রেস্টুরেন্ট রেসিপি
কমার্শিয়াল লেমন সোডা রেসিপি
মাপা চিনির সিরাপ, টাটকা লেবুর রস এবং মিষ্টি, নোনতা বা ঝাল ভ্যারিয়েশন দিয়ে ৪০ গ্লাস ঠান্ডা ড্রিংক তৈরির কমার্শিয়াল লেমন সোডা রেসিপি।

- প্রস্তুতি
- ৩০ মিনিট
- রান্না
- ১০ মিনিট
- মোট
- ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট
- পরিমাণ
- প্রায় ৪০ গ্লাস, প্রতি গ্লাস ৩০০ ml
- কঠিনতা
- সহজ
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
সরঞ্জাম স্যানিটাইজ ও ঠান্ডা করুন
উৎপাদন শুরুর আগে স্টোরেজ বোতল, ছাঁকনি, জিগার ও কাজের জায়গা ধুয়ে স্যানিটাইজ করুন। সোডা ওয়াটার, লেবুর রস ও সার্ভিং কাপ অন্তত ২ ঘণ্টা ০°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় ঠান্ডা করুন। ঠিকভাবে ঠান্ডা সোডার বোতল খুললে ফেনা কম উঠবে।
- 2
চিনির সিরাপ তৈরি করুন
স্টেইনলেস স্টিল সসপ্যানে ১.১৫ লিটার পানি, চিনি ও লেবুর জেস্ট একসঙ্গে দিন। ৮৫°C থেকে ৯০°C তাপমাত্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট গরম করুন এবং তরল পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। টগবগ করে ফুটতে বা বাদামি হতে দেবেন না।
- 3
সিরাপ ছেঁকে ঠান্ডা করুন
জেস্ট তুলে গরম সিরাপ স্যানিটাইজ করা পাত্রে ছেঁকে নিন। আইস বাথের ওপর রেখে ৩০ মিনিটের মধ্যে ২১°C-এর নিচে নামান, তারপর ফ্রিজে রেখে ৫°C বা তার নিচে ঠান্ডা করুন। সিরাপ স্বচ্ছ ও সহজে ঢালার মতো থাকতে হবে।
- 4
সিরাপের চূড়ান্ত পরিমাণ ঠিক করুন
ঠান্ডা সিরাপ মেপে শুধু প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি যোগ করে মোট ১.৮ লিটার করুন। ৩০ সেকেন্ড নেড়ে দেখুন নিচে ঘন স্তর আছে কি না। ভালোভাবে মিশে গেলে লেবেল করা বোতলে ভরুন।
- 5
মরিচের এক্সট্র্যাক্ট তৈরি করুন
কাঁচা মরিচ ও ২০০ ml ফিল্টার করা পানি ২০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করে ১০ মিনিট রেখে দিন। সলিড অংশ জোর করে না চেপে মিহি ছাঁকনিতে ছেঁকে নিন। এক্সট্র্যাক্ট সবুজ ও সুগন্ধি হবে, তবে কোনো মরিচের টুকরা থাকবে না।
- 6
শুকনা সিজনিং মেশান
বিট লবণ, মিহি লবণ ও ভাজা জিরার গুঁড়া ১ মিনিট মেশান। সব দলা ভেঙে শুকনা ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখুন। মিশ্রণটি সমান ধূসর-বাদামি দেখাবে এবং আলাদা লবণের অংশ থাকবে না।
- 7
প্রতি গ্লাসের উপকরণ মাপুন
এক গ্লাস ৩০০ ml ঝাল লেমন সোডার জন্য ৪৫ ml সিরাপ, ৩০ ml লেবুর রস, ১.৫ গ্রাম শুকনা সিজনিং এবং প্রায় ৩ ml মরিচের এক্সট্র্যাক্ট দিন। ৮০ গ্রাম বরফ যোগ করে দেখুন কাপ ঠান্ডা আছে এবং সোডার ফেনার জন্য যথেষ্ট খালি জায়গা আছে কি না।
- 8
ঠান্ডা সোডা দিয়ে শেষ করুন
গ্লাসের পাশ ঘেঁষে ধীরে ১৪০ ml সোডা ওয়াটার ঢালুন এবং এক বা দুইবার আলতোভাবে নেড়ে দিন। বুদবুদ সক্রিয় থাকা অবস্থায় ২ মিনিটের মধ্যে সার্ভ করুন। মিষ্টি বা মিষ্টি-নোনতা অর্ডারে প্রয়োজন অনুযায়ী মরিচের এক্সট্র্যাক্ট অথবা মরিচের এক্সট্র্যাক্ট ও সিজনিং দুটিই বাদ দিন।
রান্নাঘরের জন্য নোট
এই কমার্শিয়াল লেমন সোডা রেসিপিতে বাংলাদেশি ফুড কার্ট, ক্যাফে বা রেস্টুরেন্টের জন্য প্রায় ৪০ গ্লাস ৩০০ ml ড্রিংক তৈরি হবে। এতে নির্দিষ্ট ঘনত্বের চিনির সিরাপ, মাপা লেবুর রস, ঠান্ডা সোডা ওয়াটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নোনতা বা ঝাল সিজনিং ব্যবহার করা হয়। প্রস্তুতি সহজ, সার্ভিস দ্রুত এবং একই বেস থেকে কয়েকটি মেনু ভ্যারিয়েশন করা যায় বলে এটি ফুড কার্টের ভালো মার্জিনের ড্রিংক হতে পারে।
ব্যবসার জন্য লেমন সোডা কার্যকর কেন
একবার বেস তৈরি করে আলাদা উৎপাদন প্রক্রিয়া ছাড়াই কয়েক ধরনের ড্রিংক বানানো যায় বলে লেমন সোডা ব্যবসার জন্য কার্যকর। একই সিরাপ ও লেবুর রস দিয়ে মিষ্টি, মিষ্টি-নোনতা এবং মিষ্টি-নোনতা-ঝাল ভ্যারিয়েশন রাখা যায়। অ্যাসেম্বলির সময় কর্মীরা শুধু সিজনিং বদলাবে, ফলে স্টেশন ছোট রাখা যায় এবং ধীরে বিক্রি হওয়া স্টক কমে।
উপকরণ আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে ব্লেন্ডিং ছাড়াই ব্যস্ত সময়ে এই ড্রিংক দ্রুত সার্ভ করা যায়। প্রশিক্ষিত কর্মী এক মিনিটের কম সময়ে মেপে, গ্লাস ভরে ও ফিনিশ করে দিতে পারে। উপকরণ ঠান্ডা রাখা, নির্দিষ্ট মাপ ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সোডার বোতল খোলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
উপকরণের মান ও বাছাই
লেমন সোডার মান সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে টাটকা লেবুর রস এবং বেশি কার্বনেশন থাকা সোডা ওয়াটারের ওপর। শক্ত, ওজনদার, পাতলা ও উজ্জ্বল খোসার লেবু নিন এবং ফারমেন্টেড গন্ধ আছে এমন লেবু বাদ দিন। ওজনদার ফলে সাধারণত রস বেশি থাকে। শুকনা বা মোটা খোসার লেবু থেকে একই পরিমাণ রস পেতে বেশি kg প্রয়োজন হয়, ফলে খরচ বাড়ে।
মিহি ছাঁকনি দিয়ে রস ছেঁকে নিন, তবে তিতা সাদা খোসা বা পিথ চেপে ছাঁকনির ভেতর দিয়ে বের করবেন না। বোতলজাত লেমন ফ্লেভার বা পুরোনো রস সংরক্ষণের সময় গ্রহণযোগ্য গন্ধ দিলেও পাতলা করার পর ড্রিংক সাধারণত ফ্ল্যাট ও কড়া লাগে। জাত, পরিপক্বতা ও মৌসুম অনুযায়ী টকভাব বদলায়, তাই প্রতিটি চালানের লেবুর রস চেখে দেখুন।
নিরপেক্ষ স্বাদের সিরাপের জন্য পরিষ্কার সাদা দানাদার চিনি ব্যবহার করুন। গাঢ় রঙের চিনি ড্রিংক ঘোলা করতে পারে এবং গুড়ের মতো স্বাদ যোগ করতে পারে। সোডা ওয়াটারের বোতল খোলার সময় স্পষ্ট হিস শব্দ এবং ঢালার পর দীর্ঘস্থায়ী সূক্ষ্ম বুদবুদ থাকতে হবে। সোডা ০°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় রাখুন, কারণ ঠান্ডা তরল কার্বনেশন বেশি সময় ধরে রাখে।
বিট লবণ বাংলাদেশি নোনতা সোডার পরিচিত গন্ধ দেয় এবং ভাজা জিরার গুঁড়া স্বাদ গভীর করে। দুটিই মিহি গুঁড়া হতে হবে, যাতে সহজে মিশে যায় এবং গ্লাসের নিচে দানাদার তলানি না পড়ে। কাঁচা মরিচে টাটকা সবুজ গন্ধ থাকতে হবে এবং নরম বা কালচে অংশ থাকা যাবে না।
সিরাপের পদ্ধতিতে একই স্বাদ বজায় রাখা
চিনির সিরাপ নিয়ন্ত্রিত তাপে গলাতে হবে, ঘন কনসেনট্রেট হওয়ার মতো জোরে ফুটানো যাবে না। তরল স্বচ্ছ হওয়া পর্যন্ত গরম করলে অপ্রয়োজনীয় পানি কমে যায় না এবং প্রতি ব্যাচে ঘনত্ব একই রাখা সহজ হয়। জোরে ফুটালে লেবুর জেস্ট থেকে তিতা স্বাদ বের হতে পারে এবং পাত্রের দেয়ালে চিনি জমে ক্রিস্টাল তৈরি হতে পারে।
সার্ভিসের আগে ঠান্ডা সিরাপের মোট পরিমাণ মাপুন এবং প্রয়োজন হলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি দিয়ে নির্ধারিত পরিমাণে ঠিক করুন। বাষ্পীভবন, পাত্রে থেকে যাওয়া সিরাপ এবং তাপের পার্থক্যে প্রতি গ্লাসের জন্য পাওয়া সিরাপের পরিমাণ বদলাতে পারে, তাই এই সংশোধন জরুরি। চোখের আন্দাজে না ঢেলে নির্দিষ্ট ডোজ দেয় এমন পরিষ্কার লাডল, জিগার বা পাম্প ব্যবহার করুন।
অ্যাসেম্বলির আগ পর্যন্ত লেবুর রস ও সিরাপ আলাদা রাখুন। সিরাপের সঙ্গে অ্যাসিড দীর্ঘ সময় থাকলে টাটকা গন্ধ কমে যায়। একসঙ্গে প্রিমিক্স করলে মৌসুম অনুযায়ী লেবুর টকভাব ঠিক করাও কঠিন হয়। আলাদা রাখলে টকভাব না বদলে মিষ্টি কমানো যায়।
মিষ্টি, নোনতা ও ঝাল ভ্যারিয়েশন
তিনটি প্রধান ভ্যারিয়েশনের পার্থক্য শুধু মাপা সিজনিংয়ে হবে, পুরো রেসিপি আন্দাজে বদলে নয়। মিষ্টি লেমন সোডায় সিরাপ ও লেবুর রস ব্যবহার করুন, শুকনা সিজনিং বা মরিচের এক্সট্র্যাক্ট দেবেন না। মিষ্টি-নোনতা সোডায় নির্ধারিত লবণ ও জিরার মিশ্রণ দিন। ঝাল ভ্যারিয়েশনে সিজনিংয়ের সঙ্গে অল্প মাপা ও ছাঁকা মরিচের এক্সট্র্যাক্ট দিন।
প্রতিটি গ্লাসে সরাসরি কুচানো কাঁচা মরিচ দেবেন না। মরিচের ঝাল একেক চালানে একেক রকম হয়, টুকরা স্ট্র আটকে দিতে পারে এবং অতিরিক্ত ঝাল ড্রিংক প্রায়ই বদলে দিতে হয়। ছাঁকা এক্সট্র্যাক্টে ঝাল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ এবং কাস্টমার চাইলে মেপে আরও যোগ করা যায়।
মৌখিক নির্দেশের ওপর নির্ভর না করে POS বা অর্ডারে ভ্যারিয়েশনগুলো পরিষ্কারভাবে সেট করুন। এতে ব্যস্ত সময়ে রিমেক কমে এবং ক্যাশিয়ার সঠিক অর্ডার ড্রিংক স্টেশনে পাঠাতে পারে।
ব্যাচ সঠিকভাবে বাড়ানো বা কমানো
প্রতি গ্লাসের মাপ অপরিবর্তিত রেখে ড্রিংকের সংখ্যা অনুযায়ী প্রতিটি উপকরণের পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে হবে। ২০ গ্লাসের জন্য প্রতিটি পরিমাণ অর্ধেক এবং ৮০ গ্লাসের জন্য দ্বিগুণ করুন। বড় ঠান্ডা ব্যাচ সমানভাবে মেশানো কঠিন, তাই পুরো কন্টেইনার চেখে পরে আন্দাজে বাড়তি চিনি বা লেবু যোগ করবেন না।
৮০ গ্লাসের বেশি তৈরি করলে রান্নাঘরে যথেষ্ট বড় কেটলি ও কুলিং ব্যবস্থা না থাকলে সিরাপ কয়েকটি নিয়ন্ত্রিত ব্যাচে তৈরি করুন। গভীর পাত্র ধীরে ঠান্ডা হয় এবং কর্মীরা সিরাপ রুম টেম্পারেচারে রেখে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিটি চালান থেকে পাওয়া প্রকৃত লেবুর রস এবং সিরাপের চূড়ান্ত পরিমাণ লিখে রাখুন, যাতে কেনাকাটার পরিমাণ ঠিক করা যায়।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাচ শিটে প্রত্যাশিত সার্ভিং, প্রকৃত সার্ভিং এবং শিফট শেষে অবশিষ্ট পরিমাণ লিখুন। স্টেশনে প্রকৃত ব্যবহার ও তাত্ত্বিক ব্যবহার তুলনা করতে রেসিপি কস্টিং অনুসরণ করুন।
সার্ভিসের জন্য সংরক্ষণ ও পুনরায় গরম করা
প্রস্তুত প্রতিটি উপকরণ আলাদা করে সংরক্ষণ করুন এবং তৈরি হয়ে যাওয়া লেমন সোডা কখনো পুনরায় গরম করবেন না। ঠান্ডা সিরাপ স্যানিটাইজ করা ঢাকনাযুক্ত ফুড-গ্রেড বোতলে ০°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং সাত দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন। বোতলে উৎপাদনের তারিখ, ব্যবহারের শেষ তারিখ এবং চূড়ান্ত পরিমাণ লিখে লেবেল দিন।
টাটকা লেবুর রস প্রতিদিন তৈরি করা ভালো এবং সার্ভিসের মান বজায় রাখতে ০°C থেকে ৪°C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা রাখুন। মরিচের এক্সট্র্যাক্টও প্রতিদিন তৈরি করুন। শুকনা লবণ-জিরার সিজনিং আর্দ্রতা থেকে দূরে এয়ারটাইট পাত্রে সাত দিন পর্যন্ত রাখা যায়। ফারমেন্টেশন, গ্যাস, ছত্রাক, পিচ্ছিল ভাব বা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া গেলে ফেলে দিন।
ফ্রিজে রাখা সিরাপে ক্রিস্টাল হলে শুধু সিরাপটি নাড়তে নাড়তে প্রায় ৫০°C থেকে ৬০°C পর্যন্ত গরম করুন, স্বচ্ছ হলে আবার ঠান্ডা করুন। ফুটাবেন না এবং গরম সিরাপ সোডায় দেবেন না। হোল্ডিং জগে আগে থেকে সোডা ওয়াটার মিশিয়ে রাখবেন না, কারণ বিক্রির আগেই বেশির ভাগ কার্বনেশন চলে যাবে।
পরিমাণ ও ইয়েল্ড নিয়ন্ত্রণ
প্রতিটি ৩০০ ml গ্লাসে সিরাপ, লেবুর রস, সিজনিং, বরফ ও সোডা ওয়াটারের নির্দিষ্ট ডোজ দিতে হবে। মার্ক করা জিগার, পোরশন পাম্প বা ক্যালিব্রেটেড ডিসপেনসার ব্যবহার করুন। একই স্কুপ দিয়ে বরফ মাপুন। অতিরিক্ত বরফ দিলে ড্রিংকের তরল কমে যায়, আবার কম বরফ দিলে বেশি সোডা লাগে এবং খরচ বাড়ে।
সোডা সবশেষে দিন এবং গ্লাসের পাশ ঘেঁষে ধীরে ঢালুন। বুদবুদ নষ্ট না করে নিচ থেকে এক বা দুইবার আলতোভাবে নেড়ে দিন। বিশেষ করে নোনতা ও ঝাল ভ্যারিয়েশনে ফেনা ওঠার জন্য গ্লাসের ওপরে যথেষ্ট জায়গা রাখুন।
প্রতিটি শিফট শেষে বিক্রি হওয়া গ্লাসের সংখ্যা, ব্যবহৃত সিরাপের পোরশন এবং খোলা সোডার পরিমাণ মিলিয়ে দেখুন। এই পোরশন কন্ট্রোল গাইডের নিয়ম অনুসরণ করলে বেশি ঢালা, রেকর্ড না করা স্টাফ ড্রিংক এবং রিমেক শনাক্ত করা সহজ হয়। Rosuii-তে সিরাপকে একটি production item হিসেবে রেকর্ড করে কাঁচামাল থেকে প্রস্তুত আইটেমে রূপান্তর দেখানো যায়, ফলে তৈরি পরিমাণ ট্র্যাক করা সহজ হয়।
যেসব সাধারণ ভুলে খরচ বাড়ে
চোখের আন্দাজে ঢালা, গরম সোডা ব্যবহার, কম রসের লেবু চেপে নেওয়া এবং অনেক আগে প্রস্তুত করাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। মাপ ছাড়া সিরাপ ঢাললে প্রথম দিকের ড্রিংক পাতলা এবং শেষের ড্রিংক অতিরিক্ত মিষ্টি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গরম সোডায় দ্রুত ফেনা ওঠে এবং স্বাদ ফ্ল্যাট লাগে, ফলে অভিযোগ ও বদলে দেওয়ার খরচ বাড়ে।
- লেবুর রস ফুটাবেন না বা গরম সিরাপে দেবেন না, কারণ তাপে টাটকা গন্ধ নষ্ট হয় এবং তিতা স্বাদ বাড়তে পারে।
- এত জোরে লেবু চিপবেন না যাতে সাদা খোসার তেল রসে মিশে যায়।
- শুকনা সিজনিংয়ের পাত্রে ভেজা চামচ ব্যবহার করবেন না।
- তৈরি হয়ে যাওয়া অবিক্রীত ড্রিংক কোনো হোল্ডিং বোতলে ফেরত দেবেন না।
- বাড়তি সিরাপ দিয়ে কম কার্বনেশন ঢাকার চেষ্টা করবেন না, ফ্ল্যাট সোডা ওয়াটার বদলে দিন।
উপকরণ ছড়িয়ে পড়া, পড়ে যাওয়া গ্লাস, নষ্ট রস এবং ফ্ল্যাট সোডা অজানা ব্যবহার হিসেবে না রেখে আলাদাভাবে রেকর্ড করুন। নিয়মিত অপচয় কমানোর পদ্ধতি অনুসরণ করলে সমস্যা কেনাকাটা, প্রস্তুতি নাকি সার্ভিসে হচ্ছে তা বোঝা যায়।
ড্রিংকের খরচ স্থিতিশীল রাখা
ব্যবহারযোগ্য রসের ইয়েল্ড অনুযায়ী লেবু কেনা এবং প্রতিটি সার্ভিং মাপা যন্ত্রে নিয়ন্ত্রণ করলেই খরচ স্থিতিশীল থাকে। আসা লেবুর ওজন নিন, ছাঁকার পর পাওয়া রস লিখে রাখুন এবং শুধু দেখতে ভালো কি না তা না দেখে ইয়েল্ড অনুযায়ী সরবরাহকারী তুলনা করুন। কম দামের প্রতি kg লেবু শুকনা হলে শেষ পর্যন্ত বেশি খরচ হতে পারে।
স্টেশন ফ্রিজে শুধু সম্ভাব্য সার্ভিসের জন্য প্রয়োজনীয় সোডা রাখুন এবং রিজার্ভ বোতল সিল করা অবস্থায় রাখুন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কয়েকটি বড় পাত্র ভরে না রেখে পূর্বাভাস করা বিক্রির পরিমাণ অনুযায়ী সিরাপ তৈরি করুন। কাপের আকার একই হলেও ঝাল ও নোনতা ভ্যারিয়েশনে অল্প বাড়তি উপকরণ লাগে, তাই ভ্যারিয়েশন অনুযায়ী বিক্রি পর্যালোচনা করুন।
খরচ কোথায় বাড়ে
টাটকা লেবু ও প্যাকেটজাত সোডা ওয়াটার সাধারণত উপকরণের খরচের বড় অংশ। মৌসুম, লেবুর জাত ও রসের ইয়েল্ড অনুযায়ী লেবুর খরচ বদলায়। খোলা সোডা ফ্ল্যাট হয়ে যাওয়া, মাপ ছাড়া সিরাপ ঢালা, অতিরিক্ত লেবুর রস দেওয়া এবং বরফের স্কুপে অসামঞ্জস্য থাকলেও খরচ বাড়ে।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই লেমন সোডা রেসিপি ১০০ গ্লাসের জন্য কীভাবে বাড়াব?
প্রস্তুত চিনির সিরাপ কত দিন রাখা যাবে?
টাটকা লেবুর রসের বদলে বোতলজাত লেবুর রস ব্যবহার করা যাবে কি?
চূড়ান্ত ইয়েল্ড কখনো ৪০ গ্লাসের কম হয় কেন?
ব্যস্ত সময়ের জন্য লেমন সোডা আগে থেকে মিশিয়ে রাখা যাবে কি?
সম্পর্কিত রেসিপি
বাণিজ্যিক চটপটি রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের বাণিজ্যিক চটপটি রেসিপি, যেখানে ডাবলি প্রস্তুতি, ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ, টপিং স্টেশন, নিরাপদ হট হোল্ডিং ও সঠিক পরিমাণে পরিবেশনের নিয়ম দেওয়া হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
বাণিজ্যিকভাবে ফুচকা তৈরির রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের বাণিজ্যিক ফুচকা রেসিপি, যাতে আছে ঘরে তৈরি মচমচে খোল, নিয়ন্ত্রিত আলু-ছোলার পুর, ভারসাম্যপূর্ণ তেঁতুলের পানি এবং কার্টে নিরাপদ সংরক্ষণের নির্দেশনা।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
- কঠিনতা:
- কঠিন
কমার্শিয়াল ঝালমুড়ি রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের এই কমার্শিয়াল ঝালমুড়ি রেসিপিতে মচমচে মুড়ি, ভারসাম্যপূর্ণ সরিষার তেলের মসলা এবং অর্ডারপ্রতি দ্রুত মাখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

