রেস্টুরেন্ট রেসিপি
কমার্শিয়াল বাংলাদেশি এগ রোল রেসিপি
৪০টি এগ রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে আগে থেকে পরোটা প্রস্তুত রাখা, দ্রুত তাওয়ায় অ্যাসেম্বলি, নির্দিষ্ট পরিমাণের ফিলিং এবং সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ দেখানো হয়েছে।

- প্রস্তুতি
- ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- রান্না
- ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
- মোট
- ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
- পরিমাণ
- প্রায় ৪০টি রোল
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
ডো মিশিয়ে রেস্ট দিন
ময়দা, ৫৫ গ্রাম লবণ ও চিনি ১ মিনিট মেশান। এরপর ২৫০ ml তেল ও অধিকাংশ পানি দিন। লো স্পিডে ৪ মিনিট এবং মিডিয়াম স্পিডে ৫ থেকে ৬ মিনিট মিক্স করুন। বাকি পানি থেকে শুধু যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু দিয়ে ২৬ থেকে ২৮°C তাপমাত্রার মসৃণ ও নরম ডো তৈরি করুন। ঢেকে ৩০ মিনিট রেস্ট দিন।
- 2
সমান ওজনের ডো বল করুন
ডো ওজন করে প্রায় ১৩৩ গ্রাম করে ৪০টি ভাগ করুন। প্রতিটি ভাগ টানটান করে গোল করুন, হালকা তেল মাখান এবং উপরিভাগ যাতে শুকিয়ে না যায় সেজন্য ঢেকে রাখুন। রুম টেম্পারেচারে ১৫ মিনিট রেস্ট দিন।
- 3
লেয়ার তৈরি করে পরোটা বেলুন
প্রতিটি বল পাতলা গোল রুটির মতো বেলে প্রায় ৬ ml তেল ছড়িয়ে দিন। ভাঁজ বা পেঁচিয়ে লেয়ার তৈরি করুন। তৈরি কয়েলগুলো আরও ১৫ মিনিট রেস্ট দিয়ে কিনারা না চেপে প্রতিটি ২৪ থেকে ২৫ সেমি ব্যাসে বেলুন। বেলা পরোটাগুলো আলাদা করে ঢেকে রাখুন।
- 4
পরে সার্ভিসের জন্য আংশিক সেঁকুন
তাওয়া ১৯০ থেকে ২০০°C গরম করে প্রতিটি পরোটা প্রতি পাশে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড সেঁকুন। লেয়ার সেট হয়ে হালকা ছোপ দেখা দিলে, গাঢ় বাদামি হওয়ার আগেই নামান। ১ ঘণ্টার মধ্যে ওয়্যার র্যাকে আলাদাভাবে ঠান্ডা করুন। এরপর ফুড-গ্রেড শিট দিয়ে আলাদা করে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন।
- 5
মেপে ফিলিং প্রস্তুত করুন
পেঁয়াজ, শসা, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা লবণ ছাড়া একসঙ্গে মেশান। মিশ্রণটি ঢেকে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় রাখুন এবং প্রতি রোলের জন্য প্রায় ৫১ গ্রাম করে পোরশন করুন। লেবুর রস, চাট মসলা, কাসুন্দি ও চিলি সস আলাদা মাপা ডিসপেনসারে রাখুন।
- 6
তাওয়ায় দুইটি তাপমাত্রা জোন রাখুন
মূল রান্নার জোন ১৯৫ থেকে ২০৫°C এবং দ্বিতীয় জোন ১৭০ থেকে ১৮০°C রাখুন। একটি আংশিক সেঁকা পরোটা প্রতি পাশে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড গরম করুন, যাতে এটি গরম, নমনীয় ও হালকা মচমচে হয়। ডিম প্রস্তুত করার সময় পরোটাটি কম তাপের জোনে সরিয়ে রাখুন।
- 7
ডিমের সঙ্গে পরোটা লাগান
একটি ডিম প্রায় ০.৫ গ্রাম লবণ দিয়ে ফেটিয়ে গরম তাওয়ায় পাতলা করে ছড়ান। ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গরম পরোটা ডিমের ওপর বসিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ৩৫ থেকে ৪৫ সেকেন্ড রান্না করুন। ডিম পুরো পরোটায় লেগে যেতে হবে এবং কোনো তরল অংশ থাকা যাবে না। মাঝের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C হতে হবে।
- 8
পরোটার পাশ মচমচে করুন
ডিম-লাগানো পরোটা উল্টে পরোটার পাশ ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড রান্না করুন। শক্ত ও গাঢ় কিনারা না করে হালকা সোনালি ছোপ এবং স্পষ্ট লেয়ার তৈরি করুন। ডিমের পাশ ওপরে রেখে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার অ্যাসেম্বলি সারফেসে নিন।
- 9
সমানভাবে ফিলিং ও মসলা দিন
মাঝখান থেকে সামান্য এক পাশে সরু লাইনে এক পোরশন সবজি দিন। ৫ ml লেবুর রস, প্রায় ১.৫ গ্রাম চাট মসলা, ১০ গ্রাম কাসুন্দি ও ১৫ গ্রাম চিলি সস যোগ করুন। সস ও ফিলিং যাতে বের না হয় সেজন্য নিচের ও পাশের কিনারা থেকে কিছুটা ফাঁকা রাখুন।
- 10
রোল করে দ্রুত পরিবেশন করুন
পরোটার নিচের কিনারা ফিলিংয়ের ওপর ভাঁজ করুন, এক পাশ ভেতরে ঢুকিয়ে পরোটা না চেপে শক্তভাবে রোল করুন। জোড়ার অংশ নিচে রেখে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড রাখুন, তারপর ফুড-গ্রেড কাগজে মোড়ান। সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করুন। প্রয়োজন হলে ১৭০ থেকে ১৮০°C শুকনা তাওয়ায় একবার উল্টে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড গরম করুন।
রান্নাঘরের জন্য নোট
এই এগ রোল রেসিপিতে ফুড কার্ট, ক্যাফে বা রেস্টুরেন্টের স্ন্যাকস কাউন্টারের জন্য একই মানের ৪০টি বাংলাদেশি স্টাইলের রোল তৈরি হবে। প্রতি পিসে থাকবে একটি লেয়ার করা পরোটা, একটি ডিম, কাটা সবজি, কাসুন্দি ও চিলি সস। সার্ভিসের আগেই পরোটা প্রস্তুত রাখা যায়, তাই ব্যস্ত সময়ে শুধু পরোটা গরম করা, ডিম রান্না, ফিলিং দেওয়া ও রোল করলেই হবে।
কমার্শিয়াল বিক্রির জন্য এগ রোল কার্যকর কেন
কম উপকরণ, একটি তাওয়ায় দ্রুত রান্না এবং অর্ডার অনুযায়ী অ্যাসেম্বলি করা যায় বলে এগ রোল কমার্শিয়াল বিক্রির জন্য কার্যকর। বেসিক রোলে আগে থেকে রান্না করা মাংসের ফিলিং, গ্রেভি স্টেশন বা ডিপ ফ্রায়ার লাগে না। ডিমের সাইজ, পরোটার ওজন, সস ও সবজির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে এটি ছোট কার্টের জন্য দ্রুত তৈরি করা যায় এমন সম্ভাব্য ভালো মার্জিনের আইটেম।
পরোটা ও সবজি প্রস্তুত থাকলে প্রশিক্ষিত একজন বাবুর্চি দুইটি তাওয়া জোন ব্যবহার করে প্রায় ২ থেকে ৩ মিনিটে একটি রোল শেষ করতে পারেন। ব্যস্ত সময়ে একজন তাওয়ার রান্না সামলাবেন এবং অন্যজন ফিলিং, রোল ও মোড়ক দেওয়ার কাজ করবেন। বেসিক এগ রোল সহজ রাখুন। অতিরিক্ত ডিম, চিজ বা চিকেন আলাদা ভ্যারিয়েশন হিসেবে বিক্রি করুন, প্রতিটি স্ট্যান্ডার্ড রোলে বাড়তি উপকরণ দেবেন না।
উপকরণ নির্বাচন ও মান নিয়ন্ত্রণ
এই এগ রোল রেসিপিতে দামি সসের চেয়ে পরোটার টেক্সচার ও ডিমের তাজা মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাঝারি প্রোটিনের ময়দা ব্যবহার করুন, যাতে ডো নমনীয় হয় কিন্তু পাউরুটির ডোর মতো না হয়। ময়দা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম পানি টানলে বেলার গতি, পরোটার চূড়ান্ত ব্যাস ও ব্যাচের ফলন বদলে যায়। তাই নতুন ময়দার চালান পূর্ণ উৎপাদনে নেওয়ার আগে পরীক্ষা করুন।
একই সাইজের ডিম বেছে নিন
ডিম পরিষ্কার, তাজা এবং একই সাইজ গ্রেডের হওয়া দরকার। ডিমের ওজনে বড় পার্থক্য থাকলে তাওয়ায় কভারেজ কমে যেতে পারে এবং বাবুর্চিকে বাড়তি ডিম ব্যবহার করতে হতে পারে। ফাটা ডিম বাদ দিন। গ্রহণ করা ডিমের ট্রে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় রাখুন এবং খাওয়ার জন্য প্রস্তুত শসা, পেঁয়াজ ও ধনেপাতা থেকে আলাদা রাখুন।
সবজির পানি নিয়ন্ত্রণ করুন
রোল থেকে পানি বের হওয়া ও নরম হয়ে যাওয়া ঠেকাতে শুকনা সবজি ব্যবহার করা জরুরি। শক্ত শসা নিন, যার মাঝের পানিযুক্ত বীজের অংশ ছোট। নরম স্তরবিহীন ভালো পেঁয়াজ বেছে নিন। কাটার আগে সবজি ধুয়ে পানি ভালোভাবে ঝরান এবং ঢেকে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় রাখুন। কাটা সবজিতে আগে থেকে লবণ দেবেন না, কারণ লবণ দিলে পানি বের হয়।
কাসুন্দি সরিষার ঝাঁজ ও টক স্বাদ দেয়, আর চিলি সস মিষ্টতা, রং ও আর্দ্রতা যোগ করে। দুর্বল পরোটার স্বাদ ঢাকতে বেশি সস ব্যবহার না করে একই স্বাদের নির্ভরযোগ্য পণ্য বেছে নিন। লেবুর রস টাটকা ও পরিষ্কার স্বাদের হতে হবে। বিচি বা খোসা চেপে তিতা হয়ে যাওয়া রস ব্যবহার করবেন না।
সার্ভিসের আগে পরোটা প্রস্তুতি
ব্যস্ত কার্টে দ্রুত এগ রোল সার্ভিস দেওয়ার প্রধান প্রস্তুতি হলো পরোটা আগে থেকে আংশিক সেঁকে রাখা। ডো মসৃণ হওয়া পর্যন্ত তৈরি করুন, যথেষ্ট সময় রেস্ট দিন এবং প্রতিটি ডো বল ওজন করে নিন। লেয়ার তৈরির তেল কিনারা পর্যন্ত পাতলা করে লাগাতে হবে। এক জায়গায় বেশি তেল জমলে পরোটা ছিঁড়ে যায়, আর খুব কম তেল দিলে পরোটা চ্যাপ্টা ও শক্ত হয়।
প্রতিটি পরোটা প্রায় ২৪ থেকে ২৫ সেমি ব্যাসে বেলুন। বেলার টেবিলে মাপ চিহ্নিত টেমপ্লেট রাখলে কর্মীরা একই ব্যাস বজায় রাখতে পারবেন। শুধু লেয়ার সেট হওয়া এবং হালকা বাদামি ছোপ দেখা দেওয়া পর্যন্ত আংশিক সেঁকুন। প্রস্তুতির সময় পুরো বাদামি করে ফেললে দ্বিতীয়বার তাওয়ায় গরম করার পর পরোটা শুকনা ও শক্ত হবে।
গরম পরোটা স্তূপ করে না রেখে ওয়্যার কুলিং র্যাকে আলাদাভাবে ঠান্ডা করুন। বাষ্প বের হয়ে গেলে ফুড-গ্রেড শিট দিয়ে প্রতিটি পিস আলাদা করে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন। শুধু পরের দিনের সম্ভাব্য চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করুন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করলে সার্ভিসের মান সবচেয়ে ভালো থাকে।
তাওয়া ওয়ার্কফ্লো ও ডিমের সময়
ডিম ছড়ানোর ১০ সেকেন্ডের মধ্যে গরম পরোটা তার ওপর বসানোই সঠিক এগ-টু-পরোটা টাইমিং। পরোটা লাগার আগেই ডিম জমে গেলে সেটি আলাদা পাতের মতো রান্না হবে এবং রোল থেকে সরে যাবে। পরোটা ঠান্ডা থাকলে তাওয়ার তাপমাত্রা কমে যাবে এবং ডিম জমতে বেশি সময় লাগবে।
তাওয়ার গরম রান্নার জোন ১৯৫ থেকে ২০৫°C এবং কম তাপের হোল্ডিং বা রিকভারি জোন ১৭০ থেকে ১৮০°C রাখুন। প্রথমে পরোটা নমনীয় ও ভেতর পর্যন্ত গরম করে নিন। অল্প সময়ের জন্য কম তাপের জোনে সরিয়ে রাখুন। গরম জোনে একটি মসলা দেওয়া ডিম পাতলা করে ছড়িয়ে সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর পরোটা চাপুন। চওড়া স্প্যাচুলা দিয়ে হালকা ও সমান চাপ দিন, যাতে পুরো পৃষ্ঠে ডিম লেগে যায়।
কিনারায় কোনো তরল ডিম না থাকা এবং মাঝের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। পরোটার পাশ আবার মচমচে করতে একবার উল্টে দিন, তবে ডিম জমে যাওয়ার পর বারবার চাপ দেবেন না। একটানা চাপ দিলে তেল বের হয়ে যায় এবং পরোটার লেয়ার চ্যাপ্টা হয়। প্রতিটি অর্ডারের মাঝখানে তাওয়ার পোড়া ডিমের সরু অংশ চেঁছে ফেলুন, নইলে পরের রোলে তিতা কালো দাগ হবে।
সঠিকভাবে ব্যাচ বাড়ানো বা কমানো
এই ব্যাচ হাতের আন্দাজ বা রান্নার সময় গুণ করে নয়, উপকরণের ওজন ও তাওয়ার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী স্কেল করতে হবে। ২০টি রোলের জন্য সব উপকরণ অর্ধেক করুন, তবে ডো বলের ওজন, পরোটার ব্যাস এবং প্রতি রোলে একটি ডিম অপরিবর্তিত রাখুন। ৮০টি রোলের জন্য উপকরণ দ্বিগুণ করুন, কিন্তু বড় লোডে ডো অতিরিক্ত গরম না করে মিক্সার ভালোভাবে ডেভেলপ করতে না পারলে দুই ব্যাচে ডো তৈরি করুন।
মিক্সিং শেষে ডোর তাপমাত্রা প্রায় ২৬ থেকে ২৮°C হওয়া উচিত। বড় মিক্সার লোডে ঘর্ষণ বেশি হয়, তাই প্রয়োজন হলে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন এবং ডো মসৃণ ও নমনীয় হলেই মিক্সিং বন্ধ করুন। উৎপাদন বাড়াতে তাওয়ায় ধারণক্ষমতার বেশি পরোটা দেবেন না। বেশি পরোটা দিলে তাওয়ার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমে, পানি শুকাতে সময় লাগে এবং পরোটা তেলতেলে ও ফ্যাকাশে হয়।
সার্ভিস স্কেল করার সময় যন্ত্রপাতির সঙ্গে কর্মীর সংখ্যাও মিলাতে হবে। একই সময়ে প্রায় চারটির বেশি অর্ডার এলে তাওয়ার রান্না এবং ফিলিং ও মোড়ক দেওয়ার কাজ আলাদা কর্মীকে দিন। প্রতিটি ফিলিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট মাপের একটি পাত্র রাখুন। পুরো ব্যাচ তাওয়ার পাশে না রেখে ফ্রিজ থেকে অল্প অল্প করে এনে পাত্র ভরুন।
হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা
তৈরি এগ রোল সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে এবং নিয়মিত সার্ভিসের জন্য অ্যাসেম্বল করা অবস্থায় ধরে রাখা উচিত নয়। ডিম ও সবজির বাষ্প কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরোটা নরম করে দেয়। অর্ডার অপেক্ষায় রাখতে হলে পরিষ্কার উষ্ণ জায়গায় সর্বোচ্চ প্রায় ৫ মিনিট মোড়ক ছাড়া রাখুন এবং হস্তান্তরের ঠিক আগে মোড়ক দিন।
অ্যাসেম্বল করা রোল স্টিম ক্যাবিনেটে রাখবেন না। পিকআপ দেরি হলে ১৭০ থেকে ১৮০°C শুকনা তাওয়ায় ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড একবার উল্টে গরম করুন। পুনরায় গরম করলে বাইরের অংশ কিছুটা মচমচে হবে, কিন্তু শসা ও সস থেকে পরোটায় ঢুকে যাওয়া আর্দ্রতা পুরোপুরি দূর হবে না।
আংশিক সেঁকা পরোটা প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজে রাখুন এবং অল্প সময়ের সার্ভিসে যতটুকু লাগবে ততটুকুই বের করুন। গরম রান্নাঘরে ৫°C-এর বেশি তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার বেশি থাকা প্রস্তুত সবজি ফেলে দিন। কাটা সবজি প্রতিদিন প্রস্তুত করাই ভালো, কারণ বেশি সময় রাখলে শসা শক্তভাব হারায় এবং কাটা পেঁয়াজে তীব্র গন্ধ তৈরি হয়।
পরিমাণ ও ফলন নিয়ন্ত্রণ
প্রতি রোলের নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ হলো ১৩৩ গ্রাম ওজনের একটি ডো বল, একটি ডিম এবং মেপে দেওয়া এক সেট ফিলিং। ডো ও সবজির জন্য ওজন মাপার স্কেল, সসের জন্য পোরশন পাম্প বা স্কুইজ বোতল এবং অল্প ব্যাচে ডিম ফাটিয়ে রাখলে বিটেন এগের জন্য ছোট লাডল ব্যবহার করুন। পুরো ট্রের কাঁচা ডিম একসঙ্গে ফাটিয়ে রাখবেন না। একবারে শুধু ৬ থেকে ৮টি ডিম ফাটিয়ে ফ্রিজে রাখুন এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার করুন।
লিখিত পোরশন কন্ট্রোল মান অনুসরণ করুন এবং প্রতিটি শিফটের প্রথম পাঁচটি রোল পরীক্ষা করুন। তৈরি রোলগুলোর ব্যাস, ফিলিংয়ের রেখা ও ভাঁজের সংখ্যা একই হওয়া উচিত। ভাঙা ডিম, ছেঁড়া পরোটা, পোড়া পিস ও অবিক্রীত সবজির হিসাব রাখলে বাস্তবসম্মতভাবে খাবারের অপচয় কমানো সহজ হয়।
যেসব ভুলে খরচ বাড়ে
বড় ডো বল, অনিয়ন্ত্রিত সস, ছেঁড়া পরোটা এবং পরোটা প্রস্তুত হওয়ার আগে ডিম রান্না করা সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। বড় পরোটা নীরবে ব্যাচের ফলন কমায়, আর অতিরিক্ত সস খরচ বাড়িয়ে রোল থেকে গড়িয়ে পড়ে। ঠান্ডা বা শক্ত পরোটা রোল করার সময় ছিঁড়ে যায় এবং প্রায়ই নতুন করে বানাতে হয়।
- ডো রেস্ট বাদ দেওয়া: বেলার সময় ডো সংকুচিত হয়, উৎপাদনের গতি কমে এবং পরোটার কিনারা মোটা হয়।
- গরম পরোটা স্তূপ করা: আটকে থাকা বাষ্প পরোটার পৃষ্ঠ আঠালো করে এবং লেয়ার নষ্ট করে।
- কম গরম তাওয়া ব্যবহার করা: বাদামি হওয়ার আগেই পরোটা তেল শোষণ করে এবং ডিম জমতে বেশি সময় নেয়।
- অতিরিক্ত সবজি দেওয়া: রোল ঠিকভাবে বন্ধ হয় না এবং ফিলিং মোড়কের ভেতর পড়ে যায়।
- কাটা শসা গরম জায়গায় রাখা: পানি বের হয়ে পরের দিকের পোরশনগুলো শুরুর পোরশনের চেয়ে বেশি ভেজা হয়।
- না মেপে সস ঢালা: বাবুর্চিভেদে পোরশন বদলে যায় এবং ফুড কস্টের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়।
খরচ স্থিতিশীল রাখা
নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী, মাপা পোরশন ও সঠিক উৎপাদন রেকর্ডের মাধ্যমে এগ রোলের খরচ স্থিতিশীল রাখা যায়। সাধারণত ডিম ও রান্নার তেলের দামের পরিবর্তন খরচে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। ময়দার ফলন এবং সবজি কাটার সময় বাদ যাওয়া অংশও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কেনা উপকরণের হিসাব না করে প্রত্যাশিত ৪০টির বিপরীতে আসলে কতটি রোল তৈরি হয়েছে তা মিলিয়ে দেখুন।
ডিমের সাইজ, ময়দার ব্র্যান্ড, তেল শোষণ বা সসের প্যাক সাইজ বদলালে লিখিত রেসিপি কস্টিং শিট ব্যবহার করুন। Rosuii-তে কাঁচামাল, সরবরাহকারী, উৎপাদনের পরিমাণ ও অপচয় রেকর্ড করে আইটেম বিক্রি এবং লাভ-ক্ষতির রিপোর্ট তুলনা করা যায়। তবে প্রতিটি বিক্রির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেসিপির কাঁচামাল কেটে যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়।
খরচ কোথায় বাড়ে
পরিবর্তনশীল খরচে সাধারণত ডিম ও রান্নার তেলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, এরপর ময়দা ও বোতলজাত সস। ডিমের সাইজ ও বাজারে সরবরাহ, তেল শোষণ, ময়দার ফলন, সসের পোরশন এবং সবজি কাটার বাদ যাওয়া অংশের কারণে খরচ বদলায়। তাই প্রতিটি বিষয় মেপে রাখতে হবে।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই এগ রোল রেসিপি ৮০টি রোলের জন্য কীভাবে স্কেল করব?
আংশিক সেঁকা পরোটা কতক্ষণ সংরক্ষণ করা যায়?
ব্যস্ত সময়ের জন্য তৈরি এগ রোল ধরে রাখা যাবে কি?
কাসুন্দির বদলে অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে কি?
ব্যাচে ৪০টির কম রোল হওয়ার কারণ কী?
সম্পর্কিত রেসিপি
কমার্শিয়াল বাংলাদেশি বিফ রোল রেসিপি
৪০টি সমান মানের বিফ রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নরম ও শুকনা বিফ ফিলিং, মচমচে সবজি, নিয়ন্ত্রিত সস এবং সার্ভিসের ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে।
- পরিমাণ:
- ৪০টি বিফ রোল
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল চিকেন মোমো রেসিপি
প্রায় ২০০টি চিকেন মোমোর কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নির্দিষ্ট ওজনের খোল ও রসালো পুর, দ্রুত ভাঁজ, ব্যাচ স্টিমিং, ফ্রিজিং এবং চাটনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম রয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল বাংলাদেশি চিকেন রোল রেসিপি
পরতওয়ালা পরোটা, মসলাদার চিকেন, ডিম, টাটকা সবজি ও নির্দিষ্ট পরশন দিয়ে ৪০টি বড় চিকেন রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি।
- পরিমাণ:
- ৪০টি বড় চিকেন রোল
- মোট:
- ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

