মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল মসলা চা

৪০ কাপের কমার্শিয়াল মসলা চা রেসিপি, যাতে আছে বাল্ক মসলা মিক্স, নিয়ন্ত্রিত দুধের অনুপাত, ফুটিয়ে ছাঁকার পদ্ধতি এবং ব্যবহারযোগ্য ইল্ড নিয়ন্ত্রণ।

শেয়ার
গোটা মসলা ও আদার পাশে ছোট কাপে ছাঁকনি দিয়ে ঢালা হচ্ছে টাটকা বাংলাদেশি মসলা চা।
প্রস্তুতি
২৫ মিনিট
রান্না
৩০ মিনিট
মোট
৫৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ কাপ, প্রতি কাপ ১৫০ ml
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bangladeshi

প্রণালী

  1. 1

    মসলা পরীক্ষা ও ওজন করা

    ঘরের তাপমাত্রায় ৩ মিনিট ধরে গোটা মসলা পরীক্ষা করে খোসার আবর্জনা, পাথর বা স্যাঁতসেঁতে টুকরা সরিয়ে ফেলুন। সঠিক মসলা দেখতে শুকনা হবে এবং ভাঙলে পরিষ্কার ঘ্রাণ বের হবে।

  2. 2

    গোটা মসলা গরম করা

    শুকনা প্যানে এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও শুকনা আদা ৯০°C থেকে ১১০°C সারফেস তাপমাত্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট গরম করুন। একটানা নাড়ুন এবং ঘ্রাণ বের হলে কিন্তু কালো পোড়া দাগ পড়ার আগেই নামিয়ে নিন।

  3. 3

    ঠান্ডা করে মসলা ভাঙা

    মসলা পরিষ্কার ট্রেতে ছড়িয়ে প্রায় ১০ মিনিটে ৩০°C-এর নিচে ঠান্ডা করুন। মোটা বালুর মতো করে গ্রাইন্ড করে প্রায় ২৪০ গ্রাম মিক্স তৈরি করুন, বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন এবং এই ব্যাচের জন্য ৩০ গ্রাম মেপে নিন।

  4. 4

    আদা ও মসলার স্বাদ বের করা

    মূল কেটলিতে ৩.৫ লিটার পানি ১০০°C পর্যন্ত ফুটিয়ে কাঁচা আদা ও ৩০ গ্রাম মসলা মিক্স দিন। পানি হালকা অ্যাম্বার রং হওয়া এবং আদা-এলাচের পরিষ্কার ঘ্রাণ বের হওয়া পর্যন্ত ৬ থেকে ৮ মিনিট ফুটান।

  5. 5

    কালো চা ব্রু করা

    কালো চা পাতা দিয়ে ৯৮°C থেকে ১০০°C তাপমাত্রায় ২ থেকে ৩ মিনিট রাখুন। একবার নেড়ে দিন এবং তরল কালো বা ঘোলা হওয়ার আগেই গাঢ় লালচে-বাদামি রং হলে পরের ধাপে যান।

  6. 6

    দুধ আগে গরম করা

    চা ব্রু হওয়ার সময় আলাদা পাত্রে দুধ ৪ থেকে ৬ মিনিটে ৬০°C থেকে ৬৫°C পর্যন্ত গরম করুন। হালকা বাষ্প উঠবে, কিন্তু দুধে মোটা সর পড়বে না বা সিমার শুরু হবে না।

  7. 7

    চিনি ও দুধ যোগ করা

    চায়ের মধ্যে চিনি ও লবণ পুরোপুরি গুলে নিন, তারপর নাড়তে নাড়তে আগে গরম করা দুধ ঢালুন। ৬ থেকে ৮ মিনিটে মিশ্রণটি ৯২°C থেকে ৯৫°C পর্যন্ত তুলুন এবং পুরো পৃষ্ঠে সমান হালকা বাদামি ফেনা ওঠা লক্ষ্য করুন।

  8. 8

    শেষ সিমার নিয়ন্ত্রণ করা

    আঁচ কমিয়ে চা ৯০°C থেকে ৯৫°C তাপমাত্রায় ৪ মিনিট রাখুন। প্রতি মিনিটে একবার নাড়ুন এবং ফেনা কেটলির মুখের নিচে রাখুন। তৈরি চায়ের রং সমান ক্যারামেল বাদামি হবে।

  9. 9

    ছেঁকে চূড়ান্ত ইল্ড ঠিক করা

    চা পাতা জোরে না চেপে ১ মিনিটের মধ্যে মিহি স্টেইনলেস স্টিল ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। চূড়ান্ত পরিমাণ ৬ লিটার নিশ্চিত করুন। সামান্য কম হলে সমান পরিমাণ গরম পানি ও দুধের মিশ্রণ দিয়ে ঠিক করে ৭৫°C থেকে ৮৫°C তাপমাত্রায় পরিবেশন করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই কমার্শিয়াল মসলা চা রেসিপিতে ৬ লিটার চা হবে, অর্থাৎ ১৫০ ml করে নিয়ন্ত্রিত ৪০টি সার্ভিং। ফুটিয়ে ছেঁকে পরিবেশনের জন্য রেসিপিটি বাংলাদেশের ফুড কার্ট, চায়ের দোকান, ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টের উপযোগী। এতে মোট ২৪০ গ্রাম বাল্ক মসলা মিক্স তৈরি হবে। প্রতি ব্যাচে ৩০ গ্রাম ব্যবহার করে বাকিটা পরের ব্যাচগুলোর জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

কমার্শিয়ালভাবে মসলা চা কার্যকর কেন

পরিচিত উপকরণ, কম রান্নার সময় এবং অল্প সরঞ্জামে পরিবেশন করা যায় বলে মসলা চা ভালো বিক্রি হয়। একজন প্রশিক্ষিত কর্মী আগে থেকে মসলা মিক্স তৈরি করে রাখতে পারেন, প্রয়োজনমতো নতুন ব্যাচ ফুটিয়ে দাগ দেওয়া কেটলি বা ইনসুলেটেড আর্ন থেকে সরাসরি মেপে পরিবেশন করতে পারেন। জটিল সার্ভিস সেটআপ ছাড়াই মসলার ঘ্রাণ পানীয়টিকে আলাদা পরিচয় দেয়।

এখানে প্রধান বাণিজ্যিক ঝুঁকি হলো ব্যাচে ব্যাচে স্বাদ বদলে যাওয়া। কর্মী চোখের আন্দাজে চা পাতা, দুধ, চিনি বা মসলা দিলে একটি ব্যাচ পাতলা এবং পরেরটি তিতা হতে পারে। বেশি দুধে খরচ বাড়ে, আর অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফুটালে ইল্ড কমে। তাই সাজসজ্জার চেয়ে লিখিত ব্যাচ সাইজ, ওজন মাপার স্কেল এবং নির্দিষ্ট মাপের হাতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব উপকরণের মানে ছাড় দেওয়া যাবে না

তৈরি চায়ের স্বাদে চা পাতা, দুধ ও সবুজ এলাচের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এমন শক্তিশালী বাংলাদেশি CTC কালো চা ব্যবহার করুন, যা দ্রুত রং ছাড়ে কিন্তু মুখে ধুলোমতো আফটারটেস্ট দেয় না। খুব মিহি টি ডাস্ট দ্রুত এক্সট্র্যাক্ট হয়, তবে কয়েক মিনিটের বেশি কেটলিতে থাকলে কড়া ও তিতা হয়ে যেতে পারে।

একই মানের ফ্যাট ও মিল্ক সলিড পাওয়া যায় এমন পাস্তুরিত ফুল-ক্রিম দুধ ব্যবহার করুন। সরবরাহকারীভেদে দুধের ঘনত্ব, মিষ্টতা এবং ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বদলাতে পারে। তাই স্ট্যান্ডার্ড রেসিপিতে নতুন দুধ চালুর আগে পরীক্ষা করুন। টক গন্ধযুক্ত বা রেফ্রিজারেশনের বাইরে পড়ে থাকা দুধ ব্যবহার করবেন না।

সবুজ এলাচের খোসা বন্ধ, সবুজাভ এবং ভাঙলে তীব্র ঘ্রাণযুক্ত হওয়া উচিত। দারুচিনি বা ক্যাসিয়া ছালের গন্ধ কাঠের মতো নয়, মিষ্টি হওয়া দরকার। নখ দিয়ে চাপলে লবঙ্গ থেকে তেল বের হওয়া ভালো মানের লক্ষণ। পানযোগ্য পানিও জরুরি, কারণ অতিরিক্ত ক্লোরিন বা মিনারেলযুক্ত পানি চায়ের স্বাদ ম্লান করে দেয়।

বাল্ক মসলা মিক্স তৈরির পদ্ধতি

প্রতি ব্যাচে পাঁচটি মসলা আলাদা করে মাপার চেয়ে আগে তৈরি করা মোটা মসলা মিক্স দ্রুত সার্ভিস ও একই স্বাদ নিশ্চিত করে। গোটা মসলাগুলো শুধু ঘ্রাণ বের হওয়া পর্যন্ত গরম করুন, তারপর গুঁড়া করার আগে পুরোপুরি ঠান্ডা করুন। বেশি ভাজলে লবঙ্গ ও গোলমরিচ তিতা হয় এবং এলাচের হালকা ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যায়।

মিশ্রণটি মিহি পাউডার না করে মোটা বালুর মতো করে ভাঙুন। মিহি মসলার গুঁড়া ছাঁকনি দিয়ে চলে যায়, কাপে তলানি পড়ে এবং হোল্ডিংয়ের সময়ও স্বাদ ছাড়তে থাকে। পাত্রে তৈরির তারিখ, সম্ভাব্য ব্যাচ সংখ্যা এবং প্রতি ব্যাচের নির্ধারিত ডোজ লিখুন। চুলার তাপ ও বাষ্প থেকে দূরে শুকনা জায়গায় বায়ুরোধী করে রাখুন, কারণ আর্দ্রতায় মসলা দলা বাঁধে এবং ঘ্রাণ কমে।

ফুটিয়ে ছাঁকার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ

সঠিক পদ্ধতিতে প্রথমে মসলা, পরে চা পাতা এবং সবশেষে দুধ এক্সট্র্যাক্ট করা হয়। আদা ও মসলার স্বাদ বের করতে ফুটন্ত পানিতে কয়েক মিনিট লাগে। চা পাতার সময় অনেক কম, তাই শুরুতেই দিলে অপ্রয়োজনীয় ট্যানিন বের হয়ে চা তিতা হয় এবং মুখে শুকনা অনুভূতি দেয়।

চায়ের রং গাঢ় লালচে-বাদামি হলে চিনি গুলে আগে থেকে গরম করা দুধ দিন। দুধ আগে গরম করলে মিশ্রণটি দ্রুত নির্ধারিত তাপমাত্রায় ফেরে এবং দীর্ঘ সময় কুসুম গরম অবস্থায় থাকে না। তাপমাত্রা ৯২°C থেকে ৯৫°C হলে আঁচ নিয়ন্ত্রণ করুন, যেন ফেনা ধীরে ওঠে কিন্তু উপচে না পড়ে।

দুধ, চা ও মসলা এক করতে নিয়ন্ত্রিত আঁচে ৪ মিনিট সিমার করাই যথেষ্ট। বারবার জোরে ফুটানো দেখতে পরিচিত লাগলেও এতে বাষ্প হয়ে তরল কমে, দুধের প্রোটিন তলায় পোড়ে এবং চূড়ান্ত ইল্ড অনুমান করা কঠিন হয়। রং সমান ক্যারামেল বাদামি এবং ঘ্রাণ ভারসাম্যপূর্ণ হলেই সঙ্গে সঙ্গে ছেঁকে নিন।

দুধের অনুপাত একই রাখা

৩.৫ লিটার পানির সঙ্গে ৩ লিটার দুধ দিয়ে শুরু করলে দুধের খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে চায়ের দোকানের মতো ঘন স্বাদ পাওয়া যায়। চিনি, বাষ্পীভবন ও ছাঁকার পর চূড়ান্ত ব্যাচ প্রায় ৬ লিটার হবে। ফুটন্ত কেটলি দেখে আন্দাজ না করে ফুড-গ্রেড মাপের পাত্রের ৬ লিটার দাগে ইল্ড পরীক্ষা করুন।

ছাঁকার পর ব্যাচ সামান্য কম হলে সমান পরিমাণ গরম পানি ও গরম দুধের মিশ্রণ দিয়ে ঠিক করুন। শুধু পানি দিলে চা পাতলা হবে, আর শুধু দুধ দিলে স্বাদ ও খরচ দুটোই বদলাবে। নিয়মিত ইল্ড কম হলে তা লিখে রাখুন। সাধারণত অতিরিক্ত আঁচ, চওড়া কেটলি বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ সময় ফুটানো এর কারণ।

এক্সট্র্যাকশন না বদলে ব্যাচ স্কেল করা

কেটলির সংখ্যা দিয়ে গুণ না করে চূড়ান্ত চায়ের পরিমাণ ধরে এই রেসিপি স্কেল করুন। প্রতি ১ লিটার তৈরি চায়ের জন্য শুরুতে প্রায় ৫৮৩ ml পানি, ৫০০ ml দুধ, ২০ গ্রাম চা পাতা, ১০৮ গ্রাম চিনি, ৫ গ্রাম মসলা মিক্স এবং ২০ গ্রাম কাঁচা আদা নিন। লিখিত টেস্টিংয়ের পর অনুপাত সমন্বয় করা যাবে, তবে কর্মী বা শিফটভেদে তা বদলানো যাবে না।

অর্ধেক ব্যাচ একই কেটলিতে করতে হলে তরলের গভীরতা যথেষ্ট আছে কি না দেখুন, না হলে দ্রুত বাষ্প হয়ে ইল্ড কমবে। দ্বিগুণ ব্যাচের জন্য পাত্রে অন্তত ২৫ শতাংশ খালি জায়গা রাখুন, কারণ দুধের ফেনা দ্রুত ওঠে। উপকরণ দ্বিগুণ করলেই সিমারের সময় দ্বিগুণ হবে না। পুরো ব্যাচ নির্ধারিত তাপমাত্রায় ফেরার পর থেকে এক্সট্র্যাকশনের সময় ধরুন।

সার্ভিসের জন্য হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা

ছাঁকার পর প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে মসলা চায়ের স্বাদ সবচেয়ে ভালো থাকে। সরাসরি জোর আঁচে না রেখে পরিষ্কার ইনসুলেটেড আর্ন বা বেইন-মেরিতে ৬৩°C-এর ওপরে হোল্ড করুন। ছাঁকার পরও দুধের সলিড ও মসলার সূক্ষ্ম কণা বসতে পারে, তাই প্রতি ১০ মিনিটে আলতো করে নেড়ে দিন।

চা শুধু একবার পুনরায় গরম করুন এবং না ফুটিয়ে ৮০°C থেকে ৮৫°C পর্যন্ত নিন। বারবার গরম করলে রং গাঢ় হয়, রান্না দুধের সর পড়ে এবং বিক্রিযোগ্য পরিমাণ কমে। পুরোনো অল্প চা কখনো নতুন ব্যাচে মেশাবেন না। চাহিদা অনিয়মিত হলে বড় ব্যাচ কয়েক ঘণ্টা ধরে না রেখে ঘন ঘন ছোট ব্যাচ তৈরি করুন।

পরিমাণ ও বিক্রিযোগ্য ইল্ড নিয়ন্ত্রণ

প্রতিটি সার্ভিং ঠিক ১৫০ ml রাখলেই ৬ লিটারের ব্যাচ থেকে ৪০ কাপ পাওয়া যাবে। সমান করে ভরা ১৫০ ml হাতা বা দাগ দেওয়া ডিসপেন্সিং কাপ ব্যবহার করুন এবং ছিটকে পড়া ঠেকাতে কাপে কিছুটা খালি জায়গা রাখুন। প্রতি কাপে সামান্য বেশি ঢাললেও ব্যস্ত শিফট শেষে কয়েক কাপ কমে যাবে।

ইস্যু করা কাপের সংখ্যা প্রকৃত চা বিক্রির সঙ্গে মিলিয়ে প্রত্যাশিত ব্যাচ ইল্ডের তুলনা করুন। এই পোরশন কন্ট্রোল গাইডের পদ্ধতি অনুসরণ করলে বেশি ঢালা, কমপ্লিমেন্টারি সার্ভিং এবং হিসাবের বাইরে নষ্ট হওয়া চা শনাক্ত করা যায়। ছিটকে পড়া বা পুড়ে যাওয়া ব্যাচ কম ইল্ড হিসেবে লুকিয়ে না রেখে আলাদা লিখুন।

প্রতি কাপের খরচ ব্যবস্থাপনা

প্রতি কাপের খরচ শুধু চা ও দুধের ক্রয়মূল্য থেকে নয়, ব্যবহারযোগ্য ব্যাচ ইল্ড থেকে হিসাব করতে হবে। ব্যাচের উপকরণ খরচ ৪০টি বিক্রিযোগ্য সার্ভিং দিয়ে ভাগ করুন এবং ২৪০ গ্রাম মসলা মিক্সের পুরো খরচ না ধরে এই ব্যাচে ব্যবহৃত ৩০ গ্রামের খরচ নিন। কাপ, ঢাকনা, জ্বালানি, আদা পরিষ্কারের ক্ষতি এবং স্বাভাবিক ছাঁকনি লসও হিসাবে রাখতে হবে।

সাধারণত উপকরণ খরচের সবচেয়ে বড় অংশ দুধ, এরপর চায়ের গ্রেড ও এলাচের দাম বেশি ওঠানামা করে। নির্দিষ্ট রেসিপি কস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং দুধের সরবরাহকারী, চায়ের গ্রেড, সার্ভিং সাইজ বা কাপের স্পেসিফিকেশন বদলালে হিসাব পর্যালোচনা করুন। Rosuii-তে বাল্ক মসলা মিক্সকে আলাদা production হিসেবে রেকর্ড করে কাঁচামাল ও wastage ট্র্যাক করা যায়, তারপর item sales ও profit report পর্যালোচনা করা যায়।

চা পাতা, দুধ, চিনি ও তৈরি মসলা মিক্সের জন্য আলাদা stock code রাখুন। সাপ্তাহিক physical count ভালো ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করে এবং কর্মীরা অনুমোদিত ডোজ ব্যবহার করছেন কি না দেখায়। সস্তা কিন্তু বাসি মসলা কিনে সাধারণত সাশ্রয় হয় না, কারণ ঘ্রাণ কম থাকায় কর্মীরা বেশি মসলা ব্যবহার করেন।

যেসব ভুলে টাকা নষ্ট হয়

অতিরিক্ত ফুটানো, নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দুধ দেওয়া এবং অসমান পোরশন মসলা চায়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। বেশি ফুটালে পানি ও দুধ বাষ্প হয়ে কমে যায়, ফলে স্বাদ কড়া মনে হলেও কাপের সংখ্যা কম হয়। চওড়া ও খোলা পাত্রে গভীর কেটলির তুলনায় দ্রুত তরল কমে, তাই ইল্ড পরীক্ষা ছাড়া এক পাত্রের রেসিপি অন্য পাত্রে চালাবেন না।

  • শুরু থেকে মসলার সঙ্গে চা পাতা ফুটাবেন না। আদা ও গোটা মসলার স্বাদ বের হওয়ার আগেই চা তিতা হয়ে যাবে।
  • মসলা মিক্স মিহি ধুলার মতো করবেন না। মিহি গুঁড়া ছাঁকনি দিয়ে চলে গিয়ে কাপে দানা তৈরি করে এবং ক্রমাগত স্বাদ ছাড়ে।
  • না মেপে অতিরিক্ত দুধ দেবেন না। এতে প্রতি ব্যাচের স্বাদ, রং ও খরচ বদলে যায়।
  • ভেজা চা পাতা জোরে চেপে রস বের করবেন না। এতে কড়া ট্যানিন বের হয় এবং সূক্ষ্ম কণা ছাঁকনি দিয়ে চলে যায়।
  • পুরোনো কেটলিতে বারবার নতুন চা যোগ করবেন না। পুরোনো অংশ অতিরিক্ত রান্না হয়ে যায় এবং অবশিষ্ট পরিমাণ সঠিকভাবে মাপা যায় না।

খরচ কোথায় বাড়ে

সাধারণত ব্যাচের উপকরণ খরচে দুধের অংশ সবচেয়ে বেশি, এরপর কালো চা, আর মসলার মধ্যে সবুজ এলাচের দাম সবচেয়ে বেশি ওঠানামা করে। দুধের সরবরাহকারী, চায়ের গ্রেড, এলাচের মান, কাপের আকার, বাষ্পীভবনের ক্ষতি এবং হোল্ডিংয়ের পর ফেলে দেওয়া চায়ের পরিমাণে খরচ বদলায়।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

এই মসলা চা রেসিপি দ্বিগুণ করে ৮০ কাপ করা যাবে কি?

হ্যাঁ। প্রতিটি উৎপাদন উপকরণ দ্বিগুণ করুন এবং অন্তত ১৬ লিটার কার্যকর ধারণক্ষমতার কেটলি ব্যবহার করুন, সঙ্গে ফেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ খালি জায়গা রাখুন। এক্সট্র্যাকশন ও সিমারের সময় মূল রেসিপির কাছাকাছি রাখুন এবং তরল নির্ধারিত তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর প্রতিটি টাইমার চালু করুন।

তৈরি মসলা চা কতক্ষণ হোল্ড করা যাবে?

সেরা মানের জন্য ৬৩°C-এর ওপরে হোল্ড করে ৩০ মিনিটের মধ্যে বিক্রি করুন। নিয়ন্ত্রিত হট হোল্ডিংয়ে আরও বেশি সময় খাদ্যনিরাপদ থাকতে পারে, তবে চা ক্রমে গাঢ়, ঘন ও তিতা হয়। তাই কমার্শিয়াল সার্ভিসে ঘন ঘন ছোট টাটকা ব্যাচ তৈরি করা ভালো।

বাল্ক মসলা মিক্স কতদিন রাখা যাবে?

সেরা ঘ্রাণের জন্য মোটা মসলা মিক্স ৪ সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার করুন। তাপ, আর্দ্রতা ও সরাসরি রোদ থেকে দূরে তারিখ লেখা বায়ুরোধী ফুড-গ্রেড পাত্রে রাখুন এবং first-in, first-out নিয়ম অনুসরণ করুন।

গোটা মসলার বদলে গুঁড়া মসলা ব্যবহার করা যাবে কি?

ব্যবহার করা যায়, তবে গুঁড়া মসলা দ্রুত স্বাদ ছাড়ে এবং সাধারণ চা ছাঁকনি দিয়ে চলে যায়। ব্যবহার করতেই হলে শুরুর ডোজ কমান, এক্সট্র্যাকশনের সময় ছোট করুন এবং মিহি ফিল্টার ব্যবহার করুন। সার্ভিসের আগে পরীক্ষা করে চূড়ান্ত ডোজ লিখিতভাবে নির্ধারণ করুন।

ব্যাচ থেকে ৪০ কাপের কম চা হলো কেন?

বেশি ঢালা, অতিরিক্ত ফুটানো, কেটলি উপচে পড়া, চা পাতায় তরল থেকে যাওয়া এবং ভুল মাপের কাপ পরীক্ষা করুন। ছাঁকার পর ব্যাচ ৬ লিটার মেপে নিন এবং নির্দিষ্ট ১৫০ ml হাতা ব্যবহার করুন, তাহলে প্রত্যাশিত ৪০ কাপ ইল্ড যাচাই করা যাবে।
শেয়ার

কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি

পাক্কি পদ্ধতিতে প্রায় ৪০টি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশনের কমার্শিয়াল চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি, সঙ্গে চাল আংশিক সেদ্ধ করা, দম, হট হোল্ডিং ও ব্যাচ বড় করার নির্দেশনা।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বাংলাদেশি চিকেন রোস্ট

আগে ভেজে নেওয়া মুরগি, নিয়ন্ত্রিত মিষ্টি-নোনতা গ্রেভি, ক্যাটারিং ইয়েল্ড নির্দেশনা ও সার্ভিস হোল্ডিংসহ ৪০ পোরশনের বিয়েবাড়ি স্টাইল চিকেন রোস্ট।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রেস্টুরেন্টের দুধ চা

আলাদা চায়ের লিকার, মাপা চিনির সিরা, নিরাপদে গরম করা দুধ এবং প্রতি কাপে নির্দিষ্ট ১৮০ ml পোরশন ব্যবহার করে ৪০ কাপ দুধ চা তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ কাপ, প্রতি কাপ ১৮০ ml
মোট:
৫৫ মিনিট
কঠিনতা:
সহজ

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন