মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

বাণিজ্যিক কষা মাংস রেসিপি

নিয়ন্ত্রিত মেরিনেশন, ধীরে ভুনা, খাসির মাংসের নির্ভরযোগ্য নরমভাব এবং সার্ভিস ব্যবস্থাপনাসহ ৪০ প্লেটের বাণিজ্যিক কষা মাংস রেসিপি।

শেয়ার
সার্ভিং বাটিতে ধীরে রান্না করা হাড়সহ খাসির মাংস, আলু ও ঘন মসলাদার পেঁয়াজের ঝোলসহ গাঢ় রঙের কষা মাংস।
প্রস্তুতি
৪৫ মিনিট
রান্না
৩ ঘণ্টা
মোট
৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
কঠিন
ধরন
Bengali

প্রণালী

  1. 1

    মাংস ট্রিম করে ওজন করুন

    আলগা হাড়ের টুকরা, গ্ল্যান্ড ও অতিরিক্ত শক্ত চর্বি সরানোর সময় খাসির মাংস ৫°C বা তার নিচে রাখুন। ২০ মিনিটের মধ্যে ট্রিমিং শেষ করে ব্যবহারযোগ্য ওজন লিখে রাখুন। টুকরাগুলো সমান আকারের হতে হবে এবং উপরিভাগ ঠান্ডা থাকবে, আঠালো নয়।

  2. 2

    রেফ্রিজারেশনে মেরিনেট করুন

    খাসির মাংসের সঙ্গে দই, আদা বাটা, রসুন বাটা, ১০০ গ্রাম লবণ, হলুদ ও ঝাল মরিচের গুঁড়া ৩ থেকে ৪ মিনিট মেশান। ঢেকে ৫°C বা তার নিচে ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা মেরিনেট করুন এবং সময়ের মাঝামাঝি একবার উল্টে দিন। মসলার আবরণ সমান হতে হবে এবং কোথাও শুকনা মসলা জমে থাকা যাবে না।

  3. 3

    পানি ও তেল গরম করুন

    মাপা পানি আলাদা পাত্রে ৯০ থেকে ৯৫°C পর্যন্ত গরম করে রাখুন। মূল হাঁড়িতে সরিষার তেল প্রায় ১৭৫°C তাপমাত্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট গরম করুন। তেলের কাঁচা ঝাঁজ কমে উপরিভাগ চকচক করলে পরের ধাপে যান।

  4. 4

    আলু বাদামি করুন

    আলুর পোরশন দুই বা তিন ব্যাচে ১৭০ থেকে ১৮০°C তাপমাত্রায় প্রতি ব্যাচ ৬ থেকে ৮ মিনিট ভাজুন। উল্টেপাল্টে কিনারা হালকা সোনালি করুন, তবে মাঝখান শক্ত রাখুন। তেল ঝরিয়ে নিন এবং সঙ্গে ব্যবহার করলে ঢেকে ৬০°C-এর ওপরে রাখুন।

  5. 5

    আস্ত মসলার ফোড়ন দিন

    তেলের তাপমাত্রা প্রায় ১৬৫°C-এ নামিয়ে আস্ত গরম মসলা দিন। এলাচ ফুলে ওঠা ও দারুচিনির সুগন্ধ বের হওয়া পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড নাড়ুন। লবঙ্গ কালো হতে শুরু করলে হাঁড়ি সাময়িকভাবে চুলা থেকে সরিয়ে নিন।

  6. 6

    ধীরে পেঁয়াজ বাদামি করুন

    কাটা পেঁয়াজ, বাকি লবণ ও চিনি দিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬৫°C তাপমাত্রায় ২৫ থেকে ৩৫ মিনিট রান্না করুন। শুরুতে প্রতি ২ থেকে ৩ মিনিট পর নাড়ুন এবং শেষের দিকে একটানা নাড়ুন। পেঁয়াজ গাঢ় সোনালি ও কিনারা বাদামি হলে থামুন, তবে কোনো কালো পোড়া দাগ থাকা যাবে না।

  7. 7

    গুঁড়া মসলা কষান

    জিরা, ধনে ও কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়ার সঙ্গে ২৫০ ml গরম পানি মিশিয়ে পেঁয়াজে দিন। ১৪০ থেকে ১৫৫°C তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট তলা চেঁছে কষান। কাঁচা গন্ধ চলে গিয়ে মসলার চারপাশে আবার তেলের ফোঁটা দেখা দিলে প্রস্তুত।

  8. 8

    মেরিনেট করা মাংস কষান

    ঠান্ডা মেরিনেট করা খাসির মাংস দুই ধাপে হাঁড়িতে দিন এবং প্রতিবার হাঁড়ির তাপ ফিরে আসার সময় দিন। ঢাকনা ছাড়া ১৫০ থেকে ১৬৫°C তাপমাত্রায় ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট রান্না করুন। প্রতি ৩ থেকে ৫ মিনিট পর তলা থেকে উল্টে দিন। ছাড়া পানি শুকিয়ে প্রতিটি টুকরায় গাঢ় চকচকে মসলা লেগে গেলে এই ধাপ শেষ।

  9. 9

    ঢেকে নির্ভরযোগ্যভাবে নরম করুন

    ১.৭৫ লিটার গরম পানি দিয়ে তরল ৯৫ থেকে ৯৮°C-এ আনুন। ঢেকে মৃদু আঁচে ৭৫ মিনিট টগবগ করে রান্না করুন। বাদামি করা আলু দিন এবং প্রয়োজন হলেই শুধু বাড়তি গরম পানি যোগ করুন। আরও ২৫ থেকে ৪৫ মিনিট রান্না করুন। কয়েকটি মোটা মাংসের টুকরায় শিক সামান্য বাধায় ঢুকলে এবং আলু আকার ধরে রাখলে রান্না হয়েছে।

  10. 10

    ফিনিশিং দিয়ে ব্যাচ বিশ্রাম দিন

    ঝোল পাতলা থাকলে ঢাকনা খুলে ৯০ থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট কমিয়ে নিন। গরম মসলা গুঁড়া ও ঘি আলতোভাবে মিশিয়ে লবণ পরীক্ষা করুন। এরপর ঢেকে ৬০°C-এর ওপরে ১৫ মিনিট বিশ্রাম দিন। প্রস্তুত ঝোল গাঢ়, চকচকে এবং মাংসের গায়ে লেগে থাকার মতো ঘন হবে।

রান্নাঘরের জন্য নোট

বাণিজ্যিকভাবে কষা মাংস কেন কার্যকর

কষা মাংস রেস্টুরেন্ট ও ফুড কার্টের জন্য কার্যকর, কারণ এটি সার্ভিসের আগে রান্না করে নির্ভুলভাবে ভাগ করা যায় এবং স্বাদ ও গঠন নষ্ট না করে আবার গরম করা যায়। ঘন পেঁয়াজ-মসলার আবরণ মাংস শুকিয়ে যাওয়া কমায়, আর আলু ও ঘন ঝোল প্রতিটি প্লেটকে পরিপূর্ণ দেখায়। ভাত, পোলাও, খিচুড়ি, লুচি, পরোটা এবং সেট মেনুর সঙ্গেও এটি মানানসই।

এই রান্নার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রতি ব্যাচে একই ফল পাওয়া। সরবরাহকারীভেদে খাসির বয়স, টুকরার আকার, হাড়ের অনুপাত ও সংযোজক টিস্যু বদলায়। তাই শুধু নির্দিষ্ট সময় ধরে রান্না করলে কখনো মাংস শক্ত থেকে যায়, আবার কখনো অতিরিক্ত নরম হয়ে টুকরা ভেঙে যায়। বাণিজ্যিক রান্নাঘরে কাঁচা মাংসের কাট স্পেসিফিকেশন, মেরিনেশনের তাপমাত্রা, হাঁড়ির লোড, পানি শুকানোর হার এবং চূড়ান্ত নরমভাব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

উপকরণ নির্বাচন ও মান নিয়ন্ত্রণ

দামি ফিনিশিং মসলার চেয়ে খাসির মাংসের মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সরবরাহকারী স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী হাড়সহ কাঁধ, রান, ঘাড় ও পাঁজরের মিশ্র কাট কিনুন এবং প্রতিটি টুকরা প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ গ্রাম রাখুন। অতিরিক্ত ছোট হাড়ের টুকরা, পুরু বাইরের চর্বি বা স্পষ্টভাবে ভিন্ন আকারের পশুর মাংস মেশানো ব্যাচ এড়িয়ে চলুন। এগুলো অসমভাবে সিদ্ধ হয় এবং পোরশন নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে।

খাসির মাংস নির্বাচন

শুধু চর্বিহীন রান ব্যবহার করার চেয়ে হাড়সহ মিশ্র কারি কাট ভালো স্বাদ ও নিয়ন্ত্রিত ইয়েল্ড দেয়। কাঁধ ও ঘাড়ে থাকা কোলাজেন ধীরে রান্নায় নরম হয়, আর কিছু রান-এর টুকরা পরিষ্কার পোরশন দেয়। শক্ত অতিরিক্ত চর্বি, গ্ল্যান্ড ও আলগা হাড় সরানোর পর প্রাপ্ত ওজন নথিভুক্ত করুন। ডেলিভারিভেদে ট্রিমিং লস হঠাৎ বেড়ে গেলে ক্ষতি রান্নাঘরের হিসাবে লুকিয়ে না রেখে সরবরাহকারীর সঙ্গে কাটের মান ঠিক করুন।

পেঁয়াজ ও দই নির্বাচন

পরিণত ও শক্ত পেঁয়াজ শক্তিশালী কষার বেস তৈরি করে এবং নরম বা অঙ্কুর বের হওয়া পেঁয়াজের তুলনায় কম অনিয়ন্ত্রিত পানি ছাড়ে। সব পেঁয়াজ সমান পাতলা করে কাটুন, যাতে একই সময়ে বাদামি হয়। বেশি পানিযুক্ত পেঁয়াজ শুকাতে বেশি সময় লাগে এবং জ্বালানি ও শ্রমের ব্যবহার বাড়ায়।

চিনি ছাড়া সাদা টক দই ব্যবহার করুন, যার অম্লতা মাঝারি। মসলায় মেশানোর আগে দই মসৃণ করে ফেটিয়ে নিন, যাতে সাদা দলা না থাকে। অতিরিক্ত টক দই চূড়ান্ত স্বাদ ঢেকে দিতে পারে, আর পাতলা দইয়ের বাড়তি পানি পরে শুকাতে হয়।

মসলা ও তেলের ব্যবহার

তাজা আদা, রসুন ও গুঁড়া মসলা রান্নার ঘ্রাণ তৈরি করে, কিন্তু বেশি মসলা দিয়ে ঠিকমতো বাদামি না করা পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করা যায় না। জিরা, ধনে ও মরিচের গুঁড়া বায়ুরোধী পাত্রে চুলার তাপ থেকে দূরে রাখুন। সরিষার তেলে পরিষ্কার ঝাঁজালো ঘ্রাণ থাকতে হবে, বাসি বা রঙের মতো গন্ধ নয়। আস্ত গরম মসলায় আর্দ্রতা, পোকা বা ধুলার আস্তরণ থাকা যাবে না।

ধীরে কষানোর কৌশল কীভাবে কাজ করে

সঠিক কষা রান্নায় বারবার আর্দ্রতা কমানো হয়, যতক্ষণ না তেল আলাদা হয়ে মসলা মাংসের গায়ে শক্তভাবে লেগে যায়। এটি শুধু দীর্ঘ সময় ফুটিয়ে রান্না করা নয়। প্রথমে পেঁয়াজ বাদামি করে মিষ্টতা ও রং তৈরি করতে হয়। এরপর নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতায় গুঁড়া মসলা রান্না করতে হয়, যাতে পুড়ে না গিয়ে কাঁচা গন্ধ দূর হয়।

ঠান্ডা মেরিনেট করা মাংস হাঁড়িতে দেওয়ার পর পানি ছাড়ে এবং রান্নার তল ঠান্ডা করে। হাঁড়ি খোলা রেখে প্রতি ৩ থেকে ৫ মিনিট পর তলা থেকে মাংস উল্টে দিন। পানি শুকানোর সঙ্গে ভেজা টগবগ শব্দ বদলে তীক্ষ্ণ ভাজার শব্দ হবে, রং গাঢ় হবে এবং কিনারায় ছোট তেলের ফোঁটা দেখা যাবে। এই ধাপ শেষ হওয়ার আগে মসলা তলায় ধরতে শুরু করলে অল্প অল্প গরম পানি দিন।

মাংসের গায়ে গাঢ় বাদামি আবরণ তৈরি হওয়ার পরই ঢেকে নরম করার ধাপ শুরু হবে। গরম পানি হাঁড়ির তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং বারবার ঠান্ডা হয়ে মাংস শক্ত হওয়া কমায়। জোরে ফুটানোর বদলে মৃদু আঁচে টগবগ রাখুন। মাংসের সবচেয়ে মোটা অংশে চিকন শিক ঢোকালে সামান্য বাধা থাকবে, কিন্তু তুলে ধরলে টুকরা হাড়ের সঙ্গে লেগে থাকবে।

মেরিনেশন ও উৎপাদন পরিকল্পনা

সমানভাবে মসলা ঢোকানো ও মাংসের উপরিভাগ নরম করার জন্য খাসির মাংস ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা রেফ্রিজারেশনে মেরিনেট করুন। মাংস ৫°C বা তার নিচে অগভীর ফুড-গ্রেড পাত্রে রাখুন। চুলার পাশে গভীর গরম টাবে রাখবেন না। বড় ব্যাচ হলে সময়ের মাঝামাঝি একবার উল্টে দিন, যাতে দই, লবণ ও সুগন্ধি উপকরণ সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে।

উৎপাদন সূচিতে প্রয়োজন না থাকলে নিয়ম করে সারা রাত মেরিনেট করবেন না। দীর্ঘ সময় অ্যাসিডিক মেরিনেশনে কেন্দ্র শক্ত থাকলেও উপরিভাগ বেশি নরম হয়ে যেতে পারে। ফলে দীর্ঘ রান্নায় টুকরা ছেঁড়া বা ভাঙা দেখায়। পেঁয়াজের বেস প্রায় প্রস্তুত হলে তবেই মাংস রেফ্রিজারেশন থেকে বের করুন।

নিরাপদভাবে ব্যাচ বড় বা ছোট করা

কষা মাংসের ব্যাচ শুধু সব উপকরণ গুণ করে নয়, হাঁড়ির ধারণক্ষমতা ও তলের ক্ষেত্রফল অনুযায়ী বাড়াতে হবে। মাংস দেওয়ার পর ভারী হাঁড়ি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভরা যাবে না। রেসিপি দ্বিগুণ করলে দুটি হাঁড়ি বা সঠিক মাপের টিল্টিং ব্রেইজিং প্যান ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ভরা হাঁড়িতে বাষ্প বের হতে পারে না এবং কষানোর বদলে মাংস সেদ্ধ হতে থাকে।

কাঁচা মাংসের ওজন অনুযায়ী খাসির মাংস, লবণ, দই ও গুঁড়া মসলার অনুপাত ঠিক রাখুন। পানির হিসাব আলাদা। ছোট ব্যাচে বাষ্পীভবন দ্রুত হয়, তাই আনুপাতিক পানির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দিয়ে শুরু করে প্রয়োজন হলে বাড়ান। বড় ব্যাচে গভীর হাঁড়ি তুলনামূলক ধীরে পানি হারায়, তাই গরম পানি ধাপে ধাপে দিন।

একাধিক হাঁড়ি ব্যবহার করলে মাংস, মেরিনেড ও বাদামি পেঁয়াজের বেস ওজন করে ভাগ করুন। হাতা দিয়ে আন্দাজ করবেন না। কাঁচামাল, ট্রিমিং ও রান্না শেষে মোট উৎপাদন ওজন লিখে রাখুন, যাতে এক ব্যাচের সঙ্গে পরের ব্যাচ তুলনা করা যায়। Rosuii productions-এ কাঁচামাল থেকে প্রস্তুত কষা মাংসের ব্যাচে রূপান্তর রেকর্ড করা যায়। ওয়েস্টেজ ও বিক্রয় রিপোর্ট দেখে ব্যাখ্যাহীন ইয়েল্ড লস শনাক্ত করা যায়।

সার্ভিসের জন্য হট হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা

প্রস্তুত কষা মাংস ৬০°C-এর ওপরে রাখুন এবং সরাসরি বেশি আঁচ থেকে রক্ষা করুন। ঢাকনাযুক্ত বেইন-মেরি বা স্টিম টেবিল ব্যবহার করুন। প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর তলা থেকে তুলে ধীরে নাড়ুন, যাতে আলু না ভাঙে। ভালো মাংস ও আলুর গঠনের জন্য হট হোল্ডিং করা ব্যাচ প্রায় ৩ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করুন। বেশি সময় রাখলে মাংস অতিরিক্ত নরম হয় এবং ঝোল ক্রমাগত ঘন হতে থাকে।

সার্ভিসের সময় ঘনত্ব ঠিক করার জন্য মাপা পরিমাণ গরম পানি বা হালকা লবণবিহীন স্টক আলাদা রাখুন। ঝোল অতিরিক্ত ঘন হলেই অল্প পরিমাণে যোগ করুন। পুরোনো ব্যাচকে টাটকা দেখাতে বারবার তেল যোগ করবেন না।

পরের সার্ভিসের জন্য কারি অগভীর প্যানে দ্রুত ঠান্ডা করুন। ২ ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরের ৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C-এ নামান। একবারই পুনরায় গরম করুন এবং পুরো ব্যাচের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C হলে হট হোল্ডিংয়ে নিন। অল্প পানি দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে গরম করলে ঘন মসলা পুড়ে যাবে না।

পোরশন ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণ

ব্যাচ কাউন্টারে যাওয়ার আগেই প্রতি প্লেটে মাংসের টুকরার সংখ্যা, আলু ও মোট সার্ভিং ওজন নির্ধারণ করুন। এই ব্যাচে প্রতি প্লেটের জন্য প্রায় ২০০ গ্রাম কাঁচা হাড়সহ খাসির মাংস, এক পোরশন আলু এবং রেস্টুরেন্টের ঘোষিত প্লেট ওজন পূরণের মতো ঘন ঝোল বরাদ্দ করুন। হাড়ের আকার বদলায়, তাই শুধু হাতার ওপর নির্ভর না করে টুকরার সংখ্যা ও ওজন দুটোই ব্যবহার করুন।

রান্নার আগে ব্যবহারযোগ্য মাংসের টুকরা গুনে নিন এবং বড় ও ছোট টুকরা সব পোরশনে ভাগ করে দিন। আলুর জন্য নির্দিষ্ট সলিড চামচ এবং ঝোলের জন্য আলাদা মাপা হাতা রাখুন। রেকর্ড করা বিক্রয়সংখ্যার আগে খাবার শেষ হয়ে গেলে পোরশন কন্ট্রোল পদ্ধতি পর্যালোচনা করুন।

যেসব ভুলে খরচ বাড়ে

ভুল মাংসের স্পেসিফিকেশন, তাড়াহুড়া করে পেঁয়াজ বাদামি করা, অতিরিক্ত ভরা হাঁড়ি এবং অনিয়ন্ত্রিত সার্ভিং সবচেয়ে বেশি খরচ বাড়ায়।

  • হাঁড়ি অতিরিক্ত ভরা: বাষ্প বের হতে পারে না, ফলে রান্নায় বেশি সময় লাগে এবং কারির রং ফ্যাকাশে থাকে।
  • মসলা পুড়িয়ে ফেলা: পোড়া পেঁয়াজ বা মসলার তিতা স্বাদ পুরো ব্যাচে ছড়িয়ে যায় এবং চিনি দিয়ে তা দূর করা যায় না।
  • শুরুতেই সব পানি দেওয়া: মাংসের গায়ে গাঢ় ও ঘন মসলার আবরণ তৈরি হওয়ার আগেই মাংস ফুটে সেদ্ধ হতে থাকে।
  • অসম আকারের কাট ব্যবহার: বড় টুকরা নরম হওয়ার আগেই ছোট টুকরা ভেঙে যায়।
  • শুধু সময় দেখে রান্না: বেশি বয়সের খাসি নরম হতে অনেক বেশি সময় নিতে পারে। তাই শিক দিয়ে পরীক্ষা করুন এবং কয়েক ধরনের টুকরা দেখুন।
  • আন্দাজে পোরশন দেওয়া: শুরুর প্লেটগুলোতে বেশি মাংস দিলে ব্যস্ত সার্ভিসের সময় ঘাটতি হয়।

ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখা

শুধু সরবরাহকারীর দাম তুলনা না করে ব্যবহারযোগ্য খাসির মাংসের ইয়েল্ড মাপা থেকেই স্থিতিশীল খরচ নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়। নিয়মিত রেসিপি কস্টিং পদ্ধতিতে কেনা ওজন, ট্রিমিং, বেশি হাড়যুক্ত ডেলিভারি, রান্নার পর ইয়েল্ড এবং বিক্রি হওয়া প্লেট নথিভুক্ত করুন। খাসির মাংস মোট খরচের প্রধান অংশ। তেল, পেঁয়াজ, আলু ও মসলা সহায়ক খরচ ও চূড়ান্ত ইয়েল্ডে প্রভাব ফেলে।

বাজারদর বাড়লে অনানুষ্ঠানিকভাবে মাংসের বরাদ্দ কমাবেন না। প্লেট স্পেসিফিকেশন, সঙ্গে দেওয়া খাবার, সরবরাহকারীর কাট এবং বিক্রয় কৌশল একসঙ্গে পর্যালোচনা করুন। এরপর পরিবর্তিত ফুড কস্ট পারসেন্টেজ পর্যবেক্ষণ করুন। চুলার পাশে হিসাব না রেখে পরিবর্তন করার চেয়ে নির্ধারিত ক্রয়মান ও সঠিক উৎপাদন রেকর্ড বেশি নির্ভরযোগ্য।

খরচ কোথায় বাড়ে

হাড়সহ খাসির মাংস মোট খরচের প্রধান অংশ। বাজারে সরবরাহ, পশুর বয়স, ট্রিমিং লস, হাড়ের অনুপাত এবং সরবরাহকারীর কাটের ধারাবাহিকতার কারণে ব্যবহারযোগ্য ইয়েল্ড বদলায়। সরিষার তেল ও দই পরের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনশীল খরচ। অনিয়ন্ত্রিত পোরশন মসলার সামান্য পরিবর্তনের চেয়েও প্রতি প্লেটের খরচ বেশি বাড়াতে পারে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই কষা মাংসের রেসিপি কি দ্বিগুণ করে ৮০ প্লেট করা যাবে?

হ্যাঁ, তবে দুটি ২৫ লিটারের হাঁড়ি অথবা পর্যাপ্ত তলের ক্ষেত্রফলযুক্ত বড় ব্রেইজিং প্যান ব্যবহার করুন। মাংস, মেরিনেড ও পেঁয়াজের বেস ওজন করে ভাগ করুন। প্রতিটি পাত্র দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভরবেন না এবং পানি সরাসরি দ্বিগুণ না করে ধাপে ধাপে গরম পানি দিন।

কষা মাংস কতক্ষণ হট হোল্ডিংয়ে রাখা যায়?

এটি ৬০°C-এর ওপরে রাখুন এবং ভালো মাংস ও আলুর গঠনের জন্য প্রায় ৩ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির লক্ষ্য রাখুন। প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর আলতোভাবে নাড়ুন। ঝোল অতিরিক্ত ঘন হলে শুধু মাপা গরম পানি যোগ করুন।

এই বাণিজ্যিক রেসিপিতে খাসির বদলে গরুর মাংস ব্যবহার করা যাবে?

একই কষানোর পদ্ধতিতে গরুর মাংস রান্না করা যায়, তবে সেটি আলাদা পদ হবে এবং রান্নার সময় নির্বাচিত কাটের ওপর নির্ভর করবে। চাক, কাঁধ বা অন্য ব্রেইজিং কাট ব্যবহার করুন, টুকরার আকার নির্দিষ্ট রাখুন এবং খাসির সময় অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নরমভাব পরীক্ষা করুন।

রান্নার পর রেফ্রিজারেশনে কতক্ষণ রাখা যাবে?

দ্রুত ঠান্ডা করে ঢেকে ৫°C বা তার নিচে সংরক্ষণ করলে বাণিজ্যিক সার্ভিসে রান্না করা কারি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকু পুরোপুরি কমপক্ষে ৭৪°C পর্যন্ত পুনরায় গরম করুন। পুনরায় গরম করা অবশিষ্ট কারি নতুন ব্যাচের সঙ্গে মেশাবেন না।

ব্যাচ থেকে ৪০ প্লেটের কম হওয়ার কারণ কী?

ব্যবহারযোগ্য কাঁচা মাংসের ওজন, ট্রিমিং লস, মাংসের টুকরার সংখ্যা, আলুর সংখ্যা, বাষ্পীভবন এবং সার্ভিং ওজন পরীক্ষা করুন। বেশি হাড়যুক্ত মাংস কেনা, অতিরিক্ত ঝোল শুকানো, নাড়ার সময় টুকরা ভাঙা এবং কাউন্টারে আন্দাজে মাংস দেওয়া সাধারণ কারণ।
শেয়ার

কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি, যাতে আছে নরম হাড়সহ গরুর মাংস, ঘি-সমৃদ্ধ উৎসবের গ্রেভি, নিয়ন্ত্রিত পরশন এবং সার্ভিস নির্দেশনা।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি

৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাংস নরম করা, ধীরে তাওয়ায় রান্না, সার্ভিস হোল্ডিং এবং প্রতিটি প্লেটের সমান পরিমাণ নিশ্চিত করার পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ২০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল ভুনা খিচুড়ি রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল ভুনা খিচুড়ি রেসিপি, যেখানে চাল ও ডালের অনুপাত ২:১ এবং পানির নিয়ন্ত্রণ, সার্ভিস হোল্ডিং ও চূড়ান্ত ইল্ডের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন