রেস্টুরেন্ট রেসিপি
কমার্শিয়াল মিষ্টি দই রেসিপি
সঠিক ক্যারামেল, কালচার মেশানোর তাপমাত্রা, জমানোর সময় ও ইল্ড নিয়ন্ত্রণসহ প্রায় ৪০টি মাটির ভাঁড়ের কমার্শিয়াল মিষ্টি দই রেসিপি।

- প্রস্তুতি
- ৩০ মিনিট
- রান্না
- ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- মোট
- ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- পরিমাণ
- প্রায় ৪০টি মাটির ভাঁড়
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
ভাঁড় ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করুন
মাটির ভাঁড় ধুয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন, তারপর ধীরে ধীরে ৩৫°C থেকে ৪০°C পর্যন্ত গরম করুন। ছাঁকনি, লাডল, থার্মোমিটার ও ভরার জায়গা স্যানিটাইজ করুন এবং একটি ভাঁড় ব্যাচের টেস্ট পট হিসেবে আলাদা রাখুন।
- 2
ডেইরি বেস মেশান
১ লিটার ঠান্ডা দুধের সঙ্গে স্কিম মিল্ক পাউডার মিশিয়ে একেবারে মসৃণ করুন। কেটলিতে বাকি দুধ, ক্রিম, এলাচ ও লবণের সঙ্গে এটি যোগ করে মাঝারি আঁচে গরম করা শুরু করুন।
- 3
দুধ গরম করে রিডিউস করুন
ডেইরি বেস ৮৫°C থেকে ৯০°C তাপমাত্রায় নিয়ে ওই সীমায় ১০ মিনিট রাখুন। এ সময় একটানা নাড়ুন এবং কেটলির তলা ঘষে দিন। এরপর মৃদু আঁচে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট বাষ্প হতে দিন, যতক্ষণ না ডেইরি বেসের ওজন প্রায় ৬ থেকে ৬.২ kg হয় এবং লাডলের গায়ে হালকা আস্তরণ পড়ে।
- 4
ওয়েট ক্যারামেল শুরু করুন
পরিষ্কার ভারী সসপ্যানে চিনি, পানি ও লিকুইড গ্লুকোজ দিয়ে না নেড়ে গরম করুন। ফুটতে শুরু করলে প্যান আস্তে ঘুরিয়ে ১৭৫°C থেকে ১৮০°C পর্যন্ত রান্না করুন। সিরা সমান গাঢ় অ্যাম্বার হলে এবং কালো ধোঁয়া ওঠার আগেই চুলা থেকে নামান।
- 5
ক্যারামেল থামিয়ে গলিয়ে নিন
ক্যারামেল চুলা থেকে নামিয়ে গরম বাষ্প থেকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে কয়েক ধাপে ৭৫০ ml গরম রিডিউস করা দুধ যোগ করুন। কম আঁচে আবার ৩ থেকে ৫ মিনিট গরম করুন, যতক্ষণ না শক্ত হয়ে যাওয়া ক্যারামেল পুরোপুরি গলে যায়।
- 6
মিশ্রণ ব্লেন্ড করে ঠান্ডা করুন
ক্যারামেল মিশ্রণ মূল ডেইরি বেসে দিয়ে নাড়ুন এবং রং সমান করতে ২ মিনিট গরম করুন। কেটলি চুলা থেকে নামিয়ে মাঝে মাঝে নাড়তে নাড়তে ৪২°C থেকে ৪৩°C পর্যন্ত ঠান্ডা করুন, যাতে সব জায়গার তাপমাত্রা সমান থাকে।
- 7
দইয়ের স্টার্টার টেম্পার করুন
সাদা টক দই হুইস্ক করে মসৃণ করুন, তারপর প্রায় ৫০০ ml উষ্ণ ক্যারামেল দুধের সঙ্গে মেশান। টেম্পার করা স্টার্টার কেটলিতে দিয়ে ফেনা না তুলে ৩০ সেকেন্ড হালকা করে নাড়ুন।
- 8
ছেঁকে ভাঁড় ভরুন
কালচার মেশানো মিশ্রণ মিহি ছাঁকনি দিয়ে পরিষ্কার ঢালার পাত্রে নিন। প্রতিটি উষ্ণ মাটির ভাঁড়ে ১৬৫ গ্রাম করে মিশ্রণ ভরুন। দ্রুত কাজ করুন, যাতে সব ভাঁড়ের তাপমাত্রা ৪০°C-এর কাছাকাছি থাকে।
- 9
না নড়িয়ে ইনকিউবেট করুন
ভাঁড়গুলো ৪০°C থেকে ৪৩°C তাপমাত্রার ক্যাবিনেটে রেখে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা একদম নাড়াবেন না। ৬ ঘণ্টা পর শুধু টেস্ট ভাঁড়টি কাত করুন। দই একটি জমাট অংশ হিসেবে নড়লে এবং মাঝখানে তরল না থাকলে ব্যাচ তৈরি।
- 10
চিল করে ভাঁড় ঢাকুন
জমা ভাঁড় সঙ্গে সঙ্গে ১°C থেকে ৫°C রেফ্রিজারেশনে নিন এবং গরম ভাঁড় একটির ওপর আরেকটি রাখবেন না। অন্তত ৪ ঘণ্টা চিল করার পর প্রতিটি ভাঁড় ঢেকে প্রোডাকশন তারিখ ও ব্যবহার করার শেষ তারিখ লিখুন।
রান্নাঘরের জন্য নোট
কমার্শিয়াল সার্ভিসে মিষ্টি দই কেন সুবিধাজনক
মিষ্টি দই কমার্শিয়াল সার্ভিসের জন্য উপযোগী, কারণ এটি আগেই তৈরি করে বিক্রির পাত্রে ভাগ করা যায় এবং সার্ভিসের সময় আর রান্না করতে হয় না। ঠিকভাবে জমা ব্যাচ শুধু রেফ্রিজারেশনে রাখতে হয় এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে ডিসপ্যাচ করতে হয়, ফলে হট কিচেনের চাপ কমে। মাটির ভাঁড় ব্যবহারে বাড়তি প্লেটিং ছাড়াই পরিচিত পরিবেশন পাওয়া যায়।
প্রোডাকশন সূচকে দই জমানো ও চিলিংয়ের সময় ধরতে হবে। কালচার দিয়ে পরিষ্কার জেল তৈরি হতে কয়েক ঘণ্টা পাত্র না নড়িয়ে রাখতে হয়, তাই মিষ্টি দই একই ঘণ্টায় তৈরি করে বিক্রি করা যায় না। পরের সার্ভিসের সময় অনুযায়ী আগের সন্ধ্যায় বা খুব সকালে ব্যাচ শুরু করুন। ফুড কার্টে নির্ভরযোগ্য রেফ্রিজারেশন থাকতে হবে, অথবা পর্যাপ্ত আইস প্যাকসহ ইনসুলেটেড বক্সে ঠান্ডা ভাঁড় পরিবহন করে ৫°C বা তার নিচে রাখতে হবে।
উপকরণের মানই দইয়ের জমাট নির্ধারণ করে
মিষ্টি দইয়ে দামি ফ্লেভারের চেয়ে দুধের মান ও স্টার্টার কালচারের সক্রিয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। টাটকা ফুল-ক্রিম গরুর দুধ ব্যবহার করুন, যাতে টক গন্ধ, আলাদা হয়ে যাওয়া স্তর বা পানি মেশানোর লক্ষণ নেই। স্বাভাবিক মিল্ক সলিড বেশি থাকা দুধে দইয়ের বডি ভালো হয়। সরবরাহকারী বদলালে দুধের সলিডে যে পার্থক্য হয়, স্কিম মিল্ক পাউডার তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গরম করার আগে পাউডার পুরোপুরি গুলে নিন, না হলে দইয়ে সাদা দানা দেখা যাবে।
ক্রিম দইকে সমৃদ্ধ করে, কিন্তু অতিরিক্ত ফ্যাট ওপরে তেলতেলে স্তর তৈরি করতে পারে এবং পরিষ্কার জমাটের অনুভূতি নষ্ট করে। এই ব্যাচে নির্ধারিত ক্রিম দইকে ভারী ক্রিম ডেজার্ট না বানিয়ে যথেষ্ট বডি দেয়। এলাচ অল্প রাখুন, কারণ বেশি মসলা ক্যারামেল করা দুধের স্বাদ ঢেকে দেয়।
স্টার্টার হিসেবে টাটকা, চিনি ছাড়া সাদা টক দই নিন, যার হালকা টক গন্ধ, শক্ত জমাট এবং পানিমুক্ত উপরিভাগ আছে। পুরোনো, বেশি টক বা দুর্বল ব্যাচ থেকে বারবার রাখা স্টার্টার ব্যবহার করলে দই দেরিতে জমে, অতিরিক্ত টক হয় এবং পানি ছাড়তে পারে। তারিখ লেখা মাস্টার স্টার্টার রেফ্রিজারেশনে রাখুন। গরম দুধের সঙ্গে মেশানো অব্যবহৃত কালচার কখনো মূল স্টার্টারের পাত্রে ফেরত দেবেন না।
ক্যারামেলই রং ও স্বাদ নিয়ন্ত্রণ করে
চিনিকে তিতা হওয়ার আগেই গাঢ় অ্যাম্বার রং পর্যন্ত ক্যারামেল করতে হবে। পরিষ্কার ও ভারী সসপ্যান ব্যবহার করুন, কারণ আগের ব্যাচের পোড়া অংশ পরের ক্যারামেলকে অসমভাবে কালো করবে। পানি চিনিকে সমানভাবে গলতে সাহায্য করে এবং অল্প লিকুইড গ্লুকোজ প্যানের পাশে চিনি দানা বাঁধা কমায়।
সিরা ফুটতে শুরু করার পর চামচ দিয়ে নাড়বেন না। প্যান আস্তে ঘুরিয়ে দিন এবং পাশে দেখা দেওয়া চিনির দানা ভেজা পেস্ট্রি ব্রাশ দিয়ে নামিয়ে দিন। প্রায় ১৭৫°C থেকে ১৮০°C তাপমাত্রায় সিরার রং গাঢ় অ্যাম্বার হবে এবং পোড়া গন্ধের বদলে টোস্ট করা চিনির গন্ধ আসবে। কালো ধোঁয়া ওঠার আগেই চুলা থেকে নামান, কারণ প্যানের অবশিষ্ট তাপে চিনি আরও কিছুক্ষণ রান্না হয়।
গরম দুধ খুব সাবধানে যোগ করতে হবে, কারণ ক্যারামেল দ্রুত ফেনিয়ে উঠে বাষ্প ছাড়বে। ক্যারামেল শক্ত দলা হয়ে গেলে ব্যাচ নষ্ট হয়েছে ধরে নেবেন না, কম আঁচে রাখলে তা আবার গলে যাবে। তবে মিশ্রণে শক্ত ক্যারামেল থেকে গেলে মিষ্টতা অসম হবে এবং মাপমতো পোরশন পাওয়া যাবে না। শুধু ঘন ক্যারামেলের রং দেখে নয়, দুধে মেশানোর পরের রংও যাচাই করুন।
কালচারের তাপমাত্রা ও জমানোর সময় মান নির্ধারণ করে
স্টার্টার মেশানোর সময় দুধের তাপমাত্রা ৪২°C থেকে ৪৩°C হতে হবে এবং জমা পর্যন্ত উষ্ণ অবস্থায় না নড়িয়ে রাখতে হবে। ৪৬°C-এর ওপরে কালচার ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হতে পারে। ৩৮°C-এর নিচে অ্যাসিড তৈরি ধীর হয়ে যায়, ফলে দই নরম থাকতে পারে এবং ব্যাচ নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে যায়। হাত দিয়ে আন্দাজ না করে ক্যালিব্রেটেড প্রোব থার্মোমিটার ব্যবহার করুন।
মূল ব্যাচে দেওয়ার আগে স্টার্টারের সঙ্গে কিছু গরম দুধ মিশিয়ে টেম্পার করুন। এতে দলা ভাঙে এবং হঠাৎ তাপমাত্রার ধাক্কা লাগে না। কালচার ছড়িয়ে যাওয়ার মতো হালকা করে মেশান। জোরে হুইস্ক করলে ফেনা ঢুকে পরে উপরিভাগ খারাপ দেখাবে। ভাঁড়ে ঢালার আগে ছেঁকে নিলে এলাচের টুকরা, স্টার্টারের দলা ও ক্যারামেলের কণা বাদ যায়।
ফুড-গ্রেড, গ্লেজ ছাড়া মাটির ভাঁড় অল্প আর্দ্রতা শুষে নেয় এবং বাংলাদেশি মিষ্টি দইয়ের পরিচিত ঘন টেক্সচার তৈরি করতে সাহায্য করে। ভাঁড় পরিষ্কার, পুরো শুকনা এবং মাটির ধুলা বা বাসি গন্ধমুক্ত হতে হবে। ঠান্ডা ভাঁড় ধীরে গরম করে নিন, কারণ বেশি তাপমাত্রার পার্থক্যে মিশ্রণ কালচারের উপযোগী তাপমাত্রার নিচে নেমে যেতে পারে অথবা দুর্বল ভাঁড় ফেটে যেতে পারে।
৪০°C থেকে ৪৩°C তাপমাত্রায় সাধারণত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টায় দই জমে। ৬ ঘণ্টা পর শুধু টেস্ট ভাঁড়টি সামান্য কাত করুন। উপরিভাগ একসঙ্গে নড়বে এবং মাঝখানে তরল থাকবে না। পুরো জমার পরও দীর্ঘ সময় উষ্ণ রাখলে দই বেশি টক হয় এবং জমাট থেকে পানি বের হতে পারে। টেস্ট ভাঁড় জমা নিশ্চিত হলেই পুরো ব্যাচ রেফ্রিজারেশনে নিন এবং পরিবহন বা বিক্রির আগে অন্তত ৪ ঘণ্টা চিল করুন।
ব্যাচ বড় করতে ওজন অনুসরণ করুন, রান্নার সময় নয়
বড় ব্যাচে উপকরণের একই শতাংশ রাখতে হবে, কিন্তু রান্নার সময় সরাসরি গুণ করা যাবে না। শুরুর দুধের তুলনায় এই ফর্মুলায় প্রায় ৬.২৫% ক্রিম, ৫% মিল্ক পাউডার, ১২.৫% চিনি এবং ৩%-এর সামান্য বেশি স্টার্টার আছে। সব উপকরণ ওজন করুন এবং জ্বাল দেওয়ার পর ডেইরি বেসের ওজন লিখে রাখুন, যাতে প্রতিবার বাষ্পীভবন একই থাকে।
চওড়া কেটলিতে লম্বা ও সরু কেটলির চেয়ে দ্রুত পানি বাষ্প হয়, আবার বেশি পরিমাণ দুধ গরম হতে বেশি সময় নেয়। শুরুর দুধ ১৬ লিটারের বেশি হলে দুই কেটলিতে ভাগ করে উৎপাদন করলে ক্যারামেল সমানভাবে মেশানো ও রিডাকশন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। কালচার মেশানো মিশ্রণ এমন পাত্রে রাখুন যেখান থেকে দ্রুত ভাঁড় ভরা যায়, কারণ ভরতে বেশি সময় নিলে প্রথম ও শেষ ভাঁড়ের তাপমাত্রায় পার্থক্য হবে।
অর্ধেক ব্যাচেও একই তাপমাত্রা ও রিডাকশনের শতাংশ রাখুন। জমানোর সময় অর্ধেক করবেন না। কালচারের কার্যকারিতা ব্যাচের ওজনের বদলে তাপমাত্রা, স্টার্টারের অবস্থা ও দুধের সলিডের ওপর নির্ভর করে।
হোল্ডিং ও সার্ভিসে রেফ্রিজারেশন বাধ্যতামূলক
তৈরি মিষ্টি দই ঢেকে ১°C থেকে ৫°C তাপমাত্রায় রাখতে হবে এবং সার্ভিসের জন্য কখনো আবার গরম করা যাবে না। গরম করলে দইয়ের জমাট ভেঙে পানি বের হয় এবং বারবার তাপমাত্রা বদলের কারণে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। রেফ্রিজারেশন থেকে সরাসরি সার্ভ করুন এবং নিয়ন্ত্রিত ঠান্ডা সংরক্ষণের বাইরে শুধু অল্প সময় রাখুন।
দই পুরো ঠান্ডা হওয়ার পর ভাঁড় ঢাকুন, যাতে ঢাকনার ঘনীভূত পানি দইয়ের ওপর না পড়ে। অনুমোদিত পুরোনো ব্যাচ আগে ব্যবহার করুন। ছত্রাক, গ্যাসের বুদবুদ, ফুলে ওঠা ঢাকনা, অস্বাভাবিক ফারমেন্টেড গন্ধ বা অতিরিক্ত পানি বের হওয়া ভাঁড় ফেলে দিন। নির্ভরযোগ্য রেফ্রিজারেশনে সেরা টেক্সচার ও স্বাদের জন্য ব্যাচটি ৩ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন।
সঠিক পোরশন পরিকল্পিত ইল্ড রক্ষা করে
প্রতিটি ভাঁড়ে ১৬৫ গ্রাম মিশ্রণ দিলে কেটলি ও ছাঁকনির স্বাভাবিক লসের পর প্রায় ৪০টি বিক্রয়যোগ্য পোরশন পাওয়া যায়। প্রতিটি ভাঁড় ডিজিটাল স্কেলে রেখে টেয়ার করুন এবং একই লাডল বা মাপা ডিপোজিটর দিয়ে ভরুন। ব্যস্ত উৎপাদনে চোখে দেখা ফিল লাইন কাজে লাগে, তবে নির্দিষ্ট বিরতিতে স্কেলে ওজন মিলিয়ে নিতে হবে।
ফাটা ভাঁড়, পড়ে যাওয়া মিশ্রণ, ওভারফিল ও বাতিল জমাটকে বিক্রি হওয়া পোরশন থেকে আলাদা করে লিখুন। এতে প্রকৃত ইল্ড বোঝা যায় এবং ভালো পোরশন কন্ট্রোল করা যায়। কোনো ভাঁড় আংশিক ভরার পর জমানো শুরু হলে পরে আর মিশ্রণ যোগ করবেন না, কারণ দুই স্তর আলাদাভাবে জমতে পারে।
সাধারণ ভুলে পুরো ব্যাচ নষ্ট হয়
পোড়া ক্যারামেল, দুর্বল কালচার, ভুল ইনকিউবেশন তাপমাত্রা এবং জমাট তৈরির আগে ভাঁড় নড়ানো সবচেয়ে ব্যয়বহুল ব্যর্থতার কারণ।
- পোড়া চিনি: কালো বা ধোঁয়া ওঠা ক্যারামেল পুরো দুধের ব্যাচ তিতা করে এবং বাড়তি চিনি দিয়ে তা ঠিক করা যায় না।
- অতিরিক্ত গরমে কালচার মেশানো: ৪৬°C-এর ওপরে স্টার্টার দিলে নির্ধারিত সময়ের পরও অনেক ভাঁড় তরল থাকতে পারে।
- ঠান্ডা ইনকিউবেশন: ঠিকভাবে ইনসুলেট না করা ক্যাবিনেটে দইয়ের মাঝখান নরম থাকে এবং একেক তাকে টকের মাত্রা আলাদা হয়।
- অতিরিক্ত ইনকিউবেশন: জমা ভাঁড় সারা রাত গরম রাখলে দই টক হয়ে যায় এবং চোখে পড়ার মতো পানি ছাড়ে।
- অনিয়ন্ত্রিত রিডাকশন: চোখের আন্দাজে দুধ কমালে প্রতি ব্যাচে মিষ্টতা, পোরশন সংখ্যা ও টেক্সচার বদলে যায়।
- ভেজা বা ধুলাযুক্ত ভাঁড়: অবশিষ্ট পানি উপরিভাগ দুর্বল করে এবং মাটির ধুলা পরিবেশন ও গ্রাহকের আস্থা নষ্ট করে।
ইল্ডের রেকর্ড খরচ স্থিতিশীল রাখে
ফুল-ক্রিম দুধ, ক্রিম ও পরিবেশনের মাটির ভাঁড় ব্যাচের প্রধান খরচ, আর বাষ্পীভবন ও ওভারফিল নির্ধারণ করে প্রতিটি বিক্রিতে সেই খরচের কতটা যাচ্ছে। দুধের ফ্যাট, ভাঁড়ের আকার ও ভাঙার হার নিয়ে সরবরাহকারীর স্পেসিফিকেশন ঠিক করুন এবং প্রকৃত ইল্ডকে পরিকল্পিত ৪০ পোরশনের সঙ্গে তুলনা করুন। হিসাবের বাইরে উপকরণ ব্যবহার শনাক্ত করতে রেসিপি কস্টিং ও ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট একসঙ্গে ব্যবহার করুন।
Rosuii-তে এই ব্যাচকে এমন একটি প্রোডাকশন হিসেবে রেকর্ড করা যায়, যেখানে কাঁচামাল তৈরি মিষ্টি দইয়ে রূপান্তর হয়। ফাটা ভাঁড় ও বাতিল পোরশন আলাদা ওয়েস্টেজ হিসেবে রেকর্ড করুন। এতে প্রতিটি মেনু বিক্রির সঙ্গে রেসিপি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাচ্ছে ধরে না নিয়েও অপারেশনাল লস দেখা যায়।
খরচ কোথায় বাড়ে
ফুল-ক্রিম দুধ, ক্রিম ও আলাদা মাটির ভাঁড় ব্যাচের প্রধান খরচ। দুধের সলিডের পরিবর্তন, ডেইরি সরবরাহকারীর বাজারদর, ভাঁড় ভাঙা, অতিরিক্ত রিডাকশন এবং পোরশন ওভারফিল প্রতি বিক্রয়যোগ্য ভাঁড়ের খরচ সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন করে।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই মিষ্টি দইয়ের রেসিপি কি একই কেটলিতে দ্বিগুণ করা যাবে?
মিষ্টি দই কত দিন বিক্রির জন্য রাখা যাবে?
ক্যারামেল করা চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করা যাবে কি?
মাটির ভাঁড়ের দই নরম থাকার কারণ কী?
এই ব্যাচে কতটি পোরশন পাওয়া উচিত?
সম্পর্কিত রেসিপি
বাণিজ্যিক ব্যাচের ভাপা পিঠা রেসিপি
৬০টি ভাপা পিঠার বাণিজ্যিক রেসিপি, যেখানে চালের গুঁড়ায় পানি মেশানো, নারকেল-গুড়ের পুর, একটানা স্টিমিং ও গরম পরিবেশন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
- পরিমাণ:
- ৬০টি পিঠা, দুই পিস করে প্রায় ৩০ প্লেট
- মোট:
- ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল জর্দা রেসিপি
প্রায় ৫০ পরিবেশনের কমার্শিয়াল জর্দা রেসিপি, যাতে চাল ঝরঝরে রাখা, চিনির সিরা নিয়ন্ত্রণ, সমান রং এবং বিয়ের অর্ডারের জন্য ব্যাচ বাড়ানোর ব্যবহারিক নিয়ম দেওয়া হয়েছে।
- পরিমাণ:
- ১৫০ থেকে ১৬০ g হিসাবে প্রায় ৫০ প্লেট
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল মালাই চা রেসিপি
প্রায় ৪০ কাপের কমার্শিয়াল মালাই চা রেসিপি, যাতে নিয়ন্ত্রিতভাবে দুধ ঘন করা, প্রতি কাপে সমান মালাই, সার্ভিস হোল্ডিং ও প্রিমিয়াম কাপের কস্টিং বোঝানো হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ কাপ, প্রতি কাপে ১৫০ ml চা ও মালাই
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

