মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

রেস্টুরেন্টের দুধ চা

আলাদা চায়ের লিকার, মাপা চিনির সিরা, নিরাপদে গরম করা দুধ এবং প্রতি কাপে নির্দিষ্ট ১৮০ ml পোরশন ব্যবহার করে ৪০ কাপ দুধ চা তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি।

শেয়ার
মসৃণ হালকা বাদামি রঙের গরম বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট দুধ চায়ের কাচের কাপ, পাশে ছোট পাত্র ও গোটা গরম মসলা।
প্রস্তুতি
২০ মিনিট
রান্না
৩৫ মিনিট
মোট
৫৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ কাপ, প্রতি কাপ ১৮০ ml
কঠিনতা
সহজ
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    মাপ নেওয়া ও স্টেশন প্রস্তুত করা

    পাত্র, ছাঁকনি, আর্ন ও মেজারিং জগ স্যানিটাইজ করুন এবং চুলায় দেওয়ার আগে প্রতিটি উপকরণ ওজন করে নিন। ৫ থেকে ১০ মিনিটের প্রস্তুতির সময় দুধ ৫°C বা তার নিচে রাখুন। দুধের গন্ধ পরিষ্কার হতে হবে এবং পানি আলাদা হওয়া বা ছানা কাটার লক্ষণ থাকা যাবে না।

  2. 2

    গোটা মসলার স্বাদ বের করা

    স্টকপটে ৩.৬ লিটার পানি, আদা, দারুচিনি, এলাচ ও তেজপাতা নিন। ৯৮°C থেকে ১০০°C পর্যন্ত গরম করুন, তারপর মৃদু আঁচে ৮ মিনিট সিমার করুন। পানি গাঢ় বাদামি নয়, হালকা অ্যাম্বার রঙের ও সুগন্ধি হবে।

  3. 3

    চায়ের লিকার তৈরি করা

    আঁচ কমিয়ে কালো চা পাতা দিন এবং ৯৫°C থেকে ৯৮°C তাপমাত্রায় ৫ মিনিট রাখুন। ৩০ সেকেন্ড পর একবার নাড়ুন। লিকার গাঢ় তামাটে হবে, কিন্তু টগবগ করে ফুটবে না।

  4. 4

    ছেঁকে চূড়ান্ত ভলিউম ঠিক করা

    ব্রুইং শেষ হওয়ার ১ মিনিটের মধ্যে সূক্ষ্ম ছাঁকনি দিয়ে লিকার ছেঁকে নিন এবং পাতা চেপে ধরবেন না। প্রয়োজন হলে সংরক্ষিত গরম পানি অল্প করে দিয়ে তৈরি লিকারের পরিমাণ ৩.২ লিটার করুন। লিকার পরিষ্কার ও গাঢ় হবে এবং তলানি খুব কম থাকবে।

  5. 5

    মাপা চিনির সিরা তৈরি করা

    ৫০০ ml পানি, চিনি ও লবণ ৮৫°C থেকে ৯০°C তাপমাত্রায় ৩ থেকে ৪ মিনিট গরম করুন এবং সম্পূর্ণ পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। বাদামি হতে দেবেন না। প্রয়োজন হলে গরম অবস্থায় সিরার চূড়ান্ত পরিমাণ ১ লিটার করুন এবং ঢেকে ঠান্ডা করুন। তৈরি সিরা সমানভাবে ঢালা যাবে এবং চিনির দানা দেখা যাবে না।

  6. 6

    নিরাপদ হোল্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা

    ছাঁকা চায়ের লিকার পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত আর্নে নিয়ে ৬০°C থেকে ৬৫°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা হট-হোল্ড করুন। প্রতি ৩০ মিনিটে পরীক্ষা করুন। লিকার পরিষ্কার ও তামাটে বাদামি থাকবে, ঘোলা বা কালচে হবে না।

  7. 7

    অল্প ব্যাচে দুধ গরম করা

    প্রতি ব্যাচে প্রায় ১ লিটার দুধ নিয়ে ৩ থেকে ৫ মিনিটে ৭০°C থেকে ৭৫°C পর্যন্ত গরম করুন এবং পাত্রের তলা ঘেঁষে নাড়ুন। একটানা বাষ্প উঠলে ও কিনারায় ছোট বুদবুদ দেখা দিলে আঁচ বন্ধ করুন। সর পড়া বা টগবগ করে ফুটে ওঠার আগেই নামাতে হবে।

  8. 8

    প্রতি স্ট্যান্ডার্ড কাপ তৈরি করা

    প্রতি কাপে ২৫ ml সিরা, ৮০ ml গরম চায়ের লিকার ও ৭৫ ml গরম দুধ মেপে দিন। ৫ সেকেন্ড নেড়ে প্রায় ৬৫°C থেকে ৭০°C তাপমাত্রায় পরিবেশন করুন। চায়ের রঙ সমান হালকা বাদামি হবে এবং কাপের নিচে সিরা জমে থাকবে না।

  9. 9

    অবশিষ্ট পণ্য ঠান্ডা করা বা ফেলে দেওয়া

    সার্ভিস শেষে অব্যবহৃত চায়ের লিকার ৬০°C থেকে ২১°C-এ ২ ঘণ্টার মধ্যে এবং পরের ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫°C বা তার নিচে ঠান্ডা করুন। লেবেল লাগিয়ে ফ্রিজে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা রাখুন। নিরাপদ হোল্ডিং সীমা পার হওয়া দুধ বা তৈরি চা এবং সর, ছানা কাটা বা রান্না করা গন্ধ দেখা দেওয়া পণ্য ফেলে দিন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই কমার্শিয়াল দুধ চা রেসিপিতে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রিত চায়ের লিকার, চিনির সিরা ও গরম দুধ দিয়ে প্রায় ৪০ কাপ একই মানের ১৮০ ml চা তৈরি হয়। তিনটি অংশ আলাদা রাখলে বারবার সম্পূর্ণ দুধ চা জ্বাল দেওয়ার তুলনায় রেস্টুরেন্ট বা ফুড কার্টে দ্রুত সার্ভিস দেওয়া এবং মান ঠিক রাখা সহজ হয়। চায়ের ঝাঁজ বজায় থাকে, দুধ পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং প্রতি কাপে সমান মিষ্টি দেওয়া যায়।

কমার্শিয়াল কাজে এই রেসিপি কার্যকর কেন

চা, দুধ ও সিরা আলাদা রাখলে একজন কর্মী এক মিনিটের কম সময়ে একই মানের একটি কাপ তৈরি করতে পারেন। ব্যস্ত সময়ের আগে চায়ের লিকার বানিয়ে রাখা যায়, আর সম্ভাব্য অর্ডার অনুযায়ী অল্প অল্প করে দুধ গরম করা যায়। চিনির সিরা সম্পূর্ণ গলে থাকে বলে কাপের নিচে চিনি জমে থাকার সমস্যা হয় না।

এই পদ্ধতিতে মেনুর ভিন্নতাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্ট্যান্ডার্ড কাপ নির্দিষ্ট ফর্মুলায় তৈরি হবে, আর কম মিষ্টি বা বেশি দুধের ধরন আলাদা পোরশন ও মূল্য নির্ধারণে রাখা যাবে। প্রতি অর্ডারে কত চামচ চা বা চিনি লাগবে, কর্মীদের তা আন্দাজ করতে হবে না।

চা পাতা ও দুধ বাছাই

তৈরি চায়ের মানে সবচেয়ে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে চা পাতা ও দুধ। পরিষ্কার স্বাদ ও ভালো ঝাঁজের CTC ব্ল্যাক টি ব্যবহার করুন এবং একই গ্রেড ও সরবরাহকারী ধরে রাখুন। অতিরিক্ত গুঁড়া চা দ্রুত রঙ দিলেও কষা স্বাদ ও তলানি তৈরি করতে পারে। দুর্বল চা পাতায় প্রয়োজনীয় রঙ ও স্বাদ পেতে বেশি পাতা এবং দীর্ঘ এক্সট্রাকশন লাগে।

বারবার তরল দুধ, গুঁড়া দুধ ও কনডেন্সড মিল্ক বদলানোর তুলনায় ফুল-ক্রিম তরল দুধে চায়ের বডি ও স্বাদ বেশি স্থির থাকে। ব্যবসায় গুঁড়া দুধ মিশিয়ে দুধ বানাতে হলে গুঁড়া ও পানির অনুপাত ওজন দিয়ে নির্ধারণ করুন। সম্পূর্ণ গুলে ছেঁকে নিন এবং এটিকে আলাদা পরীক্ষিত রেসিপি হিসেবে পরিচালনা করুন। কস্টিং ও কাপের ফর্মুলা সংশোধন না করে সার্ভিসের মধ্যে দুধের ধরন বদলাবেন না।

ট্যাপের পানিতে ক্লোরিন, আয়রন বা খনিজের তীব্র স্বাদ থাকলে ফিল্টার করা পানি ব্যবহার জরুরি। আদা ও গোটা গরম মসলায় টাটকা ঘ্রাণ থাকতে হবে, তবে পরিমাণ সংযত রাখুন। এগুলোর কাজ চায়ের স্বাদকে সহায়তা করা, দুর্বল চা পাতা বা পুরোনো দুধের স্বাদ ঢেকে রাখা নয়।

বেশি জ্বাল না দিয়ে এক্সট্রাকশন নিয়ন্ত্রণ

কড়া দুধ চা পেতে চা ও পানির মাপ এবং নির্দিষ্ট এক্সট্রাকশন সময় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, দীর্ঘ সময় জোরে ফুটানো নয়। প্রথমে প্রায় ফুটন্ত পানিতে গোটা মসলার স্বাদ ছাড়িয়ে নিন। এরপর চা পাতা দিয়ে তরলকে টগবগ করে ফুটতে না দিয়ে ফুটন্ত অবস্থার ঠিক নিচে রাখুন। অল্প সময়ের নিয়ন্ত্রিত এক্সট্রাকশনে গাঢ় তামাটে রঙ ও ঝাঁজ পাওয়া যায়, কিন্তু কাঠের মতো তিতা স্বাদ কম থাকে।

নির্ধারিত সময় শেষ হলেই ছেঁকে নিন। টি আর্নে পাতা রেখে দিলে এক্সট্রাকশন চলতে থাকে, ফলে পরের কাপগুলো আগের কাপের তুলনায় বেশি গাঢ় ও কষা হয়। কাপড়ের ছাঁকনি জোরে চেপে ধরবেন না। এতে সূক্ষ্ম কণা ও কষা উপাদান লিকারে চলে আসে।

কেটলির সব পানি থাকবে ধরে না নিয়ে ছাঁকার পর পাওয়া লিকার মাপুন। চা পাতা পানি শুষে নেয়, বাষ্প বের হয় এবং পাত্রের আকৃতি অনুযায়ী পানি কমার পরিমাণ বদলায়। গরম পানি দিয়ে ছাঁকা লিকারকে নির্ধারিত চূড়ান্ত ভলিউমে আনুন। আলাদা শিফটে একই রেসিপি বানানোর সময় এই আউটপুট পরীক্ষা করা জরুরি।

মিষ্টি নির্দিষ্ট মাপে রাখা

প্রতি কাপে আলাদা দানাদার চিনি দেওয়ার তুলনায় নির্দিষ্ট ঘনত্বের চিনির সিরা বেশি ধারাবাহিক ফল দেয়। চিনির দানা সম্পূর্ণ গলে সিরা পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত গরম করুন। বেশি সময় ফুটালে পানি বাষ্প হয়ে সিরা ঘন হবে এবং একই মাপ ব্যবহার করলেও পরের ব্যাচের চা বেশি মিষ্টি হবে।

প্রতি কাপের জন্য দাগ দেওয়া মেজারিং জগ বা ক্যালিব্রেট করা ডিসপেনসার ব্যবহার করুন। পাম্প ব্যবহার করলে টানা দশ পাম্প সিরা নিয়ে মোট পরিমাণ মাপুন এবং দশ দিয়ে ভাগ করে প্রতি পাম্পের আউটপুট বের করুন। পরিষ্কারের পর আবার পরীক্ষা করুন, কারণ স্প্রিং, নজল ও সিরার তাপমাত্রা অনুযায়ী আউটপুট বদলাতে পারে।

চূড়ান্ত আউটপুট ধরে ব্যাচ স্কেল করা

৪০ কাপের ফর্মুলা থেকে প্রতিটি উপকরণ একই অনুপাতে স্কেল করুন, তবে সার্ভিসের আগে তৈরি লিকার ও সিরার চূড়ান্ত ভলিউম যাচাই করুন। ২০ কাপের জন্য সব উপকরণ অর্ধেক নিন, কিন্তু ব্রুইংয়ের সময় ও তাপমাত্রা একই রাখুন। ৮০ কাপের জন্য উপকরণ দ্বিগুণ করুন, তবে বড় পরিমাণ দ্রুত গরম ও ছাঁকার উপযোগী কেটলি না থাকলে দুইটি সমান পাত্রে চা তৈরি করুন।

পাত্রে অতিরিক্ত চা নিয়ে বেশি সময় ভিজিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করবেন না। বড় ও ধীর ব্যাচে অসম এক্সট্রাকশন হতে পারে এবং ছাঁকতেও বেশি সময় লাগে। প্রতিটি পাত্রে স্বাভাবিক বাষ্পীভবন ও পাতায় আটকে থাকা পানির পরিমাণ নথিভুক্ত করে সেই পাত্রের জন্য নির্দিষ্ট অতিরিক্ত পানির পরিমাণ ঠিক করুন।

চায়ের লিকার ও দুধ আলাদা হোল্ডিং

চায়ের লিকার ৬০°C থেকে ৬৫°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা হট-হোল্ড করা যায়, তবে দীর্ঘ সার্ভিসে দুইটি ছোট ব্যাচ বানালে স্বাদ ভালো থাকে। শুধু চায়ের জন্য রাখা পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত আর্ন ব্যবহার করুন এবং হোল্ডিংয়ের আগে সব পাতা সরিয়ে ফেলুন। বেশি তাপমাত্রায় রাখলে দ্রুত বাসি ও অতিরিক্ত রান্না করা স্বাদ আসে। দীর্ঘ সময়ের হট-হোল্ডিংয়ে ৬০°C-এর নিচের তাপমাত্রা নিরাপদ নয়।

বন্ধ প্যাকেট ও কাজের জন্য খোলা দুধ ৫°C বা তার নিচে রাখুন। পরবর্তী ২০ থেকে ৩০ মিনিটের সম্ভাব্য অর্ডারের জন্য যতটুকু দরকার, শুধু ততটুকু দুধ গরম করুন। টগবগ করে না ফুটিয়ে ৭০°C থেকে ৭৫°C পর্যন্ত নিন। পুরোনো গরম দুধের পাত্রে বারবার ঠান্ডা দুধ যোগ করবেন না। এতে হোল্ডিং সময় অনিশ্চিত হয় এবং দুধ পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

অব্যবহৃত চায়ের লিকার ৬০°C থেকে ২১°C-এ দুই ঘণ্টার মধ্যে এবং পরের চার ঘণ্টার মধ্যে ৫°C বা তার নিচে ঠান্ডা করুন। ঢেকে ফ্রিজে রাখুন এবং গ্রহণযোগ্য মানের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। তৈরি দুধ চা ঠান্ডা করে পরদিন বিক্রি করবেন না।

পোরশন ও ইল্ড নির্দিষ্ট করা

একটি স্ট্যান্ডার্ড কাপে ৮০ ml চায়ের লিকার, ৭৫ ml গরম দুধ ও ২৫ ml চিনির সিরা থাকবে, যাতে মোট প্রায় ১৮০ ml চা হয়। কাপের রঙ দেখে আন্দাজ না করে দাগ দেওয়া জগ, নির্দিষ্ট ভলিউমের লাডল বা মাপা ডিসপেনসার ব্যবহার করুন। কয়েক সেকেন্ড নেড়ে দিন, যাতে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত মিষ্টি ও রঙ সমান থাকে।

টেকঅ্যাওয়ে কাপের ভেতরের প্রকৃত ধারণক্ষমতা পরীক্ষা করুন। নির্দিষ্ট সাইজ নামে বিক্রি হওয়া কাপে ঢাকনা, ফেনা ও নিরাপদে বহনের জায়গা রাখার পর কম চা ধরতে পারে। একটি ফিল লাইন নির্ধারণ করুন এবং প্রয়োজনীয় খালি জায়গা লিখিত সার্ভিস স্ট্যান্ডার্ডে রাখুন।

তাত্ত্বিক ইল্ডের সঙ্গে বিক্রি হওয়া কাপ, স্টাফ ড্রিংক, স্যাম্পল ও নথিভুক্ত অপচয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখুন। অতিরিক্ত ঢালা দৈনিক ক্ষতিতে পরিণত হওয়ার আগেই শনাক্ত করতে এই পোরশন কন্ট্রোল গাইডের ব্যবহারিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

প্রতি কাপের খরচ স্থির রাখা

প্রতি কাপের খরচ স্থির রাখতে দুধ, চা ও সিরার নির্দিষ্ট ইস্যু এবং বিক্রিযোগ্য কাপের সঠিক সংখ্যা একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। সাধারণত দুধের দামের পরিবর্তন ব্যাচ কস্টে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, এরপর চা পাতার প্রভাব আসে। সরবরাহকারী, প্যাক সাইজ, ফ্যাটের মাত্রা ও ক্রয়কৃত দুধের ব্যবহারযোগ্য ইল্ড নথিভুক্ত করুন। অনুমোদিত রঙ ও কড়া স্বাদ পেতে বেশি গ্রাম লাগলে সস্তা চা পাতা প্রকৃতপক্ষে সাশ্রয়ী নয়।

বর্তমান ক্রয় রেকর্ড থেকে ব্যাচের উপকরণ খরচ হিসাব করুন এবং প্রত্যাশিত ইল্ড দিয়ে নয়, বাস্তবে তৈরি স্ট্যান্ডার্ড কাপের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। রেসিপি কস্টিং দিয়ে ফলাফল পর্যালোচনা করুন এবং ব্যবসার নির্ধারিত ফুড কস্ট পারসেন্টেজ-এর সঙ্গে তুলনা করুন। Rosuii-তে চায়ের লিকারকে একটি প্রোডাকশন হিসেবে রেকর্ড করা যায়, যেখানে মাপা কাঁচামাল ফিনিশড স্টক আইটেমে রূপান্তরিত হয়। ওয়েস্টেজ ও আইটেম সেলস রিপোর্ট ব্যবহার করে উৎপাদন ও বিক্রির পার্থক্যের কারণও চিহ্নিত করা যায়।

অর্থের অপচয় করে এমন ভুল এড়ানো

দুধ চায়ে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল হলো আন্দাজে ঢালা, অতিরিক্ত এক্সট্রাকশন, পোড়া দুধ এবং অবশিষ্ট পণ্যের হিসাব না রাখা। বেশি সময় ফুটিয়ে চা গাঢ় করলে তিতা স্বাদ বাড়ে এবং কর্মীরা তা ঠিক করতে বেশি দুধ ও চিনি দিতে পারেন। দুধ বারবার ফুটালে সর পড়ে, রান্না করা গন্ধ আসে এবং পাত্রে আস্তরণ জমে, ফলে ব্যবহারযোগ্য ইল্ড কমে যায়।

  • আর্নে চা পাতা রাখবেন না: হোল্ডিংয়ের আগে সম্পূর্ণ ছেঁকে নিন।
  • চামচ দিয়ে সিরা আন্দাজ করবেন না: প্রতিটি স্ট্যান্ডার্ড কাপে একই ক্যালিব্রেট করা মাপ ব্যবহার করুন।
  • পুরোনো গরম দুধে নতুন দুধ মেশাবেন না: পাত্র খালি করে ধুয়ে নতুন ব্যাচ শুরু করুন।
  • প্রসেস লস গোপন করবেন না: পড়ে যাওয়া চা, বাতিল ব্যাচ, স্টাফ ড্রিংক ও দিনের শেষে ফেলে দেওয়া পণ্য নথিভুক্ত করুন।
  • যাচাই ছাড়া কাপ বদলাবেন না: নতুন কাপের ধারণক্ষমতা পরীক্ষা করে সার্ভিসের আগে ফিল লাইন পুনর্নির্ধারণ করুন।

খরচ কোথায় বাড়ে

সাধারণত ফুল-ক্রিম দুধ ব্যাচের সবচেয়ে বড় খরচ এবং সরবরাহকারীর রেট, ফ্যাটের মাত্রা, প্যাক সাইজ ও গরম করার সময়ের ক্ষতি এই খরচ সবচেয়ে বেশি বদলায়। এরপর চা পাতার খরচ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রেড ও এক্সট্রাকশন ক্ষমতা অনুযায়ী প্রতি কাপে প্রয়োজনীয় গ্রামের পরিমাণ বদলায়। দুধ বা লিকার বেশি ঢাললে প্রতি কাপের খরচ সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই দুধ চায়ের রেসিপি দ্বিগুণ করে ৮০ কাপ বানানো যাবে কি?

হ্যাঁ, প্রতিটি উপকরণ দ্বিগুণ করুন, কিন্তু চা পাতার এক্সট্রাকশন সময় ৫ মিনিটই রাখুন। বড় কেটলি দ্রুত প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় পৌঁছাতে এবং পুরো ব্যাচ ১ মিনিটের মধ্যে ছাঁকতে না পারলে ৪০ কাপ করে দুইটি লিকার ব্যাচ বানান।

সার্ভিসের সময় চায়ের লিকার কতক্ষণ রাখা যাবে?

সম্পূর্ণ ছাঁকা চায়ের লিকার ৬০°C থেকে ৬৫°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা হট-হোল্ড করুন। সারাদিনের অপারেশনে সকাল থেকে বন্ধের সময় পর্যন্ত একটি ব্যাচ গরম না রেখে পরে নতুন দ্বিতীয় ব্যাচ তৈরি করুন।

তরল দুধের বদলে গুঁড়া দুধ ব্যবহার করা যাবে কি?

হ্যাঁ, তবে এটিকে আলাদা পরীক্ষিত রেসিপি হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড করতে হবে। গুঁড়া দুধ ও পানি ওজন করে নিন, সম্পূর্ণ গুলে ছেঁকে ৫°C বা তার নিচে রাখুন এবং প্রতি কাপে ৭৫ ml দিলে অনুমোদিত রঙ ও বডি পাওয়া যাচ্ছে কি না যাচাই করুন।

তৈরি চায়ের বেস ফ্রিজে কতক্ষণ রাখা যায়?

চায়ের বেস দ্রুত ৫°C বা তার নিচে ঠান্ডা করে ঢাকুন, লেবেল লাগান এবং গ্রহণযোগ্য মানের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। গরম দুধ মেশানো সম্পূর্ণ দুধ চা ফ্রিজে রেখে পরে আবার বিক্রি করবেন না।

এক ব্যাচে ৪০ কাপের কম চা হওয়ার কারণ কী?

সাধারণ কারণ হলো মাপ ছাড়া লাডল ব্যবহার, বাষ্পীভবন, পাতায় লিকার আটকে থাকা, বড় কাপ, পড়ে যাওয়া চা ও স্টাফ ড্রিংক। রেসিপি পরিবর্তনের আগে ৩.২ লিটার তৈরি লিকার মাপুন, প্রতিটি ডিসপেনসার ক্যালিব্রেট করুন এবং বিক্রির বাইরে ব্যবহৃত সব চা নথিভুক্ত করুন।
শেয়ার

বাণিজ্যিক বিফ সাতকরা রেসিপি

৩০ প্লেটের বাণিজ্যিক সিলেটি বিফ সাতকরা রেসিপি, যেখানে সাতকরার তিতা স্বাদ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাচ স্কেলিং, হোল্ডিং, পুনরায় গরম করা ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা রয়েছে।

পরিমাণ:
প্রায় ৩০ প্লেট
মোট:
৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি

পাক্কি পদ্ধতিতে প্রায় ৪০টি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশনের কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি, সঙ্গে চাল আংশিক সেদ্ধ করা, দম, হট হোল্ডিং ও ব্যাচ বড় করার নির্দেশনা।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রোজকার চিকেন কারি

রেস্টুরেন্ট বা ফুড কার্টে পরিবেশনের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য বেস মসলা, নির্দিষ্ট পরিমাণের সার্ভিং এবং নরম মাংসের হিসাবে তৈরি ৪০ প্লেটের বাংলাদেশি চিকেন কারি রেসিপি।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন