মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

বাণিজ্যিক চটপটি রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের বাণিজ্যিক চটপটি রেসিপি, যেখানে ডাবলি প্রস্তুতি, ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ, টপিং স্টেশন, নিরাপদ হট হোল্ডিং ও সঠিক পরিমাণে পরিবেশনের নিয়ম দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার
সেদ্ধ ডিম, পেঁয়াজ, শসা, ধনেপাতা, তেঁতুলের চাটনি ও ভাঙা ফুচকা দেওয়া এক প্লেট বাংলাদেশি চটপটি।
প্রস্তুতি
৩০ মিনিট
রান্না
১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
মোট
১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    ডাবলি বাছাই ও ভেজানো

    ধোয়া ডাবলি প্রায় ৮ লিটার পানিতে ডুবিয়ে বেকিং সোডা মেশান। ২৫°C-এর নিচে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। রান্নাঘর বেশি গরম হলে ফ্রিজ ব্যবহার করুন। ডাবলি সমানভাবে ফুলবে, কিন্তু টক গন্ধ হবে না। রান্নার আগে পানি ঝরিয়ে ভালোভাবে কয়েকবার ধুয়ে নিন।

  2. 2

    ডাবলি নরম হওয়া পর্যন্ত সিমার করা

    ভেজানো ডাবলি স্টকপটে নিয়ে ওপর থেকে ৫ সেমি পর্যন্ত ঢেকে যায় এমন পরিমাণ পরিষ্কার পানি দিন। ফুটে উঠলে ফেনা তুলে ফেলুন, তারপর ৯৬ থেকে ৯৮°C তাপমাত্রায় ৫০ থেকে ৭৫ মিনিট রান্না করুন। প্রতি ৮ থেকে ১০ মিনিট পর নেড়ে প্রয়োজনমতো ফুটন্ত পানি দিন। তৈরি ডাবলি সহজে চটকানো যাবে এবং মাঝখানে শক্ত অংশ থাকবে না।

  3. 3

    আলু আলাদা সেদ্ধ করা

    আলুর কিউব পানিতে ডুবিয়ে ৯৫ থেকে ৯৮°C তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট সিমার করুন। কিনারা নরম হলেও কিউবের আকার ঠিক থাকা অবস্থায় পানি ঝরিয়ে নিন। ঝুরঝুরে হওয়া পর্যন্ত রান্না করবেন না, কারণ গরম বেসে মেশানোর পর আলু আরও নরম হবে।

  4. 4

    তেঁতুলের চাটনি তৈরি

    তেঁতুল ২.৫ লিটার গরম পানিতে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে হাত দিয়ে মথে ছেঁকে নিন। তেঁতুলের তরলের সঙ্গে গুড়, বিট লবণ, ২০ গ্রাম সাধারণ লবণ ও ২০ গ্রাম ভাজা জিরা মিশিয়ে ৯০ থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট সিমার করুন। ঠান্ডা হলে চাটনি চামচে হালকা আস্তরণ তৈরি করবে, তবে সহজে ঢালা যাবে।

  5. 5

    ডিম সেদ্ধ ও ঠান্ডা করা

    সিমার করা পানিতে ডিম নামিয়ে ৯৬ থেকে ৯৮°C তাপমাত্রায় ১০ থেকে ১১ মিনিট রান্না করুন। সঙ্গে সঙ্গে বরফপানি বা খুব ঠান্ডা পানিতে দিয়ে ১০ মিনিট রাখুন, এরপর খোসা ছাড়িয়ে অর্ধেক করুন। ঢেকে ৫°C বা তার নিচে ফ্রিজে রেখে সার্ভিসের সময় বের করুন।

  6. 6

    গরম বেসে মসলা দেওয়া

    ডাবলি পুরো নরম হলে বাকি লবণ, হলুদ, মরিচের গুঁড়া, বাকি ভাজা জিরা ও ভাজা ধনিয়ার গুঁড়া দিন। তলা থেকে নেড়ে ৯০ থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ৮ মিনিট সিমার করুন। পাত্রের পাশে চেপে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ডাবলি ভেঙে দিন, যাতে তরল চকচকে ও হালকা ঘন হয়।

  7. 7

    আলু মেশানো

    পানি ঝরানো আলুর কিউব মসলাদার ডাবলির সঙ্গে আলতো করে মেশান। জোরে না ফুটিয়ে ৯০ থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ৫ মিনিট সিমার করুন। ফুটন্ত পানি দিয়ে ঘনত্ব এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে বেস লাডল থেকে ধীরে পড়ে এবং আস্ত ডাবলি ও আলু দেখা যায়।

  8. 8

    টপিং স্টেশন প্রস্তুত করা

    পেঁয়াজ, শসা, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা ও ডিম আলাদা ঠান্ডা ইনসার্টে ৫°C বা তার নিচে রাখুন। কাউন্টারে একবারে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের সার্ভিসের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ রাখুন। সবজি মচমচে ও শুকনা থাকবে এবং ইনসার্টে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

  9. 9

    ব্যাচ ও পরিবেশনের পরিমাণ পরীক্ষা

    তৈরি গরম বেস ওজন করে প্রয়োজনে ফুটন্ত পানি দিয়ে প্রায় ৮.৪ কেজিতে সমন্বয় করুন। ২০০ গ্রাম বেসের একটি প্লেটে চাটনি ও টপিং দিয়ে চেখে দেখুন, এরপর মূল পাত্রে লবণ বা ঝাল ঠিক করুন। প্লেট টক ও আর্দ্র হবে, তবে চারপাশে পাতলা পানির বলয় থাকবে না।

  10. 10

    হট হোল্ডিং ও অর্ডার তৈরি

    বেস ৬০°C-এর ওপরে রাখুন এবং প্রতি ১৫ মিনিট পর নেড়ে দিন। ঘন হলে একবারে ২৫০ ml করে ফুটন্ত পানি যোগ করুন। প্রতি প্লেটে ২০০ গ্রাম বেস, প্রায় ৪৫ ml চাটনি, অর্ধেক ডিম ও মাপা টাটকা টপিং দিন। ধনেপাতা ও দুটি ভাঙা ফুচকার খোল দিয়ে শেষ করুন এবং ৪৫ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে প্লেট তৈরি করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই বাণিজ্যিক চটপটি রেসিপিতে প্রতি প্লেটে ২০০ গ্রাম গরম ডাবলি বেস ধরে প্রায় ৪০ প্লেট তৈরি হবে। বাংলাদেশের ফুড কার্ট, নাশতার দোকান বা রেস্টুরেন্টে আগে থেকে বেস রান্না করে অর্ডারের সময় তেঁতুলের চাটনি, ডিম ও টাটকা টপিং দিয়ে দ্রুত পরিবেশনের জন্য রেসিপিটি সাজানো হয়েছে। উল্লেখ করা উৎপাদন সময়ের মধ্যে সারা রাত ডাবলি ভেজানোর সময় ধরা হয়নি।

বাণিজ্যিক সার্ভিসে চটপটি কার্যকর কেন

চটপটি বাণিজ্যিক সার্ভিসে কার্যকর, কারণ নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যাচ হট হোল্ডিংয়ে রেখে এক মিনিটের কম সময়ে সম্পূর্ণ প্লেট তৈরি করা যায়। বেশির ভাগ রান্না সার্ভিস শুরুর আগেই শেষ হয়, আর অর্ডারের সময় মাপা টপিং যোগ করতে হয়। মূল উৎপাদন প্রক্রিয়া না বদলিয়েও একই বেস দিয়ে বাড়তি ডিম, বাড়তি চাটনি বা ফুচকা যোগ করে মেনুর ভিন্নতা রাখা যায়।

মূল পরিচালনাগত সমস্যা হলো একই ঘনত্ব ধরে রাখা। রান্না করা ডাবলি হট হোল্ডিংয়ের সময়ও পানি শোষণ করে, তাই দোকান খোলার সময় সঠিক ঘনত্বের বেস পরে অতিরিক্ত ঘন ও পেস্টের মতো হয়ে যেতে পারে। পাত্রের পাশে গরম পানি বা পাতলা সংরক্ষিত সেদ্ধর পানি রাখুন এবং পুরো ব্যাচে একসঙ্গে বেশি পানি না ঢেলে অল্প অল্প মেপে যোগ করুন।

উপকরণ নির্বাচন ও মান

দামি মসলার চেয়ে শুকনা ডাবলি ও তেঁতুলের মান চটপটির স্বাদে বেশি প্রভাব ফেলে। নিয়মিত পণ্য বিক্রি হয় এমন সরবরাহকারীর কাছ থেকে ডাবলি কিনুন, কারণ পুরোনো ডাবলি সমানভাবে পানি শোষণ করে না এবং নরম হতে অনেক বেশি সময় নেয়। পোকায় খাওয়া, স্যাঁতসেঁতে গন্ধযুক্ত বা অতিরিক্ত ভাঙা ডাবলি নেবেন না। রান্নার সময় পরীক্ষা না করা পর্যন্ত প্রতিটি সরবরাহকারীর লট আলাদা রাখুন।

সেদ্ধ ডাবলি দুই আঙুলে সহজে চটকানো যাবে, তবে বেশির ভাগ দানা আস্ত ও দৃশ্যমান থাকবে। বেকিং সোডা শক্ত ডাবলি নরম করতে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি হলে সাবানের মতো স্বাদ হয় এবং পুরো ব্যাচ পেস্ট হয়ে যায়। এই ফর্মুলায় দেওয়া অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা ভেজানোর পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।

সেদ্ধ করার পরও আকার ধরে রাখে এমন শক্ত আলু ব্যবহার করুন। পানিযুক্ত শসা ও মোটা করে কাটা পেঁয়াজ প্লেটে পানি ছাড়ে, তাই ধোয়া সবজি ভালোভাবে ঝরিয়ে সার্ভিসের অল্প আগে কাটুন। তেঁতুলে তীব্র টক স্বাদ থাকতে হবে, কিন্তু বাসি বা গাঁজানো গন্ধ থাকা যাবে না। গুড় টকের ভারসাম্য রাখে, তবে স্টার্চযুক্ত বেসের ভারী স্বাদ কাটাতে চাটনি যথেষ্ট টক রাখতে হবে।

ডাবলি বেসের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ

সঠিক চটপটি বেস হবে চামচে তোলার উপযোগী ও চকচকে, যেখানে নরম আস্ত ডাবলি ঘন ঝোলের মধ্যে থাকবে। এটি আলুভর্তার মতো দাঁড়িয়ে থাকবে না এবং প্লেটের কিনারে পাতলা পানি আলাদা হয়ে জমবে না। রান্নার শুরুতে ডাবলি সহজে নড়াচড়া করার মতো পানি দিন, কিন্তু সব পানি একবারে দেবেন না, কারণ ডাবলির লটভেদে পানি শোষণের পরিমাণ বদলায়।

তীব্রভাবে ফুটানোর বদলে স্থির আঁচে সিমার করুন। বেশি জোরে ফুটলে ডাবলির ভেতর নরম হওয়ার আগেই বাইরের অংশ ভেঙে যায় এবং বাণিজ্যিক পাত্রের তলায় পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সমতল মাথার প্যাডল দিয়ে প্রতি ৮ থেকে ১০ মিনিট পর তলা থেকে নেড়ে দিন। ডাবলি নরম হলে পাত্রের পাশে চেপে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দানা ভেঙে দিন। এতে ময়দা বা স্টার্চ ছাড়াই ঝোল স্বাভাবিকভাবে ঘন হবে।

আলু আলাদা সেদ্ধ করে ডাবলি পুরো নরম হওয়ার পর মেশান। এতে আলুর স্টার্চের কারণে শক্ত ডাবলি আড়াল হয় না এবং পুনরায় গরম করার সময় ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। পরিবেশনের তাপমাত্রায় এক চামচ মাপা চাটনি দিয়ে চেখে চূড়ান্ত লবণ ও মসলা ঠিক করুন, কারণ বিট লবণ, তেঁতুল ও টপিং পরিবেশিত প্লেটের স্বাদ বদলে দেয়।

ব্যাচ সঠিকভাবে বাড়ানো বা কমানো

চটপটির ব্যাচ ওজন ধরে স্কেল করতে হবে, তবে রান্নার সময় বদলানোর আগে পাত্রের আকার ও আঁচের ক্ষমতা বদলাতে হবে। অর্ধেক ব্যাচে প্রতিটি উপকরণের ঠিক অর্ধেক ব্যবহার করা যাবে, যদি ডাবলি নড়াচড়া করার মতো যথেষ্ট পানির গভীরতা থাকে। দ্বিগুণ ব্যাচের জন্য একটি পাত্র কানায় কানায় ভরার বদলে সম্ভব হলে দুটি পাত্র ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত গভীর পাত্র সমানভাবে গরম হয় না এবং তলায় পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। দ্বিগুণ ব্যাচ আবার সিমারে ফিরতে বেশি সময় নিতে পারে, তবে ঠিকমতো ভেজানো ডাবলির রান্নার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিগুণ হবে না। পাত্রের মাঝখান ও পাশ থেকে ডাবলি নিয়ে নরম হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রতিটি সরবরাহকারীর ডাবলির লট অনুযায়ী কত পানি যোগ হয়েছে এবং কতক্ষণ রান্না হয়েছে তা লিখে রাখুন, যাতে পরের উৎপাদন অনুমানযোগ্য হয়।

হট হোল্ডিং, ঠান্ডা করা ও পুনরায় গরম করা

রান্না করা বেস ৬০°C বা তার বেশি তাপমাত্রায় রাখুন এবং ঘন হলে অল্প অল্প ফুটন্ত পানি দিয়ে ঠিক করুন। প্রতি ১৫ মিনিট পর পাত্রের তলা ও কোণা ঘষে নেড়ে দিন। একবারে ২৫০ ml ফুটন্ত পানি যোগ করে ভালোভাবে মেশান এবং আরও পানি লাগবে কি না ঠিক করার আগে দুই মিনিট অপেক্ষা করুন। ভালো টেক্সচারের জন্য গরম ব্যাচ চার ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করুন।

পরের দিন বেস ব্যবহার করতে হলে স্টকপটের মধ্যে রেখে না দিয়ে দ্রুত ঠান্ডা করুন। অগভীর ফুড-গ্রেড প্যানে ভাগ করে ৬০°C থেকে ২১°C তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে এবং এরপর আরও চার ঘণ্টার মধ্যে ৫°C বা তার নিচে নামান। ঢেকে ফ্রিজে রাখুন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। প্রয়োজনীয় পরিমাণ বেস কমপক্ষে ৭৪°C পর্যন্ত পুনরায় গরম করে ৬০°C-এর ওপরে হট হোল্ডিংয়ে রাখুন। বারবার ঠান্ডা ও গরম করলে ডাবলি ভেঙে যায় এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ে।

সেদ্ধ ডিম, পেঁয়াজ, শসা ও ধনেপাতা ৫°C বা তার নিচে রাখুন। কার্টের সার্ভিস স্টেশনে অল্প পরিমাণ রাখুন এবং প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর নতুন করে ভরুন। গরম হয়ে যাওয়া বা হাতে পরিবেশন করা টপিং মূল ঠান্ডা কনটেইনারে ফেরত দেবেন না।

দ্রুত ডিম ও টপিং স্টেশন

দ্রুত চটপটি স্টেশনে প্রতিটি টপিং পরিবেশনের ক্রমে সাজানো থাকে এবং প্রতিটির জন্য আলাদা মাপার সরঞ্জাম থাকে। প্রথমে গরম বেস, এরপর চাটনি, পেঁয়াজ, শসা, কাঁচামরিচ, ডিম, ধনেপাতা, মসলা ও ভাঙা ফুচকার খোল সাজান। এতে একজন কর্মী হাত আড়াআড়ি না করে বা কনটেইনার না খুঁজে দ্রুত প্লেট তৈরি করতে পারবেন।

ব্যস্ত সময় শুরুর আগেই ডিম সেদ্ধ, ঠান্ডা ও খোসা ছাড়িয়ে প্রতিটি ডিম সমান দুই ভাগ করুন। কুসুম শুকিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ডিমের অর্ধেক অংশ ঢেকে রাখুন। চাটনির জন্য ছোট লাডল, পেঁয়াজ ও শসার জন্য নির্দিষ্ট মাপের চামচ এবং ডিমের জন্য টং ব্যবহার করুন। সর্বোচ্চ ব্যস্ত সময়ে একজন বেস দিতে পারেন এবং দ্বিতীয় কর্মী টপিং শেষ করে প্লেট হস্তান্তর করতে পারেন।

টপিংয়ের মূল স্টক ফ্রিজে রাখুন এবং স্টেশনে অগভীর, ঢাকনাযুক্ত ইনসার্ট ব্যবহার করুন। পুরোনো টপিংয়ের ওপর নতুন পণ্য ঢালার বদলে পুরো ইনসার্ট বদলে দিন। এতে স্বাস্থ্যবিধি ভালো থাকে এবং সার্ভিস শেষে অবশিষ্ট স্টক গণনা সহজ হয়।

পরিমাণ ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণ

এই ব্যাচে প্রায় ৮.৪ কেজি গরম বেস পাওয়া উচিত, যা পাত্রে স্বাভাবিক অবশিষ্টাংশ বাদ দিয়ে প্রায় ৪০টি বিক্রয়যোগ্য প্লেট দেবে। প্রতি প্লেটে ২০০ গ্রাম বেস, প্রায় ৪৫ ml চাটনি, অর্ধেক ডিম, মাপা পেঁয়াজ ও শসা, ধনেপাতা এবং দুটি ভাঙা ফুচকার খোল দিন। দোকান খোলার সময় প্রথম পাঁচটি পরিবেশন ওজন করুন এবং কর্মী বদল হলে আবার পরীক্ষা করুন।

লাডল পানি দিয়ে নয়, তৈরি গরম বেস দিয়ে ক্যালিব্রেট করতে হবে, কারণ ঘন চটপটি পানির মতো লাডল ভরে না। লক্ষ্য অনুযায়ী ভরার দাগ দিন অথবা সমান করে ভরা নির্দিষ্ট সংখ্যক লাডল ঠিক করুন। এই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকার ব্যবহারিক পদ্ধতি মানলে সার্ভিসের শেষ দিকে বড় প্লেট দেওয়ার কারণে ব্যাচের শেষ কয়েকটি প্লেট নষ্ট হবে না।

যেসব ভুলে খরচ বাড়ে

চটপটিতে সবচেয়ে বেশি খরচ বাড়ায় ঠিকমতো না ভেজানো ডাবলি, নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পানি যোগ করা এবং না মেপে টপিং দেওয়া। কম সময় ভেজালে জ্বালানি বেশি লাগে এবং ডাবলির বাইরের অংশ ফেটে গেলেও ভেতর শক্ত থাকে। গরম ঘরে ভেজানো ডাবলি রেখে গাঁজিয়ে ফেললে টক গন্ধ ও স্বাদ তৈরি হয় এবং পুরো ব্যাচ ফেলে দিতে হতে পারে।

  • বেশি বেকিং সোডা দেওয়া: এতে স্বাদ নষ্ট হয়, ঝোল গাঢ় রঙের হয় এবং ডাবলি অতিরিক্ত নরম হয়ে যায়।
  • আগে লবণ বা টক দেওয়া: ডাবলি নরম হওয়ার আগে তেঁতুল দিলে সেদ্ধ হতে দেরি হতে পারে। প্লেট তৈরির আগে পর্যন্ত চাটনি আলাদা রাখুন।
  • সার্ভিসের সময় ঠান্ডা পানি দেওয়া: ঠান্ডা পানিতে হোল্ডিং তাপমাত্রা কমে যায় এবং টেক্সচার অসমান হয়। শুধু ফুটন্ত পানি ব্যবহার করুন।
  • টপিং ঘরের তাপমাত্রায় রাখা: বাংলাদেশের গরমে পেঁয়াজ, শসা ও ডিমের মান দ্রুত নষ্ট হয়। স্টেশনে অল্প অল্প করে ভরুন।
  • না মেপে চাটনি ঢালা: বেশি চাটনি বেসের স্বাদ ঢেকে দেয়, প্লেট পানিযুক্ত করে এবং প্রত্যাশিত ইয়েল্ড কমায়।
  • হোল্ডিং পাত্র অতিরিক্ত ভরা: ভারী ব্যাচের ওপরের অংশ পাতলা দেখালেও তলা পুড়ে যেতে পারে, এতে স্বাদ নষ্ট হয় এবং পরিষ্কারে শ্রম বাড়ে।

ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখা

চটপটির খরচ স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহকারীর পণ্যের মান, মাপা ইয়েল্ড ও সঠিক অপচয়ের রেকর্ড দরকার। প্রতিবার কেনা শুকনা ডাবলি থেকে রান্নার পর কত ওজন পাওয়া যায় তা লিখে রাখুন এবং শুধু বস্তার ওজন নয়, ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ধরে সরবরাহকারী তুলনা করুন। বিক্রি হওয়া প্লেটের প্রকৃত সংখ্যা দিয়ে রেসিপি কস্টিং করুন, এরপর ভাঙা ডিম, অব্যবহৃত কাটা সবজি ও অবশিষ্ট বেস খাবারের অপচয় কমানোর নিয়মে পর্যালোচনা করুন।

Rosuii-তে ডাবলি বেসকে এমন একটি production হিসেবে রেকর্ড করা যায়, যেখানে কাঁচা স্টক থেকে সম্পূর্ণ ব্যাচ তৈরি হয়। Wastage ও item-sales report দিয়ে পরিকল্পিত ইয়েল্ডের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রি তুলনা করা যায়। চাটনি ও টপিংয়ের আলাদা স্টক রেকর্ড রাখুন, কারণ বেসের পরিমাণ স্থির থাকলেও এগুলোর ব্যবহার বদলাতে পারে।

খরচ কোথায় বাড়ে

শুকনা ডাবলি, ডিম ও টাটকা টপিং মোট পরিবর্তনশীল উপকরণ খরচের বড় অংশ। ডাবলির মান ও রান্নার ইয়েল্ড, ডিমের আকার, মৌসুমি শসা ও ধনেপাতার বাজারদর এবং অতিরিক্ত টপিং দেওয়ার কারণে খরচ ওঠানামা করে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই চটপটি রেসিপি দ্বিগুণ করে ৮০ প্লেট করা যাবে কি?

হ্যাঁ। সব উপকরণ ওজন ধরে দ্বিগুণ করুন, তবে একটি পাত্র দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভরে গেলে দুটি স্টকপট ব্যবহার করুন। রান্নার সময় দ্বিগুণ না করে প্রতিটি পাত্রের ডাবলি নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। দুই ব্যাচের ঘনত্ব একই হলে তারপর একসঙ্গে মেশান।

চটপটি কতক্ষণ হট হোল্ডিংয়ে রাখা যাবে?

বেস সব সময় ৬০°C-এর ওপরে রাখুন এবং ভালো টেক্সচারের জন্য চার ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। প্রতি ১৫ মিনিট পর নেড়ে ঘনত্ব ঠিক করতে ফুটন্ত পানি ব্যবহার করুন। কোনো বেস কতক্ষণ নিরাপদ হোল্ডিং তাপমাত্রার নিচে ছিল তা নিশ্চিত না হলে সেটি ফেলে দিন।

রান্না করা চটপটি ফ্রিজে কতক্ষণ রাখা যায়?

দ্রুত ঠান্ডা করা বেস ৫°C বা তার নিচে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা রাখা যায়। চাটনি আলাদা করে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং খোসা ছাড়ানো ডিম ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না। টাটকা কাটা পেঁয়াজ, শসা ও ধনেপাতা প্রতিদিন নতুন করে প্রস্তুত করুন।

ডাবলির বদলে সাধারণ ছোলা ব্যবহার করা যাবে কি?

সাধারণ কাবুলি ছোলা ব্যবহার করা যায়, তবে এতে প্রচলিত নরম বাংলাদেশি চটপটির বদলে শক্ত ও বাদামের মতো স্বাদের পদ তৈরি হবে। বিক্রির আগে কাবুলি ছোলার ভেজানোর সময়, রান্নার সময় ও পানি শোষণের পরিমাণ আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

একটি ব্যাচ থেকে ৪০ প্লেটের কম হওয়ার কারণ কী?

সাধারণ কারণ হলো বড় লাডল ব্যবহার, অতিরিক্ত পানি বাষ্প হয়ে যাওয়া, কর্মীদের না লেখা টেস্টিং এবং প্রতি প্লেটে ২০০ গ্রামের বেশি বেস দেওয়া। তৈরি ব্যাচের ওজন নিন, গরম চটপটি দিয়ে লাডল ক্যালিব্রেট করুন এবং সার্ভিসের আগে প্রতিটি অর্ধেক ডিম ও ফুচকার অংশ গুনে রাখুন।
শেয়ার

কমার্শিয়াল আলু ভাজির রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেট নাশতার জন্য ৫ kg আলুর কমার্শিয়াল আলু ভাজি, সঙ্গে সমান কাটিং, সকালের ব্যস্ত সময়ে দ্রুত রান্না, হট হোল্ডিং ও yield নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট পদ্ধতি।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
সহজ

কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি, যেখানে দীর্ঘ সময় কষানো, তেল ছাড়ার স্পষ্ট লক্ষণ, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবেশন ও নিরাপদ রিহিটিং দেখানো হয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

বাণিজ্যিক বিফ সাতকরা রেসিপি

৩০ প্লেটের বাণিজ্যিক সিলেটি বিফ সাতকরা রেসিপি, যেখানে সাতকরার তিতা স্বাদ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাচ স্কেলিং, হোল্ডিং, পুনরায় গরম করা ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা রয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৩০ প্লেট
মোট:
৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন