রেস্টুরেন্ট রেসিপি
কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি, যাতে আছে নরম হাড়সহ গরুর মাংস, ঘি-সমৃদ্ধ উৎসবের গ্রেভি, নিয়ন্ত্রিত পরশন এবং সার্ভিস নির্দেশনা।

- প্রস্তুতি
- ১ ঘণ্টা
- রান্না
- ৩ ঘণ্টা
- মোট
- ৪ ঘণ্টা
- পরিমাণ
- প্রায় ৪০ প্লেট
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
মাংস ম্যারিনেট করুন
গরুর মাংসের সঙ্গে লবণ, টক দই, আদা বাটা, রসুন বাটা, মরিচের গুঁড়া ও হলুদের গুঁড়া মেশান, যেন প্রতিটি টুকরায় মসলা লাগে। ঢেকে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে ৪৫ মিনিট ম্যারিনেট করুন। আগাম প্রস্তুতির সময় মাংস ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখবেন না।
- 2
আলু আধা ভেজে নিন
হাঁড়িতে সয়াবিন তেল প্রায় ১৬৫ থেকে ১৭০°C পর্যন্ত গরম করুন। আলুর টুকরা কয়েক ব্যাচে ৬ থেকে ৮ মিনিট ভাজুন, যেন বাইরে হালকা সোনালি হলেও ভেতর শক্ত থাকে। তুলে তেল ঝরিয়ে ঢেকে রাখুন এবং কাঁচা মাংস থেকে দূরে রাখুন।
- 3
স্লাইস করা পেঁয়াজ বাদামি করুন
তেলের তাপমাত্রা কমিয়ে ১৫০ থেকে ১৬০°C করুন এবং স্লাইস করা পেঁয়াজ দিন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট রান্না করুন এবং পরিমাণ কমার সঙ্গে সঙ্গে আরও ঘন ঘন নাড়ুন। সব পেঁয়াজ সমান গাঢ় সোনালি হলে এবং কোনো কিনারা কালো না হলে ভাজা বন্ধ করুন।
- 4
আস্ত মসলার ঘ্রাণ ছাড়ান
পেঁয়াজে আস্ত গরম মসলা দিয়ে ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড ভাজুন। এলাচ ও দারুচিনি থেকে ঘ্রাণ বের হবে, কিন্তু রং কালচে হবে না। লবঙ্গ যেন না পোড়ে, তাই আঁচ মাঝারি রাখুন।
- 5
কয়েক ধাপে মাংস দিন
ম্যারিনেট করা মাংস দুই বা তিন ধাপে দিন এবং পরের অংশ দেওয়ার আগে প্রতিটি অংশ পেঁয়াজের বেসের সঙ্গে ভালোভাবে উল্টেপাল্টে মেশান। একটানা সিজল বজায় রেখে ঢাকনা ছাড়া ১০ থেকে ১২ মিনিট রান্না করুন। প্রথমে মাংস থেকে পানি বের হবে, এরপর গ্রেভি আবার ধীরে ফুটতে শুরু করবে।
- 6
মসলা ভুনা করুন
জিরা ও ধনিয়ার গুঁড়া দিয়ে মাঝারি আঁচে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ভুনা করুন। হাঁড়ির তলা ঘন ঘন খুঁচিয়ে দিন এবং মসলা ধরে আসার সময় শুধু অল্প অল্প গরম পানি ছিটান। গ্রেভি মাংসের গায়ে লেগে গেলে এবং কিনারায় দৃশ্যমান তেলের ফোঁটা উঠলে ভুনা শেষ করুন।
- 7
মাংস প্রায় নরম হওয়া পর্যন্ত সিমার করুন
প্রায় ২.৫ লিটার গরম পানি দিয়ে ঢেকে ৮৮ থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ৭৫ থেকে ১০০ মিনিট সিমার করুন। প্রতি ১৫ মিনিট পর নাড়ুন এবং মাংস পানির ওপরে উঠে গেলে বা মসলা তলায় লাগতে শুরু করলে শুধু প্রয়োজনমতো আরও গরম পানি দিন। মাংস প্রায় নরম হবে, কিন্তু হাড় থেকে খুলে পড়বে না।
- 8
আলু দিয়ে রান্না শেষ করুন
ভাজা আলু আবার হাঁড়িতে দিয়ে চিনি ও কাঁচা মরিচ যোগ করুন। ঢেকে ৮৮ থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট সিমার করুন, যতক্ষণ আলু নরম হয় এবং চামচের চাপে মাংস সহজে নরম হয়ে আসে। অবশিষ্ট গরম পানি দিয়ে গ্রেভির ঘনত্ব ঠিক করুন এবং লবণ পরীক্ষা করুন।
- 9
ঘি দিয়ে বিশ্রাম দিন
ঘি ও গরম মসলার গুঁড়া আলতোভাবে মিশিয়ে ৩ থেকে ৫ মিনিট মৃদু আঁচে সিমার করুন। গ্রেভি চকচকে হয়ে মাংসের গায়ে লেগে থাকলে এবং গভীর তেলের স্তরের বদলে হালকা তেলের রিং দেখা গেলে চুলা বন্ধ করুন। হাঁড়ি ঢেকে ১৫ মিনিট বিশ্রাম দিয়ে তারপর পুরো ব্যাচ ওজন ও পরশন করুন।
রান্নাঘরের জন্য নোট
এই বিফ কালিয়া রেসিপিতে নরম হাড়সহ গরুর মাংস, আলু এবং পেঁয়াজ, টক দই ও ঘিয়ের ঘন গ্রেভিসহ প্রায় ৪০টি রেস্টুরেন্ট পরশন হবে। এটি ছোট বাসার পাতিলের জন্য নয়, ৩৫ থেকে ৪৫ লিটারের কমার্শিয়াল হাঁড়ির জন্য তৈরি। রান্না শেষে প্রতি প্লেটে সমান দুই টুকরা মাংস, এক টুকরা আলু এবং পর্যাপ্ত গ্রেভি দিতে হবে, যেন হাঁড়ির নিচে অতিরিক্ত তেল বা পাতলা ঝোল পড়ে না থাকে।
কমার্শিয়ালভাবে বিফ কালিয়া কার্যকর কেন
বিফ কালিয়া রেস্টুরেন্ট ও ফুড কার্টের জন্য কার্যকর, কারণ একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যাচ থেকেই ডাইন-ইন প্লেট, টেকঅ্যাওয়ে মিল, রাইস কম্বো এবং ঈদের অর্ডার দেওয়া যায়। গ্রেভি সার্ভিসের সময় মাংস শুকিয়ে যাওয়া কমায় এবং শুকনা বিফ আইটেমের তুলনায় ভালোভাবে রিহিট করা যায়। এর গাঢ় রং ও মসলার ঘ্রাণের কারণে পরিমিত পরশনও পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, নান বা পরোটার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ লাগে।
এই পদ আগাম রান্নার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। বিশ্রামের সময় তাপমাত্রা কমলে রান্না করা পেঁয়াজ, টক দই, বিফ স্টক ও মসলা একসঙ্গে মিশে স্বাদ সাধারণত আরও স্থির হয়। তবে কমার্শিয়াল ফলন নির্ভর করে মাংসের কাট, টুকরার সংখ্যা, গ্রেভির পরিমাণ ও ঘি নিয়ন্ত্রণের ওপর। নিয়ন্ত্রণহীন হাঁড়ির স্বাদ ভালো হলেও পরিকল্পনার চেয়ে বিক্রিযোগ্য পরশন কম হতে পারে।
উপকরণ বাছাই ও মান নিয়ন্ত্রণ
অস্বাভাবিক দামি মসলা কেনার চেয়ে সঠিক বিফ কাট ও ভালো ঘি ব্যবহার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাঝারি পরিমাণ সংযোজক টিস্যুযুক্ত শোল্ডার, চাক, ব্রিসকেট বা মিশ্র ফরকোয়ার্টার নিন এবং মোট ওজনের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হাড় রাখুন। কিছু হাড় গ্রেভির স্বাদ বাড়ায়, কিন্তু অতিরিক্ত ঘাড়ের হাড়, পাতলা পাঁজর বা ভারী শিনের টুকরা বিক্রিযোগ্য মাংস কমিয়ে দেয় এবং প্লেটে অসামঞ্জস্য তৈরি করে।
সরবরাহকারীকে ৪ থেকে ৫ সেমি আকারের টুকরার লিখিত কাটিং স্পেসিফিকেশন দিন এবং ৮ kg মাংসে প্রায় ৮০টি কাছাকাছি আকারের টুকরা চান। বড় টুকরা শক্ত থেকে যায়, আবার ছোট টুকরা সার্ভিসের আগেই ভেঙে যেতে পারে। পণ্য গ্রহণের সময় শুধু মোট ওজন নয়, রং, গন্ধ, ওপরের আর্দ্রতা, হাড়ের অনুপাত ও টুকরার সংখ্যাও পরীক্ষা করুন।
ফুল-ফ্যাট, চিনি ছাড়া টক দই বা প্লেইন ইয়োগার্ট ব্যবহার করুন। পাতলা বা বেশি টক দই ফেটে গিয়ে গ্রেভির স্বাদ অতিরিক্ত টক করতে পারে। তাজা আদা ও রসুন বাটায় পরিষ্কার গন্ধ থাকতে হবে এবং মেশানো পানি যত কম হয় তত ভালো। গুঁড়া মসলায় ভালো রং ও ঘ্রাণ প্রয়োজন, কারণ পুরোনো মরিচ বা হলুদের পরিমাণ বাড়িয়ে হারানো স্বাদ ফেরানো যায় না।
পুরো ভাজার কাজে ঘি ব্যবহার না করে শেষের ফিনিশিং ফ্যাট হিসেবে খাঁটি ঘি দিন। দীর্ঘ সময় বেশি তাপে ভাজলে ঘিয়ের ঘ্রাণ নষ্ট হয়। আলু শক্ত, কাছাকাছি আকারের এবং সেদ্ধ করার উপযোগী হতে হবে, যেন হট হোল্ডিংয়ের সময় প্রতিটি পরশনের আলু অক্ষত থাকে।
উৎসবের উপযোগী ঘন গ্রেভি তৈরি
সঠিক কালিয়ার গ্রেভি ধৈর্য ধরে পেঁয়াজ বাদামি করা ও ভুনা থেকে তৈরি হয়, শেষে বাড়তি মসলার গুঁড়া বা ঘি ঢেলে নয়। পেঁয়াজ রান্নার সময় তেলের তাপমাত্রা ১৫০ থেকে ১৬০°C-এর কাছাকাছি রাখুন। তাপ কম হলে পেঁয়াজ তেল শুষে নরম হবে, আর বেশি হলে ভেতরের পানি শুকানোর আগেই কিনারা পুড়ে যাবে।
পেঁয়াজের রং নিয়ন্ত্রণ
পেঁয়াজের রং সমান গাঢ় সোনালি হবে, কিন্তু কালচে বাদামি বা তিতা করা যাবে না। পেঁয়াজের পরিমাণ কমে এলে আরও ঘন ঘন নাড়ুন এবং হাঁড়ির কোণা খুঁচিয়ে দিন, কারণ সেখানে আগে পোড়া শুরু হয়। মাংস ভুনার সময় পেঁয়াজের রং আরও গাঢ় হবে, তাই পুরোপুরি বাদামি দেখানোর আগেই ভাজা বন্ধ করুন।
দই ফেটে যাওয়া ঠেকানো
রান্নার আগে মাংসের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ধীরে তাপ দিলে দই মসৃণ থাকে। পেঁয়াজের বেস প্রায় তৈরি হওয়ার আগে ফ্রিজ থেকে ম্যারিনেট করা মাংস বের করবেন না। মাংস অল্প অল্প করে দিন, যেন হাঁড়ি যথেষ্ট গরম থাকে এবং সিজল শোনা যায়। একবারে সব ঠান্ডা মাংস দিলে পানি বের হয়ে গ্রেভি ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ভুনা শেষ হয়েছে বুঝবেন যেভাবে
কাঁচা মসলার গন্ধ চলে গেলে, গ্রেভি মাংসের গায়ে লেগে থাকলে এবং কিনারায় ছোট ছোট তেলের ফোঁটা দেখা দিলে ভুনা শেষ হয়েছে। এই ধাপে বেশির ভাগ গরম পানি দেওয়ার আগে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুকাতে হবে। চ্যাপ্টা খুন্তি দিয়ে হাঁড়ির তলা খুঁচিয়ে দিন এবং মসলা লেগে এলে অল্প অল্প গরম পানি ছিটান। শুরুতেই সব পানি দিলে রং ও স্বাদ দুর্বল সেদ্ধ মাংস তৈরি হবে।
মাংস তীব্রভাবে ফুটিয়ে নয়, নিয়ন্ত্রিত আঁচে সিমার করুন। বেশি সংযোজক টিস্যুযুক্ত টুকরা নরম করতে প্রায় ৮৮ থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় সময় দিতে হয়। তীব্রভাবে ফুটলে মাংস সংকুচিত হয়, আলু ভেঙে যায় এবং সংযোজক টিস্যু নরম হওয়ার আগেই গ্রেভি কমে যায়।
ঈদের উৎপাদনের জন্য ব্যাচ বাড়ানো
এই রেসিপি দ্বিগুণ করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো একটি হাঁড়ি কানায় কানায় না ভরে সমান আকারের দুটি হাঁড়িতে রান্না করা। অতিরিক্ত ভরা গভীর হাঁড়ি গরম হতে সময় নেয়, নাড়ানো কঠিন হয় এবং ওপরের মাংস কাঁচা থাকতে পারে যখন নিচের মসলা ধরে যায়। নিরাপদে মাংস ওলটানোর জন্য হাঁড়ির অন্তত ২৫ শতাংশ খালি রাখুন।
অর্ধেক ব্যাচের জন্য শুকনা উপকরণ, দই, লবণ ও তেল-ঘি সমানভাবে অর্ধেক করুন, তবে তালিকাভুক্ত গরম পানির প্রায় ৪০ শতাংশ দিয়ে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দিন। দ্বিগুণ ব্যাচে গাণিতিকভাবে দ্বিগুণ করা পানির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দিয়ে শুরু করুন, কারণ বড় হাঁড়ি থেকে অনুপাতে কম বাষ্প বের হয়। মরিচ দ্বিগুণ পরিমাণের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ দিয়ে শুরু করে শেষে স্বাদ ঠিক করা যায়।
ঈদের পুনরাবৃত্ত ব্যাচে একই মাংসের স্পেসিফিকেশন, বার্নারের শক্তি ও রান্নার গভীরতা বজায় রাখুন। হাঁড়িতে তরকারির উচ্চতা দেখে ফলন অনুমান না করে কাঁচা ওজন, টুকরার সংখ্যা, চূড়ান্ত ব্যাচের ওজন এবং বিক্রি হওয়া পরশন লিখে রাখুন।
সার্ভিসের জন্য হট হোল্ডিং ও রিহিটিং
হট হোল্ডিংয়ে বিফ কালিয়ার তাপমাত্রা ৬০°C-এর ওপরে রাখতে হবে এবং ভালো টেক্সচারের জন্য চার ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি করা উচিত। হাঁড়ি ঢেকে রাখুন এবং প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর আলু না ভেঙে নিচ থেকে আলতো করে তুলে নাড়ুন। সরাসরি কম আঁচেও পেঁয়াজের গ্রেভি পুড়ে যেতে পারে, তাই সম্ভব হলে বেইন-মেরি বা ভারী হিট ডিফিউজার ব্যবহার করুন।
পরে সার্ভিস করার জন্য একটি বড় হাঁড়িতে ঠান্ডা না করে অগভীর ফুড-গ্রেড প্যানে কারি ভাগ করুন। দুই ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরবর্তী চার ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C-এ ঠান্ডা করুন। ঢেকে ৫°C বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখুন এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন।
শুধু সম্ভাব্য সার্ভিসের পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে অন্তত ৭৪°C পর্যন্ত রিহিট করে হট হোল্ডিংয়ে নিন। ফ্রিজে রাখার পর গ্রেভি বেশি ঘন হলে মেপে অল্প গরম পানি দিন। বারবার ঠান্ডা ও রিহিট করলে মাংসের মান নষ্ট হয়, চর্বি আলাদা হয়ে যায় এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ে।
পরশন ও ফলন নিয়ন্ত্রণ
এই ব্যাচ থেকে ৪০টি প্লেট করতে হবে, যার প্রতিটিতে দুই টুকরা মাংস, এক টুকরা আলু এবং মাপা এক লাডল গ্রেভি থাকবে। সার্ভিসের আগে রান্না করা মাংস ও আলুর টুকরা গুনুন এবং পরিকল্পিত প্লেটসংখ্যা অনুযায়ী গ্রেভি ভাগ করুন। একটি প্রস্তুত পরশনের ব্যবহারিক লক্ষ্য প্রায় ৩০০ থেকে ৩৩০ গ্রাম, তবে প্রথম সফল ব্যাচ মাপার পর রেস্টুরেন্টের নির্দিষ্ট পরশন ওজন স্থির করুন।
সার্ভিসের শুরুতে কর্মীদের শুধু বড় টুকরা বেছে দিতে দেবেন না। ইচ্ছাকৃতভাবে বড়-ছোট টুকরা মিলিয়ে দিন অথবা বেশি পরিমাণ টেকঅ্যাওয়ে অর্ডার ঢাকনাযুক্ত প্যানে আগে থেকেই ভাগ করুন। নির্দিষ্ট মাপের লাডল এবং লিখিত পরশন কন্ট্রোল নিয়ম শেষের গ্রাহকদের প্লেটে শুধু গ্রেভি পড়া ঠেকায়।
যেসব ভুলে খরচ বাড়ে
অতিরিক্ত হাড়, নিয়ন্ত্রণহীন গ্রেভি, পোড়া পেঁয়াজ এবং না মেপে পরশন দেওয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। এসব সমস্যায় হয় বিক্রিযোগ্য প্লেটের সংখ্যা কমে, নয়তো রান্নাঘরকে পুরো ব্যাচ বাদ দিয়ে আবার রান্না করতে হয়।
- শুধু ওজন দেখে কেনা: কম দামের মনে হওয়া বিফ লটে অতিরিক্ত হাড়, কাটার পর বাদ দেওয়া চর্বি বা খুব ছোট টুকরা থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কাট লিখে দিন এবং নমুনা টুকরা গুনুন।
- খুব আগে পানি দেওয়া: এতে ভুনা দুর্বল হয় এবং গ্রেভি কমাতে বেশি সময় লাগে, ফলে জ্বালানি নষ্ট হয় ও মাংস ভাঙে।
- দীর্ঘ সময় ভাজার সময় ঘি দেওয়া: এতে ঘ্রাণ নষ্ট হয়, কিন্তু উপকরণের খরচ বাড়ে। বেশির ভাগ ঘি রান্নার শেষ দিকে দিন।
- হাঁড়ি অতিরিক্ত ভরা: গাদাগাদি মাংস বেশি পানি ছাড়ে এবং অসমভাবে রান্না হয়। বড় উৎপাদন সমান আকারের একাধিক হাঁড়িতে ভাগ করুন।
- চোখের আন্দাজে সার্ভ করা: শুরুর বড় পরশন পরে ঘাটতি তৈরি করে এবং গ্রাহকভেদে পরিমাণ অসম হয়।
- কড়া আঁচে হোল্ড করা: হাঁড়ির নিচে পুড়ে যায়, গ্রেভি তেলতেলে হয় এবং আলু ভেঙে পড়ে।
খরচ স্থিতিশীল রাখা
বিফ কালিয়ার খরচ স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহারযোগ্য মাংসের ফলন, ঘিয়ের ব্যবহার এবং চূড়ান্ত পরশনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মোট খরচে গরুর মাংসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, আর হাড়ের অনুপাত বা ট্রিমিং লসের পরিবর্তন অল্প মসলার হেরফেরের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। একই রিসিভিং স্পেসিফিকেশন অনুসরণ করুন এবং সঠিক রেসিপি কস্টিং দিয়ে প্রতিটি ব্যাচ পর্যালোচনা করুন।
ইচ্ছামতো ঢালতে না দিয়ে ব্যাচের নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী ঘি ইস্যু করুন এবং মেপে পানি যোগ করে চূড়ান্ত গ্রেভির ফলন একই রাখুন। Rosuii-এর productions ফিচারে কাঁচামাল থেকে তৈরি চূড়ান্ত কারি ব্যাচ রেকর্ড করা যায়, আর wastage ও sales report দিয়ে পরিকল্পিত ও প্রকৃত উৎপাদন তুলনা করা যায়। বিফ সরবরাহকারী, কাটের মিশ্রণ বা পরশন পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট food cost percentage পর্যালোচনা করুন।
খরচ কোথায় বাড়ে
মোট খরচে হাড়সহ গরুর মাংসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি এবং ঘি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খরচের উপকরণ। বিফের বাজারদর, হাড়ের অনুপাত, ট্রিমিং লস, টুকরার অসামঞ্জস্য এবং নিয়ন্ত্রণহীন ঘি ব্যবহার প্রতি পরশনের খরচে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনে।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই বিফ কালিয়া রেসিপি কি ৮০ প্লেটের জন্য দ্বিগুণ করা যাবে?
বিফ কালিয়া কতক্ষণ হট হোল্ডিংয়ে রাখা যাবে?
সয়াবিন তেলের বদলে সরিষার তেল ব্যবহার করা যাবে?
ফ্রিজে বিফ কালিয়া কত দিন রাখা যাবে?
ব্যাচ থেকে ৪০ প্লেটের কম হলে কী পরীক্ষা করতে হবে?
সম্পর্কিত রেসিপি
কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি, যেখানে দীর্ঘ সময় কষানো, তেল ছাড়ার স্পষ্ট লক্ষণ, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবেশন ও নিরাপদ রিহিটিং দেখানো হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি
৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ চাপ রেসিপি, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাংস নরম করা, ধীরে তাওয়ায় রান্না, সার্ভিস হোল্ডিং এবং প্রতিটি প্লেটের সমান পরিমাণ নিশ্চিত করার পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল ভুনা খিচুড়ি রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল ভুনা খিচুড়ি রেসিপি, যেখানে চাল ও ডালের অনুপাত ২:১ এবং পানির নিয়ন্ত্রণ, সার্ভিস হোল্ডিং ও চূড়ান্ত ইল্ডের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

