মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

বাণিজ্যিক ব্যাচের ভাপা পিঠা রেসিপি

৬০টি ভাপা পিঠার বাণিজ্যিক রেসিপি, যেখানে চালের গুঁড়ায় পানি মেশানো, নারকেল-গুড়ের পুর, একটানা স্টিমিং ও গরম পরিবেশন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

শেয়ার
কলাপাতার টুকরার ওপর কোরানো নারকেল ও খেজুরের গুড়ের পুর দেওয়া সদ্য ভাপানো বাংলাদেশি ভাপা পিঠা।
প্রস্তুতি
৪৫ মিনিট
রান্না
১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
মোট
২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
পরিমাণ
৬০টি পিঠা, দুই পিস করে প্রায় ৩০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    চালের গুঁড়া চেলে নিন

    চালের গুঁড়া ও লবণ মাঝারি চালনিতে চেলে চওড়া ফুড-গ্রেড টবে নিন। সব শক্ত দানা ভেঙে তুষ বা ময়লা ফেলে দিন। গুঁড়া মিহি ও সমানভাবে ঝুরঝুরে হতে হবে।

  2. 2

    ধীরে ধীরে পানি মেশান

    দুই হাতের মধ্যে গুঁড়া ঘষতে ঘষতে ৪৫-৫০°C তাপমাত্রার ১.৬ লিটার পানি অল্প অল্প করে মেশান। এক মুঠো চেপে ধরলে যদি আকার না ধরে, শুধু তখনই আরও পানি দিন। সঠিকভাবে ভেজানো গুঁড়া কিছুক্ষণ আকার ধরে থাকবে, তারপর হালকা চাপে ঝুরঝুরে হয়ে যাবে।

  3. 3

    বিশ্রাম দিয়ে আবার চেলে নিন

    মিশ্রণ ঢেকে ঘরের তাপমাত্রায় ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম দিন। পেস্টের মতো চেপে না ধরে আবার চালনিতে চেলে নিন। সার্ভিসের সময় ওপরের অংশ যেন না শুকায়, তাই ঢেকে রাখুন।

  4. 4

    ছোট ব্যাচে পুর তৈরি করুন

    একবারে প্রায় ১৫টি পিঠার জন্য প্রয়োজনীয় নারকেল, ঝুরো করা গুড় ও এলাচ মেশান। বাকি উপকরণ ঢেকে ২৫°C-এর নিচে ঠান্ডা জায়গায় রাখুন। পুর ঝুরঝুরে থাকবে, ভেজা বা সিরার মতো হবে না।

  5. 5

    স্টিমারে পানি ফুটিয়ে নিন

    স্টিমারে নিরাপদ অপারেটিং লেভেল পর্যন্ত পানি দিয়ে জোরে ফুটিয়ে নিন। ছিদ্রযুক্ত ডেক ও ঢাকনা বসিয়ে প্রায় ৯৮-১০০°C তাপমাত্রায় একটানা ভাপ ওঠা পর্যন্ত ৫ মিনিট প্রিহিট করুন। পানি পূরণের জন্য আলাদা কেটলিতে ফুটন্ত পানি প্রস্তুত রাখুন।

  6. 6

    পিঠার ছাঁচ ভরুন

    প্রতিটি ছাঁচে কলাপাতা বা ভেজা মসলিন বিছিয়ে ৭৫ গ্রাম চালের গুঁড়ার পরশনের প্রায় অর্ধেক দিন। চারপাশে খালি বর্ডার রেখে মাঝখানে ৪৫ গ্রাম পুর দিন, তারপর বাকি গুঁড়া আলগাভাবে ছড়িয়ে ঢেকে দিন। ওপরের অংশ সমান করুন, কিন্তু চেপে বসাবেন না।

  7. 7

    প্রতিটি লোড ভাপে রান্না করুন

    ভাপ চলাচলের জন্য ছাঁচগুলোর মধ্যে জায়গা রেখে সাজিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা দিন। একটানা ফুটন্ত পানির ওপর ৭-৯ মিনিট ভাপে রান্না করুন। ওপরের অংশ জমে গেলে, মাঝখানে শুকনা গুঁড়া না থাকলে এবং কাপড় থেকে পরিষ্কারভাবে উঠে এলে পিঠা তৈরি।

  8. 8

    একটানা উৎপাদন চালান

    পরের লোড দেওয়ার আগে স্টিমারে আবার পূর্ণ ভাপ উঠতে দিন। বর্তমান লোড রান্নার সময় পরের ছাঁচগুলো তৈরি করুন, তবে ভরা কাঁচা ছাঁচ ১০ মিনিটের বেশি ফেলে রাখবেন না। প্রতি ২০-৩০ মিনিট পর পানির স্তর পরীক্ষা করুন এবং শুধু ফুটন্ত পানি দিয়ে পূরণ করুন।

  9. 9

    তাৎক্ষণিক সার্ভিসের জন্য গরম রাখুন

    রান্না করা পিঠা ৬০-৬৫°C তাপমাত্রার ঢাকনাযুক্ত ছিদ্র করা ট্রেতে নিন। এক স্তরে রাখুন এবং প্রতিটি লোড চিহ্নিত করুন, যাতে কোনো পিঠা ২০ মিনিটের বেশি না থাকে। উৎপাদনের ক্রমে পরিবেশন করুন, অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য পুরোনো পিঠা আগে বিক্রি করুন।

  10. 10

    গরম অবস্থায় প্লেট করে শেষ করুন

    স্ট্যান্ডার্ড প্লেটে দুইটি গরম পিঠা দিন এবং মেনুর ভ্যারিয়েশনে থাকলে প্রায় ১৫ ml গরম তরল গুড় যোগ করুন। নিরাপদ তাপমাত্রায় রাখা কোনো পিঠা ঠান্ডা হলে ২-৩ মিনিট আবার ভাপে দিয়ে গরম ও নরম করুন। বারবার গরম করবেন না এবং পরিবেশন করা খাবার স্টিমারে ফেরত দেবেন না।

রান্নাঘরের জন্য নোট

ভাপা পিঠা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর কেন

শীতকালীন ফুড কার্টে ভাপা পিঠা কার্যকর কারণ এর চালের গুঁড়ার বেস তুলনামূলক কম খরচের, ভাপ চোখে পড়ে এবং ছোট ছোট লোডে একটানা উৎপাদন করা যায়। খেজুরের গুড় ও তাজা নারকেলের গন্ধ পথচারী ক্রেতাকে আকর্ষণ করে, আর অল্প সময়ের স্টিমিং দ্রুত সার্ভিস দিতে সাহায্য করে। রেস্টুরেন্টে দুই পিসের ডেজার্ট হিসেবে এবং কার্টে এক বা দুই পিসের পরশন হিসেবে একই উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে বিক্রি করা যায়।

ভাপা পিঠা হোল্ডিংয়ে রাখলে মান উন্নত হয় না, এটিই প্রধান সীমাবদ্ধতা। সার্ভিসের আগে পুরো ব্যাচ ভাপে তৈরি না করে একটানা ছোট লোডে উৎপাদন করাই ভালো। ভেজানো চালের গুঁড়া ও পুর প্রস্তুত রাখুন, সম্ভাব্য চাহিদা অনুযায়ী স্টিমার লোড করুন এবং প্রতিটি লোড নরম ও ধোঁয়া ওঠা অবস্থায় পর্যায়ক্রমে পরিবেশন করুন।

উপকরণের মান ও বাছাই

বাণিজ্যিক ভাপা পিঠায় সাজানোর উপকরণের চেয়ে চালের গুঁড়ার মান ও নারকেলের সতেজতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মোটা গুঁড়া বা আঠালো চালের গুঁড়ার বদলে মিহি আতপ চালের গুঁড়া ব্যবহার করুন। সদ্য ভাঙানো চালের গুঁড়ায় সাধারণত ভালো ঘ্রাণ থাকে, তবে তুষের টুকরা ও শক্ত দানা ফাটল তৈরি করতে পারে বলে এটি অবশ্যই চেলে নিতে হবে। খোলা বস্তায় রাখা গুঁড়া বাতাসের আর্দ্রতা টেনে নেয়, তাই প্রতিদিন একই পরিমাণ পানি নাও লাগতে পারে।

শক্ত সাদা শাঁস ও পরিষ্কার মিষ্টি গন্ধযুক্ত পরিপক্ব নারকেল নিন। খুব কচি নারকেল অতিরিক্ত পানি ছাড়ে, আর বেশি পুরোনো বা বাসি নারকেল থেকে তেলচিটে পরস্বাদ আসে। পুরের মাঝখানে শক্ত আঁশ জমা ঠেকাতে নারকেল মিহি করে কুরিয়ে নিন।

ধোঁয়াটে কিন্তু পরিষ্কার গন্ধের শক্ত খেজুরের গুড় ব্যবহার করুন। গুড়ে গাঁজনের গন্ধ বা অতিরিক্ত পোড়া স্বাদ থাকা উচিত নয়। শীতের মৌসুমে গুড়ের মান বদলায়, তাই প্রতিটি সরবরাহে রং, আর্দ্রতা ও গলার ধরন পরীক্ষা করুন। খুব নরম গুড় চালের স্তর ভেদ করে বের হয়ে যেতে পারে। এমন গুড় মেপে টপিং দেওয়ার জন্য রাখুন এবং পিঠার ভেতরে শক্ত ঝুরো করা গুড় ব্যবহার করুন।

চালের গুঁড়ার আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ

এক মুঠো গুঁড়া চেপে ধরলে আকার ধরে থাকবে কিন্তু আঙুলের হালকা চাপে ভেঙে যাবে, তখনই আর্দ্রতা ঠিক আছে। এক জায়গায় পানি ঢেলে না দিয়ে সূক্ষ্ম ফোঁটার মতো করে পুরো গুঁড়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে। ভেজা দলা ভাপে আঠালো হয়ে যায়, আর শুকনা গুঁড়া পিঠার মাঝখানে কাঁচা ও গুঁড়ো অবস্থায় থেকে যায়।

নির্ধারিত পানির পরিমাণের নিচের দিক থেকে শুরু করুন এবং ভালোভাবে মেশানোর পর প্রয়োজন হলেই আরও পানি দিন। বাস্তবে গুঁড়ার ওজনের প্রায় ৫৩ থেকে ৬৩ শতাংশ পানি লাগতে পারে, তবে চালে গুঁড়া করার ধরন, সংরক্ষণস্থলের আর্দ্রতা ও গুঁড়ার বয়স অনুযায়ী চূড়ান্ত পরিমাণ বদলাবে। বিশ্রামের সময় পানি গুঁড়ার ভেতরে ছড়িয়ে যায়, তাই শুরুতে সামান্য শুকনা মনে হওয়া মিশ্রণ ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঠিক হতে পারে।

বিশ্রাম দেওয়া মিশ্রণ পেস্টের মতো চেপে না ধরে মাঝারি চালনিতে চেলে নিন। তৈরি মিশ্রণটি ভেজা ঝুরঝুরে বালুর মতো হবে। সার্ভিসের সময় পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন। ওপরের অংশ শুকাতে শুরু করলে পুরো টবে পানি না মিশিয়ে শুধু শুকনা অংশে মাপা অল্প গরম পানি স্প্রে করে আবার হাতে পরীক্ষা করুন।

মৌসুমি কার্টের স্টিমিং স্টেশন তৈরি

নির্ভরযোগ্য কার্ট সেটআপে শক্ত একটানা ভাপ, ঘনীভূত পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা এবং এক লোড ভাপে থাকার সময় পরের লোড তৈরির মতো পর্যাপ্ত ছাঁচ প্রয়োজন। ভারী স্টকপট বা ভাপা পিঠার জন্য তৈরি স্টিমার ব্যবহার করুন, যার ভেতরে ছিদ্রযুক্ত স্টিমিং ডেক থাকবে। ঢাকনা ভালোভাবে বসতে হবে, তবে ঘনীভূত পানি যেন পিঠার ওপর না পড়ে পাশ দিয়ে নেমে যায়।

পানি ও আঁচ নিয়ন্ত্রণ

প্রতিটি নতুন লোড দেওয়ার আগে স্টিমারে আবার পূর্ণ ভাপ উঠতে হবে। পানি একটানা ফুটন্ত রাখুন, যাতে সাধারণত ভাপের তাপমাত্রা প্রায় ৯৮ থেকে ১০০°C থাকে। প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর পানির স্তর পরীক্ষা করুন এবং শুধু ফুটন্ত পানি দিয়ে পূরণ করুন। ঠান্ডা পানি দিলে উৎপাদন থেমে যায় এবং পরের লোড অসমভাবে সেদ্ধ হয়।

লোডিং ও সার্ভিসের ক্রম

স্টিমারে ভাপ চলাচলের জায়গা রেখে যতটি পিঠা রান্না করা যায়, প্রতি লোডে শুধু ততটিই প্রস্তুত করুন। আটটি ছাঁচের কার্টে প্রতি ধাপে আটটি পিঠা তৈরি করুন এবং বর্তমান লোড ভাপে থাকার সময় পরের ছাঁচগুলো ভরুন। আগে তৈরি পিঠা সার্ভিস ট্রের সামনে রাখুন এবং আগে বিক্রি করুন। নতুন ও পুরোনো পিঠা একই স্তূপে রাখবেন না, কারণ এতে কর্মীরা হোল্ডিংয়ের সময় ঠিক রাখতে পারবেন না।

ছাঁচে নরম করা কলাপাতা বা পরিষ্কার ভেজা মসলিন বিছিয়ে চালের গুঁড়া আলগাভাবে দিন এবং পুর ঠিক মাঝখানে রাখুন। কোনো স্তর চেপে বসাবেন না। চাপ দিলে ভাপ চলাচল কমে গিয়ে পিঠার খোলস ঘন ও রাবারের মতো হয়। গলা গুড় স্টিমারে বের হওয়া ঠেকাতে পুরের চারপাশে যথেষ্ট চালের গুঁড়ার বর্ডার রাখুন।

নিরাপদভাবে ব্যাচ বড় করা

কাপের আন্দাজ বা স্টিমিংয়ের সময় বাড়িয়ে নয়, উপকরণের ওজন ও স্টিমারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ভাপা পিঠার ব্যাচ বড় করুন। অর্ধেক, দ্বিগুণ বা তিন গুণ ব্যাচে প্রতিটি উপকরণের অনুপাত অপরিবর্তিত রাখুন। খুব গভীর টবে পানি সমানভাবে মেশানো কঠিন বলে প্রতিটি চালের গুঁড়ার ব্যাচ আলাদাভাবে ভিজিয়ে নিন।

রেসিপির পরিমাণ বাড়ালে প্রতিটি পিঠার স্টিমিং সময় বাড়ে না, শুধু লোডের সংখ্যা বাড়ে। ঘণ্টায় প্রায় ৬০টির বেশি পিঠার চাহিদা হলে ছাঁচে ভিড় না করে আরেকটি স্টিমিং ডেক বা দ্বিতীয় পাত্র যোগ করুন। নতুন চালের গুঁড়ার বস্তা খোলার পর অথবা আবহাওয়া বেশি আর্দ্র হলে একটি পিঠা পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি করুন।

সার্ভিসের জন্য হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা

ভাপা পিঠা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশন করুন এবং সর্বোচ্চ ২০ মিনিট গরম অবস্থায় হোল্ড করুন। তৈরি পিঠা ৬০ থেকে ৬৫°C তাপমাত্রার ঢাকনাযুক্ত ছিদ্র করা ওয়ার্মারে এক স্তরে রাখুন। ছিদ্রবিহীন ট্রেতে নিচে পানি জমে, আবার খোলা ট্রেতে পিঠার ওপরের অংশ শুকিয়ে যায়।

টিকিটভিত্তিক রেস্টুরেন্ট সার্ভিসে সম্ভাব্য অর্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে লোড দিন এবং কাপড় থেকে ছাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্লেট করুন। নিরাপদ তাপমাত্রায় রাখা কোনো পিঠা ঠান্ডা হলে দুই থেকে তিন মিনিট আবার ভাপে দিয়ে নরম করা যায়। বাণিজ্যিক সার্ভিসে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে কিনারা দ্রুত শক্ত হয় এবং গুড়ের ভেতরে বিপজ্জনক অতিগরম অংশ তৈরি হতে পারে।

ক্রেতার সামনে নেওয়া বা স্পর্শের ঝুঁকিতে থাকা পিঠা কখনো স্টিমারে ফেরত দেবেন না। অবিক্রীত কিন্তু অস্পর্শিত পিঠা দ্রুত ঠান্ডা করে ৫°C বা তার নিচে রেফ্রিজারেটরে রাখা যায়, তবে পরের দিনের মান কম হবে। একই দিনে তাজা উৎপাদনই নিয়মিত বিক্রির মানদণ্ড রাখুন।

পরশন ও উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ

এই ব্যাচ থেকে ভাপে দেওয়ার আগে প্রতিটি প্রায় ১২০ গ্রাম ওজনের ৬০টি পিঠা এবং নিয়ন্ত্রিত দুই পিসের ৩০টি প্লেট হওয়ার কথা। প্রতিটি পিঠায় প্রায় ৭৫ গ্রাম ভেজানো চালের গুঁড়ার মিশ্রণ ও ৪৫ গ্রাম নারকেল-গুড়ের পুর দিন। প্রস্তুতির স্টেশনে দুটি স্কেল ব্যবহার করুন অথবা সার্ভিসের আগে পুর আলাদা কাপে ওজন করে রাখুন।

ছোট ছাঁচ চোখের আন্দাজে ভরলে ধারণার চেয়েও বেশি উৎপাদন পার্থক্য হয়। বেশি ভারী পিঠা সার্ভিস ধীর করে ও ফুড কস্ট বাড়ায়, আর কম ওজনের পিঠা স্ট্যান্ডার্ড প্লেটে দুর্বল দেখায়। পরীক্ষামূলক উৎপাদন, ভাঙা পিঠা ও অবিক্রীত পিসের হিসাব লিখুন, তারপর প্রতি শিফটে লিখিত পরশন কন্ট্রোল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করুন।

খরচ স্থিতিশীল রাখা

চালের খোলস কমিয়ে নয়, গুড়ের গ্রেড, নারকেলের ব্যবহারযোগ্য ফলন এবং পুরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে খরচ স্থিতিশীল রাখতে হবে। শুধু গোটা নারকেলের ক্রয়সংখ্যা না দেখে প্রতিটি নারকেল থেকে পাওয়া ব্যবহারযোগ্য কোরানো শাঁসের পরিমাণ তুলনা করুন। মোটা খোলস, নষ্ট অংশ ও খারাপভাবে কোরানোর কারণে কম দামের চালানও ব্যয়বহুল হয়ে যেতে পারে।

গুড়ের ধরন, শক্তভাব ও গ্রহণযোগ্য স্বাদ উল্লেখ করে লিখিত মানদণ্ড অনুযায়ী কিনুন। প্রিমিয়াম খেজুরের গুড়ের খরচ বেড়ে গেলে প্রতিটি পিঠায় পুর বাড়ানোর বদলে বাড়তি তরল গুড় মাপা অ্যাড-অন হিসেবে দিন। সঠিক রেসিপি কস্টিং শিট ব্যবহার করুন এবং সরবরাহকারীর মান বা পরশন বদলালে খাবারটির ফুড কস্ট পার্সেন্টেজ পর্যালোচনা করুন।

যেসব ভুলে টাকা নষ্ট হয়

চালের গুঁড়ায় অতিরিক্ত পানি, গুড় বের হয়ে যাওয়া, স্টিমারে ভিড় এবং অনেক আগে উৎপাদন করা ভাপা পিঠার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। এসব ভুলে পিঠার টেক্সচার নষ্ট হয়, পুর অপচয় হয় এবং অবিক্রীত স্টক বাড়ে।

  • অতিরিক্ত ভেজা গুঁড়া: ভারী দলা ও আঠালো খোলস তৈরি হয়। পানি ধীরে ধীরে দিন এবং বিশ্রামের পর হাতে চেপে পরীক্ষা করুন।
  • শুকনা গুঁড়া: ছাঁচ থেকে ছাড়ানোর সময় পিঠা ফেটে যায় এবং মাঝখানে চকচকে শুকনা গুঁড়া থাকে। শুধু আক্রান্ত উৎপাদন পরিমাণে পানি স্প্রে করে আবার মেশান।
  • গরম অবস্থায় মেশানো পুর: নারকেলের পানি গুড় গলিয়ে ফেলে এবং পুর বাইরে বের হয়। একবারে প্রায় ১৫টি পিঠার পুর মেশান এবং স্টিমার থেকে দূরে রাখুন।
  • দুর্বল ভাপ: পাত্রে ভিড় বা ঠান্ডা পানি যোগ করলে রান্না দীর্ঘ হয় এবং পিঠা অসমভাবে সেদ্ধ হয়। পানি ফুটন্ত রাখুন এবং প্রতিটি ছাঁচের চারপাশে ভাপ চলাচলের জায়গা দিন।
  • দীর্ঘ হোল্ডিং: স্তূপ করে রাখা পিঠা বাইরে ভেজা ও ভেতরে শক্ত হয়। পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ মিনিটের সম্ভাব্য বিক্রির সঙ্গে প্রতিটি লোড মিলিয়ে নিন।

খরচ কোথায় বাড়ে

উপকরণের খরচে খেজুরের গুড় ও তাজা নারকেলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে প্রিমিয়াম শীতকালীন গুড় ব্যবহার করলে। গুড়ের গ্রেড, নারকেলের আকার, ব্যবহারযোগ্য কোরানো শাঁসের ফলন এবং প্রতি পিঠায় পুরের পরিমাণ অনুযায়ী খরচ বদলায়। চালের গুঁড়ার খরচ সাধারণত তুলনামূলক স্থিতিশীল, তবে আর্দ্রতা ঠিক না রাখলে অপচয় বাড়ে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

টেক্সচার না বদলে এই ভাপা পিঠার রেসিপি দ্বিগুণ করব কীভাবে?

প্রতিটি উপকরণ ওজন অনুযায়ী দ্বিগুণ করুন, তবে চালের গুঁড়া দুটি আলাদা ৩ kg ব্যাচে ভিজিয়ে নিন। একই পরশন এবং ৭-৯ মিনিট স্টিমিং সময় রাখুন। বেশি উৎপাদনের জন্য বেশি লোড বা দ্বিতীয় স্টিমার লাগবে, স্টিমিং সাইকেল দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই।

রান্না করা ভাপা পিঠা কতক্ষণ বিক্রির জন্য রাখা যাবে?

গ্রহণযোগ্য বাণিজ্যিক মান ধরে রাখতে ঢাকনাযুক্ত ছিদ্র করা ট্রেতে ৬০-৬৫°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিট রাখুন। এরপর খোলস শক্ত বা ভেজা হয়ে যায়, তাই চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উৎপাদন কমাতে হবে।

পুরে খেজুরের গুড়ের বদলে আখের গুড় ব্যবহার করা যাবে কি?

একই ওজনে শক্ত আখের গুড় ব্যবহার করা যাবে, তবে শীতকালীন ভাপা পিঠার স্বাভাবিক খেজুরের গুড়ের স্বাদ কম থাকবে। পিঠার ভেতরে তরল গুড় ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি সহজে বের হয়ে যায়। তরল গুড় মেপে টপিং হিসেবে রাখুন।

ভেজানো চালের গুঁড়া ও পুর কি রাতভর রাখা যাবে?

একই দিনে তাজা প্রস্তুত করলে সবচেয়ে ভালো টেক্সচার পাওয়া যায়। প্রয়োজন হলে দুটি উপাদান আলাদাভাবে ঢেকে ৫°C বা তার নিচে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা রাখুন। উৎপাদনের আগে গুঁড়া ঘরের তাপমাত্রার কাছাকাছি এনে আবার হাতে চেপে আর্দ্রতা পরীক্ষা করুন।

ব্যাচ থেকে ৬০টির কম পিঠা হওয়ার কারণ কী?

সাধারণ কারণ হলো বেশি ওজনের চালের গুঁড়ার পরশন, অতিরিক্ত পুর, চালনির সময় ছড়িয়ে নষ্ট হওয়া অথবা অসমান মাপের ছাঁচ। প্রতি পিঠায় প্রায় ৭৫ গ্রাম ভেজানো চালের গুঁড়ার মিশ্রণ ও ৪৫ গ্রাম পুর ওজন করুন এবং ভাঙা পিঠা ও উৎপাদন অপচয় আলাদাভাবে লিখে রাখুন।
শেয়ার

বাণিজ্যিক বিফ সাতকরা রেসিপি

৩০ প্লেটের বাণিজ্যিক সিলেটি বিফ সাতকরা রেসিপি, যেখানে সাতকরার তিতা স্বাদ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাচ স্কেলিং, হোল্ডিং, পুনরায় গরম করা ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা রয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৩০ প্লেট
মোট:
৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রোজকার চিকেন কারি

রেস্টুরেন্ট বা ফুড কার্টে পরিবেশনের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য বেস মসলা, নির্দিষ্ট পরিমাণের সার্ভিং এবং নরম মাংসের হিসাবে তৈরি ৪০ প্লেটের বাংলাদেশি চিকেন কারি রেসিপি।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল জর্দা রেসিপি

প্রায় ৫০ পরিবেশনের কমার্শিয়াল জর্দা রেসিপি, যাতে চাল ঝরঝরে রাখা, চিনির সিরা নিয়ন্ত্রণ, সমান রং এবং বিয়ের অর্ডারের জন্য ব্যাচ বাড়ানোর ব্যবহারিক নিয়ম দেওয়া হয়েছে।

পরিমাণ:
১৫০ থেকে ১৬০ g হিসাবে প্রায় ৫০ প্লেট
মোট:
১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন