মূল কন্টেন্টে যান
RosuiiRosuii

রেস্টুরেন্ট রেসিপি

কমার্শিয়াল লুচি রেসিপি

প্রায় ৮০টি লুচির কমার্শিয়াল রেসিপি, যেখানে ডোর পানির অনুপাত, সমানভাবে বেলা, গরম তেলে ভাজা এবং সার্ভিসের বাস্তব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার
নাশতার সার্ভিসের জন্য সদ্য ভাজা গোল ও ফুলকো সোনালি লুচি ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে সাজিয়ে তেল ঝরানো হচ্ছে।
প্রস্তুতি
৪০ মিনিট
রান্না
৪৫ মিনিট
মোট
১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট
পরিমাণ
প্রায় ৪০ প্লেট, মোট ৮০টি লুচি
কঠিনতা
মাঝারি
ধরন
Bengali

প্রণালী

  1. 1

    ভাজার স্টেশন প্রস্তুত করুন

    কড়াই বা ফ্রায়ারে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার গভীরতা পাওয়ার মতো তেল দিন, তবে সরঞ্জামের নিরাপদ fill line অতিক্রম করবেন না। ডো তৈরি শুরুর আগেই থার্মোমিটার, জালি ঝাঁঝরি এবং ছিদ্রযুক্ত তেল ঝরানোর ট্রে সাজিয়ে রাখুন।

  2. 2

    শুকনা উপকরণ মেশান

    চেলে নেওয়া ময়দা, লবণ ও চিনি মিক্সারের বাটিতে দিয়ে low speed-এ ৩০ সেকেন্ড মেশান। লবণ ও চিনি সমানভাবে ছড়িয়েছে কি না এবং জমাট দলা আছে কি না পরীক্ষা করুন।

  3. 3

    ময়ান দিন

    নরম ঘি ও সয়াবিন তেল যোগ করে low speed-এ ২ থেকে ৩ মিনিট মেশান। ময়দা মিহি ঝুরঝুরে হবে এবং হাতে চাপলে হালকাভাবে একত্র হবে, তবে কোথাও আলাদা ঘির দলা থাকবে না।

  4. 4

    পানি দিয়ে ডো মাখুন

    মিক্সার low speed-এ চালিয়ে ধীরে ধীরে ৯০০ ml কুসুম গরম পানি দিন এবং বাকি পানি সমন্বয়ের জন্য রেখে দিন। ৫ থেকে ৭ মিনিট মেখে ডো মসৃণ, শক্ত ও নমনীয় করুন। শুকনা ময়দা থেকে গেলে শুধু ২০ ml করে অতিরিক্ত পানি যোগ করুন।

  5. 5

    ডো ঢেকে বিশ্রাম দিন

    ডো ভালোভাবে ঢেকে ঘরের তাপমাত্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট বিশ্রাম দিন। ফ্যানের বাতাস ও ফ্রায়ারের তাপ থেকে দূরে রাখুন, কারণ ওপরের অংশ শুকিয়ে গেলে দুর্বল জায়গা তৈরি হবে এবং লুচি পুরোপুরি ফুলবে না।

  6. 6

    সমান ডোর বল তৈরি করুন

    তৈরি ডোর মোট ওজন নিয়ে ৮০ ভাগ করুন। সাধারণত প্রতিটি পোরশন প্রায় ৩৬ থেকে ৩৯ গ্রাম হবে। প্রতিটি পোরশন মসৃণ বল করুন, জোড়ার দিক নিচে রেখে সাজান এবং ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন।

  7. 7

    সমান গোল চাকতি বেলুন

    টেবিল ও ডোর বলে খুব হালকা ময়দা লাগিয়ে প্রতিটি পোরশন ১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার ব্যাস এবং ১.৫ থেকে ২ মিলিমিটার পুরু করে বেলুন। মাঝখান ও কিনারা সমান রাখুন, ছিদ্র হতে দেবেন না এবং বেলা চাকতি পরিষ্কার কাপড় বা কভারের নিচে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন।

  8. 8

    লুচি ভেজে ফুলিয়ে নিন

    তেল ১৮৫°C থেকে ১৯০°C পর্যন্ত গরম করে ভিড় না করে একবারে একটি বা দুটি চাকতি ছাড়ুন। জালি ঝাঁঝরি দিয়ে ওপরের অংশ ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড আলতো চাপুন। ফুলে উঠলে একবার উল্টে দিন এবং মোট প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ সেকেন্ড ভেজে হালকা সোনালি অবস্থায় তুলে নিন।

  9. 9

    তেল ঝরিয়ে দ্রুত পরিবেশন করুন

    প্রতিটি লুচি সাবধানে তুলে ফ্রায়ারের ওপর ৫ সেকেন্ড ধরে অতিরিক্ত তেল ঝরান। ফুলে থাকা অংশে চাপ না দিয়ে ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে রাখুন এবং ৫ মিনিটের মধ্যে পরিবেশন করুন।

রান্নাঘরের জন্য নোট

এই কমার্শিয়াল লুচি রেসিপিতে সমান আকারের প্রায় ৮০টি লুচি হবে, অর্থাৎ প্রতি প্লেটে দুটি করে দিলে প্রায় ৪০ প্লেট নাশতা পরিবেশন করা যাবে। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, ক্যাটারিং কিচেন ও ফুড কার্টে নিয়মিত ফুলকো লুচি, দ্রুত ভাজা এবং নির্দিষ্ট পোরশন নিশ্চিত করার জন্য প্রক্রিয়াটি সাজানো হয়েছে। মূল নিয়ন্ত্রণের জায়গা হলো শক্ত কিন্তু নমনীয় ময়দার ডো, প্রতিটি লুচি সমান পুরু করে বেলা এবং উৎপাদনের পুরো সময় তেলের তাপমাত্রা ১৮০°C থেকে ১৯০°C রাখা।

কমার্শিয়াল নাশতার সার্ভিসে লুচি কেন উপযোগী

লুচি কমার্শিয়াল সার্ভিসের জন্য উপযোগী, কারণ এর ডো তৈরির খরচ তুলনামূলক কম, পোরশন আগে থেকে করা যায় এবং প্রতিটি লুচি এক মিনিটের কম সময়ে ভাজা যায়। আলুর দম, ছোলার ডাল, মিক্সড সবজি, মুরগির তরকারি, বিফ ভুনা বা বাঙালি মিষ্টির সঙ্গে এটি পরিবেশন করা যায়। ফুড কার্টে নির্দিষ্ট প্লেট হিসেবে এবং রেস্টুরেন্টে মূল প্রস্তুতি না বদলিয়ে অতিরিক্ত লুচি অ্যাড-অন হিসেবে বিক্রি করা যায়।

লুচিকে দ্রুত পরিবেশনের আইটেম হিসেবেই পরিচালনা করতে হবে। ভাজার পর বাষ্প আটকে গেলে এর ফুলে থাকা আকার দ্রুত নরম ও চুপসে যায়। তাই ভাজার স্টেশন প্লেটিংয়ের কাছাকাছি রাখতে হবে এবং লুচি তেলে দেওয়ার আগেই তরকারির পোরশন প্লেটে প্রস্তুত রাখতে হবে। বড় ট্রে ভর্তি করে জমিয়ে রাখার বদলে চালু অর্ডার অনুযায়ী ভাজলেই ক্রেতা ভালো মানের লুচি পাবেন।

ব্যাচের পরিমাণ ও উৎপাদন লক্ষ্য

এই ব্যাচ থেকে ভাজার আগে প্রতিটির ওজন প্রায় ৩৬ থেকে ৩৯ গ্রাম ধরে ৮০টি লুচি পাওয়ার লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতি প্লেটে দুটি দিলে মোট উৎপাদন হবে ৪০ প্লেট। মিক্সার, কাজের টেবিল বা সরঞ্জামে সামান্য ডো লেগে থাকার জন্য অল্প প্রসেস টলারেন্স রাখা যায়, কিন্তু সেটি পুষিয়ে নিতে প্রথম দিকের লুচিগুলো বড় করা যাবে না।

পোরশন করার আগে তৈরি ডোর মোট ব্যবহারযোগ্য ওজন নিয়ে ৮০ দিয়ে ভাগ করুন। এতে ওই ব্যাচের প্রতিটি বলের সঠিক ওজন পাওয়া যাবে এবং ময়দার পানি শোষণের সামান্য পার্থক্যও হিসাবে আসবে। ব্যবহারযোগ্য লুচি, নষ্ট লুচি এবং পরীক্ষার লুচি আলাদাভাবে লিখে রাখুন, যাতে প্রকৃত উৎপাদন ধরে রেসিপি কস্টিং করা যায়।

উপকরণ নির্বাচন ও মান নিয়ন্ত্রণ

দামি ব্র্যান্ডের চেয়ে ময়দার গুণাগুণ, পরিষ্কার ভাজার তেল এবং পানির সঠিক পরিমাণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। লুচিতে উপকরণ কম, তাই ময়দা বা তেলের মানে অসামঞ্জস্য হলে ডো, রং ও গন্ধে তা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায়।

ময়দা নির্বাচন

বাসি বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নেই এমন তাজা, পরিশোধিত এবং মাঝারি গ্লুটেনের ময়দা ব্যবহার করুন। খুব দুর্বল ময়দা লুচি ফুলে ওঠার আগেই ছিঁড়ে যায়, আবার বেশি শক্ত ব্রেড ফ্লাওয়ার বেলা কঠিন করে এবং লুচির আবরণ চিবোতে শক্ত লাগে। ময়দা মেঝের ওপরে সিল করা পাত্রে রাখুন এবং আর্দ্রতা, মসলা ও পরিষ্কারের কেমিক্যাল থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন।

একেক লটের ময়দা একেক পরিমাণ পানি শোষণ করে। মাপা পানির কিছু অংশ শুরুতে আটকে রাখুন। ডো তৈরি হতে শুরু করলে শুধু শুকনা ময়দা দূর করার মতো পানি যোগ করুন। তৈরি ডো পরোটার ডোর চেয়ে শক্ত হবে, তবে চাপ দিলে কিনারায় ফাটল ধরবে না।

ফ্যাট ও পানি নির্বাচন

মাপা পরিমাণ ঘি ও গন্ধহীন তেল একসঙ্গে ব্যবহার করলে ডো নরম হয়, কিন্তু তেলতেলে হয় না। পানি দেওয়ার আগে ঘি ও তেল ময়দার সঙ্গে ভালোভাবে ময়ান করুন। ময়দার দানায় ঠিকভাবে ফ্যাট লাগলে অতিরিক্ত গ্লুটেন তৈরি হয় না এবং ভাজার পর লুচির আবরণ কোমল থাকে।

প্রায় ৩০°C থেকে ৩৫°C তাপমাত্রার নিরাপদ খাবার পানি ব্যবহার করুন। বেশি গরম পানি ডো আঠালো ও নরম করে দিতে পারে, আর খুব ঠান্ডা পানিতে ময়দা ধীরে পানি শোষণ করে এবং মিক্সিংয়ের সময় বাড়ে। চিনি কম রাখা হয়েছে, কারণ বেশি চিনি দিলে লুচি মচমচে হওয়ার আগেই বাদামি হয়ে যায় এবং ভাজার তেলের ব্যবহারযোগ্য সময় কমতে পারে।

ভাজার তেল নিয়ন্ত্রণ

উচ্চ তাপ সহ্য করতে পারে এমন গন্ধহীন তেল ব্যবহার করুন, যাতে বাসি গন্ধ, অতিরিক্ত ফেনা বা পোড়া তলানি নেই। ফ্রায়ার বা কড়াই এতটা গভীর হতে হবে, যাতে প্রতিটি লুচি তলায় না লেগে তেলের ওপর ভাসতে পারে। ঠান্ডা তেল প্রতিদিন ফিল্টার করুন। তেল গাঢ়, আঠালো, ধোঁয়াযুক্ত বা তীব্র গন্ধের হলে কিচেনের তেলের মান নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুযায়ী বাদ দিন।

তেলে ডোর টুকরা ফেলে শুধু আন্দাজে তাপমাত্রা যাচাই করবেন না। কমার্শিয়াল প্রোব থার্মোমিটার দিয়ে প্রতিবার নির্ভরযোগ্য রিডিং পাওয়া যায় এবং একসঙ্গে বেশি লুচি দেওয়ার কারণে তাপমাত্রা কতটা কমছে তা শনাক্ত করা যায়।

লুচি পুরোপুরি ফুলানোর কৌশল

লুচির ওপরের অংশ শক্ত হওয়ার আগে সমানভাবে সেঁকা দুই স্তরের মাঝে বাষ্প আটকে গেলে লুচি পুরোপুরি ফুলে ওঠে। ডোর ঘনত্ব, বেলার পুরুত্ব এবং তেলের তাপ ফিরে আসার ক্ষমতা একসঙ্গে ঠিক রাখতে হবে। শুধু একটি বিষয় ঠিক করলে বারবার না ফোলার সমস্যা সমাধান হবে না।

ডো মেশানো ও বিশ্রাম দেওয়া

ডো মসৃণ, শক্ত এবং শুকনা ময়দামুক্ত হলেই মিক্সিং বন্ধ করুন। মেশিনে বেশি সময় মেশালে অতিরিক্ত গ্লুটেন তৈরি হয়, ফলে বেলার সময় চাকতি আবার সংকুচিত হয়ে আসে। বিশ্রাম দিলে গ্লুটেন শিথিল হয় এবং আর্দ্রতা সমানভাবে ছড়ায়, তবে ডো ঢেকে রাখতে হবে যাতে ওপরের অংশ শুকিয়ে চামড়া না ধরে।

বিশ্রামের পর একটি নমুনা বল চ্যাপ্টা করে পরীক্ষা করুন। কিনারা গভীরভাবে ফেটে গেলে খুব অল্প পানি মিশিয়ে আবার বিশ্রাম দিন। ডো হাত বা টেবিলে লেগে গেলে বেশি ডাস্টিং ময়দা দিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করবেন না। পরের ব্যাচে পানি কমাতে হবে।

বেলার পুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ

প্রতিটি পোরশন সমানভাবে ১.৫ থেকে ২ মিলিমিটার পুরু এবং ১১ থেকে ১২ সেন্টিমিটার ব্যাসে বেলুন। মাঝখান মোটা ও কিনারা পাতলা হলে কেন্দ্র ফুলতে পারে না। সূক্ষ্ম ছিদ্র, ভাঁজ হওয়া কিনারা এবং বেলনের গভীর দাগ দিয়েও বাষ্প বের হয়ে যায়।

ডাস্টিংয়ের জন্য শুধু পাতলা আস্তরণের মতো ময়দা ব্যবহার করুন। আলগা ময়দা ফ্রায়ারে পুড়ে তেল কালো করে এবং পরের ব্যাচের লুচিতে কালো দাগ ফেলে। বেলা চাকতিগুলো ঢেকে রাখুন এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ভাজুন। বেশি সময় স্তূপ করে রাখলে সেগুলো একে অন্যের সঙ্গে লেগে যায় এবং ওপরের অংশ শুকিয়ে যায়।

ভাজার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

১৮৫°C থেকে ১৯০°C তাপমাত্রায় লুচি তেলে দিন এবং ভাজার সময় তেলের তাপমাত্রা প্রায় ১৭৫°C-এর নিচে নামতে দেবেন না। অপারেটরের বিপরীত দিকে চাকতিটি তেলে ছাড়ুন। বুদবুদ উঠলে জালি ঝাঁঝরি দিয়ে ওপরের অংশ আলতো করে চাপুন। এতে ওপরের অংশ অল্প সময় তেলের নিচে থাকে এবং দুই স্তর আলাদা হয়ে ফুলে ওঠে।

লুচি পুরো ফুলে গেলে একবার উল্টে দিন এবং কাঁচা অংশ না থাকা হালকা সোনালি অবস্থায় তুলে নিন। লুচি গাঢ় বাদামি হলে সাধারণত তাপমাত্রা বেশি, চিনির পরিমাণ বেশি অথবা তেল পুরোনো। নির্ধারিত তাপমাত্রার নিচে ভাজলে বেশি তেল শোষণ করে এবং লুচি শক্ত ও কম ফুলকো হয়।

নিরাপদভাবে ব্যাচ বড় করা

ময়দার ওজন ধরে ডোর ব্যাচ বড় করুন, কিন্তু প্রতিবার কতটি লুচি ভাজবেন তা তেলের পরিমাণ ও তাপ ফিরে আসার ক্ষমতা অনুযায়ী ঠিক করুন। প্রতি ১ কেজি ময়দার জন্য প্রায় ১৫ গ্রাম লবণ, ৭ থেকে ৮ গ্রাম চিনি, ৫০ গ্রাম ঘি, ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ডোর তেল এবং ৪৫০ থেকে ৫০০ ml পানি রাখুন। পানি সমন্বয়ের সীমা, একবারে ঢেলে দেওয়ার নির্দিষ্ট পরিমাণ নয়।

৪ কেজির বেশি ময়দা হলে মিক্সারের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা পুরো ডোর ওজন নেওয়ার উপযোগী না থাকলে আলাদা ব্যাচে ডো তৈরি করুন। বড় ব্যাচ দ্রুত কয়েক ভাগ করে প্রতিটি ভাগ ঢেকে রাখুন। একই তেলে বেশি চাকতি দিয়ে ভাজা নিরাপদ স্কেলিং নয়, কারণ এতে তাপমাত্রা কমে এবং লুচি কম ফুলে।

সার্ভিসের জন্য হোল্ডিং ও পুনরায় গরম করা

সবচেয়ে ভালো ফুলকো অবস্থা পেতে লুচি পাঁচ মিনিটের মধ্যে পরিবেশন করুন এবং ১৫ মিনিটের বেশি হোল্ড করবেন না। লুচি খাড়া করে অথবা ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে আলগা এক স্তরে তেল ঝরান। গরম লুচি কখনো বন্ধ সলিড পাত্রে রাখবেন না বা গভীরভাবে স্তূপ করবেন না, কারণ আটকে থাকা বাষ্প আবরণ নরম করে দেয়।

ব্যস্ত সময়ে মাত্র ১০ থেকে ১৫টি বেলা চাকতি প্রস্তুত রাখুন এবং অর্ডার আসার সঙ্গে সেই সারি পূরণ করুন। পুনরায় গরম করে লুচির সম্পূর্ণ ফুলকো অবস্থা ফেরানো যায় না। প্রয়োজন হলে ঠান্ডা লুচি ১৮০°C ওভেনে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড গরম করা যায়, তবে এটিকে টাটকা সার্ভিস নয়, উদ্ধার করা পণ্য হিসেবে ধরতে হবে।

পোরশন ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ

প্রতিটি ডোর বল ওজন করে নেওয়াই প্লেটের খরচ ও ক্রেতার পোরশন একই রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়। প্রতিটি লুচিতে একই লক্ষ্য ওজন ব্যবহার করুন এবং পোরশন করার সময় প্রতি দশম বল স্কেলে যাচাই করুন। ট্রের ধারণক্ষমতা দেখে আন্দাজ না করে তৈরি লুচি গুনে সার্ভিস ট্রেতে তুলুন।

বিক্রি হওয়া প্লেটের সঙ্গে ভাজা লুচি, কর্মীদের খাবার, পরীক্ষার লুচি এবং নষ্ট লুচির হিসাব মিলিয়ে দেখুন। লিখিত পোরশন কন্ট্রোল নির্দেশনায় প্রতি প্লেটের লুচির সংখ্যা, ডোর বলের ওজন এবং গ্রহণযোগ্য ব্যাস উল্লেখ থাকতে হবে। Rosuii-তে কাঁচামাল থেকে ডো তৈরি হওয়াকে production হিসেবে এবং প্রসেস wastage আলাদাভাবে রেকর্ড করা যায়। এতে পরিকল্পিত ও প্রকৃত উৎপাদন তুলনা করা সহজ হয়।

যে ভুলে খরচ বাড়ে

নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বড় পোরশন, কম তাপমাত্রায় ভাজা, অতিরিক্ত ডাস্টিং ময়দা এবং অনেক আগে থেকে উৎপাদন করাই সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। এসব ভুলে ময়দা বা তেলের ব্যবহার বাড়ে এবং নরম হয়ে যাওয়া অবিক্রয়যোগ্য লুচি তৈরি হয়।

  • ডো বেশি নরম: টেবিলে লেগে যায়, অসমানভাবে প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত ডাস্টিং ময়দা লাগে।
  • ডো বেশি শুকনা: ফাটা কিনারা দিয়ে বাষ্প বের হয়ে যায় এবং লুচি পুরোপুরি ফুলতে পারে না।
  • অসমানভাবে বেলা: মোটা অংশ ফুলে ওঠার আগেই পাতলা অংশ শক্ত হয়ে যায়।
  • ফ্রায়ারে বেশি লুচি দেওয়া: তেলের তাপমাত্রা দ্রুত কমে, ভাজতে সময় বাড়ে এবং তেল শোষণ বেশি হয়।
  • ফিল্টার না করে বারবার নতুন তেল যোগ করা: পোড়া ময়দা তেলে ঘুরতে থাকে এবং লুচির রং ও স্বাদ নষ্ট করে।
  • দীর্ঘ সময় গরম অবস্থায় রাখা: ভালো লুচিও নরম হয়ে যায় এবং ফেরত আসে বা ফেলে দিতে হয়।

ফুড কস্ট স্থিতিশীল রাখা

লুচির খরচ স্থিতিশীল রাখতে ভাজার তেল, ডোর বলের ওজন এবং বিক্রয়যোগ্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। লবণ বা চিনির তুলনায় ঘি ও ভাজার তেলের পরিবর্তন ব্যাচের খরচে বেশি প্রভাব ফেলে, আর ময়দা হলো পরিমাণের দিক থেকে প্রধান উপকরণ। তাপমাত্রা কম থাকলে তেল শোষণ বাড়ে। আলগা ময়দা ও পোড়া টুকরা ফিল্টার না করলে তেলও ঘন ঘন বদলাতে হয়।

পোরশনের ওজন নির্দিষ্ট করুন, প্রতিদিন কত তেল যোগ হচ্ছে লিখে রাখুন এবং তৈরি লুচির সংখ্যা পরিকল্পিত ৮০টির সঙ্গে তুলনা করুন। ক্ষতির প্রকৃত জায়গা না জেনে উপকরণের মান কমানোর বদলে এই হিসাবগুলো সামগ্রিক ফুড কস্ট পারসেন্টেজ-এর সঙ্গে পর্যালোচনা করুন।

খরচ কোথায় বাড়ে

ভাজার তেল ও ঘি খরচের পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, আর ময়দা পরিমাণের দিক থেকে প্রধান উপকরণ। কম তাপমাত্রায় ভাজার কারণে বেশি তেল শোষণ, নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বড় পোরশন এবং ময়দার পোড়া তলানিতে তেলের ব্যবহারযোগ্য সময় কমে গেলে খরচ বাড়ে।

বাজারদর ওঠানামা করে, তাই এখানে টাকার অঙ্ক না দিয়ে খরচ কীসে বাড়ে-কমে সেটা বলা হয়েছে।

রান্নাঘর থেকে আসা প্রশ্ন

বড় নাশতার সার্ভিসের জন্য এই লুচির রেসিপি দ্বিগুণ করা যাবে কি?

হ্যাঁ। ডোর প্রতিটি উপকরণ ওজন অনুযায়ী দ্বিগুণ করুন। তবে মোট ডোর ওজন মিক্সারের অনুমোদিত ধারণক্ষমতার বেশি হলে আলাদা ব্যাচে তৈরি করুন। একই তেলে বেশি লুচি দিয়ে ভিড় না করে ফ্রায়ারের ধারণক্ষমতা বা ভাজার সময় বাড়ান।

ভাজা লুচি পরিবেশনের আগে কতক্ষণ রাখা যাবে?

সম্ভব হলে ৫ মিনিটের মধ্যে পরিবেশন করুন এবং ছিদ্রযুক্ত ট্রেতে হোল্ডিংয়ের সময় প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখুন। বন্ধ বাক্স, গভীর স্তূপ ও ঢাকা গরম প্যানে বাষ্প আটকে লুচি নরম হয়ে যায়।

ডোতে ঘির বদলে সয়াবিন তেল ব্যবহার করা যাবে কি?

হ্যাঁ, ওজন ধরে ঘির বদলে গন্ধহীন তেল ব্যবহার করা যায়, তবে লুচির ঘ্রাণ ও কোমলতা বদলাবে। তরল তেলে ডো কিছুটা নরম হতে পারে এবং পানি সামান্য কম লাগতে পারে, তাই প্রথমে একটি ছোট পরীক্ষামূলক ব্যাচ তৈরি করুন।

প্রস্তুত লুচির ডো কতক্ষণ সংরক্ষণ করা যাবে?

সেরা মানের জন্য ডো তৈরির দিনেই ব্যবহার করুন। বায়ুরোধী ও খাদ্য-নিরাপদ পাত্রে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখা যায়। বেলার আগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাইরে রাখুন। দুর্গন্ধ, বিবর্ণতা বা শুকনা আবরণ দেখা দিলে ডো ফেলে দিন।

এক ব্যাচে ৮০টির কম লুচি হওয়ার কারণ কী?

সাধারণ কারণ হলো বেশি ওজনের ডোর বল, হিসাবের বাইরে পরীক্ষার লুচি, মিক্সারে লেগে থাকা ডো অথবা নষ্ট চাকতি। ভাগ করার আগে মোট ডোর ওজন নিন, প্রতিটি পোরশনের লক্ষ্য ওজন হিসাব করুন এবং প্রতি দশম বল স্কেলে পরীক্ষা করুন।
শেয়ার

কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি

প্রায় ৪০ প্লেটের কমার্শিয়াল বিফ কালিয়া রেসিপি, যাতে আছে নরম হাড়সহ গরুর মাংস, ঘি-সমৃদ্ধ উৎসবের গ্রেভি, নিয়ন্ত্রিত পরশন এবং সার্ভিস নির্দেশনা।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
৪ ঘণ্টা
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বাংলাদেশি চিকেন রোস্ট

আগে ভেজে নেওয়া মুরগি, নিয়ন্ত্রিত মিষ্টি-নোনতা গ্রেভি, ক্যাটারিং ইয়েল্ড নির্দেশনা ও সার্ভিস হোল্ডিংসহ ৪০ পোরশনের বিয়েবাড়ি স্টাইল চিকেন রোস্ট।

পরিমাণ:
প্রায় ৪০ প্লেট
মোট:
২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

কমার্শিয়াল বাংলাদেশি চিকেন রোল রেসিপি

পরতওয়ালা পরোটা, মসলাদার চিকেন, ডিম, টাটকা সবজি ও নির্দিষ্ট পরশন দিয়ে ৪০টি বড় চিকেন রোল তৈরির কমার্শিয়াল রেসিপি।

পরিমাণ:
৪০টি বড় চিকেন রোল
মোট:
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
কঠিনতা:
মাঝারি

রসুই দিয়ে আপনার রেস্টুরেন্ট চালান

পিওএস, মেনু, ইনভেন্টরি, পে-রোল এবং আরও অনেক কিছু — বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টের জন্য তৈরি।

শুরু করুন