রেস্টুরেন্ট রেসিপি
৪০ পোরশনের রেস্টুরেন্ট পরোটা রেসিপি
৪০টি খাস্তা ও লেয়ারযুক্ত রেস্টুরেন্ট পরোটার কমার্শিয়াল ব্যাচ রেসিপি, যেখানে পানির অনুপাত, ডো রেস্ট, লেয়ার, আধা সেঁকা এবং ব্যস্ত সময়ে দ্রুত গরম করার পদ্ধতি দেওয়া আছে।

- প্রস্তুতি
- ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
- রান্না
- ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট
- মোট
- ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট
- পরিমাণ
- প্রায় ৪০ প্লেট
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ধরন
- Bangladeshi
প্রণালী
- 1
শুকনা উপকরণ ওজন করে মেশান
মিক্সারের বাটিতে মূল ময়দা, লবণ ও চিনি দিয়ে লো স্পিডে ২ মিনিট মেশান। উপকরণগুলো ঘরের তাপমাত্রার কাছাকাছি রাখুন এবং তরল দেওয়ার আগে ময়দার দৃশ্যমান সব দলা ভেঙে দিন।
- 2
ধীরে ধীরে তরল যোগ করুন
ফেটানো ডিম, ২.১ L পানি ও ডোর তেল একসঙ্গে মিশিয়ে লো স্পিডে মিক্সার চালানোর সময় ধীরে ধীরে যোগ করুন। ৩ মিনিট মেশানোর পর ডো একটি খসখসে পিণ্ডে জমা হবে এবং বাটিতে আলাদা তরল থাকবে না। শুকনা ময়দা থাকলেই শুধু সংরক্ষিত পানি একবারে ২৫ ml করে দিন।
- 3
মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ডো মাখান
লো স্পিডে ৬ মিনিট এবং মিডিয়াম স্পিডে ২ থেকে ৩ মিনিট মাখান। ডো মসৃণ, টানসহনশীল ও সামান্য আঠালো হলে এবং শেষ তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ২৬°C হলে থামুন। ডো গরম বা চকচকে হয়ে গেলে আর মাখাবেন না।
- 4
ডো রেস্ট দিয়ে ভাগ করুন
ডো ঢেকে ২৪°C থেকে ২৮°C তাপমাত্রায় ৩০ মিনিট রেস্ট দিন। প্রায় ১৭০ g করে ৪০টি পোরশনে ভাগ করে মসৃণ বল বানান। বলগুলো ঢেকে আরও ২০ মিনিট রেস্ট দিন, যাতে বেলার সময় আবার টেনে ছোট হয়ে না আসে।
- 5
লেয়ার করে কয়েল বানান
প্রতিটি বল প্রায় ৪৫ cm লম্বা, ২০ cm চওড়া এবং ২ mm পুরু আয়তাকার শিটে বেলুন। প্রায় ১২ g শর্টেনিং সমানভাবে ছড়িয়ে প্রায় ৭ g ময়দা ছিটান। হারমোনিয়ামের মতো ভাঁজ করে ৪ cm চওড়া স্ট্রিপ বানিয়ে ঢিলাভাবে কয়েল করুন। ভাঁজগুলো আলাদা দেখা যাবে, কিন্তু ফ্যাট বের হবে না।
- 6
রেস্ট দিয়ে সমানভাবে বেলুন
কয়েলগুলো ঢেকে ঘরের তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট রেস্ট দিন। প্রতিটি কয়েল হালকা হাতে ১৮ থেকে ২০ cm ব্যাস এবং ৪ থেকে ৫ mm পুরু করে বেলুন। মাঝখান ও কিনারা সমান রাখতে বেলার সময় বারবার ঘুরিয়ে নিন।
- 7
তাওয়ায় আধা সেঁকুন
তাওয়া ১৯০°C থেকে ২০৫°C গরম করে খুব পাতলা তেলের আস্তরণ দিন। প্রথম পাশ প্রায় ৪৫ সেকেন্ড এবং দ্বিতীয় পাশ ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড সেঁকুন। উপরিভাগ শুকনা, ছোট বুদবুদ ও হালকা বাদামি দাগ দেখা দিলে নামান। এই পর্যায়ে খাস্তা আস্তরণ হতে দেওয়া যাবে না।
- 8
ঠান্ডা করে নিরাপদে স্তূপ করুন
আধা সেঁকা পরোটা কুলিং র্যাকে এক স্তরে রেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঠান্ডা করুন। বাষ্প ওঠা বন্ধ হলে সর্বোচ্চ ১০টি করে স্তূপ বানান এবং প্রতিটি স্তূপের মধ্যে ফুড-সেফ শিট দিন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার না করলে ২ ঘণ্টার মধ্যে ৫°C বা তার নিচে রেফ্রিজারেট করুন।
- 9
প্রতিটি অর্ডারে পুনরায় গরম করুন
সার্ভিসের তাওয়া ২১০°C থেকে ২২০°C গরম করে প্রতিটি পরোটায় প্রায় ১০ থেকে ১২ ml তেল ব্যবহার করুন। প্রয়োজনমতো উল্টে প্রতি পাশ ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড রান্না করুন। দুই পাশ সোনালি, কিনারা খাস্তা এবং মাঝখানের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C হলে নামান। লেয়ার আলাদা করতে রান্নার পর হালকা চাপ দিন বা দুই হাতের মধ্যে আলতোভাবে চাপড়ান।
রান্নাঘরের জন্য নোট
এই রেস্টুরেন্ট পরোটা রেসিপিতে সকালের সার্ভিসের জন্য সমান ওজনের ৪০টি লেয়ারযুক্ত পরোটা তৈরি হবে। লেয়ার করার আগে প্রতিটি পরোটায় প্রায় ১৭০ g ডো থাকবে। এই মাপের একটি পরোটা ডাল, ভাজি, ডিম বা গরুর মাংসের তরকারির সঙ্গে পূর্ণ প্লেট হিসেবে দেওয়া যায়। রেস্টুরেন্ট খোলার আগে ডো মেশানো ও শেপ দেওয়া যাবে, এরপর পরোটা আধা সেঁকে রেখে অর্ডার এলে দ্রুত ফিনিশ করা যাবে।
রেস্টুরেন্টে পরোটা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর কেন
রেস্টুরেন্ট পরোটার বেশির ভাগ শ্রম সকালের চাপ শুরু হওয়ার আগেই শেষ করা যায়। ডো মেশানো, রেস্ট দেওয়া, ভাগ করা ও লেয়ার তৈরিতে সময় লাগে, কিন্তু এগুলো সার্ভিসের মধ্যে করার প্রয়োজন নেই। আধা সেঁকা পরোটা গরম তাওয়ায় কয়েক মিনিটে ফিনিশ করা যায়। ফলে একজন বাবুর্চি কাঁচা ডো থেকে প্রতিটি পরোটা শুরু না করেই একসঙ্গে একাধিক অর্ডার সামলাতে পারেন।
পরোটার মান ও মাপও সহজে স্ট্যান্ডার্ড করা যায়। প্রতিটি ডো বলের নির্দিষ্ট ওজন, মেপে দেওয়া শর্টেনিং এবং নির্ধারিত শেষ ব্যাস বজায় রাখলে বাবুর্চি বদলালেও পরোটার পার্থক্য কমে। একই ব্যাচের পরোটা সাধারণ প্লেট, ডিমের কম্বো, ডাল সেট এবং মাংসের কম্বোতে ব্যবহার করা যায়।
উপকরণের মান ও বাছাই
দামি বিশেষ উপকরণের চেয়ে মাঝারি গ্লুটেনের ময়দা ও পরিষ্কার স্বাদের ফ্যাট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন টাটকা ময়দা ব্যবহার করুন যার ডো ছিঁড়ে না গিয়ে পাতলা করা যায়। খুব দুর্বল বিস্কুটের ময়দায় শিট সহজে ছিঁড়ে যায়, আবার অতিরিক্ত শক্ত ময়দার ডো বেলার সময় টেনে ছোট হয়ে আসে। নতুন সরবরাহকারীর ময়দা পানির পরিমাণ আলাদাভাবে শোষণ করলে পুরো ব্যাচ বদলানোর আগে অল্প ডো দিয়ে পরীক্ষা করুন।
ভেজিটেবল শর্টেনিং ভাঁজের সময় আধা শক্ত থাকে বলে লেয়ার স্পষ্ট হয়। শর্টেনিংয়ের গন্ধ নিরপেক্ষ হতে হবে এবং দলা ছাড়া সহজে ছড়াতে হবে। মার্জারিন স্বাদ বাড়াতে পারে, তবে এতে পানি বেশি থাকলে লেয়ার একে অন্যের সঙ্গে আটকে যেতে পারে। ডো ও তাওয়ার জন্য টাটকা সয়াবিন তেল ব্যবহার করুন। বাসি বা বারবার গরম করার গন্ধযুক্ত তেল ব্যবহার করবেন না।
ডিম পরোটার রং, নরমভাব ও ডো সামলানোর গুণ বাড়ায়। তবে বিভিন্ন আকারের ডিম গুনে নেওয়ার চেয়ে ওজন করা বেশি নির্ভরযোগ্য। লবণ অবশ্যই মেপে দিতে হবে। কম লবণে স্বাদ ফিকে হয়, আর বেশি লবণে ডো শক্ত ও টানটান হয়ে যায়। চিনি রং ধরতে সাহায্য করে, কিন্তু বেশি চিনি দিলে ভেতর পুরো গরম হওয়ার আগেই কালচে দাগ পড়ে।
ডোতে পানির অনুপাত ও রেস্ট
সঠিক ডো পাতলা করে বেলার মতো নরম হবে, আবার দৃশ্যমান লেয়ার ধরে রাখার মতো শক্তও থাকবে। প্রথমে নির্ধারিত ২.১ L পানি দিন এবং অতিরিক্ত ১৫০ ml আলাদা রাখুন। কয়েক মিনিট মেশানোর পরও শুকনা ময়দা থাকলেই কেবল সংরক্ষিত পানি যোগ করুন। গুদামের আর্দ্রতা, ময়দার বয়স এবং ডিমের আকার অনুযায়ী পানির প্রয়োজন বদলাতে পারে।
তৈরি ডো মসৃণ, সামান্য আঠালো এবং প্রায় ২৪°C থেকে ২৬°C হওয়া উচিত। বাটির গায়ে বেশি লেগে থাকা ডো সমানভাবে লেয়ার করার জন্য অতিরিক্ত ভেজা। ডোর কিনারা খসখসে হলে, ফাটলে বা বেলার সময় বেশি বাধা দিলে সামান্য পানি অথবা আরও রেস্ট প্রয়োজন।
রেস্ট এই রেসিপির অংশ, অপেক্ষার অপচয় নয়। প্রথম রেস্টে ময়দা পানি শোষণ করে এবং মাখানোর পর গ্লুটেন ঢিলে হয়। ভাগ করার পর দ্বিতীয় রেস্ট দিলে প্রতিটি বল সহজে পাতলা করা যায়। কয়েল করার পর শেষ রেস্ট দিলে পরোটা বেলে রাখার পর আবার ছোট হয়ে আসে না। প্রতিটি রেস্টের সময় ডো ঢেকে রাখুন, কারণ পাতলা শুকনা আস্তরণও শক্ত দাগ ও ছেঁড়া লেয়ার তৈরি করে।
ভাঁজেই পরোটার লেয়ার তৈরি হয়
বেশি তেল দেওয়ার চেয়ে পাতলা সমান শিট এবং নিয়ন্ত্রিত ফ্যাটের স্তর ভালো লেয়ার তৈরি করে। প্রথম শিটটি ছিদ্র না করে এতটা পাতলা করুন যেন সামান্য আলো দেখা যায়। শর্টেনিং মোটা দলায় না রেখে কিনারা পর্যন্ত পাতলা আস্তরণে ছড়িয়ে দিন। পাশাপাশি থাকা ভাঁজ যেন আটকে না যায়, সে জন্য অল্প ময়দা ছিটিয়ে দিন।
হারমোনিয়ামের মতো সামনে-পেছনে ভাঁজ করলে পরপর একাধিক লেয়ার তৈরি হয়। ভাঁজ করা স্ট্রিপ কয়েল করলে লেয়ারগুলো ডোর ভেতরে থাকে। শেষে হালকা হাতে বেললে লেয়ার না চেপে চারদিকে ছড়িয়ে যায়। সরু বেলন দিয়ে বেশি চাপ দিলে ফ্যাট বের হয়ে আসে এবং ভাঁজ বন্ধ হয়ে যায়। চওড়া বেলন ব্যবহার করুন, বারবার ঘুরিয়ে বেলুন এবং সব জায়গার পুরুত্ব সমান হলে থামুন।
ছোট ছেঁড়া টুকরা তৈরি কয়েলের সঙ্গে আবার মেশাবেন না। এসব টুকরায় ময়দা ও ফ্যাট বেশি থাকে বলে বেলা ও রং ধরার ধরন আলাদা হয়। পরিষ্কার টুকরা আলাদা রাখুন এবং পরের নতুন ডোতে মোট ময়দার ওজনের খুব অল্প অংশ হিসেবে ব্যবহার করুন।
কমার্শিয়াল ব্যাচ ছোট বা বড় করা
মূল ময়দার ওজন ধরে প্রতিটি উপকরণ স্কেল করুন, কিন্তু রেস্টের সময় বদলাবেন না। অতিরিক্ত সমন্বয়ের আগের পানি মূল ময়দার ওজনের প্রায় ৫২.৫ শতাংশ, ডিম ১০ শতাংশ, ডোর তেল ৪.৫ শতাংশ, চিনি ২.৫ শতাংশ এবং লবণ ১.৭৫ শতাংশ। লেয়ার করার শর্টেনিং মূল ময়দার প্রায় ১২.৫ শতাংশ।
অর্ধেক ব্যাচের জন্য প্রতিটি ওজন অর্ধেক করুন, তবে মেশানোর লক্ষণ, ডোর তাপমাত্রা ও রেস্টের সময় একই রাখুন। বড় ব্যাচে মিক্সার অতিরিক্ত ভরবেন না। শক্ত ডোর ক্ষেত্রে মিক্সার প্রস্তুতকারকের নিরাপদ ধারণক্ষমতা মানুন এবং সম্ভব হলে বাটির মোট আয়তনের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি ভরবেন না। অতিরিক্ত গরম হয়ে গ্লুটেন নষ্ট হওয়া একটি ব্যাচের চেয়ে সঠিকভাবে মেশানো দুটি ব্যাচ সাশ্রয়ী।
ময়দার সরবরাহকারী বদলালে পানির পরিমাণ সরাসরি গুণ করে দেবেন না। কিছু পানি আলাদা রাখুন, প্রাথমিক মিশ্রণের পর ডো পরীক্ষা করুন এবং শেষ পর্যন্ত কত পানি লেগেছে তা লিখে রাখুন। এতে পরের শিফট অনুসরণ করার মতো ব্যবহারিক ময়দা স্পেসিফিকেশন তৈরি হবে।
আধা সেঁকা, সংরক্ষণ ও পুনরায় গরম করা
আধা সেঁকার উদ্দেশ্য পরোটার আকার স্থির করা, পুরোপুরি খাস্তা বা গাঢ় রং করা নয়। উপরিভাগ শুকনা হবে, ছোট বুদবুদ উঠবে এবং শুধু হালকা বাদামি দাগ থাকবে। এই পর্যায়ে গাঢ় রং হলে পুনরায় গরম করার পর পরোটা তিতা বা শক্ত হবে। তাওয়া কম গরম থাকলে লেয়ার ফুলে ওঠার আগেই ডো শুকিয়ে যায়।
আধা সেঁকা পরোটা গরম অবস্থায় বন্ধ পাত্রে না রেখে র্যাকে ঠান্ডা করুন। আটকে থাকা বাষ্প উপরিভাগ আঠালো করে এবং পরোটা একটির সঙ্গে আরেকটি আটকে দেয়। তাৎক্ষণিক ব্যস্ত সার্ভিসের জন্য ঠান্ডা পরোটা ঢেকে ঘরের তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা রাখা যাবে। পরে ব্যবহারের জন্য দ্রুত ৫°C বা তার নিচে ঠান্ডা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন।
প্রতিটি অর্ডার বেশি গরম তাওয়ায় মেপে দেওয়া তেল দিয়ে ফিনিশ করুন। দুই পাশ সমান সোনালি হওয়া, কিনারার লেয়ার আলাদা হওয়া এবং মাঝখানের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪°C হওয়া পর্যন্ত গরম করুন। ফিনিশ করা পরোটা ১০ মিনিটের মধ্যে পরিবেশন করা ভালো। অল্প সময় রাখতেই হলে বাতাস চলাচল করে এমন পাত্র অথবা পরিষ্কার কাপড় বিছানো ঝুড়ি ব্যবহার করুন। বন্ধ হট বক্সে বাষ্প আটকে খাস্তা ভাব নষ্ট হয়।
পোরশন ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ
৪০টি বিক্রয়যোগ্য পরোটা পাওয়ার প্রধান নিয়ন্ত্রণ হলো প্রতিটি ডো পোরশন ১৭০ g রাখা। সম্পূর্ণ ডোর ওজন নিন, মিক্সারে লেগে থাকা অংশ হিসাব করুন এবং শেপ দেওয়ার আগে নির্ধারিত উৎপাদন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। চোখের আন্দাজে ভাগ করবেন না। ৪০টি পরোটায় প্রতিটির মাত্র ১০ g অতিরিক্ত হলেও শেষের পরোটার জন্য প্রয়োজনীয় ডো কমে যেতে পারে।
প্রতিটি পরোটার জন্য শর্টেনিং ও ছিটানোর ময়দা মেপে ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত লেয়ারিং ফ্যাট খরচ বাড়ায়, তাওয়ায় গলে পড়ে এবং মাঝখান তেলতেলে করে। পরোটার শেষ ব্যাস নির্ধারিত রাখুন এবং ঘোষিত প্লেটে একটি পরোটাই দিন। আলাদা প্লেট সাইজ বা অ্যাড-অন ঠিক করার সময় পোরশন কন্ট্রোল গাইড দেখুন।
যেসব ভুলে খরচ বাড়ে
পানির অনুপাতের অসামঞ্জস্য, বড় পোরশন, অতিরিক্ত ফ্যাট এবং সার্ভিসের আগে বেশি সেঁকা সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। ভেজা ডোতে টেবিলের ময়দা বেশি লাগে, ফলে মূল ফর্মুলা বদলে যায় এবং শক্ত অংশ তৈরি হয়। শুকনা ডো ভাঁজের সময় ছিঁড়ে শর্টেনিং বের করে দেয়, ফলে লেয়ার খারাপ হয় এবং তাওয়া তেলতেলে হয়ে যায়।
- রেস্ট বাদ দেওয়া: ডো বেলার পর ছোট হয়ে আসে, বেলতে বেশি সময় লাগে এবং কর্মীরা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করেন।
- গরম অবস্থায় স্তূপ করা: বাষ্পে পরোটা আটকে যায় এবং পুনরায় গরম করার সময় ছিঁড়ে যায়।
- অসম তাওয়া ব্যবহার: বেশি গরম অংশে চিনি পুড়ে যায়, আর ঠান্ডা অংশ ফ্যাকাশে ও চামড়ার মতো শক্ত থাকে।
- না মেপে তেল ঢালা: প্রতিটি পোরশনে তেলের পরিমাণ আলাদা হয় এবং ব্রেকফাস্ট স্টেশনে রেকর্ডের চেয়ে বেশি তেল খরচ হয়।
- প্রয়োজনের বেশি স্টক তৈরি: বিক্রি না হওয়া আধা সেঁকা পরোটার মান কমে অথবা নিরাপদ সময়ের বেশি রাখায় অপচয় হয়।
পরিকল্পিত উৎপাদনের সঙ্গে আসল বিক্রি ও ফেলে দেওয়া পরোটার সংখ্যা মিলিয়ে দেখুন। ক্ষতি কেনাকাটা, প্রোডাকশন না সার্ভিসে হচ্ছে তা শনাক্ত করতে রেসিপি কস্টিং এবং খাবারের অপচয় কমানো গাইড দেখুন। Rosuii-তে কাঁচামাল থেকে তৈরি পরোটার স্টক পর্যন্ত ব্যাচ প্রোডাকশন রেকর্ড করা যায় এবং নষ্ট বা অবিক্রীত পরোটার ওয়েস্টেজ লগ করা যায়।
খরচ স্থিতিশীল রাখা
একই মানের সরবরাহকারী, মাপা পোরশন এবং নিয়ন্ত্রিত তাওয়ার তেল পরোটার খরচ স্থিতিশীল রাখে। শুধু বস্তার দাম দিয়ে ময়দা তুলনা করবেন না। ব্যবহারযোগ্য পানি শোষণ এবং ডোর কার্যকারিতাও দেখুন। সস্তা ময়দায় অতিরিক্ত ছিটানোর ময়দা লাগলে বা পরোটা বেশি ছিঁড়লে প্রকৃত খরচ বেড়ে যেতে পারে।
শর্টেনিং, ডিম ও রান্নার তেল নিয়মিত হিসাব করুন, কারণ বাজারদর ও ব্যবহার বদলালে এগুলো ব্যাচের খরচে বড় প্রভাব ফেলে। স্টেশনে মাপ চিহ্নিত বোতলে তেল দিন, আধা সেঁকা পরোটার উৎপাদন লিখুন এবং প্রত্যাশিত ৪০ পোরশনের তুলনায় বারবার ঘাটতি হলে কারণ অনুসন্ধান করুন।
খরচ কোথায় বাড়ে
পরিমাণের হিসাবে ময়দাই প্রধান উপকরণ, তবে সরবরাহকারীর বাজারদর বদলালে শর্টেনিং, ডিম ও রান্নার তেল ব্যাচের খরচে বেশি ওঠানামা ঘটাতে পারে। পোরশনের ওজন, লেয়ারিং ফ্যাট এবং তাওয়ার তেল মেপে ব্যবহার করতে হবে, কারণ ৪০টি পরোটায় সামান্য অতিরিক্ত ব্যবহারও বিক্রয়যোগ্য উৎপাদন কমিয়ে দেয়।
বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন
এই পরোটা রেসিপি দ্বিগুণ করে ৮০ পোরশন করা যাবে কি?
আধা সেঁকা পরোটা সার্ভিসের জন্য কতক্ষণ রাখা যাবে?
রেসিপি থেকে ডিম বাদ দেওয়া যাবে কি?
ব্যাচে ৪০টির কম পরোটা হওয়ার কারণ কী?
আধা সেঁকা পরোটা ফ্রিজারে রাখা যাবে কি?
সম্পর্কিত রেসিপি
কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি
প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ ভুনা রেসিপি, যেখানে দীর্ঘ সময় কষানো, তেল ছাড়ার স্পষ্ট লক্ষণ, নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিবেশন ও নিরাপদ রিহিটিং দেখানো হয়েছে।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০ প্লেট
- মোট:
- ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল বাংলাদেশি বিফ রোল রেসিপি
৪০টি সমান মানের বিফ রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে নরম ও শুকনা বিফ ফিলিং, মচমচে সবজি, নিয়ন্ত্রিত সস এবং সার্ভিসের ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে।
- পরিমাণ:
- ৪০টি বিফ রোল
- মোট:
- ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
কমার্শিয়াল মিষ্টি দই রেসিপি
সঠিক ক্যারামেল, কালচার মেশানোর তাপমাত্রা, জমানোর সময় ও ইল্ড নিয়ন্ত্রণসহ প্রায় ৪০টি মাটির ভাঁড়ের কমার্শিয়াল মিষ্টি দই রেসিপি।
- পরিমাণ:
- প্রায় ৪০টি মাটির ভাঁড়
- মোট:
- ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
- কঠিনতা:
- মাঝারি
রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান
পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।
শুরু করুন

