage, item sales ও profit-and-loss তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।

খরচ কোথায় বাড়ে

চিকেন ও ডিম এই রেসিপির প্রধান পরিবর্তনশীল খরচ, এরপর চাল ও রান্নার তেল। চিকেন ট্রিমিংয়ের ইয়েল্ড, ডিমের বাজারদর, চালের গ্রেড, তেল শোষণ এবং পোরশন নিয়মিত ওজন করা হচ্ছে কি না, তার ওপর খরচ বদলায়।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই চাইনিজ ফ্রাইড রাইস রেসিপি দ্বিগুণ করে ৮০ প্লেট করা যাবে?

হ্যাঁ, প্রস্তুত করা প্রতিটি উপকরণের পরিমাণ দ্বিগুণ করুন, তবে প্রতি ওক লোড প্রায় ১.৮ থেকে ২ kg রাখুন। প্রায় ১৬টি ওক ব্যাচ তৈরি করুন অথবা একই ক্ষমতার দুটি ওক স্টেশন চালান। এক ওকে দ্বিগুণ লোড দিলে ভাত ভাজার বদলে ভাপে নরম হবে।

ফ্রাইড রাইস কতক্ষণ হট হোল্ডিংয়ে রাখা যায়?

৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় রাখুন এবং ভালো টেক্সচারের জন্য প্রতিটি লোড ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে বিক্রি করার লক্ষ্য রাখুন। মানের জন্য সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার সীমা নির্ধারণ করুন, লেবেল লাগানো প্যান ব্যবহার করুন এবং নতুন লোড কখনো পুরোনো লোডের সঙ্গে মেশাবেন না।

চিকেনের বদলে চিংড়ি বা বিফ ব্যবহার করা যাবে?

হ্যাঁ, তবে প্রতিটি প্রোটিনের জন্য আলাদা cooked yield ও food-safety specification তৈরি করুন। চিংড়ি অনেক দ্রুত রান্না হয়, আর বিফের কাট, নরম করার পদ্ধতি ও আর্দ্রতা ওকে রান্নার সময় এবং খরচ বদলে দিতে পারে।

ভাজার আগে ঠান্ডা ভাত কতক্ষণ সংরক্ষণ করা যাবে?

ভালো কমার্শিয়াল ফলাফলের জন্য ঠিকভাবে ঠান্ডা করা ভাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন এবং ৫°C বা তার নিচে রাখুন। ঘরের তাপমাত্রায় পড়ে থাকা ভাত, ঠান্ডা করার ইতিহাস অজানা ভাত অথবা টক গন্ধ, পিচ্ছিল ভাব বা অস্বাভাবিক বিবর্ণতা থাকা স্টক ফেলে দিন।

তৈরি ব্যাচের ইয়েল্ড কত হওয়া উচিত?

লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪.৪ kg, অর্থাৎ ৩৬০ গ্রাম করে প্রায় ৪০ পোরশন। উৎপাদনের পর প্রকৃত ওজন রেকর্ড করুন, কারণ চালের পানি শোষণ, চিকেন ট্রিমিং, পানি ঝরানো এবং ওকে লেগে থাকা খাবারের কারণে চূড়ান্ত ইয়েল্ড বদলাতে পারে।
শেয়ার

কমার্শিয়াল চিকেন কর্ন স্যুপ রেসিপি

১২ লিটার বা প্রায় ৪৮ বাটি চিকেন কর্ন স্যুপের কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিত স্টক, কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে ঘন করা, নিরাপদ হট হোল্ডিং এবং ২৫০ ml পরিবেশন ধরা হয়েছে।

পরিমাণ:
২৫০ ml করে প্রায় ৪৮ বাটি
মোট:
২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিকেন ফ্রাইড রাইস রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল চিকেন ফ্রাইড রাইস রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিত ওয়ক ব্যাচ, নিরাপদে আগে থেকে রান্না করা চিকেন, এক দিনের ঠান্ডা ভাত ও নির্দিষ্ট পরিমাণের সার্ভিং ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

৪০ পরশনের জন্য রেস্টুরেন্ট চিকেন স্যুপ রেসিপি

প্রায় ১০ লিটার বাণিজ্যিক চিকেন স্যুপের রেসিপি, যেখানে ডেইলি চিকেন স্টক, নিয়ন্ত্রিত কর্নফ্লাওয়ার থিকনিং, ডিমের রিবন এবং নিরাপদ হট হোল্ডিং ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন