রেস্টুরেন্ট রেসিপি
৩২ প্লেটের কমার্শিয়াল মোরগ পোলাও রেসিপি
এই কমার্শিয়াল মোরগ পোলাও রেসিপিতে সমান মাপের চিকেন পিস, দুধভিত্তিক কোরমা, ঝরঝরে চাল এবং নিয়ন্ত্রিত সার্ভিং অনুসরণ করে প্রায় ৩২ প্লেট তৈরি হবে।

- প্রস্তুতি
- ১ ঘণ্টা
- রান্না
- ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- মোট
- ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- পরিমাণ
- প্রায় ৩২ প্লেট
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
মুরগি কেটে মেরিনেট করুন
প্রতিটি মুরগি থেকে দুটি বুক-পাখা ও দুটি রান-থাই কোয়ার্টার কাটুন এবং মোট ৩২টি পিস আছে কি না যাচাই করুন। ৮০ গ্রাম লবণ, অর্ধেক আদা ও রসুন বাটা, টক দই, জিরা গুঁড়া এবং সাদা গোলমরিচ দিয়ে মাখান। ঢেকে ০ থেকে ৫°C তাপমাত্রায় ৩০ মিনিট মেরিনেট করুন।
- 2
চাল ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন
কয়েকবার পানি বদলে চিনিগুঁড়া চাল আলতোভাবে ধুয়ে নিন, যতক্ষণ না পানি প্রায় পরিষ্কার হয়। ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে দানা না ঘষে পানি ঝরান। ভেজানো চালের দানা সামান্য বাঁকবে, তবে হালকা চাপ দিলে ভেঙে যাবে না।
- 3
পেঁয়াজ ভেজে বেরেস্তা করুন
সয়াবিন তেলের সঙ্গে ১৫০ গ্রাম ঘি দিয়ে ১৬০ থেকে ১৭০°C পর্যন্ত গরম করুন এবং পেঁয়াজ তিন বা চার ব্যাচে ভাজুন। প্রতিটি ব্যাচ ১০ থেকে ১৪ মিনিট ভেজে সমান সোনালি করুন এবং গাঢ় বাদামি হওয়ার আগেই তুলে নিন। ভালোভাবে তেল ঝরিয়ে এক-তৃতীয়াংশ লেয়ারিংয়ের জন্য আলাদা রাখুন।
- 4
কোরমার বেস তৈরি করুন
হাঁড়িতে প্রায় ২৫০ ml ভাজার তেল-ঘি রেখে মাঝারি আঁচে আস্ত গরম মসলা ও তেজপাতা ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড গরম করুন। বাকি আদা ও রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া পর্যন্ত ২ মিনিট কষান। ভাজা পেঁয়াজের দুই-তৃতীয়াংশ চটকে হাঁড়িতে দিয়ে বেস চকচকে হওয়া পর্যন্ত নাড়ুন।
- 5
চিকেন কোরমা রান্না করুন
মেরিনেট করা মুরগি দিয়ে মাঝারি আঁচে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন এবং সাবধানে উল্টে দিন, যাতে বাইরের কাঁচা রং চলে যায়। অল্প অল্প করে গরম দুধ দিন, এরপর চিনি, অর্ধেক কাঁচা মরিচ ও আরও ৫০ গ্রাম লবণ দিন। মৃদু আঁচে ২৫ থেকে ৩৫ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ না প্রতিটি পিসের তাপমাত্রা ৭৪°C হয় এবং গ্রেভি চামচের গায়ে লেগে থাকে।
- 6
মুরগির পিস গুনে গ্রেভি পরীক্ষা করুন
মুরগির পিস ঢাকনাযুক্ত ট্রেতে তুলে মোট ৩২টি আছে কি না নিশ্চিত করুন। গ্রেভি পাতলা হলে ৫ থেকে ৮ মিনিট জ্বাল দিন। চামচ টানলে হাঁড়ির তলায় পরিষ্কার দাগ দেখা গেলে ঘনত্ব ঠিক আছে। গ্রেভি অতিরিক্ত তেল ছাড়া বা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত কমাবেন না।
- 7
চাল আংশিক সেদ্ধ করুন
১৫ লিটার পানি ও বাকি লবণ ভালোভাবে ফুটিয়ে পানি ঝরানো চাল দিন। ঢাকনা ছাড়া ৬ থেকে ৮ মিনিট ফুটিয়ে ঘন ঘন পরীক্ষা করুন। দানা প্রায় ৭০ শতাংশ সেদ্ধ এবং মাঝখানে চিকন শক্ত অংশ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে পানি ঝরান। ৩ মিনিট না নেড়ে রেখে ওপরের বাষ্প বের হতে দিন।
- 8
মুরগি ও চাল লেয়ার করুন
পরিষ্কার হাঁড়িতে ১৫০ গ্রাম ঘি মেখে চাপ না দিয়ে এক-তৃতীয়াংশ চাল ছড়ান। মুরগি, কোরমার গ্রেভি, বাকি চাল, কাঁচা মরিচ, আলাদা রাখা বেরেস্তা ও অবশিষ্ট ঘি সমান স্তরে ছড়িয়ে দিন। এক জায়গায় না ঢেলে কেওড়া জল পুরো ওপরের অংশে ছিটিয়ে দিন।
- 9
সিল করে দমে রান্না শেষ করুন
হাঁড়ি শক্তভাবে ঢেকে তাওয়া বা হিট ডিফিউজারের ওপর রাখুন। মাঝারি-কম আঁচে ১০ মিনিট রান্না করে স্থির বাষ্প তৈরি করুন, এরপর কম আঁচে ১৮ থেকে ২২ মিনিট দম দিন। বার্নার বন্ধ করে ঢাকনা না খুলে ১৫ মিনিট বিশ্রাম দিন। ঠিকমতো রান্না হলে চাল নরম, ঝরঝরে ও সমান সুগন্ধযুক্ত হবে।
- 10
চাল ঝরঝরে করে পোর্শন দিন
মুখ থেকে দূরে রেখে ঢাকনা খুলুন এবং সমতল খুন্তি দিয়ে পাশ থেকে চাল আলতোভাবে তুলে ঝরঝরে করুন। সার্ভিসের আগে মুরগির তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C আছে কি না পরীক্ষা করুন এবং পিস গুনুন। প্রতি প্লেটে একটি চিকেন কোয়ার্টার ও নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ চাল দিন অথবা ভালো মানের জন্য ঢেকে ৬০°C-এর ওপরে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা হোল্ড করুন।
রান্নাঘরের জন্য নোট
সমান মাপের আটটি মুরগি ও ৪ kg সুগন্ধি চাল দিয়ে এই কমার্শিয়াল মোরগ পোলাও রেসিপিতে প্রায় ৩২টি পূর্ণ প্লেট তৈরি হবে। বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট, ক্যাটারিং কিচেন ও ফুড কার্টে একই স্বাদ, নির্দিষ্ট ইয়েল্ড এবং দ্রুত সার্ভিস বজায় রাখার জন্য ব্যাচটি সাজানো হয়েছে। প্রতি প্লেটে হাড়সহ এক কোয়ার্টার মুরগি এবং মেপে দেওয়া পোলাও থাকবে।
কমার্শিয়ালভাবে মোরগ পোলাও কার্যকর কেন
মোরগ পোলাও কমার্শিয়াল সার্ভিসে কার্যকর, কারণ মুরগি ও চাল ব্যাচে রান্না করে আগে থেকেই ভাগ করা যায় এবং অর্ডারের সময় নতুন করে ভাজার প্রয়োজন হয় না। সিল করা হাঁড়িতে ক্যাটারিংয়ের জন্য খাবার নেওয়া যায়, আবার কাউন্টার সার্ভিসে ঢাকনাযুক্ত হোটেল প্যানে ছোট ব্যাচ ধরে রাখা যায়। খাবারটির প্রিমিয়াম পরিচিতি থাকলেও সাধারণ কিচেন সরঞ্জাম ও দেশে সহজে পাওয়া উপকরণ দিয়েই উৎপাদন করা সম্ভব।
এই রান্নার প্রধান অপারেশনাল সমস্যা হলো অসামঞ্জস্য। মুরগির আকারে বেশি পার্থক্য থাকলে একজন বড় রান পাবে, অন্যজন ছোট বুকের পিস পাবে। চোখের আন্দাজে ভাত দিলে প্রথম দিকের প্লেট বড় হয়ে যায় এবং ব্যাচের শেষে ঘাটতি পড়ে। মুরগির ওজন, কাঁচা চালের পরিমাণ ও সার্ভিং স্কুপ নির্দিষ্ট রাখলে এসব সমস্যা অনেকটাই বন্ধ হয়।
উপকরণ নির্বাচন ও মান নিয়ন্ত্রণ
বেশি মসলা দেওয়ার চেয়ে মুরগির নির্দিষ্ট আকার ও চালের মান ঠিক রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেসিং করা ব্রয়লার মুরগির ওজন ১.১ থেকে ১.২ kg-এর মধ্যে রাখুন। প্রতিটি মুরগি লম্বালম্বি দুই ভাগ করে প্রতি অর্ধেক থেকে একটি বুক-পাখা কোয়ার্টার ও একটি রান-থাই কোয়ার্টার কাটুন। এতে প্রতি মুরগি থেকে বিক্রিযোগ্য চারটি পিস হবে। খুব ছোট মুরগি মূল ব্যাচে না মিশিয়ে আলাদা উৎপাদন ব্যাচে রাখুন।
চিনিগুঁড়া চাল থেকে মোরগ পোলাওয়ের পরিচিত দেশি ঘ্রাণ এবং ছোট, চিকন দানা পাওয়া যায়। সম্ভব হলে একই সরবরাহকারীর একই লটের চাল নিন, কারণ পুরোনো ও নতুন চালের পানি শোষণের হার এক নয়। চালের ঘ্রাণ টাটকা হতে হবে, অধিকাংশ দানা আস্ত থাকতে হবে এবং বস্তার নিচে চালের গুঁড়া কম থাকতে হবে। বেশি ভাঙা চাল স্টার্চ ছেড়ে পোলাও আঠালো করে।
অতিরিক্ত পানি ছাড়া সাধারণ টক দই ব্যবহার করুন। ফুল-ক্রিম দুধ কোরমায় ঘনত্ব দেয়, তবে দেওয়ার আগে দুধ গরম করতে হবে। গরম ও টক দইয়ের গ্রেভিতে ঠান্ডা দুধ দিলে দুধ ফেটে যেতে পারে। খাঁটি ঘি পরিচিত ঘ্রাণ দেয়, আর সয়াবিন তেল পেঁয়াজ ভাজা সহজ করে এবং পুরো ব্যাচ অতিরিক্ত ভারী হওয়া ঠেকায়। শুধু ঘি বাড়ালেই পোলাও ভালো হয় না।
টাটকা আদা ও রসুন বাটায় পরিষ্কার ঘ্রাণ থাকবে, গাঁজনের গন্ধ থাকবে না। কেওড়া জলের ঘনত্ব ব্র্যান্ডভেদে অনেক বদলায়, তাই নতুন বোতল পুরো ব্যাচে দেওয়ার আগে অল্প পরীক্ষা করুন। অতিরিক্ত কৃত্রিম ঘ্রাণের কেওড়া মুরগি ও চালের নিজস্ব স্বাদ ঢেকে দেয়।
চিকেন কোরমার সঠিক পর্যায় বোঝা
মুরগি নরম হলে, তেল হালকা ছেড়ে এলে এবং গ্রেভি দুধের মতো না গড়িয়ে মাংসের গায়ে লেগে থাকলে কোরমা প্রস্তুত। মোরগ পোলাওয়ের মূল স্বাদ এই পর্যায়ে তৈরি হয়। পেঁয়াজ সমানভাবে ভাজতে হবে, দইয়ের কাঁচা টকভাব চলে যাওয়া পর্যন্ত কষাতে হবে এবং দুধ না ফাটিয়ে মেশাতে হবে।
হাঁড়িতে একসঙ্গে বেশি পেঁয়াজ না দিয়ে কয়েক ব্যাচে ভাজুন। বেশি পেঁয়াজ দিলে তা ভাজার বদলে ভাপে নরম হয় এবং মচমচে না হয়ে বেশি তেল শোষণ করে। লেয়ারিংয়ের জন্য কিছু সোনালি বেরেস্তা আলাদা রাখুন এবং বাকি অংশ চটকে কোরমায় দিন, এতে প্রাকৃতিকভাবে গ্রেভি ঘন হবে।
দই দেওয়ার পর মাঝারি আঁচে একটানা নাড়ুন, যতক্ষণ না মিশ্রণ চকচকে হয়। মুরগি থেকে পানি বের হতে শুরু করলে অল্প অল্প করে গরম দুধ দিন। জোরে ফুটালে বুকের মাংস শক্ত হয় এবং দুধ-দই ফেটে যেতে পারে। মৃদু আঁচে রান্না করুন এবং প্রতিটি পিসের সবচেয়ে মোটা অংশ অন্তত ৭৪°C হলে তুলে নিন।
লেয়ারিংয়ের আগে রান্না করা মুরগির পিস গুনে নিন এবং গ্রেভির ঘনত্ব দেখুন। গ্রেভি চামচের গায়ে লেগে থাকার মতো ঘন হবে। পাতলা কোরমা দমের সময় চাল আরও রান্না করে নিচের স্তর ভেজা করে, আর অতিরিক্ত শুকানো গ্রেভি পোলাও শুষ্ক করে দেয়।
পোলাওয়ের চাল ঝরঝরে রাখার কৌশল
নিয়ন্ত্রিতভাবে চাল ধোয়া, অল্প সময় ভেজানো, আংশিক সেদ্ধ করা এবং সম্পূর্ণ পানি ঝরানো হলে দানা আলাদা থাকবে। পানি প্রায় পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত চাল আলতোভাবে ধুয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি ভিজিয়ে রাখবেন না। বেশি সময় ভেজালে চিকন চিনিগুঁড়া চাল দুর্বল হয় এবং পানি ঝরানো বা লেয়ারিংয়ের সময় ভেঙে যায়।
এমন চওড়া পাত্র ব্যবহার করুন যেখানে ফুটন্ত পানির মধ্যে চালের দানা সহজে নড়াচড়া করতে পারে। দানার বাইরের অংশ নরম কিন্তু মাঝখানে চিকন শক্ত অংশ থাকলে চাল নামানোর সময় হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পানি ঝরিয়ে কয়েক মিনিট না নেড়ে রাখুন, যাতে ওপরের বাষ্প বের হয়ে যায়। ভেজা চাল ধাতব চামচ দিয়ে নাড়বেন না।
লেয়ারিংয়ের সময় মুরগি ও গ্রেভি শুধু মাঝখানে না দিয়ে হাঁড়িজুড়ে সমানভাবে ছড়ান। পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ির নিচে সমতল তাওয়া বা হিট ডিফিউজার ব্যবহার করুন। দমে মৃদু বাষ্প তৈরি হবে, কিন্তু নিচে পোড়া ধরবে না। চাল ঝরঝরে করার আগে ঢাকনা বন্ধ রেখে বিশ্রাম দিন।
নিরাপদভাবে ব্যাচ স্কেল করা
হাঁড়ির আকার বা আন্দাজ দিয়ে নয়, মুরগির পিসের সংখ্যা ও চালের ওজন ধরে মোরগ পোলাও স্কেল করতে হবে। একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাচে ৩২টি চিকেন কোয়ার্টার ও ৪ kg কাঁচা চাল লাগে। ১৬ প্লেটের জন্য সব উপকরণ অর্ধেক করুন এবং ছোট হাঁড়ি নিন, যাতে চালের স্তর অতিরিক্ত পাতলা না হয়। ৬৪ প্লেটের জন্য কিচেনে যথাযথ মাপের টিল্টিং প্যান বা স্টিম কেটলি না থাকলে দুটি আলাদা ব্যাচ করুন।
অল্প পরিমাণ ব্যাচ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মসলা, লবণ, দুধ ও ঘি একই অনুপাতে বাড়ানো বা কমানো যায়, কিন্তু উপকরণ দ্বিগুণ করলেই রান্নার সময় দ্বিগুণ হয় না। বড় ব্যাচের কোরমা আবার ফুটতে বেশি সময় নেয়, কিন্তু দমের সময় সামান্যই বাড়তে পারে। প্রতিটি হাঁড়ির প্রকৃত ইয়েল্ড ও রান্নার আচরণ লিখে রাখুন। লিখিত রেসিপি কস্টিং শিটে কিচেনের উৎপাদন রেকর্ডের একই কাঁচামালের ওজন ব্যবহার করতে হবে।
সার্ভিসের জন্য হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা
রান্না শেষ হওয়া মোরগ পোলাও ৬০°C-এর ওপরে ধরে রাখুন এবং সরাসরি আগুন থেকে দূরে রাখুন। মূল হাঁড়ি বারবার না খুলে আগে থেকে গরম করা ঢাকনাযুক্ত হোটেল প্যানে অল্প অল্প করে স্থানান্তর করুন। চালের মধ্যে মুরগির পিস সমানভাবে রাখুন, যাতে শেষের ক্রেতারা শুধু পোলাও না পান।
চালের ভালো মান ধরে রাখতে দম শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে ব্যাচ বিক্রি করুন। দীর্ঘ সময় গরম রাখলে ওপরের চাল শুকিয়ে যায় এবং নিচের চাল নরম হয়ে যায়। ফ্রিজে রাখা প্রয়োজন হলে অগভীর প্যানে দ্রুত ৫°C বা তার নিচে ঠান্ডা করুন, লেবেল লাগান এবং সর্বোত্তম কমার্শিয়াল মানের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঢেকে শুধু একবার পুনরায় গরম করুন এবং মুরগি ও চাল উভয়ের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C করুন। চাল শুকনো হলে প্যানের চারপাশে মেপে অল্প গরম দুধ বা পানি দিন। মাঝখানে তরল ঢালবেন না এবং আগের ব্যাচের অবশিষ্ট খাবারের সঙ্গে নতুন ব্যাচ মেশাবেন না।
পোর্শন ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণ
প্রতিটি বিক্রিযোগ্য প্লেটে গুনে একটি চিকেন কোয়ার্টার এবং ওজন করা বা সমান স্কুপের চাল দিতে হবে। বাষ্পীভবন ও গ্রেভি ধরে রাখার পরিমাণ অনুযায়ী এই ব্যাচ থেকে প্রায় ৩২ প্লেট হবে এবং প্রতি প্লেটে প্রায় ২৮০ থেকে ৩২০ গ্রাম রান্না করা পোলাও দেওয়া যাবে। প্রথম নিয়ন্ত্রিত ব্যাচের পর সঠিক সার্ভিং ওজন ঠিক করুন এবং সার্ভিসের সময় একই হাতা, স্কুপ বা স্কেল ব্যবহার করুন।
রান্নার আগে ও পরে মুরগির হিসাবের শিট ব্যবহার করুন, কারণ হাড়সহ পিস গভীর চালের প্যানে হারিয়ে যেতে পারে। কর্মীদের বুক-পাখা ও রান-থাই কোয়ার্টার চেনান এবং অর্ডারের পুরো সময়জুড়ে দুই ধরনের পিস সমানভাবে দিন। ছোট মুরগির পিসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে আন্দাজে অতিরিক্ত চাল না দিয়ে লিখিত পোর্শন কন্ট্রোল পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
যেসব ভুলে খরচ বাড়ে
অসমান মুরগি, পোড়া বেরেস্তা, পাতলা কোরমা, অতিরিক্ত ঘি এবং অনিয়ন্ত্রিত চালের পোর্শন সবচেয়ে বেশি খরচ বাড়ায়। পোড়া পেঁয়াজ পুরো হাঁড়ি তিতা করে, তাই মসলা দিয়ে সেই স্বাদ ঢাকার চেষ্টা করবেন না। পাতলা গ্রেভি ব্যবহারযোগ্য চাল নরম করে ইয়েল্ড কমায়। অতিরিক্ত ঘি উপকরণের খরচ বাড়ায় এবং হোল্ডিংয়ের পর অবিক্রীত পোর্শন তেলতেলে করে।
- মিশ্র আকারের মুরগি: প্লেটে দৃশ্যমান পার্থক্য তৈরি করে এবং ক্রেতার অভিযোগ বাড়ায়।
- অতিরিক্ত রান্না করা মুরগি: লেয়ারিংয়ের সময় বুকের পিস ভেঙে যায় এবং পরিষ্কারভাবে পরিবেশন করা যায় না।
- চালের পানি ঠিকমতো না ঝরানো: দমের হাঁড়িতে অতিরিক্ত পানি নিয়ে যায় এবং চাল আঠালো করে।
- বারবার গরম করা: মাংস শুকিয়ে দেয়, চাল ভাঙে এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়।
- চোখের আন্দাজে সার্ভিং: প্রথম দিকে বেশি দেওয়ায় ব্যাচের শেষে ঘাটতি তৈরি হয়।
ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখা
নির্দিষ্ট ওজনের মুরগি, মেপে দেওয়া ঘি এবং সঠিক ফিনিশড ইয়েল্ডের ওপর স্থিতিশীল ফুড কস্ট নির্ভর করে। সাধারণত মুরগি ব্যাচের সবচেয়ে বড় খরচ, এরপর থাকে চিনিগুঁড়া চাল ও খাঁটি ঘি। রেসিপি একই থাকলেও সরবরাহকারী পরিবর্তন, ড্রেসিং লস, ভাঙা চালের হার এবং বেশি পোর্শন দেওয়ার কারণে ফুড কস্ট পারসেন্টেজ বদলে যায়।
মুরগি গ্রহণের সময় সংখ্যা ও মোট ওজন দুটিই যাচাই করুন, বাতিল বা কম ওজনের মুরগি রেকর্ড করুন এবং উৎপাদনের পরিমাণ অনুযায়ী ঘি ইস্যু করুন। Rosuii-এর productions ফিচারে কাঁচামাল থেকে ফিনিশড ব্যাচে রূপান্তরের হিসাব রাখা যায়, আর wastage রেকর্ডে ট্রিমিং, নষ্ট হওয়া খাবার ও সার্ভিসের অবশিষ্ট অংশ আলাদা করা যায়। বিক্রির পোর্শন পরিবর্তনের আগে পরিকল্পিত প্লেটের সঙ্গে বাস্তবে বিক্রি হওয়া প্লেট মিলিয়ে দেখুন।
খরচ কোথায় বাড়ে
সাধারণত মুরগি ব্যাচের প্রধান খরচ, এরপর চিনিগুঁড়া চাল ও খাঁটি ঘি। ড্রেসিং করা মুরগির আকার, সরবরাহকারীর ধারাবাহিকতা, চালের গ্রেড, ভাঙা দানার হার, অতিরিক্ত ঘি এবং বড় পোর্শনের কারণে খরচ বদলে যায়।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই মোরগ পোলাও রেসিপি দ্বিগুণ করে ৬৪ প্লেট করা যাবে কি?
সার্ভিসের জন্য মোরগ পোলাও কতক্ষণ হোল্ড করা যাবে?
চিনিগুঁড়া চালের বদলে বাসমতি চাল ব্যবহার করা যাবে কি?
ফ্রিজে মোরগ পোলাও কতক্ষণ রাখা যাবে?
ব্যাচ থেকে ৩২ প্লেটের কম হওয়ার কারণ কী?
সম্পর্কিত রেসিপি
কমার্শিয়াল বাসন্তী পোলাও রেসিপি
২ কেজি চালের এই ব্যাচে প্রায় ৫.২ কেজি সোনালি, হালকা মিষ্টি বাসন্তী পোলাও হবে, যা নিয়ন্ত্রিত ১৩০ গ্রাম হিসেবে প্রায় ৪০ প্লেট পরিবেশনের জন্য যথেষ্ট।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল ভুনা খিচুড়ি রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল ভুনা খিচুড়ি রেসিপি, যেখানে চাল ও ডালের অনুপাত ২:১ এবং পানির নিয়ন্ত্রণ, সার্ভিস হোল্ডিং ও চূড়ান্ত ইল্ডের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল বাংলাদেশি চিকেন রোস্ট
আগে ভেজে নেওয়া মুরগি, নিয়ন্ত্রিত মিষ্টি-নোনতা গ্রেভি, ক্যাটারিং ইয়েল্ড নির্দেশনা ও সার্ভিস হোল্ডিংসহ ৪০ পোরশনের বিয়েবাড়ি স্টাইল চিকেন রোস্ট।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

