মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল রুই মাছের ঝোল রেসিপি

নিয়ন্ত্রিত মাছের পিস, শক্ত করে ভাজা রুই, পাতলা ঝোল এবং সার্ভিসের উপযোগী হট হোল্ডিং নির্দেশনাসহ ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল রুই মাছের ঝোল রেসিপি।

শেয়ার
সোনালি ভাজা রুইয়ের পিস, আলু, কাঁচামরিচ ও হালকা হলুদের ঝোলসহ পরিবেশিত বাংলাদেশি রুই মাছের ঝোল।
প্রস্তুতি
৪৫ মিনিট
রান্না
১ ঘণ্টা
মোট
১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    মাছ পরীক্ষা করে পিস করা

    রুই মাছ ০°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় রেখে মাংসের শক্তভাব, পরিষ্কার গন্ধ ও পিস অক্ষত আছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রায় ১৫০ গ্রাম করে ৪০টি পিস কেটে ওজন করুন। এরপর ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে ১০ মিনিট পানি ঝরান, যতক্ষণ নিচে আর পানি জমে না।

  2. 2

    মাছ শুকিয়ে মসলা মাখানো

    প্রতিটি পিস ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে ৫০ গ্রাম লবণ ও ২৫ গ্রাম হলুদের গুঁড়া সমানভাবে মাখান। ৫°C-এর নিচে মাত্র ১০ মিনিট রাখুন। মাছের ওপর সমান হলুদ রং থাকবে, তবে পৃষ্ঠ ভেজা বা পানিযুক্ত হবে না।

  3. 3

    সরিষার তেল গরম করা

    চওড়া কড়াইয়ে সরিষার তেল ১৭৫°C থেকে ১৮০°C পর্যন্ত গরম করুন, তবে বেশি ধোঁয়া ওঠার আগেই তাপ নিয়ন্ত্রণ করুন। তেল চকচক করবে এবং মাছের ছোট ছাঁট দিলে সঙ্গে সঙ্গে শব্দ করে ভাজা শুরু হবে, কিন্তু কালো হবে না।

  4. 4

    ছোট ব্যাচে মাছ ভাজা

    প্রতি ব্যাচে পাঁচ থেকে ছয়টি পিস দিয়ে প্রতি পাশ প্রায় ৯০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ভাজুন। নিচের অংশ সোনালি হয়ে সহজে ছেড়ে এলে প্রতিটি পিস মাত্র একবার উল্টান। ভাজা মাছ অগভীর ট্রেতে এক স্তরে রাখুন।

  5. 5

    আলু হালকা ভাজা

    তেলের তাপমাত্রা প্রায় ১৭০°C রেখে আলুর টুকরা ছোট ব্যাচে ৪ থেকে ৫ মিনিট ভাজুন। কিনারা হালকা সোনালি কিন্তু মাঝখান শক্ত থাকা অবস্থায় তুলে ঝোলের জন্য আলাদা রাখুন।

  6. 6

    ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ নরম করা

    রান্নার পাত্রে প্রায় ৫০০ ml তেল রেখে তাপমাত্রা প্রায় ১৬০°C-এ নামান, তারপর তেজপাতা ও জিরা দিন। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড পর পেঁয়াজ দিয়ে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন। পেঁয়াজ নরম ও হালকা সোনালি হবে, গাঢ় বাদামি নয়।

  7. 7

    মসলার বেস কষানো

    আদাবাটা দিয়ে ২ মিনিট কষান। এরপর বাকি হলুদ, জিরা, ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়ার সঙ্গে ৩০০ ml গরম পানি দিন। ৯৫°C থেকে ১০০°C তাপমাত্রায় ৬ থেকে ৮ মিনিট নাড়তে নাড়তে কষান, যতক্ষণ কাঁচা গন্ধ চলে যায় এবং ছোট ছোট তেলের ফোঁটা দেখা দেয়।

  8. 8

    ঝোলে আলু সেদ্ধ করা

    টমেটো দিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত ৫ মিনিট রান্না করুন। এরপর বাকি গরম পানি, বাকি লবণ ও ভাজা আলু দিন। হালকা ফুটিয়ে ৯০°C থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ১২ থেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ ছুরি ঢোকালে সামান্য বাধা অনুভূত হয়।

  9. 9

    না নেড়ে মাছের রান্না শেষ করা

    ভাজা মাছ ঝোলে এক স্তরে বা সামান্য একটির ওপর আরেকটি রেখে নামিয়ে কাঁচামরিচ দিন। ৮৫°C থেকে ৯০°C তাপমাত্রায় ৬ থেকে ৮ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করুন। না নেড়ে হাতা দিয়ে মাছের ওপর ঝোল দিন, যতক্ষণ সবচেয়ে মোটা পিসের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ৬৩°C হয় এবং কিনারা সহজে স্তর ধরে খুলতে শুরু করে।

  10. 10

    বিশ্রাম দিয়ে মেপে পরিবেশন

    চুলা বন্ধ করে ধনেপাতা দিন এবং পাত্র ঢেকে ৮ মিনিট রাখুন, যাতে ঝোল স্থির হয়। ৬০°C বা তার ওপরে হোল্ড করুন এবং প্রতি প্লেটে এক পিস মাছ, দুই টুকরা আলু ও প্রায় ১৮০ ml ঝোল পরিবেশন করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই কমার্শিয়াল রুই মাছের ঝোল রেসিপিতে ভাজা রুইয়ের পিস, আলু ও পাতলা দেশি ঝোলসহ প্রায় ৪০টি নিয়ন্ত্রিত পরিমাণের প্লেট তৈরি হবে। রেস্টুরেন্টের লাঞ্চ সার্ভিস, ক্যান্টিন বা ফ্রিজ ও উপযুক্ত ফ্রাইং বার্নার থাকা ফুড কার্টের জন্য রেসিপিটি সাজানো হয়েছে। মাছ শুধু বাইরের অংশ শক্ত হওয়া পর্যন্ত ভেজে পরে ঝোলে অল্প আঁচে রান্না করা হয়, ফলে পিসের ভেতর রস থাকে এবং সার্ভিসের সময় সহজে ভাঙে না।

কমার্শিয়াল সার্ভিসে রুই মাছের ঝোল কেন কার্যকর

একটি স্পষ্ট মাছের পিস সহজে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করে, আর পাতলা ঝোল ও আলু প্লেটটি সম্পূর্ণ করে বলে রুই মাছের ঝোল কমার্শিয়াল সার্ভিসে ভালো কাজ করে। ভাতের লাঞ্চ মেনুর সঙ্গে এটি মানানসই এবং ব্যস্ততা শুরুর আগেই রান্না করা যায়। প্রতি অর্ডারে নতুন করে মসলা কষানোর প্রয়োজন হয় না। মাপ দেওয়া হাতায় ঝোল পরিবেশন করলে সার্ভিসের গতিও একই থাকে।

এই পদে প্রধান অপারেশনাল সমস্যা হলো মাছের পিস ভেঙে যাওয়া। ভাজার সময়, ঝোলে রান্নার সময় বা বারবার গরম করলে রুইয়ের পিস ভেঙে দামি মাছের ছোট টুকরা তৈরি হয়, যা স্ট্যান্ডার্ড প্লেট হিসেবে বিক্রি করা যায় না। তাই মাছ প্রস্তুত, ঝোল তৈরি এবং মাছের শেষ রান্না আলাদা নিয়ন্ত্রিত ধাপে করা হয়েছে। এতে সার্ভিসের আগে ব্যবহারযোগ্য পিস গোনা যায় এবং তৈরি ব্যাচে কর্মীদের জোরে নাড়াচাড়া করা বন্ধ রাখা যায়।

উপকরণ বাছাই ও মান নিয়ন্ত্রণ

বেশি মসলা ব্যবহারের চেয়ে মাছের সতেজতা, পিসের পুরুত্ব ও সরিষার তেলের মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে অনুমোদিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে আস্ত রুই কিনুন এবং মাছের নির্দিষ্ট বাজারি সাইজ ঠিক করে দিন। মাঝারি থেকে বড় রুইয়ে মাঝের কাঁটার চারপাশে যথেষ্ট মাংসসহ চওড়া পিস পাওয়া যায়। খুব ছোট রুইয়ের পিস পাতলা হয়, দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং প্লেটে দুর্বল দেখায়।

রুই মাছ বাছাই ও গ্রহণ

টাটকা রুই ৪°C বা তার নিচে, শক্ত মাংস, পরিষ্কার মিঠাপানির গন্ধ এবং আঠালোভাবহীন অবস্থায় গ্রহণ করতে হবে। আস্ত মাছের চোখ স্বচ্ছ বা সামান্য উঁচু, ফুলকা লাল থেকে গোলাপি এবং আঁশ শক্তভাবে লেগে থাকা উচিত। টক গন্ধ, ধূসর-বাদামি ফুলকা, বসে যাওয়া চোখ বা আঙুলের চাপ থেকে যায় এমন মাছ বাতিল করুন। গ্রহণের পর পানি ঝরে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকা বরফের ওপর অথবা ০°C থেকে ৪°C রেফ্রিজারেশনে রাখুন এবং রান্না করা খাবার থেকে আলাদা রাখুন।

শুধু মোট ওজন ধরে এলোমেলো পিস না নিয়ে কাটারকে প্রায় ১৫০ গ্রাম ওজনের ৪০টি পিস করতে বলুন। মাথা, লেজ ও কম ওজনের পিস মূল ব্যাচ রেকর্ডের বাইরে রাখুন। এগুলো স্টাফ মিল বা আলাদা মেনু আইটেমে ব্যবহার করা যেতে পারে। পূর্ণ পিস হিসেবে গুনলে প্রকৃত বিক্রিযোগ্য ইল্ড বোঝা যাবে না।

সহায়ক উপকরণ বাছাই

ব্যাচ হোল্ডিংয়ের সময় আকার ঠিক রাখে বলে শক্ত ও কম ভেঙে যায় এমন আলু ব্যবহার করা ভালো। সব আলু কাছাকাছি ওজনের টুকরা করুন, যাতে প্রতিটি প্লেটে একই সময়ে সেদ্ধ হওয়া দুটি টুকরা দেওয়া যায়। টমেটো এমন পাকা হতে হবে যেন ঝোলে মিশে যায়, কিন্তু ঝোল অতিরিক্ত ঘন না করে। বেশি পানি ছাড়া টাটকা আদাবাটা ব্যবহার করুন এবং পুরোনো মসলার ঘাটতি বেশি পরিমাণ দিয়ে পূরণ না করে গুঁড়া মসলার পরিষ্কার ঘ্রাণ পরীক্ষা করুন।

এই ঝোলের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ স্বাদের বড় অংশ সরিষার তেল থেকে আসে, তবে তেল ঠিকভাবে গরম করা জরুরি। কাঁচা বা কম গরম করা তেলে ঝাঁজালো কাঁচা স্বাদ থাকে। বারবার অতিরিক্ত গরম করা তেল কালচে ও তিতা হয়ে ঝোলের স্বাদ এবং মাছের রং দুটিই নষ্ট করে।

মাছ না ভেঙে ভাজার কৌশল

শুকনা মাছ, গরম তেল, ফাঁকা রেখে ভাজা এবং কম নাড়াচাড়া হলো রুইয়ের পিস না ভাঙার চারটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ। ধোয়া মাছ ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে নিন এবং মসলা দেওয়ার আগে প্রতিটি পিসের ওপরের পানি মুছে ফেলুন। ভেজা মাছ তেলের তাপমাত্রা কমায়, কড়াইয়ে আটকে যায় এবং বিপজ্জনকভাবে তেল ছিটায়। ভাজার অল্প আগে লবণ ও হলুদ দিন। এক ঘণ্টা আগে লবণ দিলে মাছ থেকে পানি বের হয়ে ওপরের অংশ ভিজে যায়।

চওড়া কড়াই বা ফ্রাইং প্যানে এতটা তেল রাখুন যেন মাছের পিসের উচ্চতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেলে থাকে। তেল ১৭৫°C থেকে ১৮০°C রাখুন এবং পিস একটির ওপর আরেকটি না দিয়ে ছোট ব্যাচে ভাজুন। মাছ তেলে দেওয়ার পর নিচে সোনালি আবরণ তৈরি হয়ে নিজে থেকে ছাড়া পর্যন্ত নাড়বেন না। পাতলা দিক ধরে না তুলে ফিশ টার্নার দিয়ে মাঝখানে ভর দিয়ে একবার উল্টান।

প্রথম ভাজায় মোটা পিস পুরোপুরি রান্না করা উদ্দেশ্য নয়। এই ধাপের কাজ হলো মাছের বাইরের অংশ শক্ত করা, স্বাদ তৈরি করা এবং ঝোলে দেওয়ার মতো মজবুত রাখা। গরম মাছ স্তূপ করে না রেখে ট্রেতে এক স্তরে সাজান। জমে থাকা বাষ্প ভাজা আবরণ নরম করে এবং পিসগুলো একে অন্যের সঙ্গে আটকে দেয়।

পাতলা ঝোল তৈরির কৌশল

ঠিকভাবে তৈরি পাতলা ঝোল হাতা থেকে সহজে পড়বে এবং স্বাদ ঠিক থাকবে, কিন্তু তেলতেলে, পেস্টের মতো ঘন বা অতিরিক্ত পেঁয়াজনির্ভর হবে না। পেঁয়াজ নরম ও হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন, গাঢ় বাদামি করবেন না। আদা ও গুঁড়া মসলা অল্প অল্প পানি দিয়ে কষান, যতক্ষণ কাঁচা গন্ধ চলে যায় এবং তেল ছাড়তে শুরু করে। এই পর্যায়ে মসলা পুড়ে গেলে যে তিতা স্বাদ হবে, পরে পানি দিয়ে তা ঠিক করা যাবে না।

ট্যাপ থেকে আন্দাজে পানি না দিয়ে মেপে গরম পানি দিন। মাছ দেওয়ার আগে আলু প্রায় সেদ্ধ করে নিন, কারণ মাছের শেষ রান্নায় অল্প সময় লাগে। মাছ ঝোলে দেওয়ার পর পাত্র আলতোভাবে ঝাঁকান অথবা হাতা দিয়ে মাছের ওপর ঝোল তুলে দিন। মাছের ভেতর দিয়ে চামচ টানবেন না। শেষে কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা দিলে ঘ্রাণ টাটকা থাকবে।

ব্যাচ সঠিকভাবে বাড়ানো বা কমানো

মাছ, আলু, লবণ ও মসলা ওজন ধরে স্কেল করতে হবে, তবে পাত্রের মুখের আয়তন ও পানি বাষ্প হওয়ার হার অনুযায়ী পানি ও তেল সমন্বয় করতে হবে। অর্ধেক ব্যাচে সব কঠিন উপকরণ ঠিক অর্ধেক ব্যবহার করা যায়। তবে একই চওড়া পাত্রে রান্না করলে অর্ধেকের চেয়ে সামান্য বেশি পানি লাগতে পারে। দ্বিগুণ ব্যাচ একটি গভীর পাত্রে স্তূপ না করে দুটি পাত্রে ভাগ করুন।

৮০ প্লেট তৈরি করতে অতিরিক্ত ছোট ব্যাচে মাছ ভাজুন এবং ৪০ প্লেট করে দুটি পাত্রে ঝোল রান্না করুন। এতে মাছের আকার ঠিক থাকে এবং আলু সমানভাবে সেদ্ধ হওয়ার জায়গা পায়। প্রতি বিক্রিতে এক পিস মাছ দেওয়ার নিয়ম বজায় রাখুন এবং সার্ভিস শুরুর আগে ব্যবহারযোগ্য পিসের প্রকৃত সংখ্যা লিখে রাখুন। সার্ভারকে চোখের আন্দাজে পরিমাণ দিতে না বলে লিখিত পোরশন কন্ট্রোল পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

সার্ভিসের জন্য হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা

তৈরি রুই মাছের ঝোল ৬০°C-এর ওপরে হোল্ড করুন এবং মাছের ভালো টেক্সচারের জন্য দুই ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ করার লক্ষ্য রাখুন। অগভীর স্টিম-টেবিল প্যান বা কম আঁচের বার্নার ব্যবহার করে ঝোল না ফুটিয়ে ৬৫°C থেকে ৭০°C রাখুন। বারবার ফুটলে মাছ ভাঙে, ঝোল কমে যায় এবং আলু গলে পড়ে। অর্ডারের মাঝের সময় পাত্র ঢেকে রাখুন, তবে ঢাকনা সাবধানে খুলুন যেন জমা পানি সার্ভিস কাউন্টারে না পড়ে।

পুনরায় গরম করতে শুধু প্রয়োজনীয় পরিমাণ আলাদা চওড়া প্যানে নিয়ে অল্প আঁচে গরম করুন, যতক্ষণ মাছের মাঝের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C হয়। ঝোল কমে গেলে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ গরম পানি দিয়ে পাতলা করুন এবং পরে লবণ পরীক্ষা করুন। একবারের বেশি পুনরায় গরম করবেন না। অবশিষ্ট খাবার ঠান্ডা করতে অগভীর ফুড-গ্রেড প্যানে নিন, দুই ঘণ্টার মধ্যে ৬০°C থেকে ২১°C এবং পরের চার ঘণ্টার মধ্যে ২১°C থেকে ৫°C-এ নামিয়ে ঢেকে রেফ্রিজারেশনে রাখুন।

প্লেটের পরিমাণ ও ইল্ড কন্ট্রোল

প্রতি প্লেটে এক পিস রুই, দুই টুকরা আলু এবং প্রায় ১৮০ ml ঝোল দিতে হবে। দাগ দেওয়া মাপের হাতা ও ছিদ্রযুক্ত ফিশ টার্নার ব্যবহার করুন, যাতে অনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ ঝোল না ঢেলে মাছ তোলা যায়। আগে আলু ও ঝোল দিন, তারপর ওপরে মাছ রাখুন। এতে মাছ কম ধরতে হয় এবং প্লেটের উপস্থাপন ভালো থাকে।

কাটার পরে, ভাজার পরে এবং সার্ভিস শেষে মাছের পিস গুনুন। এই তিনটি হিসাব থেকে বোঝা যাবে ক্ষতি ভুল কাটিং, মাছ ভাঙা নাকি অতিরিক্ত পরিবেশন থেকে হয়েছে। ভাঙা পিস, বাতিল মাছ ও অবিক্রীত পরিমাণ ব্যাচ ইল্ডে লুকিয়ে না রেখে wastage হিসেবে রেকর্ড করুন। এই কাজে Rosuii ব্যবহার করে কাঁচা মাছের স্টক, তৈরি পোরশনের উৎপাদন এবং কিচেন wastage রেকর্ড করা যায়, যা পরে বিক্রি ও লাভ পর্যালোচনায় কাজে লাগবে।

ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখা

রুইয়ের নির্দিষ্ট সাইজ ধরে কেনা এবং প্রতিটি পিসের ওজন নিয়ন্ত্রণ করাই ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখার প্রধান উপায়। শুধু মোট kg রেট না দেখে ব্যবহারযোগ্য পিসের ইল্ড, সতেজতা ও কাটাছাঁটের ক্ষতি ধরে সরবরাহকারী তুলনা করুন। কম দামের মিশ্র সাইজের ডেলিভারিতে লেজের অংশ ও কম ওজনের পিস বেশি হতে পারে, ফলে প্রতি বিক্রিযোগ্য প্লেটের প্রকৃত খরচ বেড়ে যায়।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাচ শিট বজায় রাখুন এবং মাছের সাইজ, তেলের ব্যবহার বা সরবরাহকারীর ইল্ড বদলালে রেসিপি কস্টিং আপডেট করুন। প্রকৃত বিক্রি হওয়া প্লেট ও রেকর্ড করা wastage দিয়ে পদটির ফুড কস্ট পারসেন্টেজ হিসাব করুন। ব্যবহৃত ভাজার তেল নিরাপদভাবে গরম থাকা অবস্থায় ছেঁকে রাখুন, তবে তেল কালচে, ফেনাযুক্ত, আঠালো বা পোড়া গন্ধযুক্ত হলে ফেলে দিন।

যেসব ভুলে সরাসরি খরচ বাড়ে

এলোমেলো ওজনের মাছের পিস, ভেজা মাছ, কড়াইয়ে বেশি পিস দেওয়া এবং তৈরি ঝোল ফুটতে দেওয়াই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। অসমান কাটিং গ্রাহকের অভিযোগ বাড়ায় এবং মেনুর দাম নির্ভরযোগ্যভাবে ঠিক করা কঠিন করে। ভেজা মাছ কড়াইয়ে আটকে যায় ও বেশি তেল শোষণ করে। একসঙ্গে বেশি মাছ দিলে তেলের তাপমাত্রা কমে ফ্যাকাশে ও ভঙ্গুর পিস তৈরি হয়।

  • বেশিক্ষণ মসলা মাখিয়ে রাখা: লবণ মাছ থেকে পানি বের করে ভাজার আগে ওপরের অংশ ভিজিয়ে দেয়।
  • আগে উল্টানো: শক্ত আবরণ তৈরি হওয়ার আগে মাছ উল্টালে প্যানের সঙ্গে লেগে ছিঁড়ে যাবে।
  • আলু কম সেদ্ধ রাখা: আলু নরম করতে শেষ ধাপে বেশি সময় ফুটালে মাছ অতিরিক্ত সেদ্ধ হয়ে ভেঙে যাবে।
  • অতিরিক্ত মসলার পেস্ট: বেশি পেঁয়াজ বা গুঁড়া মসলা পাতলা ঝোলকে ঘন গ্রেভিতে বদলে দেয় এবং ব্যাচের খরচ বাড়ায়।
  • না মেপে পরিবেশন: অতিরিক্ত মাছের পিস বা বড় হাতায় ঝোল দিলে ব্যাচ থেকে বিক্রিযোগ্য প্লেট কমে যায়।
  • বারবার গরম করা: তাপমাত্রা বারবার ওঠানামা করলে টেক্সচার নষ্ট হয় এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ে।

খরচ কোথায় বাড়ে

এই রেসিপির খরচে রুই মাছের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। মাছের সাইজ, সতেজতা, পিসের সমান ওজন এবং কাটাছাঁটের ক্ষতি অনুযায়ী প্রতি প্লেটের ব্যবহারযোগ্য খরচ বদলায়। সরিষার তেল দ্বিতীয় সংবেদনশীল উপকরণ, কারণ ভুল তাপমাত্রা, অতিরিক্ত তেল শোষণ বা সময়ের আগেই তেল ফেলে দিলে ব্যবহার বেড়ে যায়।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই রুই মাছের ঝোলের রেসিপি দ্বিগুণ করে ৮০ প্লেট করা যাবে কি?

হ্যাঁ, তবে দুটি পাত্রে আলাদা ৪০ প্লেটের ব্যাচ রান্না করুন। একটি গভীর পাত্রে সব উপকরণ দ্বিগুণ করলে আলু অসমানভাবে সেদ্ধ হয়, মাছের জায়গা কমে যায় এবং বেশি পিস ভেঙে যায়।

তৈরি মাছের ঝোল সার্ভিসের জন্য কতক্ষণ হোল্ড করা যাবে?

ঝোল ৬০°C-এর ওপরে রাখুন এবং ভালো টেক্সচারের জন্য দুই ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ করার লক্ষ্য রাখুন। বেশি সময় গরম অবস্থায় রাখলে খাবার গরম থাকতে পারে, তবে মাছ নরম হবে, ঝোল কমে যাবে এবং আলু ভাঙতে শুরু করবে।

টাটকা মাছের বদলে ফ্রোজেন রুই ব্যবহার করা যাবে কি?

অনুমোদিত সরবরাহকারীর মাছ হলে এবং সঠিকভাবে হিমায়িত রাখা হলে ফ্রোজেন রুই ব্যবহার করা যায়। ০°C থেকে ৪°C রেফ্রিজারেশনে ডিফ্রস্ট করে ভালোভাবে পানি ঝরান। জমে থাকা পানিতে বা ঘরের তাপমাত্রায় মাছ ডিফ্রস্ট করবেন না।

অবশিষ্ট মাছের ঝোল রেফ্রিজারেশনে কতক্ষণ রাখা যাবে?

সঠিকভাবে ঠান্ডা করা অবশিষ্ট ঝোল ৫°C বা তার নিচে রেখে ভালো কমার্শিয়াল মানের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। মাত্র একবার পুনরায় গরম করে মাছের মাঝের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C করুন। টক গন্ধ, পিচ্ছিলভাব বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের নষ্ট রেকর্ড থাকলে খাবার ফেলে দিন।

এই ব্যাচ থেকে প্রকৃত প্লেট ইল্ড কত হওয়া উচিত?

লক্ষ্য ৪০ প্লেট। প্রতি প্লেটে কাঁচা অবস্থায় প্রায় ১৫০ গ্রাম ওজনের এক পিস মাছ, দুই টুকরা আলু এবং প্রায় ১৮০ ml ঝোল থাকবে। মাছ ভাঙলে, কাটাছাঁটের অংশকে পূর্ণ পিস হিসেবে ধরলে বা সার্ভার একটির বেশি পিস দিলে বিক্রিযোগ্য ইল্ড কমে যাবে।
শেয়ার

কমার্শিয়াল বিফ কালা ভুনা

গাঢ় কষ, আলাদা করে ভাজা মসলা এবং নিয়ন্ত্রিত সার্ভিংসহ প্রায় ৪০ প্লেট চট্টগ্রামি বিফ কালা ভুনার কমার্শিয়াল ব্যাচ রেসিপি।

পরিমাণ:
প্রতি প্লেটে প্রায় ১৭৫ g হিসাবে প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
কঠিন

কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি, যাতে আছে নরম হাড়সহ গরুর মাংস, ঘি-সমৃদ্ধ উৎসবের গ্রেভি, নিয়ন্ত্রিত পরশন এবং সার্ভিস নির্দেশনা।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বিফ তেহারি রেসিপি

সরিষার তেল, সমান মাপের গরুর মাংস, সুগন্ধি ছোট দানার চাল এবং কার্যকর সার্ভিস কন্ট্রোলসহ ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ তেহারি রেসিপি।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন